Latest Post

সাময়িকী.কম

গোলটেবিল আলোচনা
ঢাকা বসুন্ধরার চিত্র। ছবিঃ রফিকুল ইসলাম সাগর, সাময়িকী.কম 

ঢাকাকে ভোগ না করে উপভোগের শহর হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, কোনটি আবাসিক আর কোনটি বাণিজ্যিক বা কোন আবাসিককে কী পরিমাণ বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে, তার জন্য আইন দরকার। বর্তমানে যে আইন আছে তা যুগোপযোগী নয়। যে কারণে প্রতিটি এলাকায় অবৈধ প্রতিষ্ঠান বেড়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকা বসবাসের উপযোগিতা হারাচ্ছে। গতকাল (শনিবার ৬ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘আবাসিক এলাকার ভূমি ও ভবন ব্যবহার : বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইইবি) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন—ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক বলেন, গুলশানের নিরাপত্তায় ৫০০ রিকশা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে প্রবেশ ও বহির্গমন পথ। আগামী ১০ আগস্ট থেকে গুলশানের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য ৩০টি এসি বাস নামানো হবে। যেখানে ভাড়া হবে রিকশার চেয়েও কম, মাত্র ১৫ টাকা। তিনি বলেন, ‘আমি টোটালি কনফিউজড। কারণ আইন বলছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে। অন্যদিকে অনেক ইনভেস্টমেন্ট। তাই দুটি বিষয়ই ভাবতে হচ্ছে। যদিও এসব রাজউক, সিটি করপোরেশনের সহায়তাতেই হয়েছে। কাজেই রাজউকের বেড়াও খেত খায়, আমার বেড়াও খায়।’ সভায় অন্যদের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী, আইএবির সভাপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ, বিআইপির সভাপতি ড. এ কে এম আবুল কালাম, অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, তানজিব উল আলম, স্থপতি কাজী এম আরিফ, পরিকল্পনাবিদ আখতার মাহমুদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ড. ইসরাত জাহান, স্থপতি সালাহ উদ্দিন আহমদে, স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ বক্তব্য দেন। বজলুল করিম চৌধুরী বলেন, রাজউক যেখানে আবাসিক এলাকা গড়েছে, সেখানে পরিকল্পনা করেই করা হয়। সূত্র : দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন (প্রকাশ : রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১৬)

সাময়িকী.কম

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের অস্ত্র দখলের দাবি করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। 
জঙ্গি সংগঠনটি শনিবার (৬ আগস্ট) অনলাইনে সামরিক যন্ত্রপাতি ও অস্ত্রের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে আমেরিকায় তৈরি বহনযোগ্য রকেট লঞ্চার, রেডিও এবং গ্রেনেড দেখা যায়, যেগুলো আফগান সেনারা সাধারণত ব্যবহার করে না। 
সেইসঙ্গে একটি সামরিক পরিচয়পত্রের ছবিও প্রকাশ করা হয়, যেটায় লেখা 'স্পেশালিস্ট রায়ান লারসন'। 
যদিও কাবুলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের সেনা অপরহণ হওয়ার খবর অস্বীকার করে বলা হয়েছে, রায়ান লারসন উপস্থিত আছেন এবং তিনি নিজের ইউনিটের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। 

সাময়িকী.কম
ঘটনাস্থলে পুলিশ টহল। ছবিঃ রাউটার্স 
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা রাজ্যে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের এক ঘটনায় অন্তত তিন জন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
ওই অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ব্যাটন রুজের পুলিশ সদর দফতরের কাছেই এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, মুখ ঢাকা এক ব্যক্তিকে তারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করতে দেখেছেন।
গুলিতে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক।
পুলিশ এর পর একজন বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। আরো দু'জন বন্দুকধারীর খোঁজে এখন অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। ছবিঃ রাউটার্স
পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। দু সপ্তাহ আগেই এই শহরে এ্যাল্টন স্টার্লিং নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে পুলিশ ধরে মাটিতে ফেলে দেবার পর তাকে গুলি করে হত্যা করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।
এর প্রতিবাদে ডালাস শহরে এক বিক্ষোভ চলার সময় একটি উঁচু ভবন থেকে পুলিশের ওপর 'প্রতিশোধমূলকভাবে' গুলি চালায় কৃষ্ণাঙ্গ এক সাবেক মার্কিন সেনা সদস্য, এতে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং পরে ওই বন্দুকধারীও নিহত হয়।
সবশেষ এই ঘটনার পর ব্যাটন রুজের মেয়ার কিপ হোল্ডেন সবাইকে শান্ত থাকার এবং নিহতদের জন্য প্রার্থনা করার আহবান জানান। বিবিসি

সাময়িকী.কম
ছয় হাজার লোক এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন। ছবিঃ GETTY

তুৃরস্কে শুক্রবারের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৬ হাজার লোককে আটক করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য যারা দায়ী - রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেই 'ভাইরাস' থেকে মুক্ত করতে করব্নে তিনি।
তার কথা, ষড়যন্ত্রকারীরা কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারবে না।
যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তার মধ্যে ইনসারলিক বিমানঘাঁটির কমান্ডার রয়েছেন। এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ব্যবহার করে থাকে। সেখান থেকে কোয়ালিশনের আইএসবিরোধী সামরিক কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে - বলছে পেন্টাগন।
মি. এরদোয়ানের শীর্ষ সামরিক সহকারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। জড়িত সেনাদের ধরতে আজও বিভিন্ন সেনা ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়েছে। আরো অনেক বিচারক এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করা হয়েছে। একজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা কলছেন, পুরো দেশে সরকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পেরেছে, তবে অভ্যূত্থানের জাড়ি জড়িত কিছু সেনা কর্মকর্তা এখনো আত্মসমর্পণ করেনি।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। ছবিঃ EPA
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী বেকির বোজদাগ বলেছেন, প্রায় ৬ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আটক এসব ব্যক্তির মধ্যে সামরিক বাহিনীর বেশ কজন উর্ধতন কর্মকর্তাও রয়েছেন। রয়েছেন প্রায় তিন হাজারের মতো বিচারক। আজ সকালেও সামরিক বাহিনীর কয়েকটি ঘাঁটিতে অপারেশন চালিয়ে সৈন্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ডেনিজলি প্রদেশের একটি ঘাঁটি থেকে ৫০ জন সৈন্যকে আটক করা হয়েছে।
যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন থার্ড আর্মির কমান্ডার জেনারেল এরদাল অজতার্ক, সেকেন্ড আর্মির অধিনায়ক জেনারেল আদেম হুদতি এবং বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আকিন অজতার্ক।
সামরিক বাহিনীর আরো যে আটজন কর্মকর্তা তুর্কী সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে গ্রীসে চলে গেছেন রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে - তাদেরকে ফেরত দেওয়ার জন্যেও সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিচারমন্ত্রী বলেছেন, অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পর সারাদেশে শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তুর্কী নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারী। অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্যে মি. গুলেনকেই সরকারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
শুদ্ধি অভিযানের কথা বলছেন এরদোয়ান। ছবিঃ GETTY
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছেই এই আহবান জানিয়েছেন তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। তিনি বলেন, তাকে ফেরত দেওয়ার জন্যে আপনাকে আমি বারবার অনুরোধ জানিয়েছি, আজকেও জানাচ্ছি। আমি কয়েকবারই আপনাকে বলেছি ওই ব্যক্তি ও তার চক্র তুরস্কে অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আপনি আমার কথা শোনেন নি।
ফেতুল্লাহ গুলেন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ৭৫ বছর বয়সী মি. গুলেন গত ১৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
তিনি বলেছেন, তুরস্কে কারা তার অনুসারী সেবিষয়ে তার কোন ধারণা নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, তুরস্ককে এবিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ দিতে হবে। তারপরেই এই অনুরোধ বিবেচনা করে দেখা হবে।
এই অভ্যুত্থান চেষ্টার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। অভ্যুত্থানের এই প্রচেষ্টাকে তিনি উল্লেখ করেছেন আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া উপহার হিসেবে কারণ সেনাবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান চালানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এমনকি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ফিরিয়ে আনারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তুর্কী প্রেসিডেন্ট। বিবিসি 

সাময়িকী.কম

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এর সৌজন্যে 
হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ


  • সাঈদুর রহমান রিমন

জঙ্গি হামলায় বহুল আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁটি ছিল অবৈধ। আবাসিক এলাকায় আবাসিক বাড়িতে এমন একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার কোনোরকম অনুমতি ছিল না। রাজউক থেকেও সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা চালানোর অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি রেস্তোরাঁয় ব্যবহূত গ্যাস সংযোগটিও ছিল গৃহস্থালি সংযোগ। শুধু তাই নয়, ওই রেস্তোরাঁয় ছিল অবৈধ মদের বার। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিতাস গ্যাস কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিতে ওই রেস্তোরাঁয় সিলিন্ডার গ্যাস রাখা হলেও মূলত গৃহস্থালি গ্যাস সংযোগ দিয়েই বাণিজ্যিক রেস্তোরাঁর কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। সেখানে দেশি-বিদেশি সব ধরনের মাদক ছিল সহজলভ্য। মদের বারের ব্যাপারে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কোনো লাইসেন্স পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। গুলশান জোনে মাদকের সহকারী পরিচালকের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই মদের বার চালানো হতো বলে সূত্র জানিয়েছে। 
সূত্র জানায়, ইতালি ও জাপানি নাগরিকদের পছন্দ-অপছন্দকে প্রাধান্য দিয়েই গড়ে উঠেছিল হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁটি। খাবারের মেন্যুও সাজানো ছিল বিদেশি নাগরিকদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েই। প্রতি রাতেই সেখানে দুই শতাধিক বিদেশির খাওয়া-দাওয়া, আড্ডায় সরগরম থাকত। এত বিদেশি আনাগোনা থাকলেও লেক ঘেঁষে নির্জন স্থানে গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে মালিক পক্ষের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। কখনো বিদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখাশোনার জন্য গুলশান থানা বা চ্যান্সেরি পুলিশকে জানানোরও প্রয়োজন বোধ করেনি রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। 

রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা গুলশান-বারিধারা ও বনানী। এর মধ্যে আবার গুলশান বারিধারায় রয়েছে কূটনৈতিক জোন। কিন্তু বহু বছর আগেই এসব এলাকা আবাসিক চরিত্র হারিয়েছে। হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনার পর ওই সব এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা শত শত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সেখানকার অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২০০৮ সালের জরিপ সূত্রে জানা যায়, হলি আর্টিজানের মতো পুরো গুলশানে ৯০৪টি আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। আরেক অভিজাত এলাকা বনানীতে রয়েছে এ ধরনের ৩৯৯টি প্রতিষ্ঠান। তবে গত আট বছরে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। গুলশান আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় একদিকে অস্বাভাবিক যানজট বেড়েছে, অন্যদিকে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা। গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর রাস্তার শেষ প্রান্তে লেকের পাশে হলি আর্টিজান বেকারি নামের এই রেস্তোরাঁটি অবস্থিত। প্রাণোচ্ছল মানুষের আনাগোনায় সরব থাকত রেস্তোরাঁটি। গত ১ জুলাই জঙ্গি হামলা ও পরে কমান্ডো অপারেশন থান্ডারবোল্টে বিদেশিদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয় ওই রেস্তোরাঁটি এখন এক মৃত্যুপুরী। স্থানীয়রা জানান, ওভেন থেকে বের করা গরম রুটি আর বেকারির খাবারের জন্য সকালেই সেখানে হাজির হতেন অনেক বিদেশি নাগরিক। বিকালে সবুজ লনে চলত আড্ডা। পোষা প্রাণীদের প্রবেশাধিকার থাকায় অনেকেই শখের প্রাণীটিকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন। সবুজ মাঠে খেলত শিশুরাও। সেখানে এখন ছড়িয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ আর সাঁজোয়া যানের চাকার দাগ।

সাময়িকী.কম
রবিউল ইসলাম রবি
রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুর কাচারিবাড়ির সঙ্গে আমার সাংবাদিকতা জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এই স্মৃতি আজও আমার হৃদয় আলোড়িত করে, আমি আনন্দিত হই। কাচারিবাড়িতে রক্ষিত অর্ডার বুক থেকে জানা যায়, জমিদারি দেখাশোনার কাজে কবিগুরু ১৮৯০ সালের জানুয়ারি মাসে প্রথম শাহজাদপুর আসেন। ১৮৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি এখানে এসেছেন। শাহজাদপুর কাচারিবাড়ি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ছিল নীলকরদের কুঠি। যে কারণে এখনো এটা ‘কুঠিবাড়ি’ বলে পরিচিত। পরে কবিগুরুর ঠাকুরদাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারি নিলামে উঠলে মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় কিনে নেন। এই এলাকা নাটোরের জমিদারির অংশ ছিল। জমিদারি কিনে নিলে প্রায় ১০ বিঘা জমিসহ এই কুঠিবাড়িটিও কবি পরিবারের হাতে আসে।
কবিগুরু পিতার নির্দেশে জমিদারির কাজে শাহজাদপুরে বিভিন্ন সময় এসেছেন। এখানে  অবস্থানকালে তিনি শুধু জমিদারি দেখাশোনার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, প্রয়োজনকে ছাপিয়ে তার মনের মধ্যে জায়গা করে নেয় সাহিত্য সৃষ্টির অনুপ্রেরণা। কুঠিবাড়িতে বসেই তিনি কালজয়ী সাহিত্য রচনা করেছেন। যেগুলো ‘সোনার তরী’ কাব্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।  এ সময় তিনি কিছু ছোটগল্পও রচনা করেন। সেগুলোর মধ্যে ‘দুই পাখি’, ‘ব্যর্থ যৌবন’, ‘কুমার সম্ভবের গান’, ‘ইছামতি নদী’, ‘পোস্ট মাস্টার’, ‘রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা’, ‘ছুটি’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘অতিথি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর বাইরেও কবি এ সময় ছিন্নপত্র এবং  ছিন্নপত্রাবলির আটত্রিশটি পত্র রচনা করেন। পাশাপাশি গানও তিনি রচনা করেছেন শাহজাদপুর কাচারিবাড়িতে বসে।
ঠাকুর পরিবারের জমিদারি ভাগাভাগি হলে শাহজাদপুরের জমিদারি চলে যায় কবির অন্য শরিকদের হাতে। ফলে ১৮৯৭ সালের পর তিনি আর শাহজাদপুর আসেননি। শাহজাদপুর ছিল কবিগুরুর অত্যন্ত প্রিয় এবং ভালোলাগার স্থান। বিভিন্ন লেখায় বিশেষ করে ছিন্নপত্রাবলিতে তিনি সে কথা গভীর আবেগে স্মরণ করেছেন। ১৮৯৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শাহজাদপুর থেকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি বলেছেন : এখানে (শাহজাদপুর) যেমন আমার মনে লেখার ভাব ও ইচ্ছা আসে, এমন কোথাও না। (ছিন্নপত্র-পত্র সংখ্যা ১২৯)।
১৯৪০ সালে কবিগুরুর মৃত্যুর পর শাহজাদপুর কাচারিবাড়ি অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হতে থাকে। তদুপরি ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর বাড়িটি পাকিস্তান সরকার প্রথমে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে এবং পরে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে বাড়িটি শাহজাদপুর ভূমি অফিসকে বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে ভবনের নিচ তলা শাহজাদপুর তহশিল অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। উপর তলায় কবিগুরু যেখানে থাকতেন সেটি নায়েব তহশিলদারদের থাকা-খাওয়া ও রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, কবিগুরুর ব্যবহৃত জিনিসপত্রগুলোও তারা ব্যবহার করতে থাকে। এভাবেই ভবনটি সকলের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।
১৯৬৮ সাল। আমি তখন সবেমাত্র ‘দৈনিক সংবাদ’-এর পাবনা জেলা (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি। হঠাৎ চিঠি পেলাম অফিস থেকে। সেখানে লেখা : ‘আপনি শাহজাদপুর গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঠাকুরবাড়ির উপর ছবিসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করে যত দ্রুত সম্ভব পাঠাবেন।’ অফিসের নির্দেশ পেয়ে পরদিন গেলাম কাচারিবাড়িতে। পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে শাহজাদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে ডান দিকে গেলেই সামনে বাজার। এখানে সাপ্তাহিক হাটও বসে। হাটের নাম দ্বারিয়াপুর হাট। এই হাটসংলগ্ন একটি গ্রাম- দ্বারিয়াপুর। জনশ্রুতি রয়েছে, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের নামানুসারে এই এলাকাটির নামকরণ করা হয়। হাটে পৌঁছেই দেখতে পেলাম একটি মাঠ। মাঠের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে বহু স্মৃতির নীরব সাক্ষী শাহজাদপুর ঠাকুরবাড়ি। হলুদ রঙের দ্বিতল পাকা ভবন। পাশে ভগ্নপ্রায় আরও কয়েকটি একতলা ভবন। কুঠিবাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গা। হাটবার ছাড়া অন্যান্য দিন সকালে সেখানে বাঁশ, খড়ি ইত্যাদি বিক্রি হয় বলে স্থানীয়রা জানালেন। আমি যথারীতি উত্তর পাশ দিয়ে ঠাকুরবাড়ির বারান্দায় গিয়ে পৌঁছলাম।
বাড়িটির পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া নদীর একটি শাখা। কুঠিবাড়ি চত্বরের পশ্চিম দিকে ছিল ঠাকুর জমিদারির মালখানা আর কর্মচারীদের বাসস্থান। সে বাড়িগুলোর অবস্থাও দেখলাম অনেকটাই জীর্ণ- ইট, চুন, সুরকি খসে পড়েছে। এবার নিচতলার চারদিকে ঘুরে দেখলাম। নিচতলার উত্তর দিকে ছিল একটি পাঠাগার। পাঠাগারে প্রবেশ করেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানলাম কবিগুরুর অনেক বই পাঠকরা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। যে বইগুলো অবশিষ্ট রয়েছে সেগুলোর অবস্থাও ওই ভবনের মতো। দেখাশোনার কেউ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি করা হয় না। পাঠাগারের একটি পরিচালনা কমিটি আছে কিন্তু তাদেরও পাঠাগার উন্নয়নে কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই মনে হলো।
নিচতলায় একটি পোস্ট অফিসও দেখতে পেলাম। সামনের উত্তর দিকে প্রধান প্রবেশপথ। লোহার শিক আর মাঝে মাঝে ইটের পিলার দিয়ে কুঠিবাড়ির সম্মুখভাগ ঘেরা। তাও আবার অনেক জায়গায় ভাঙা। স্থানীয় জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে জানা গেল কুঠিবাড়ির উত্তর ও দক্ষিণ দিকে বাগান ছিল কিন্তু তার অস্তিত্ব লুপ্তপ্রায়। কুঠিবাড়ির চতুর্দিকে আম, লিচু, ঝাউগাছ ও ফুলের বাগান ছিল। যত্নের অভাবে সেগুলোও নেই। উত্তরের বারান্দায় অবস্থিত সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠলাম। দোতলায় বারান্দার চতুর্দিকে রেলিং ছিল কিন্তু কিছুই চোখে পড়ল না। এক সময় দক্ষিণের বারান্দা থেকে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠবার ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু তার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পেলাম না। একজন দাঁড়িয়ে আছেন দেখে পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘আমি হাসান আলী, ঠাকুরবাড়ি পাহারা দেই। বাবুরা চলে গেলেন, আমরা সেই থেকে এখানেই আছি। আমার বাবা কোরবান আলী ছিলেন কবিগুরুর খাস কামরার লোক।’ হাসান আলীকে নিয়ে কবি যেখানে থাকতেন সেই ঘরগুলো দেখলাম। তিনি বর্ণনা দিতে লাগলেন, কোন ঘরে কবি থাকতেন, কোন ঘরে লেখালেখি করতেন, কোন ঘরে অতিথিদের নিয়ে বসতেন ইত্যাদি।
আমি সব দেখে মর্মাহত হলাম, কষ্ট পেলাম। কারণ তখন সেখানে নায়েব তহশিলদাররা থাকছেন। এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব্যবহারে ক্ষুব্ধ না হয়ে উপায় ছিল না। সেদিন আমি সেখানে গিয়ে দেখলাম, কবির কত স্মৃতি উপেক্ষিত হয়েছে। দেখলাম পূর্ব পাশের যে ঘরে কবি রচনা করেছেন অমূল্য সব রচনা সেই ঘর তহশিলদারেরা প্রস্রাবখানা হিসেবে ব্যবহার করছেন। ভাবা যায়! কবির ব্যবহার করা পালকি ব্যবহৃত হচ্ছে নায়েব সাহেবদের জুতা, স্যান্ডেল রাখার কাজে। শ্বেত পাথরের যে বিরাট টেবিল ছিল, কবি ব্যবহার করতেন, সেই টেবিলে তরকারি এবং হাঁড়ি-পাতিল রাখা! কবির বসবার ঘরে সোফা দেখা গেলো বটে কিন্তু কাপড় দিয়ে ঢাকা। কবির হারমোনিয়ামটির ওপর কয়েক পরতের ধূলা জমে আছে। এ ছাড়া সেকালের বাতি, একটি টানা পাখা, দরজায় ঝোলানো পর্দা, কবি পরিবারের বেশ কিছু ছবিও দেখেছিলাম। কবির শোবার ঘরে দুটি পালঙ্ক, এক কোণে দুটি টেবিল, আয়না, কাপড় রাখার আলনা, গুটিকয় চেয়ার, ইজি চেয়ার ইত্যাদি রাখা দেখলাম। এগুলো সবই কবির ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন। অথচ সেগুলো ভূমি অফিসের কর্মচারীরা ব্যবহার করছেন। এরপর ঘুরে ঘুরে দেখলাম কবির ব্যবহৃত একজোড়া খড়ম, নলসমেত হুঁকো, ফুলদানী, রান্না ঘরে ব্যবহৃত তৈজসপত্র, কাপ পিরিচ, হট ওয়াটার পট, হট ওয়াটার ট্রে, লণ্ঠন, শতছিন্ন বালিশের ওয়াড়, মশারি আর লেপের ছিন্নবিচ্ছিন্ন ওয়াড়। হাসান আলীই সব দেখালেন এবং বললেনও অনেক কিছু।
মনে কষ্ট নিয়ে ঠাকুরবাড়ি থেকে পাবনা চলে এলাম। পরদিন একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ৮-১০ টি ছবিসহ পাঠিয়ে দিলাম। দিন দুয়েক পর ৮ টি ছবিসহ প্রতিবেদনটি ছাপা হলো।  প্রতিবেদনটি প্রশংসিতও হলো। আকাশবাণী (কলকাতা) থেকে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ পর্যালোচনা করলেন তিনদিন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার বিষয়টি ভালোভাবে নিল না। তাদের কুদৃষ্টি পড়ল ‘দৈনিক সংবাদ’-এর ওপর। হাইকোর্টে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিলের মামলা হলো। তৎকালীন সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরী ও সহকারী সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার চিঠি লিখে জানালেন, প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র নিয়ে ঢাকা হাইকোর্টে হাজির হতে। মামলায় পত্রিকার সম্পাদক, সহকারী সম্পাদক ও প্রতিবেদককে আসামি করা হয়েছিল। আমি হাইকোর্টে হাজির হলাম। মামলার শুনানি শুরু হলে প্রমাণপত্র দেখালাম।  বিচারক মহোদয় কাগজপত্র দেখে মামলা খারিজ করে দিলেন। একইসঙ্গে ঠাকুরবাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে হস্তান্তরসহ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হলো।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ দায়িত্ব গ্রহণ করে শাহজাদপুর ঠাকুরবাড়িতে এলো। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ক আলোচনা হলো। তারা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রবীন্দ্র কুঠিবাড়িকে ‘রবীন্দ্রস্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ঘোষণা দিলেন। বলাবাহুল্য এ ঘোষণায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলাম। কারণ এর পেছনে কিছুটা হলেও আমি সেদিন অবদান রাখতে পেরেছিলাম- এটা ভেবে আজও আমার গর্ব হয়। এরপর থেকেই বাড়িটি নতুন করে সাজানো হয়। ইউরোপীয় ও রোমান স্থাপত্য ধারায় নির্মিত দ্বিতল বাড়িটিতে রবীন্দ্রস্মৃতির অনেক নিদর্শন রয়েছে।  প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রবি ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত অনেক ছবি নিচতলায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে। রবীন্দ্র সান্নিধ্যে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, শেরে বাংলা ফজলুল হকসহ প্রথিতযশা ব্যক্তিদের ছবি আছে জাদুঘরে। কবির পারিবারিক অনেক ছবিও সেখানে আছে। আরও আছে কবির নোবেল সনদপ্রাপ্তি এবং শান্তি নিকেতনে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর সংবর্ধনার ছবি। এ ছাড়াও জাদুঘরে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের পাণ্ডুলিপি, পাণ্ডুলিপির ওপর তাঁর চিত্রাঙ্কন অনুশীলন এবং অনেক চিত্রকর্মের ছবি। তাঁর ব্যবহৃত খাট, সোফা, আলনা, আরাম কেদারা, ব্রোঞ্জ নির্মিত দ্রব্যসামগ্রী সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যা দেখে আজ অবধি মুগ্ধ হচ্ছেন।
লেখক : সভাপতি, পাবনা প্রেসক্লাব

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.