সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২

কবি জয়িতা চট্টোপাধ্যায়ের ছ’টি কবিতা

প্রকাশিত:

কি দিতে পারি!

তোমাকে কি দিতে পারি এই জরাজীর্ণ হৃদয় ছাড়া
আঁধারে রোদ্দুরে পোড়া বুকের উত্তাপ
তোমাকে তুলে রাখি অন্য বুকের ভেতর
যেখানে হৃদয় স্তব্ধ এবং বিস্মিত
যেখানে আছে ভালোবাসা আর প্রত্যয়
তোমাকে জড়িয়ে ধরি মেদ মজ্জা ও মাংসের ভেতর,
বুকের অন্যপাড়ে শরীর পায় সেখানে অনন্য আকৃতি,
আমার শব্দ সেখানে ব্যঞ্জনাময়
লেগে আছে হাতের করতলে সৃষ্টি স্পর্শ
দেহ হয়ে উঠছে মর্মমুখর
তোমার অপেক্ষা থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে এখন তোমাতে ভ্রমন,
জীর্ণতা নেই শরীরে, নেই চোখে অন্ধ অনুজ্জ্বলতা,
অবসন্ন প্রাণ পেয়েছে স্বর্গীয় স্হান
অধিক বিবর্ণ ওষ্ঠ পেয়েছে আদিম আশ্রয়
বন্দী থেকে মনের হয়েছে প্রেমে জাগরণ
হৃদয় হয়েছে শুভার্থী স্বাধীন
তোমার চুলে এঁকে দিয়েছি সোনালী স্পর্শ
খেয়ে নিই স্বর্গীয় বিষ নিঃসংকোচে।

সাগর এবং নদীর মতো

তোমার গভীর সংবেদনায় টলমল করে নদী
তোমার বুক ভরা নোনতা জল
সাগরের চেয়েও যদি
বুকের ভেতর জলের ধারা নদীর মতো বয়
বুকের জল নদীর মতন সহজ তবু নয়
সাগর যায় যেখানে রোজ সরল সমতলে
চোখের ধারা উষ্ণ হয়ে বুকের ভেতর জ্বলে
বুকের ভেতর শান্ত নয়, অশান্ত তীব্রতা
সাগর তবু গভীর তার নোনতা ক্ষীপ্রতা
বুকের ভেতর সহজিয়া নোনা জলের ধার
নদীর মতন অষ্টপ্রহর ভাঙছে যে দুই পাড়।

বোধ

হয়তো তোমাকে যেদিন পাবো
সেই সুখেই আমার মৃত্যু হবে
তুমি তো দুঃখ নও, সুখের চেয়েও কিছু বেশি
আমার ভেতর মূকবন্দী প্রাণৎছটফট করে
জড়ত্বে সোঁপেছি অন্ধকার
যদি ভালোবাসা আমায় বন্দী করে
ভালোবাসা ছাড়া আমার অন্য খেলা নেই
ঘর ছাড়া অন্যমুখী আমি,
ভেতরে বাইরে সন্ন্যাস
স্পর্শ করে না তোমার প্রেম তোমার কাম আমাকে
যদি তৃপ্তিতে সুখ হয় তবে অবধারিত মৃত্যু
উড়িয়ে পুড়িয়ে দিয়েছি নিজেকে
খসিয়ে দিয়েছি আয়ত্তের বাইরের বাকল
বৃক্ষের গা থেকে, অধিক চলে গেছি তোমার থেকে
সমস্ত বোধের উৎস খুলে গেছে
শীতের শেষে সমারহ হবে
কবিত্বে নয় নতুন পাতায়।

এও এক অপেক্ষা

আমার কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই
তাই তো তোমার দুঃখগুলোকে
বুকের ভেতর সাতমহল বাড়ি করে
সাজিয়ে রাখছি, তাই তো আজ আর
যাইনা শামিয়ানার কাছে
আমার ব্যকুলতা রঙিন কুয়াশার মতো
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে
ঝরা বকুল, নক্ষত্র পুঞ্জ সব সাজিয়ে
রেখেছি তোমার জন্য, তোমারই পথ চেয়ে
বসে আছি তোমার চোখের দিকে চেয়ে
আমি চোখে অশ্রু জল নিয়ে পাহাড়া দিচ্ছি
বুকের ভেতর বানিয়ে রাখা সাতমহল
যতোটা তুমি ভাবো আমি অপেক্ষা করতে পারি
আমার প্রস্তুতি তার চেয়েও কিছু বেশি
আমি দেখতে চাই তোমার চোখের অশ্রু
ফোঁটা ফোঁটা জল কোথায় গিয়ে মেশে।

তোমার জন্য

বৈশাখের শেষ রাতে
চিঠি লিখতে বসেছি
তাতে কত বিব্রত অক্ষর ,
পাঠিয়েছি উপহার
তুমি আমার কাছে
স্বপ্নের মতন স্মরণীয়
লিখছি এখন বসে তোমার জন্য চিঠি
হয়তো চিঠিটা পৌছবে না কোনও দিন
তোমার ঠিকানায়, মলিন হবে দিন রাত
বছর আসবে যাবে,
কালের যাত্রা এমনি থেমে যাবে
চিঠি উড়ে যাবে অনন্তকালের উদ্দেশ্যে
ক্ষীণ হয়ে উঠবে ভরসা,
তবু একখানি চিঠি লিখি তোমার জন্য।

তৃতীয় বিশ্বের কবিতা

জমে আছে মেঘ মন ভালো নেই
পঙতি বা অর্কিড সবেতেই সেই
আমার কবিতা লেখে দরিদ্র দেশের কবি
উঠে আসে সামনে তৃতীয় বিশ্বের শোষণের ছবি
ভাত সত্যি কবিতার জন্য অপরিহার্য
ফুলের থেকে সাদা ভাত হয়ে ওঠে অধিক জীবন্ত
আমার কবিতা পথে পথে, আমার কবিতা নোংরা বস্তিতে, শিশুর নগ্ন দেহ চুমু খায় আমার কবিতারা
অনাহারী কৃষকের সাথে করে জরুরি আলাপচারিতা
কবিতার অক্ষর হয়ে ওঠে লাল
আর কোনো রং হতে পারে না
দরিদ্র দেশে বড় রঙের আকাল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
জয়িতা চট্টোপাধ্যায়
জয়িতা চট্টোপাধ্যায়
কবি। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

সর্বাধিক পঠিত

আরো পড়ুন
সম্পর্কিত

শম্পা ঘোষের ছয়টি কবিতা

প্রেম ভাসান নিষ্কলঙ্ক জৌলসে প্লাবিত হয় আবেগ,উপেক্ষিত ভাবনারা আজ ছন্নছাড়া...

তৈমুর খানের ছ’টি কবিতা

একটি মৃত্যু শুধু কাজল পরোনিওই চোখে মেঘলা বিশ্বাস আমি আত্মহত্যাকারীসব সিঁড়ি...

তৈমুর খানের নির্বাচিত ছয়টি কবিতা

আস্ফালন একা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছি নিরক্ষরসব অক্ষরগুলি মার্জিত নিবেদনে...

জয়িতা ভট্টাচার্যের নির্বাচিত ছয়টি কবিতা

আবহমান যখনই উল বুনিঘর ভুল হয়ে যায়।দুটো কাঠি বলাবলি করে...
লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।