14 C
Drøbak
বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১

দলিত সাহিত্য আবার কী!

আমি সাহিত্যটা বুঝি। কিন্তু দলিত সাহিত্য জিনিসটা কী? সেটা দিয়ে ঘর মোছে, নাকি ধানখেতে কাকতাড়ুয়া হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখে আমি হাজার চেষ্টা করেও বুঝতে পারিনি।

আমি খুব ছোটবেলা থেকেই যে সব কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিকদের এবং সাহিত্যবোদ্ধাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি, তাঁরা প্রায় সকলেই বাংলা সাহিত্যের এক-একটি মহীরুহ।

সব দেখেশুনে আজ এই বয়সে এসে আমার মনে হয়, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিটা আসলে ব্রাহ্মণদের জন্য। মানে শব্দব্রহ্ম প্রয়োগ জানেন যাঁরা তাঁদের জন্য।

এই দলে কাউকে গ্রেস নম্বর দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া যায় না। ঢুকিয়ে দিলেও ক’দিনের মধ্যেই ধরা পড়ে যান, তিনি আসলে ময়ূর নন, কাক।

বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, উপজাতি এবং তপশিলি ভুক্তদের জন্য কিছু আসন সংরক্ষিত থাকে। ওটাকে বলা হয় কোটা।

কোটা থেকেই কিছু কিছু মানুষ ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠেন। তাই আমি কখনও চক্রবর্তী, চ্যাটার্জি, চৌধুরী ছাড়া কোনও দিন কোনও ডাক্তার দেখাইনি। ঠিক তেমনি, আমি যদি কখনও কোনও বাড়ি বানাই মুখার্জি, ব্যানার্জি, ভট্টাচার্য পদবিধারী ছাড়া কোনও ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে বাড়ি বানাব না।

আমি কোনও কোটা কিংবা গ্রেস মার্ককে বিশ্বাস করি না। যিনি যোগ্য, তিনি যেই হোন না কেন, তাঁর জন্য আসন ছেড়ে দাও।

আমার মনে হয়, যাঁরা লিখতে পারেন না, যাঁদের লেখার দিকে মানুষ একবারও মুখ তুলে তাকান না, তাঁদের লেখাগুলোকে ‘দলিত সাহিত্য’ নাম দিয়ে চিহ্নিতকরণ করে, মূল সাহিত্য ধারার পাশাপাশি সমান্তরাল আরও একটি সাহিত্যধারা তৈরি করে পাঠকের কাছে মুড়ি মিছরি এক করে দেওয়ার এই প্রবণতা এক্ষুনি বন্ধ করা উচিত। সতর্ক থাকা উচিত সেই সব লোকজনদের থেকে, যাঁরা অযোগ্য কবি-লেখকদের নিয়ে দল তৈরি করেন।

দল করে ক্রিকেট টিম হতে পারে, রাজনীতি হতে পারে, একটা মতাদর্শ তৈরি করা যেতে পারে, কিন্তু সাহিত্য হয় না।

সাহিত্যটা হচ্ছে পুরোটাই শব্দ-ব্রহ্ম-বাদ। এখানে জায়গা পাওয়ার জন্য কোনও জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, বংশগরিমা কিংবা রাজা উজির হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু একটাই, আর সেটা হল— কলম চালানোর যোগ্যতা।

এই যোগ্যতা দিয়ে অত্যন্ত নিম্নবর্ণের একজন মানুষও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই একদম প্রথম শ্রেণীর ব্রাহ্মণ হয়ে উঠতে পারেন।

শুধু দেখতে হবে তাঁর লেখা মানুষকে স্পর্শ করছে কি না। মানুষ তাঁর লেখা পড়ার জন্য উৎসুক হচ্ছেন কি না। সাহিত্যের ক্ষেত্রে এটাই প্রথম এবং এটাই শেষ কথা।

আর তাই যদি হয়, তা হলে দলিত সাহিত্য নাম দিয়ে পিছিয়ে পড়া আবোল তাবোল কবি-লেখকদের নিয়ে দল গড়ে তোলা কেন? এর পিছনে কি কোনও রাজনীতি আছে?

সাহিত্য সাহিত্যই। যদি কেউ সত্যিই লিখতে পারেন, তা হলে তিনি যেই হোন না কেন, পাঠকরাই তাঁকে জোর করে সাহিত্যের মূলধারায় ঠিক ঢুকিয়ে দেবেন। আর যদি অযোগ্য হন, তাঁর থেকে শতহস্ত দূরে সরে যাবেন। দল গড়ে কিংবা চেষ্টা করে কিচ্ছু করা যায় না। অন্তত সাহিত্যের ক্ষেত্রে।

অর্থাৎ পাঠকরা খুব সাবধান, দলিত সাহিত্য বা পদদলিত সাহিত্য থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন।

সিদ্ধার্থ সিংহ
সিদ্ধার্থ সিংহ
২০২০ সালে 'সাহিত্য সম্রাট' উপাধিতে সম্মানিত এবং ২০১২ সালে 'বঙ্গ শিরোমণি' সম্মানে ভূষিত সিদ্ধার্থ সিংহের জন্ম কলকাতায়। আনন্দবাজার পত্রিকার পশ্চিমবঙ্গ শিশু সাহিত্য সংসদ পুরস্কার, স্বর্ণকলম পুরস্কার, সময়ের শব্দ আন্তরিক কলম, শান্তিরত্ন পুরস্কার, কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার, কাঞ্চন সাহিত্য পুরস্কার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা লোক সাহিত্য পুরস্কার, প্রসাদ পুরস্কার, সামসুল হক পুরস্কার, সুচিত্রা ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, অণু সাহিত্য পুরস্কার, কাস্তেকবি দিনেশ দাস স্মৃতি পুরস্কার, শিলালিপি সাহিত্য পুরস্কার, চেখ সাহিত্য পুরস্কার, মায়া সেন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও ছোট-বড় অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননা। পেয়েছেন ১৪০৬ সালের 'শ্রেষ্ঠ কবি' এবং ১৪১৮ সালের 'শ্রেষ্ঠ গল্পকার'-এর শিরোপা সহ অসংখ্য পুরস্কার। এছাড়াও আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত তাঁর 'পঞ্চাশটি গল্প' গ্রন্থটির জন্য তাঁর নাম সম্প্রতি 'সৃজনী ভারত সাহিত্য পুরস্কার' প্রাপক হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।