16.3 C
Drøbak
রবিবার, জুন ২০, ২০২১
প্রথম পাতামুক্ত সাহিত্যসুকান্ত দেবনাথের গুচ্ছ কবিতা

সুকান্ত দেবনাথের গুচ্ছ কবিতা

উত্তর মুখি কবিতামালার কথা

এক

তারপর একদিন উবু হয়ে দেখি একটি কুয়ো গর্ভবতী হবে বলে
প্রজাপতি নেমে গেল জলে
প্রতিফলিত অনুলিপি তবু ভেঙে যেতে চায়
জলের উপরিতলে কি কোনো টান ছিল, বিক্ষিপ্ত কোল ডাকছিল কি
অথবা বারন
মুক্তি বলা যাবে একে, নাঃ এখানে জারজ উদ্ধার
সখা হে, তোমার অনন্ত ছায়াপথে হেঁটে হেঁটে একদিন ক্লান্ত হবো
দুহাত আকাশের দিকে, একপাশে সমুদ্র, বুকেতে তৃষ্ণা
কালো অতলে কিন্তু জল আছে, পড়ে যেতে মন চায়
নিজেকে জড়িয়ে মৃত্যুসখা, স্থির জমে থাকা পাতালের দিকে
কলঙ্কিত তৃষ্ণাই আমার জীবন সাথী আর মুক্তি
যেখানে ভ্রম, তবু ছুটে চলেছে কেউ, সামনে অদ্বৈত
সামনে অসীম, ফিরে আসা বাতাসের গায়ে
পাকা মহুলের গন্ধ রয়েছে দেখো।

দুই

একটি সামঞ্জস্য ছিল
ভাসানো প্রদীপ থেকে যে শোক মায়া হীন চলে যায়
তারও ভারসাম্য ছিল একদিন সেই চুলের ঘন উন্মীলনে
তোমার রাত জাগা চোখ থেকে পরী নেমে গেলে
ঘেরাটোপ খুলে যাবে
অন্ধ ফকীর আর অন্ধ রাজা পাশাপাশি ঘাট থেকে উঠে এসে
অপরিচিতের দিকে বাড়াবে আঙুল
অঙ্কুরিত অসহায় প্রেম যেন আগ্নেয় শিলার মাঝে
যেন দুটি কচি পাতা প্রতিফলিত সবুজ
আমার দুহাত জোড়া অথচ পৃথিবী থেকে মাটি তুলে আকাশে ছড়িয়ে দিলাম

মনস্তাপ এক অভিলাষ ছিল এই একচালার সংসারে
তাকেও তো ভালবেসে
পান্থা থেকে নুন ঝরে গেলে যেটুকু অব্যয় বেঁচে থাকে
দিয়েছি তা।
সন্ধ্যের শাঁক পাওনি বলও মন

তিন

এই তরুবীথিকা শব্দটিকে বহু আদিম লেগেছে বলে আজ
কিছু ঝরা হিশেবের পাতা উড়ে গেছে তোমাকে পরজন্মের কথা বলে যাব বলে
কিছুটা নিঃশ্বাস সারাটা দুপুর আঁচলে দিয়েছে ওম
উড়ে গেছে, যাওয়া তার রক্তেই ছিল মাঝখানে যেটুকু মলিন বিরহ
কিশোরের মাঞ্জা সুতোর টানে, বুঝতে পারতো কি ভাবে পাখী হওয়া হল না
শুধু ব্লেডে কাটা দাগ কটি, পাত্র পক্ষ আড় চোখে দেখে
ছাত্রীদের মা বুকের উন্মেষ দেখে জ্বলে অন্তরে
হল না, গোপনে যা বলার ছিল কোনোদিন গোপন সাঁতরে গেল ওপাড়ে
মণিকর্ণিকায় তার অন্তত সৌভাগ্য হোক

চার

আমি দেখেছি প্রবাহ এলাহাবাদের কাছে এসে উত্তর মুখি
ফেলে আসা মৃত্যুর দিকে, এক মুঠি ছাই দিতে, ফিরে যেতে চায়
যেখানে আগ্নেয়গিরি যেখানে তার সানুদেশ
আমিও দেখেছি সমাচ্ছন্ন সেই অতল থেকে উড়ে যাওয়া প্রজাপতি
সে তো কুয়োর ভিরতে নেমে ছিল না
তবে কি ছেলেটিকে বাঁচানো গেল না শেষ কালে
শক্তিশেল, তোমাকে রাখার আরও এক জায়গা হল তবে
কত উজাড়, কত বড় নেড়া ছাদ, দেখি তো অসীম লাগে পা বাড়াই তো
অদৃষ্ট অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছে যেন বহুরূপী
কানা গলি থেকে তুলে আবার বিক্রি করবে অন্য গলিতে
বুকেতে নিমেষ পড়ে, পড়ে থাকে চারিদিক খালি খালি মাঠেদের হায়
কেউ আর খেলতে আসেনা, ব্যালকনিতে দাঁড়ায় না কেউ
যেটুকু শ্রাবণ ছিল বয়ে গেছে, খোয়া ওঠা রাস্তার পাঁজর গুলি দেখাচ্ছে অমসৃণ
ডণ্ডি কাটো নতুবা ভয় পাও।

পাঁচ

শেষ তির তুমি মারো ডায়ডমাস, অ্যাকিলিস প্রতীক্ষায় আছে
দীর্ঘ যুদ্ধের পরে এক শান্তি গণরক্তের উপর পা ফেলে এগিয়ে আসবে
ঈশ্বর ধর্মচ্যুত আর ফেনিল আবর্ত থেকে উঠে আসে ধোঁয়ার আবরণ
সেখানে হারানো সুখ আত্মাহুতিমাছির কাছে রেখেছে নিজেকে
কতটা কঠিন ছিল পিস আউট করে বার করে আনা নিজেরই নির্যাস
ঘরে ফিরে আসে সেই, নিরুত্তাপ, পাশে বসে শূন্য গেলাস
পথ রাস্তা হয়ে গেছে, দেখা হলে মুখ ঘুরিয়ে রেখো

ঘন কালো কিছুই আর ভালো লাগেনা ঈশ্বর তরলতা চাই
চাই স্রোতের মাঝে লুকোতে নিজেকে
বিজিত বা জয়ী সব সৈনিকই নিজের হয়েছে যেভাবে।

ছয়

সুন্দরের সূচনা থেকে ক্ষয়ের বেহিশেব অব্দি সেই একটানা
বয়ে যাচ্ছে মনভেলা, শহরের ফসিল আজকাল আরও আপন মনে হয়
পাশাপাশি কয়েকটি বাগানের গোলাপ
ও বাড়ির টুসু আজকাল এক কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের দিদিমণি
অমিয় স্যার মারা গেলেন আচমকা এক বিকেলের শেষে
তখন চারিদিক লালের মাঝে সমস্ত তারাদের হাত থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ফুল
আমার চিরচেনা মাঠ উজান হয়েছে দেখো
হাত বাড়িয়ে ধরেছে আহত খারিজ প্রেম গুলি

অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।