Latest Post

পঙ্কজ রায়, সাময়িকী.কম
একটি জাতির অমূল্য সম্পদ ও উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে দেশটির যুব সমাজ। একটি শক্তিশালী ও উন্নত দেশ গড়তে যদি প্রয়োজন হয়  একটি শিক্ষিত, সুসংগঠিত কর্মঠ যুব সমাজ তাহলে আমাদের শিক্ষিত যুব সমাজকে বয়সের বাক্সে বন্দী রেখে কর্মহীন করে অন্ধকারময় গুহায় আবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে কেন! সব কিছুরই উন্নয়ন হচ্ছে সমান তালে যা সমালোচনাকারীরাও গোপনে বউয়ের কানে কানে স্বীকার করে।গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছর হলো, যুবনীতি অনুযায়ী ১৮-৩৫ বয়সীরা যুব,চাকরি থেকে অবসরের বয়স বৃদ্ধি পেল, বেতন বৃদ্ধিতে দেশ আমার ইতিহাস গড়ল অথচ হাজার দাবির পরেও চাকরিতে আবেদনের বয়স রহস্যজনকভাবে থাকল সেই ৩০ বছরে সীমাবদ্ধ।বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে কেউ কি বলতে পারবে চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩০ বছর যৌত্তিক! এদিকে বেসরকারি নিয়োগ দাতা প্রতিষ্ঠান গুলোও সরকারি নীতি অনুসরণ করছে।এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষিত যুব সমাজ যাবে কোথায়? প্রশ্ন আসতে পারে, ৩০ বছরেই মেধাবীরা ঠিক জায়গা করে নেয়। হ্যা নেয়, তাদের সংখ্যা কত? হবে হাতে গোনা শীর্ষ সারির ক'জন মেধাবী।  আর যারা বয়সের কারনে এই সংক্ষিপ্ত সময়ে কাঙ্খিত চাকরিটিতে প্রবেশ করতে পারল না তারা কি মেধাহীন! তবে রাষ্ট্র কি তাদের সর্ব্বোচ সনদগুলো মেধার পরিচয় না নিয়েই দিলো! আজ লাক্ষো যুবকের চিৎকার 'চাকরি নয়, মেধা প্রমাণের সুযোগ চাই'। সুযোগ দিতে বাঁধা কোথায়? ত্রিশোর্ধ্বরা কি আসলেই কর্মক্ষমতাহীন। অনেকে নাকি বলে বয়স বাড়ালে বেকারত্ব  বাড়বে।আজব যুক্তিরে ভাই।ক'জন যুবক নিজে উদ্যোক্তা হতে পারবে,বলেন?যারা বয়স বাড়ানোকে ভালো দৃষ্টিতে নিতে চাচ্ছন না তাঁরা কি উদ্যোক্তা  হতে বেকারদের মূলধন দেবে! তাছাড়া মা-বাবার ঘাম ঝরা শ্রমের অর্থে একজন শিক্ষার্থীর ২৭-২৮ বছরে অর্জিত সনদগুলো চাকরির ক্ষেত্রে ২ বছরেই হচ্ছে মূল্যহীন। বিষয়টা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সত্যিই কষ্টদায়ক বলে মনে করি।

যেখানে  আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ স্পিকার থাকাকালীন ২০১২সালে ৩১জানুয়ারি মহান জাতীয় সংসদে বলেছিলেন সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় ৩০-এর পরিবর্তে ৩৫ করা উচিত। তাছাড়া দেশের শীর্ষ সারির শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অসংখ্য সাংসদ, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সহ অনেক গুণীজন শিক্ষিত তরুণদের এই দাবির ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে রাজপথ, পত্রিকা, টিভি সহ নানা মাধ্যমে নির্দিষ্ট যুক্তি দেখিয়ে কথা বলছেন।তারপরও বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে তাঁদের মতামত, যুব সমাজের সেই কাঙ্খিত দাবিটি আজও পূরণ হয়নি।তবুও যুবকরা বয়স বৃদ্ধির আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই এ ব্যাপারে।তারাও বাস্তব রুপগুলো তুলে ধরে নিয়মিত লিখছেন চিঠি-কলাম।এই আন্দোলনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে দিন-রাত প্রচার প্রচারনাতো চলছেই শিক্ষার্থীদের অসংখ্য ফেসবুক গ্রুপ পেজে।আন্দোলনকারীরাও ছুটেই চলছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দপ্তর,কর্তাব্যক্তি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।যদিও চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধির দাবি দেশের অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক আগে করে আসছেন।

তবে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সাধারন ছাত্রপরিষদ নামের একটি সংগঠন এই যুগোপযোগী দাবির পক্ষে জোড়ালো ভূমিকা রাখছে এবং আজ পর্যন্ত দাবিটি নিয়ে রাজপথে পরে আছে। যদিও চুড়ান্ত ফলাফল এখনও শূন্য। কিন্তু এই সংগঠনটি এখন অনেককেই বোঝাতে সক্ষম যে, চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি সময়ের সাথে যৌত্তিক, যুগোপযোগীও বটে।

উল্লেখ্য,গত ২৭ জানুয়ারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স নূন্যতম ৩৫ বছর করার দাবিতে বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র পরিষদের ব্যানারে দেশব্যাপী অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৬৪ জেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন।

একই দাবিতে সংগঠনটি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  আন্দোলন করে আসছে।

সর্বশেষ গত ২৩ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে অনির্দিষ্ট কালের জন্য শান্তিপূর্ণ আমরন অনশন শুরু করলে ৫ম দিন (মঙ্গলবার) সন্ধায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে প্রথমে ৭জন ও পরে (রাত ১১টার দিকে) তিন নারী সহ আরো ১৭জন আন্দোলনকারীকে শাহবাগ থানায় আটকে রাখা হয়। অবশ্য পুলিশ সেই অনশনকারীদের সারারাত মশার কামড় খাইয়ে ৭ মার্চ পর্যন্ত অনশন না করার শর্তে পরদিন দুপুরে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। তবে পুলিশী হয়রানি এটি প্রথম নয়। অসংখ্য বার এরকম ঘটনার শিকার হতে হয়েছে এই দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। এখন প্রশ্ন থেকে যায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে, কেন এই পুলিশী বাঁধা! আর কেনইবা দাবির বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এখনও নীরব?তাদের দাবি কি যুক্তিপূর্ণ নয়! কতিপয় কিছু ব্যক্তি  এই দাবির বিরোধীতা করে থাকেন তবে তাদের সংখ্যা নগন্য। যারা এটি চান না তারা কি খবর রাখেন যে, ২৩ বছরের পড়ালেখা শেষ করতে কমপক্ষে ২৭-২৮ বছর লেগে যায়। তারা হয়তো জানেন না একজন কৃষক-শ্রমিকের সন্তানকে নানা বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে শিক্ষা জীবন শেষ করতে হয়।অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজের পড়ার খরচ নিজেকেই চালাতে হয়।

যারা বুঝেও বুঝতে চাইছেন না বিশ্বের  দেড় শতাধিক দেশের থেকে এ বিষয়ে আমরা পিছিয়ে থাকলে দেড়শ বছর পিছিয়ে যাব, তারা কিন্তু কোনদিন ফরম ফিলাপের টাকা দিয়ে মায়ের চিকিৎসা করাননি।তারা অনেকেই পড়েছেন প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও সেশনজট খুঁজে পাওয়ার কথা নয়। যারা বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার অজুহাতে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধিকে সমস্যা মনে করে সরকারকে ভুল বোঝাচ্ছেন তারা কি সত্যি সত্যি বেকারত্ব হ্রাসে কর্ম সংস্থান বৃদ্ধির কথা বলছেন?মনে ভীষন সংশয়, আমাদের সরকারের জনপ্রিয়তাকে বিতর্কিত করতেই কৌশলে শিক্ষিত যুব সমাজের ন্যায্য দাবিগুলো এড়িয়ে যাবার  অপচেষ্টা হচ্ছেনাতো! তা নাহলে লাক্ষো যুবকের এই ন্যায্য দাবি বার বার উপেক্ষিত হবারতো কথা নয়। অথচ স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখতেন তরুণ-যুবরাই একদিন তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে রাখবে অসামান্য আবদান।হায়! আজ সেই যুব সমাজ বয়সের বেড়াজালে বন্দী, কর্মহীনদের আর্তনাদ শোনার যেন কেউ নেই। তাই আজ আমিও লাক্ষো  যুবকের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে  বলি, ''আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা বিদ্যানন্দিনী শেখ হাসিনা আছেন, শেষে যুব শক্তিরই জয় হবে নিশ্চয়।''

চিত্রার ভূমিপুত্র

ডি.ডি মল্লিক

আজি থেকে প্রায় শতবর্ষ আগে,
মাতৃগর্ভ থেকে তুমি উঠে ছিলে জেগে,
লাল টুকটুকে সোনার ছেলে,
তুমি সেই লাল।
হয়েছো মহান করেছো অম্লান,
নড়াইল জেলার নাম।
সুযোগ সুবিধা ছিলো না তোমার,
ছিল যে সৎ মা।
ভাতের থালাটি কেড়ে নিয়ে,
তোমায় বলেছে
যেখানে পারিস যা।
ঘর ছেড়েছো
দেশ ছেড়েছো
ছেড়েছো ভিটেমাটি,
তাইতো তুমি মহান হয়েছো
একথা খুবই খাঁটি।
পকেটে ছিলনা পয়সা তোমার,
স্বপ্ন ছিলো যে চোখে
স্বপ্নের শহর কলকাতা তোমায় হাতছানি দিয়ে ডাকে।
সেখানে পেয়েছো অরুন বাবু,ছিল যে শহীদ সোহরাওয়ার্দী
স্বপ্ন পূরণে তারাই তোমার সব থেকে শুভাকাঙ্ক্ষী।
ঘুরেছো তুমি দেশ বিদেশ,
হয়েছো মহান আরও
টাকার নেশা পায়নি তোমায় দাম দাওনি কারও।
বিদেশে থেকেও তোমার তুলিতে
ফুটেছে এদেশের ছবি।
তাইতো বলেছে জসিমউদ্দীন এদেশেরই কবি।
তুমি করেছো বাংলাকে মহান,
খেটে খাওয়া যতো মানুষ,
তুলির আঁচড়ে আজও আছে তারা,
হয়নি তো কভু ফানুশ।
ভেবেছো তুমি শিশুদের নিয়ে,
করোনি অবহেলা,
রং তুলি আর ক্যানভাস নিয়ে করেছ শুধুই খেলা।
তোমার মতো মহৎ মানুষ,
পাবে না তো এই দেশ
তোমার জন্য চিনেছে মানুষ ছোট্ট বাংলাদেশ।
তুমি এঁকেছো আদম হাওয়া,
এদেশের জলবায়ু,
তোমার তুলিতে কৃষক পেয়েছে দীর্ঘতম আয়ু।
কখনও বধু কলসি কাঁখে,
কখনও মায়ের মতো,
কখনও আবার স্বামীর সাথে,
কর্মে থেকেছে রত।
তুমি হেঁটেছো শতক্রোশ পথ
হেঁটেছো খালি পায়ে,
জোটেনি তোমার শীতের বস্ত্র,
থেকেছো খালি গায়ে।
তবুও ভেবেছো এদেশেরই কথা
কৃষক সমাজ নিয়ে,
ঝরিয়েছো ঘাম সাদা ক্যানভাসে,
শ্রেষ্ট সময় দিয়ে।
আজ চিরনিদ্রায় শুয়ে আছো তুমি,
চিত্রা নদীর পাড়ে
বহমান চিত্রা আজও বয়ে যায়,
গাছের পাতাটি পড়ে।
তুমি আমাদের গর্ব
এই দেশের গর্ব,
তুমি সেই শিশু লাল।
স্মরণ করি তোমাকে আমরা,
এস এম সুলতান ৷

সাদিয়া আফরিন 
বাসি পোলাও যে কতটা অমৃত সেটা অনিলের খাওয়ার ভঙ্গি দেখলেই বোঝা যায় । তার সাথে টমেটোর সালাদ আর গোশতের ঝোল হলে তো কথাই নেই ।খেতে বসে অনিল ভালো করে দেখল লীলা আজ খুব ছিমছাম ভাবে এসেছে । নীল শাড়ী আর সব নীল সরঞ্জাম টিপ , চুড়ি , কানের দুল । মেয়েদের লাল রঙের শাড়ীতে বউ বউ লাগে কিন্তু লীলাকে নীল পড়লে অপূর্ব সুন্দরি লাগে । একদম পুরদস্তুর গৃহবধূ লাগে । প্রায় দুপুরেই ক্যান্টিনের কোণার টেবিলে গরে ওঠে তাদের এই ক্ষণিকের সংসার। লীলার অনিলের দিকে ভ্রুক্ষেপ ও নেই সে অনিলকে বাসি পোলাও বেড়ে দেয়ায় ব্যস্ত তবে অন্যমনস্ক ভাবে । কারণ অনিল খেয়াল করল ওর প্লেট খালি হতে না হতেই লীলা আরও ঢেলে দিচ্ছে । কিছু জিজ্ঞেস করলেই অপ্রাসঙ্গিক ভুমিকা টানবে লীলা । অনিল ভাবল খেতে খেতে ওইগুলাও হজম করতে হবে যদি এক্ষুনি ও প্রশ্ন করে, “কি হয়েছে?” তবুও নীল আকাশে আজ আর কালো মেঘ জমতে দিল না অনিল জিজ্ঞেস করেই বসল
“তুমি কি খুব চিন্তিত?”
লীলা প্রশ্ন শুনে এমন জোরে শ্বাস ফেলল যেন বহুদিন পর কোন পানির নল কে আটকে রাখার পর সেটার মুখ খুলে দেয়া হয়েছে ।
“জানো , ছোটবেলায় আমি সবচেয়ে বেশি কার জন্য অপেক্ষা করতাম?”
“না এটা তো আমার জানার কথা না ।”
“শোন আমি ডাকপিয়নের জন্য অপেক্ষা করতাম ।”
খাবার প্রায় গলায় আটকে যাবার মত হল অনিলের
“কেন?”
“আব্বু , চাচ্চুদের চিঠি আসবে আর আমি খাম থেকে স্ট্যাম্প গুলো ছিঁড়ে নিয়ে অন্য খাতায় জমিয়ে রাখব আর নিচে দেশের নাম লিখে রাখতাম ।”
“তো ছোটবেলার ডাকপিয়ন কে নিয়ে চিন্তিত তুমি?”
“নাহ ভাবছি এমন আরেকটা খাতা করব কিন্তু ওটা তে ছবি থাকবে । কার ছবি জানো?”
“নাহ আমি এটাও জানি না।”
অভিমানের সুরে লীলা বলে উঠল, “তোমার জানার ইচ্ছাই নেই থাকলে বুঝেই যেতে।”
অনিলের খাওয়ার মনোযোগে ভারি ছেদ পড়ল । সে প্লেট থেকে বলতে গেলে এক প্রকার হাত উঠিয়ে নিলো বলল ,
“খুব বেশি ইচ্ছে নেই । কিন্তু না শুনলে তুমি আমাকে খাবার হজম করতে দিবে না ।“
এই বলে অনিল হো!হো!! হো!!! করে হেসে উঠল ।
“আমি পাত্রপক্ষের পাত্রদের ছবিগুলো জমিয়ে ঐরকম একটা খাতা বানাব নিচে তাদের নাম আর তার বয়স লেখা থাকবে।“
কথাগুলো ঝড়ের বেগে লীলা যেমন বলল অনিলের কানে ঠিক সেভাবেই প্রবেশ করল । তার মনোযোগের খাওয়া আর হাসির ব্যারোমিটার টা আস্তে আস্তে নামতে লাগলো । এতটাই আস্তে যে লীলা খেয়াল করলেই গুনতে পারত কয়টা পোলাওয়ের দানা অনিলের গলা বেয়ে পেটের দিকে যাচ্ছে ।
“কেন আবার কেউ এসেছে? তোমাকে না বলেছি কোন চিন্তা করতে না । কিছুদিনের মধ্যেই একটা হিল্লে হয়ে যাবে ।”
“কিন্তু কবে সেটা??????”
“তো কি বলে না করলে?”
“বলেছি দেখতে পছন্দ হয়নি ।“
“কেন পাত্র দেখতে কেমন?”
“ মোটা , এত্ত বড় ভুঁড়ি , যেন শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায় , চুল নেই , কথা বলতে আমতা আমতা করে , তোতলায় ।“
ভাগ্যিস প্লেটের খাওয়াটা শেষ হতে হতে অনিল এটা জিজ্ঞেস করেছিল । না হলে খাওয়ার শেষ অংশের মজাটাও নিতে পারত না । কিন্তু পানিটা মনে হয় আর গলা দিয়ে নামবে না । কারণ ...।
“আচ্ছা তুমি কি কাণ্ডজ্ঞানহীন ?”
“ও আমি কাণ্ডজ্ঞানহীন ঠিকই বলেছ । কাণ্ডজ্ঞানহীন না হলে হলে কি তোমার জন্য অপেক্ষা করি?”
“আরে তুমি এমন কিছু কারণ দেখালে ছেলেটার বিরুদ্ধে যেগুলো আমার মধ্যেও আছে আমিও বিশাল ভুঁড়িওয়ালা , আমার ও মাথায় চুল নেই যাও আছে পেকে যাচ্ছে আমি কথা বলতে গেলে তোতলাই ।“
“অনিল! খবরদার কারও সাথে তোমার তুলনা করবে না।তুমি আর ওই লোকটা কি এক?”
“এক না কিন্তু কিছুদিন পর যখন ...।“
“থাক আর বলবে না তুমি । কিন্তু পরবর্তীতে এই তুলনা জীবনেও করবে না । “
“করলে কি করবে?” ।
“তোমার মগজ চচ্চড়ি করে ক্যান্টিনে রেখে যাব।”
“রেগে গেলে মানুষ এত হাসির কথা বলতে পারে সেটা তোমাকে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না । আচ্ছা তুমি কি জানো কেন তুমি আমার এই দোষগুলো কখনই দেখনি কেন?”
রাগে হাত কচলাতে কচলাতে দাঁতে দাঁত চিবিয়ে লীলা বলল , “না ।“
“কারণটা আর কিছুই না । আমাদের মধ্যবিত্ত ভালবাসা ।”
“হয়েছে আর নতুন শদ বলে আমার মন ঘোরাতে হবে না।“
“আমি ঘুরাব না তোমার মন এমনিতেই ঘুরে যাবে আমাদের মধ্যবিত্ত ভালোবাসা কে চিনলে । “
“চিনে কি হবে ।“
“চিনলে তোমার আমার মধ্যবিত্ত মন বেঁচে থাকবে আমাদের জন্য আজীবন ।এই দেখ মধ্যবিত্ত শব্দটার মধ্যে একটা লুকায়িত ভাব থাকে জানত? আমাদের মধ্যবিত্ত মা বাবারা কখনই তাদের মধ্যবিত্ত কষ্ট টের পেতে না আমাদের । ঠিক আমাদের মধ্যবিত্ত মন কখনই কাউকে জানতে দেয় না আমরা একে অপরের কতটা কাছে নিঃশ্বাসের মত পাশাপাশি । আমাদের মাঝে কোন দিনভেবে কাজ করা হয়না । কোন দিন ভেবে একে অপরকে কিছু দেয়াও হয়নি । হুট করে কোন লুকায়িত কারণ ছাড়াই একে অপরের উপহার নিয়ে আসি । হুট করে কোন কারণ ছাড়াই তুমি আমার কঠিন কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শোন আর আমি শুনি তোমার অপ্রাসঙ্গিক ভুমিকা গুলো । আমরা নিজেরদের মাঝে নিজেদের খুব খুজে পাই তবুও দিন ক্ষণ ঠিক করে বন্ধু লোক ডেকে বলিনি তোমাকে পেয়ে আমি আকাশচুম্বী সুখী । ধর যদি না পাই আমাদের কে আমরা তবুও খুজে পাব এই মধ্যবিত্ত সুখে । আমার তোতলামিতে তুমি ভালোবাসা খুজে পাও তোমার বোকামিতে আমি আমাকে ফিরে পাই । জগত জুড়ে লোকে কি তা বুঝবে । ঠিক তাও না তুমি আমি হা হয়ে যাব ওদের বোঝাতে গেলে নোটিশ বোর্ড দিয়েও পারব না............ ।“
লীলা গলা ভারি করে বলল,
“ওহ তোমার কথায় আমি নিজেই হা হয়ে যাচ্ছি অনিল । এখানেই ক্ষান্ত দাও।”
অনিল লীলার হাত ধরে বলল,
“নাহ মধ্যবিত্ত মনের কোন শেষ নেই , কোন নির্দিষ্ট কিছুই নেই । আছে শুধু নিঃশ্বাসের মত অনুভব । যে অনুভবে আমি এখন বুঝতে পারছি নীল আকাশে বৃষ্টি নামবে এখন ...।।
লীলা খুব আস্তে করে অনিলের কানের সামনে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
“এই মধ্যবিত্ত ভালাবাসায় তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই চাই না আমি । আর কঠিন করো না তো !!!!!!!!।”
“মধ্যবিত্ত ভালাবাসা” 

সাময়িকী.কম
ঋতুস্রাব কোনো ট্যাবু নয়। রেচন প্রক্রিয়ার মতোই এটি মেয়েদের একটি শরীরবৃত্তিক ক্রিয়া। সুতরাং এর সঙ্গে লজ্জার কোনো সম্পর্ক নেই। একটি সময় ছিল যখন একটি মেয়ের ঋতুস্রাব শুরু হতো, তখন সে ঘাবড়ে যেত, বিষণ্ণ হয়ে থাকত। কেন না, এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ ছিল না তখন। এখন সেই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে জনসচেতনার ব্যপ্তি বৃদ্ধি করতে উদ্যোগী হলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ফোক গায়িকা মমতাজ।
ভিডিওটিতে মমতাজ আহ্বান জানান- মাসিক নিয়ে চুপ করে থেকো না'। এ বিষয়ে মমতাজের সম্পূর্ণ বক্তব্য শুনতে নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)তে ১৮ মে থেকে প্রচারিত হতে যাচ্ছে নতুন রিয়েলিটি শো মেয়েদের সেরা স্কুল। দেশের বিখ্যাত ও জনপ্রিয়তম সঙ্গীতশিল্পী মমতাজসহ আরও অনেক তারকাই এগিয়ে এসেছেন এই রিয়েলিটি শোর ওপর আলোকসম্পাত করতে। মোট ১৩ পর্বের এই শোতে উপস্থাপক ঋতু আর জুয়েল ঘুরে বেড়াবে দেশের বিভিন্ন হাইস্কুলে, কথা বলবে মেয়েদের মাসিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

সাময়িকী.কম
তারকা দম্পতি অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন। ছবি: সংগৃহীত
অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন বলিউডের অসংখ্য সিনেমায় একসঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন। শেষ তাদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল, আর বাল্কীর ‘কি অ্যান্ড কা’ ছবিতে। যদিও সেখানে তারা ছিলেন অতিথি চরিত্রে। কিন্তু তবুও পর্দায় তাদের উপস্থিতি ব্যতিক্রমী আনন্দ দেয় দর্শকদের। আর তাই আবারও পর্দায় ফিরছেন এই বাস্তব জুটি।
পরিচালক সুজিত সরকার তার পরবর্তী ছবিতে বচ্চন দম্পতিকে নিয়ে আসছেন। কী নিয়ে ছবির গল্প তার ইঙ্গিত দিয়েছে ছবির সঙ্গে যুক্ত ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। প্রায় ৪০ বছর হলো বিয়ে হয়েছে এক দম্পতির। এখন দুজনেই বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। মৃত্যুকে তারা ভয় পান না। কিন্তু একজনের মৃত্যুর পর অপরজনের কী হবে, এই আশঙ্কা কাজ করে তাদের মধ্যে।

সুজিত সরকারের সঙ্গে ‘পিকু’ ও ‘পিঙ্ক’ ছবিতে কাজ করেছেন অমিতাভ বচ্চন। কয়েকদিন আগে অমিতাভের ‘সরকার ৩’ মুক্তি পেয়েছে। এদিকে অনেকদিন যাবৎ বড়পর্দায় অনুপস্থিত জয়া বচ্চন। তাদের একসঙ্গে পর্দায় দেখতে পেলে ভক্ত অনুরাগীরা যে আনন্দিত হবেন, এ কথা বলাই বাহুল্য।

সাময়িকী.কম
মার্কিন পপ তারকা সেলেনা গোমেজ গানের চেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন তার বর্তমান প্রেমের কারণে। নতুন গান আসছে সেলেনার, কিন্তু ও নিয়ে মাথাব্যথা নেই ভক্তদের। তাদের মধ্যে সাড়া পড়েছে নতুন গানের কথা শুনে। গানের শিরোনাম ‘ব্যাড লায়ার’। আর তা শুনেই ভক্তরা ভাবছেন, সাবেক প্রেমিক জাস্টিন বিবারকে উদ্দেশ্য করেই লেখা হয়েছে সেলেনার নতুন গানটি।

জাস্টিন বিবারের সঙ্গে সেলেনা গোমেজ। ছবি: সংগৃহীত
২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত প্রেম ছিল বিবার ও সেলেনার। গত বছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত প্রকাশ্যে ঝগড়া করেছেন দুজন। এরপর বিবার তার ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেন, ওদিকে সেলেনা অসুস্থ হয়ে ভর্তি হন রিহাবে। সম্প্রতি সেলেনা ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনে। নতুন প্রেমের সঙ্গে নতুন গান নিয়ে এসেছেন তিনি। আর গানে বিরহ থাকায় সবাই বিবারের প্রসঙ্গ টানছেন বারবার।
তবে এবারই প্রথম যে বিবারকে নিয়ে গান গেয়েছেন সেলেনা, তা নয়। এর আগেও একটি গান বিবারকে উদ্দেশ্য করে তৈরি করেছিলেন সেলেনা। কিন্তু সেস্ময় সেলেনা ছিলেন বিরহের আবহে। এখন তার জীবনে এসেছে নতুন প্রেম, সেই সঙ্গে এসেছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। আর তাই তিনি তার গানে প্রাক্তনকে উল্লেখ করবেন, একথা বলাই বাহুল্য!
সূত্র- ডেকান ক্রনিকলস

Author Name

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.