Latest Post

কয়েক শতাব্দী পূর্বে, ভারতের বিশ্বজোড়া নাম ছিল। এত সম্পদশালী দেশ পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় ছিল না। ব্রিটিশরা ভারতে আসার আগে গোটা পৃথিবীর জিডিপি তে ভারতের ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান ছিল। বিশাল সমভূমি, খনিজ সম্পদ সম্পন্ন এই দেশ মশলা, বস্ত্র সহ অনেক কিছুতেই পৃথিবীতে অদ্বিতীয় ছিল।

এই দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারলে ভাগ্য খুলে যেত। কিন্তু একটা বিশাল সমস্যা ছিল। ইউরোপ থেকে সরাসরি ভারতে যাওয়ার জলপথের সন্ধান জানে না কেউ। ইউরোপ থেকে ভারতে আসতে গেলে তাকে পেরোতে হয় ভূমধ্যসাগর। আর ভূমধ্যসাগরের অধিকার ছিল অটোমান তুর্কীদের হাতে। ১৪৫৩ খ্রীষ্টাব্দে কনস্টান্টিনোপলের পতনের পর থেকেই এই অঞ্চলের অধিপতি হয় তারা।


[ছবিতে যে সবুজ, হলুদ রেখা দেখতে পাচ্ছেন, সেই পথে বাণিজ্য হত ইউরোপ থেকে ভারতে ও চীনে। পথটা সোজা চলে এসেছে অটোমান তুর্কী প্রভাবিত অঞ্চলের ভিতর দিয়ে। এছাড়াও স্থলপথে বাণিজ্য হত। কালো রেখার পথটি ভাস্কো-দা-গামা আবিষ্কার করেন। | ছবির উৎস]

এরা এত পরিমাণ কর বসাত ইউরোপের বণিকদের ওপর, যে লাভ হত খুব সামান্য। অনেক সময় লাভ হতও না। এই বিপদ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হল ভারতে পৌঁছানোর এমন এক জলপথ আবিষ্কার করা, যার ত্রিসীমানায় অটোমানদের চিহ্ন থাকবে না।

তাই ১৪৫৩ এর কয়েক বছর পরই শুরু হয় বিকল্প পথের সন্ধান। সরকারী ও বেসরকারী পক্ষ চরম উদ্যমে নেমে পড়ে ভারতে যাওয়ার রাস্তার সন্ধান করতে।

এরকমই একজন নাবিক ছিলেন কলম্বাস। যিনি ভারতে পৌঁছানোর জলপথ খুঁজতে বদ্ধপরিকর ছিলেন।


[কলম্বাস | ছবির উৎস]

তিনি ভারতে যাওয়ার জলপথ খুঁজতে বের হন। কিন্তু তিনি ভুল করে পৌঁছান সেই জায়গায়, যাকে আজকে আমরা আমেরিকা বলে জানি। কিন্তু তিনি মনে করেছিলেন যে তিনি ভারতেই এসে পৌঁছেছেন। তাই তো আজও আমেরিকার আদি অধিবাসীদের “ইন্ডিয়ান” বলা হয়।

কিন্তু ১৪৯২ সালে কলম্বাসের এই পথ খোঁজা পৃথিবীর ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা গুলির অন্যতম।

দু'দিকে সমুদ্রবেষ্টিত, সুবিস্তৃত উর্বর সমভূমি, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বিশিষ্ট “নতুন পৃথিবী” অচিরেই বিভিন্ন দেশ থেকে বহু বসবাসকারী (সেটলার), ব্যবসায়ী, মিশনারি ইত্যাদিদের আকৃষ্ট করে। বহু সংখ্যায় মানুষ এই নতুন ভূমিতে বসবাস শুরু করেন।

এই নতুন জায়গার দখল নিয়ে সুদীর্ঘ দ্বন্দ্বের পর শেষ অবধি ইংরেজরা জয়ী হয়। উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল কে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ কলোনি স্থাপিত হয়। এই কলোনি গুলি সরাসরি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা শাসিত ছিল।

এখন, ব্রিটিশ শাসন যে কত সৎ এবং ন্যায়নিষ্ঠ হয়, তা আমাদের মতো ভারতীয় উপমহাদেশের বাসিন্দাদের থেকে বেশি ভালো কে-ই বা জানে?

পৃথিবী জোড়া সাম্রাজ্যে নানারকম যুদ্ধের কারণে, অন্যান্য খরচের কারণে ব্রিটিশরা ক্রমাগত আমেরিকান দের ওপর কর বাড়িয়ে যেতে লাগল। অন্য অনেক রকমের শোষণ তো ছিলই।


[আমেরিকার প্রথম ১৩টি কলোনি | ছবির উৎস]

অনেক অত্যাচারের পর, আমেরিকার ১৩ টা কলোনি সংঘবদ্ধ হয়ে জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

ফ্রান্সের নৌবাহিনীর সাহায্যে, এবং নিজেদের সাহস, বিবেচনা ও বীরত্বে ভর করে, বহু বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৭৮৩ সালে আমেরিকা স্বাধীনতা লাভ করে[14]


[আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ- জন ট্রাম্বুলের তুলিতে | ছবির উৎস]


[আমেরিকার আদি পতাকা, ১৩ টি তারা- ১৩ টি প্রথম কলোনির জন্য | ছবির উৎস]

আমেরিকার ১৩ টি কলোনি একসাথে যুক্ত হয়ে একটা দেশ গঠন করেছিল। এজন্য আমেরিকা কে যুক্তরাষ্ট্র বলা হয়। পরে আরও ৩৭ টি প্রদেশ একে একে আমেরিকায় যুক্ত হয়।

এ হল আপনার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের উত্তর- “এর ইতিহাস কী?"

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে আমেরিকা একটি ফেডেরাল দেশ। এই দেশ হল ৫০ টি রাজ্যের (রাষ্ট্রের) একটা ফেডারেশন। সেই জন্য এই দেশটিকে একটি যুক্তরাষ্ট্র ডাকা হয়। এই দেশের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন রাজ্যের অনেক বিষয়ে স্বায়ত্বশাসনের অধিকার আছে।

এই দেশে, গোটা দেশে কার্যকর বিভিন্ন ফেডেরাল আইন, বিভিন্ন প্রদেশের প্রাদেশিক আইন আছে। রাজ্য না কেন্দ্র- কে কোন বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারবে, তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা আছে।

আমেরিকার একজন মানুষের দু'টি নাগরিকত্ব থাকে- একটি আমেরিকার অন্যটি তাঁর রাজ্যের।

এই কারণগুলির জন্য আমেরিকা হল একটি যুক্তরাষ্ট্র।



নরবলি কী? এর ইতিহাস কেমন?

বিশ্বের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় যেসব বিষয় মনুষ্যত্বকে কলঙ্কিত করেছে, ‘নরবলি’ সেগুলোর মাঝে নিঃসন্দেহে শীর্ষস্থানীয়। সেই খ্রিস্টপূর্ব সময়কাল থেকে শুরু করে এই একবিংশ শতকেও পাওয়া গেছে নরবলির বিভিন্ন নমুনা। তেমনই কিছু ইতিহাস নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এ লেখাটি।

১. কার্থেজ

প্রাচীন বিশ্বে অন্যতম সমৃদ্ধিশালী এবং একইসাথে ক্ষমতার অধিকারী ছিলো কার্থেজের অধিবাসীরা। কিন্তু এরপরও তাদের মাঝে এমন কিছু অদ্ভুত রীতিনীতি প্রচলিত ছিলো যা তৎকালীন অনেকের কাছেই বেশ বর্বর হিসেবে ঠেকতো। এর মাঝে অন্যতম ছিলো শিশুবলি দেয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তেই তারা সেসব করতো। আরেকদিক দিয়ে ঘৃণ্য এ কাজটি তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। কার্থেজের ধনী লোকেরা তাদের সম্পত্তির সুরক্ষার জন্য নিজেদের সন্তানদেরকে দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতো।


Source: Dennis Jarvis/Flickr

অনেকেই অনুমান করে থাকেন ৮০০ থেকে ১৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত (এ সময় রোমানরা কার্থেজ দখল করে নেয়) কার্থেজের আনুমানিক ২০,০০০ শিশুকে হত্যা করা হয়েছিলো ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলি দিতে গিয়ে। তবে এ মতের বিরোধীতাও করে থাকেন অনেক ঐতিহাসিক। তাদের মতে সেই শিশুদের অনেকে প্রাকৃতিক কারণেই মারা গিয়েছিলো।

২. ইসরায়েল

বিশেষজ্ঞদের মতে, নরবলি প্রচলিত ছিলো প্রাচীন ইসরায়েলেও। সেখানকার অধিবাসীরা তাদের শিশুদেরকে পুড়িয়ে এ বলিদানের কাজটি সারতো। আর যে দেবতার উদ্দেশ্যে এমনটি করা হতো, তার নাম ছিলো মলোখ। তবে তাদের সবাই যে এমনটা করতো সেটা না। এক গুপ্ত সংঘের সদস্য, যারা মলোখকে তাদের দেবতা হিসেবে মানতো, তারাই এমনটা করে থাকতো।
Source: TopTenz

তবে এ বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে থাকেন অনেক ইতিহাসবিদই। তাই আজও এর সত্যতা রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে।

৩. এট্রুস্কান সভ্যতা 

প্রাচীন ইতালির বেশ সম্পদশালী ও ক্ষমতাবান এক সভ্যতার নাম এট্রুস্কান। টুস্কানি, পশ্চিম আম্ব্রিয়া ও উত্তর লাজিওতে ছিলো তাদের বসবাস। মূলত কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমেই জীবিকা উপার্জন করতো তারা। কার্থেজ ও গ্রীসের সাথে তাদের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় ছিলো। পাশাপাশি বিভিন্ন খনিজ দ্রব্যও তাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতো।
Source: TopTenz

এমন একটি সভ্যতার মাঝেও যে নরবলির মতো বিষয়টি প্রচলিত থাকবে, তা অনেক ইতিহাসবিদই মানতে চান নি। তবে ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের একদল প্রত্নতত্ত্ববিদের গবেষণায় সেটারও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো। টার্কুইনিয়াতে তারা এমন কিছু বলি দেয়া মানুষের কবরের সন্ধান পেয়েছিলেন। এদের মাঝে ছিলো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা যারা অসুস্থ, নিম্ন সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন কিংবা ভিনদেশী ছিলো।

৪. চীন

নরবলির বিষয়টি প্রাচীন চীনে বেশ সাধারণ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এর সবচেয়ে বেশি বিস্তৃতি ঘটেছিলো শ্যাং রাজবংশের শাসনামলে। তখন অবশ্য এত বৃহৎ পরিসরে সংঘটিত নরবলির দুটো উদ্দেশ্য ছিলো- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে খতম করা এবং স্রষ্টার মনোরঞ্জন করা।

Source: Chinese Cultural Relics

চীনের সেই নরবলিগুলো হতো তিন রকমের। মাটিতে গর্ত করে উৎসর্গ করা হতো যুবকদের। তাদের সবারই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা থাকতো, সাথে থাকতো না নিজেদের ব্যবহার্য কোনো জিনিসও। বিভিন্ন স্থাপনায় বলি দেয়া হতো শিশুদের। তাদের মৃত্যুটা কার্যকর করা হতো বেশ মর্মান্তিক উপায়ে। কিছুটা আলাদা জায়গায় বলি দেয়া হতো কিশোরী ও তরুণীদের। অবশ্য প্রথম দু’শ্রেণীর মতো তাদের মৃতদেহের করুণ অবস্থা হতো না। দুর্ভাগা সেই কিশোরী ও তরুণীদের মৃতদেহের সৎকার ঠিকমতোই করা হতো।

৫. হাওয়াই

এককালে হাওয়াইয়ের অধিবাসীরা মনে করতো নরবলি দেয়ার মাধ্যমে তারা যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষার দেবতা ‘কু’-এর আশীর্বাদ লাভ করতে পারবে, প্রতিপক্ষকে হারাতে পারবে নানা যুদ্ধে। এ আশায় তাদের মন্দিরগুলোতে চলতো নরবলি, যেটিকে তারা বলতো ‘হেইয়াউ’। সাধারণত বিভিন্ন প্রতিপক্ষ গোত্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি, যারা যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন, তাদেরকেই বলি দেয়ার জন্য বেছে নেয়া হতো।
Sourcce: TopTenz

এজন্য সেই দুর্ভাগাকে কোনো কাঠের ফ্রেমে প্রথমে উল্টো করে ঝোলানো হতো। তারপর তাকে এমনভাবে পেটানো হতো যে তাতেই বেচারার প্রাণপাখি উড়াল দিতো। অতঃপর লোকটির নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলা হতো। বলি কিন্তু ততক্ষণে মাত্র অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। এবার সেই মৃতদেহ হয় রান্না করা হতো কিংবা কাঁচা খাওয়া হতো। খাদকদের মাঝে থাকতেন পুরোহিত ও গোত্রপতিরা।

৬. মেসোপটেমিয়া

বর্তমান ইরাকের অধিকাংশ, কুয়েত, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চল, তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তুর্কি-সিরীয় ও ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো এককালে মেসোপটেমিয়ার অংশ ছিলো। এখানকার অধিবাসীদের মাঝেও নরবলির প্রথা প্রচলিত ছিলো। রাজসভার সভাসদবর্গ, যোদ্ধা ও চাকরদেরকে তাদের মালিকের সাথে কবর দেয়া হতো যেন পরকালেও তারা তাদের মালিকের সেবা-যত্ন করতে পারে। যোদ্ধাদের সাথে তাদের অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে দেয়া হতো, অপরদিকে চাকরদের মাথায় শোভা পেতো পাগড়ি।

অনেকদিন ধরেই ঐতিহাসিকেরা মনে করতেন এই লোকগুলোকে মারতে বিষ ব্যবহার করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে এ ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। দুর্ভাগা সেই মানুষগুলোকে মারতে তাদের মাথায় বর্শা ঢুকিয়ে দেয়া হতো!

৭. অ্যাজটেক

নরবলির পেছনে অ্যাজটেকদের দর্শন ছিলো বেশ অদ্ভুত। তারা মনে করতো তাদের দেয়া এই নরবলিই সূর্যকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করবে! বলির শিকার হওয়া মানুষের রক্তকে তারা বেশ পবিত্র মনে করতো। তাদের বিশ্বাস ছিলো এই রক্ত তাদের সৌরদেবতা হুইতজিলোপোখ্‌তলির রাগ প্রশমন ও পুষ্টির জন্য অতীব প্রয়োজনীয়।

Source: More Than A Magazine | Sia Magazin

অ্যাজটেকদের নরবলি দেয়ার প্রথাটা ছিলো বেশ ভয়াবহ। এতে স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি যুদ্ধবন্দীদেরও ব্যবহার করা হতো। কখনো কখনো বলি দিতে চাওয়া মানুষটিকে প্রথমে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো মন্দিরে। সেখানে অবস্থানরত পুরোহিত লোকটির গলা থেকে শুরু করে একেবারে পেট পর্যন্ত চিরে ফেলতেন! এরপর লোকটির হৃদপিণ্ড উৎসর্গ করা হতো দেবতার উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে দেহের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলা হতো।

৮. মিশর

Source: The Ancient Egypt Site

এককালে প্রাচীন মিশরেও প্রচলিত ছিলো নরবলির এ প্রথা। সেখানে একজন দাস বা ফারাওয়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গীকে তার সাথে কবর দেয়া হতো যেন মৃত্যু পরবর্তী জীবনেও তিনি তার মনিবের সেবা করে যেতে পারেন। ইজিপ্টোলজিস্ট জর্জ রেইজনার জানিয়েছেন, রাজা জার ও আহার কবরগুলো তাদের ভৃত্যদের দিয়ে পরিপূর্ণ ছিলো। সেই ভৃত্যদের সাথে দেয়া হয়েছিলো বিভিন্ন দরকারি জিনিসপত্র যাতে পরকালে মনিবের সেবা করতে কোনোরুপ অসুবিধা না হয়!

৯. ইনকা

ইনকা সভ্যতার লোকেরা স্রষ্টার সন্তুষ্টির নিমিত্তে নরবলি দিতো। এজন্য তারা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতো শিশুদের। প্রায়ই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতো ইনকা সাম্রাজ্য। তারা মনে করতো কেবলমাত্র নরবলির মাধ্যমেই এসব দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাই স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করতে প্রাণ হারাতে হতো ইনকা শিশুদের।
ইনকা শিশুদের মমি; Source: Scientific Reports Gómez Carballa et al

আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, তাদের সমাজে এমন অনেক শিশুও ছিলো যাদের বড় করার উদ্দেশ্যই ছিলো কেবল বলি দেয়া! এসব শিশুদের বলির ব্যাপারকে ইনকারা ‘সবচেয়ে পবিত্র বলি’ হিসেবে মনে করতো। তারা বিশ্বাস করতো মৃত্যুর পর এ শিশুরা অনেক সুন্দর এক জীবনের অধিকারী হবে। অবশ্য মৃত্যুর আগে তাদের সাথে অনেক ভালো ব্যবহার করা হতো। তাদেরকে দেয়া হতো পছন্দসই খাবার, এমনকি মিলতো সম্রাটের সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্যও।

১০. ফিজি

যদিও আজকের লেখায় উল্লেখ করা প্রতিটি বর্ণনাই বেশ কষ্টদায়ক, তবে ফিজির ঘটনাটি আরো বেশিই কষ্টদায়ক। সেখানে এককালে নিয়ম ছিলো স্বামী মারা গেলে তার স্ত্রীকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে হবে। সেখানকার নানা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বেশ গুরুত্বের সাথেই এ নিয়মটি অনুসরণ করতো। তারা বিশ্বাস করতো স্ত্রীর কর্তব্য হলো ইহকালের পাশাপাশি পরকালেও স্বামীকে সঙ্গ দেয়া। এজন্য স্বামীর মৃত্যুর সাথে সাথে তার সকল স্ত্রীকেই বলির শিকার হতে হতো।

বিধবা এ সকল নারীকে বলা হতো ‘থোথো’, যার অর্থ ‘স্বামীর কবরের গালিচা’! আরো দুঃখজনক ব্যাপার হলো নারীদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করার দায়িত্বটি পালন করতো তাদের আপন ভাইয়েরা। সেটা না করতে পারলে অন্তত নির্মম এ হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী তাকে অবশ্যই হওয়া লাগতো।

১১. ডাহোমে



Source: Wikimedia Commons

পশ্চিম আফ্রিকার পুরনো এক রাজ্যের নাম ছিলো ডাহোমে। সেখানে বার্ষিক এক উৎসবের নাম ছিলো জোয়েতানু। জোয়েতানুতে নানা ধরনের আয়োজনের পাশাপাশি অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলো নরবলি। এজন্য বেছে নেয়া হতো দাস-দাসী ও বিভিন্ন যুদ্ধবন্দীদের। জীবিত ও মৃত রাজাদের সম্মানার্থে সংঘটিত এ নরবলি কার্যকর করা হতো মূলত শিরশ্ছেদের মাধ্যমে। এটা এতই বহুল প্রচলিত এক চর্চা ছিলো যে, শুধুমাত্র এক রাজার শাসনামলেই আনুমানিক ৭,০০০ লোক এ জোয়েতানুর নরবলিতে মারা যায় বলে জানা গেছে।

১২. মায়া



Source: More Than A Magazine | Sia Magazin

প্রাচীনকালে মায়া সভ্যতার লোকেরাও এ প্রথা অনুসরণকারীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছিলো। বিশেষ কোনো উপলক্ষে তারা এমনটা করতো। নরবলিগুলো মাঝে মাঝে দেয়া হতো মন্দিরে। দুর্ভাগারা অধিকাংশ থাকতো বিভিন্ন যুদ্ধবন্দী। চিচেন ইৎজাতে নরবলি দেয়ার সময় বৃষ্টির দেবতা চাকের সম্মানার্থে বন্দীদের গায়ে নীল রঙ মাখা হতো। এরপর তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হতো কোনো কুয়ায়।

১৩. সতীদাহ

সতীদাহ প্রথার অস্তিত্ব ছিলো আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশেই। এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন নারী বিধবা হবার পর স্বামীর সাথে সহমরণে চিতায় যাবার বিষয়টিকেই বলা হয় সতীদাহ। নারী কখনো যেতেন স্বেচ্ছায়, কখনো বা জোরপূর্বক তাকে পাঠানো হতো। বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে অমানবিক এ প্রথার অবসান ঘটে।


Source: Hindu Human Rights Worldwide

তবে এখনো এর অস্তিত্ব একেবারে মিলিয়ে যায় নি। ২০০৬ সালে বিবিসির এক খবরে জানা যায়, ভারতের মধ্যপ্রদেশের তুসলিপার গ্রামের চল্লিশ বছর বয়স্কা এক নারী স্বামীর মৃত্যুর পর সতীদাহ প্রথার মাধ্যমে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। তবে কেউ তাকে বাধ্য করে নি। তিনি নিজেই সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

মশা মারা সহজ, কিন্তু মাছি মারা এত কঠিন কেন?

মশা মারা সহজ, কিন্তু মাছি মারা এত কঠিন কেন?

এর রহস্য হচ্ছে মাছির চোখে। কিন্তু কিভাবে ?

আমাদের চোখ প্রতি সেকেন্ডে ৬০ টি স্থির ছবি আমাদের ব্রেইনে পাঠায় তারপরে ব্রেইন সেগুলোকে একত্র করে আমাদের চলমান দুনিয়া দেখায়। কিন্তু একটি মাছির চোখ প্রতি সেকেন্ডে ২৫০ টি ফ্ল্যাশ / ছবি তার ব্রেইনে পাঠায়। মাছির ব্রেইন যখন সেগুলোকে চলমান করে তোলে তখন সে আসলে আমাদের তুলনায় সিব কিছু খুব ধীর গতিতে দেখে, যাকে আমরা স্লো মোশন বলি।

যখন আমরা একটি মাছিকে মারতে যাই আমরা এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে মাছিটিকে আক্রমণ করি। এখন আমরা প্রতি সেকেন্ডে ৬০ টি ফ্রেম দেখার কারনে আমাদের কাজটি আমাদের কাছে অনেক দ্রুত মনে হলেও মাছির কাছে আমাদের এই কাজটি, মানে তার দিকে তেড়ে যাওয়া খুবই ধীর মনে হয়। তাই আমরা মাছিদের আঘাত করার অনেক আগেই তারা উড়ে চলে যেতে পারে।

মাছির মত মশার এই বিশেষ ক্ষমতা নেই সেজন্য তারা এত সহজেই উড়ে যেতে পারেনা, এজন্যই মশা মারা সহজ কিন্তু মাছি মারা এত কঠিন।

করোনা: বিশেষ সম্মানী পাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা

করোনা: বিশেষ সম্মানী পাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা

রাজধানীসহ সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় সরাসরি নিয়োজিত চিকিৎসক নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকার থেকে এককালীন দুই মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রদানে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

৩ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বাজেট অধিশাখা সিনিয়র সহকারী সচিব সুশীল কুমার পাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালককে গত ৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের এক স্মারকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানের সরাসরি নিয়োজিত চিকিৎসক-নার্স স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকার কর্তৃক এককালীন দুই মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পরিপত্র জারি করা হয়েছে’।

এমতাবস্থায় পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। শিগগিরই করোনাযোদ্ধাদের এ বিষয়ে সম্মানী ভাতা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪২ হাজার ১৪২ জন। মোট রোগীর মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১
৮৪ জন।

মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৪টি। এখন পর্যন্ত সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯০৫ জনে।

আমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পেলেও ভাববেন খুন : কঙ্গনা

আমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পেলেও ভাববেন খুন : কঙ্গনা

বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত৷ সুশান্তের আত্মহত্যাকে তিনি খুন বলেই দাবি করছেন। তার মতে বলিউডে স্বজনপ্রীতির মন্দ চর্চা সুশান্তকে হতাশ করে দিয়েছিলো৷ সেই অবসাদেই মৃত্যুর পথ বেছে নিলেন তিনি।

এটা আত্মহত্যা নয়, খুনই করা হয়েছে সুশান্তকে, অভিনেতার মৃত্যুর দিনই প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করে বোমা ফাটিয়েছিলেন কঙ্গনা। এবার তার রেশ ধরেই আরও একবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এ অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, 'আমাকেও যদি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, জানবেন যে আমি আত্মহত্যা করিনি!'

সম্প্রতি টিম কঙ্গনার তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, ১৪ জুন সুশান্তের আত্মহত্যার আগের রাতে অভিনেতার বাড়ির পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন বলিউডের নামকরা এক লোক। আরেকটি টুইটে দাবি করা হয়েছে, বলিউডের সবাই তার নাম জানলেও, কিছুতেই সেই নাম প্রকাশ্যে আনা হবে না। সেসবের রেশ ধরেই নতুন টুইটে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কঙ্গনা।

অভিনেত্রীর টুইটার হ্যান্ডেল লেখা, 'সবাই তার নাম জানে। করণ জোহরের প্রিয় বন্ধু এবং পৃথিবীর সেরা মুখ্যমন্ত্রীর সেরা ছেলে, ভালোবেসে তাকে সবাই ‘বেবি পেঙ্গুইন’ বলেন… এবার যদি বাড়িতে আমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, তাহলে জেনে রাখবেন যে, আমি আত্মহত্যা করিনি।'

করণ জোহর, সালমান খান, মহেশ ভাট থেকে শুরু করে যশ রাজ ফিল্মসের কর্ণধার আদিত্য চোপড়াকেও তোয়াক্কা করেন না কঙ্গনা। ইন্ডাস্ট্রির ডাকসাইটে এই তারকারা ‘নেপোটিজমের ঝাণ্ডাধারী’ বলে কটাক্ষও করেছেন তিনি। সুশান্তকে অবসাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যেই তাদের দিকে আঙুল তুলেছেন অভিনেত্রী।

সপরিবারে করোনামুক্ত কোয়েল মল্লিক
সপরিবারে করোনামুক্ত কোয়েল মল্লিক

সপরিবারে করোনামুক্ত হয়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী কোয়েল মল্লিক। রোববার টুইট করে কোয়েল জানিয়েছেন, তারা সবাই এখন করোনামুক্ত এবং সুস্থ আছেন।

শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানিয়ে কোয়েল টুইট করে বলেন, ‘প্রত্যেকের ভালোবাসা ও প্রার্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ নেই আমাদের কাছে। আমরা প্রত্যেকে সেরে উঠেছি। কোভিড-১৯ টেস্ট রিপোর্টও নেগেটিভ এসেছে সবার।’

এর আগে গত ১০ জুলাই এক টুইট বার্তায় কোয়েল মল্লিক লিখেছিলেন, ‘বাবা, মা, রানে (কোয়েল মল্লিকের স্বামী নিসপাল সিং রানে) ও আমার কোভিড-১৯ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ। আমরা এখন সেলফ কোয়ারেন্টাইনে আছি।’




পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, করোনার মধ্যেই গত মে মাসে পুত্রসন্তানের মা হন কোয়েল মল্লিক। এরপর স্বামী-সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি অবস্থান করছিলেন তিনি। এর মধ্যে তাদের করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে।

কোয়েল মল্লিকের বাবা কলকাতার খ্যাতনামা অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। তার মায়ের নাম দীপা মল্লিক। ২০১৩ সালে সুরিন্দর ফিল্মসের কর্ণধার নিসপাল সিং রানের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন কোয়েল।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.