বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২

অণুগল্প: লটারি

প্রকাশিত:

ল্যাম্পপোস্টের তলায় পলিথিন ঢাকা দেওয়া উঁচু মতো ঢিবিটা বগার ভাত কাপড়ের ঠিকানা। ওখানে বসেই সে সারাদিন কারও জুতো পালিশ করছে, তো কারও জুতোর বুকে পেরেক ঠুকছে। প্রতিদিনের চেনা ছবি।
ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে সেই বিকেল থেকে। এত বৃষ্টি ছাতা দিয়ে কিছু হয় না। লোকজন তেমন নেই। বগা বাড়ি চলে গেছে। চারিদিক অন্ধকার।
মেনরোড ধরে মাঝরাতে একের পর এক ট্রাক যাচ্ছে।‌ ল্যাম্পপোস্টের তলায় আলো পড়ছে। ট্রাকটা বেরিয়ে যাবার পর অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে।
পিচ রাস্তার ওপর জমে যাওয়া জল যেদিকটা ঢাল বেশি,সেদিক দিয়ে ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।
হালদার পাড়ার লোক বিয়ে বাড়ি গিয়েছিল। বরযাত্রীর বাস ল্যাম্পপোস্টের কাছে দাঁড়াতেই একে একে সবাই নেমে আসছে। আর বগার ভাত-কাপড়ের ঢিবিটার দিকে হাত বাড়িয়ে ইঙ্গিত করছে। দাঁড়িয়ে থাকা বাসের লাইটে পলিথিন চাপা দেওয়া ঢিবিটা পরিস্কার দেখা যাচ্ছে।
ওখানে যেন জল একটু বেশি জমে আছে।
একজন বলল, বগার আর জুতো পালিশ করার দরকার নেই। আমরাই এবার থেকে বগার জুতো পালিশ করে দেব। বগা আর মুচি নেই।‌ বগা বাবু হয়ে গেছে।
আর একজন বলল, কেন? মুচি আবার বাবু হতে যাবে কেন?

ঈশ্বরের লীলা। আজ রাত আটটার লটারি বগাকে মুচি থেকে বাবু করে দিয়েছে। দুকোটি টাকা পেয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
অবশেষ দাস
অবশেষ দাস
জন্ম: দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা। বাবা গৌরবরণ দাস এবং মা নমিতা দেবী। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি তুলনামূলক ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা। দুটোতেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। এছাড়া মাসকমিউনিকেশন নিয়েও পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিদ্যানগর কলেজের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক। প্রথম লেখা প্রকাশ 'দীপশিখা' পত্রিকার শারদ সংখ্যায়। তাঁর কয়েকটি কবিতার বই: মাটির ঘরের গল্প ( ২০০৪), কিশোরবেলা সোনার খাঁচায় (২০১৪), হাওয়ার নূপুর (২০২০) সহ অজস্র সংকলন ও সম্পাদিত গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার আগেই তিনি একজন প্রতিশ্রুতিমান কবি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। কবিতা চর্চার পাশাপাশি প্রবন্ধ ও কথাসাহিত্যের চর্চা সমানভাবে করে চলেছেন। কবি দুই দশকের বেশি কাল ধরে লেখালেখি করছেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও সংকলনে। বেশকিছুদিন সম্পাদনা করেছেন ছোটদের 'একতারা' সাহিত্য পত্রিকা। এছাড়া আমন্ত্রণমূলক সম্পাদনা করেছেন বহু পত্র-পত্রিকায়। তিনি গড়ে তুলেছেন শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দুটি অন্যধারার প্রতিষ্ঠান 'বাংলার মুখ' ও মেনকাবালা দেবী স্মৃতি সংস্কৃতি আকাদেমি।' তাঁর গবেষণার বিষয় 'সুন্দরবনের জনজীবন ও বাংলা কথাসাহিত্য।' পাশাপাশি দলিত সমাজ ও সাহিত্যের প্রতি গভীরভাবে মনোযোগী। ফুলের সৌরভ নয়, জীবনের সৌরভ খুঁজে যাওয়া কবির সারা জীবনের সাধনা। সবুজ গাছপালাকে তিনি সন্তানের মতো ভালবাসেন। সুন্দরবন তাঁর কাছে আরাধ্য দেবী। সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অজস্র পুরস্কার ও সম্মান: সুধারানী রায় স্মৃতি পুরস্কার (২০০৪), বাসুদেব সরকার স্মৃতি পদক (২০০৬), রোটারি লিটারেচার অ্যাওয়ার্ড (২০০৬), ১০০ ডায়মণ্ড গণসংবর্ধনা (২০০৮), পাঞ্চজন্য সাহিত্য পুরস্কার (২০১০), শতবার্ষিকী সাহিত্য সম্মাননা (২০১১), এশিয়ান কালচারাল লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০১৪), ডঃ রাধাকৃষ্ণন সম্মাননা (২০১৫), ডি.পি.এস.সি. সাহিত্য সম্মাননা (২০১৮), আত্মজন সম্মাননা (২০১৯), বিবেকানন্দ পুরস্কার (২০১৯), দীপালিকা সম্মাননা (২০১৯), সংহতি সম্মাননা (২০২০), সুকুমার রায় পুরস্কার (২০২০)।

Subscribe

সর্বাধিক পঠিত

আরো পড়ুন
সম্পর্কিত

৪৯ হাজার বছর আগের জম্বি ভাইরাস পুনরুজ্জীবিত করলেন বিজ্ঞানীরা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভূগর্ভস্থ প্রাচীন চিরহিমায়িত অঞ্চলের গলে যাওয়া...

করোনা: একদিনে শনাক্ত সোয়া ৪ লাখ, মৃত্যু আরও ৮ শতাধিক

চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে।...

ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলো ন্যাটো

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতি...

ফুটবল বিশ্বকাপ: ইরানকে হারিয়ে শেষ ষোলতে যুক্তরাষ্ট্র

জিতলেই সুযোগ ছিল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নক আউটে খেলার,...
লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।