12.2 C
Drøbak
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
প্রথম পাতাবিবিধঅসহায় কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীবিকা পুলিশ প্রশাসন

অসহায় কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীবিকা পুলিশ প্রশাসন

পড়াশোনা শিখে যখন একজন ব্যাক্তি সে পুরুষ কিংবা মহিলাই হোক না কেন পুলিশের চাকরিতে যখন যোগদান করে তখন তিনি এক এক প্রকার সমাজ থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়েন। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে তার উপর সামাজিক নিরাপত্তার কর্তব্য বর্তায়। আবার সে ব্রাক্ষ্রণ, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন, মুসলিম যে জাতির মানুষ হোক না কেন কোনও জাতপাত থাকেনা তাঁর।সমাজ থেকে প্রায় বহিষ্কৃত হয়ে তাঁর একটাই পরিচয় থাকে তিনি পুলিশ। পুলিশ নামক কথা টি কি ভিন গ্রহের!নাকি ভিন্ন প্রজাতির! পুলিশ কারোর বাবা,ভাই,বোন,দাদা কোন না কিছু সম্পর্কের মধ্যে আছেই। আর সেই পুলিশকেই আমরা কোন কিছু না ভেবে কটু মন্তব্য করতে দ্বিধাবোধ করিনা।

নিরাপত্তার খাতিরে যাদের ব্যবহার করা হয় তারা যে কতটা অসহায় সেই দিকটা কোন শিক্ষিত সমাজ কোন দিনের জন্য ভেবে দেখেছেন বলে মনে হয় না। অবশ্য এই মতামতে অনেকেই এক মত নাও হতে পারেন। আজকাল যেকোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুলিশ হোক কিংবা সেনাবাহিনীই হোক তাঁদের কে ডাকা হয়ে থাকে। সেই সমস্ত পুলিশ কর্মীরা যে কি পরিস্থিতিতে থাকে সেই দিকটাও কোন সাধারণ ব্যাক্তির মাথায় থাকে না। উল্টে তাঁদের কোন কাজে সামান্য ভুল ত্রুটি, বিচ্যুতি হলে তাঁদের কে তুলোধোনা করতেও পিছপা হন না কেউই। একবারের জন্য পিছন ফিরে না তাকিয়ে নানার ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য পুষ্প বৃষ্টির মতো ঝরাতে থাকে!

এই সমস্ত পুলিশ কর্মীরা নিজের এবং নিজেদের পরিবারে কথা না ভেবেই কর্তব্য পালন করে চলেন।অনেক সময় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জীবন বিপন্ন করে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেও কোনরুপ প্রশংসা পায় না পরিবর্তে জোটে দুর্নাম।আর সব থেকে বড় কথা যখন না খেয়ে,নিজেদের জীবন বিপন্ন করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় ভালো কাজ করার জন্য পুলিশের উচ্চতর লেবেল থেকে নিন্মস্তর লেবেল পর্যন্ত প্রস্তুুত তখনই বিভিন্ন অমেরুদন্ডী দাদা-দিদিদের নির্দেশে আইনের বেড়াজালে পড়ে সেই সব কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তখনই কথা ওঠে পুলিশের মেরুদন্ড নেই পুলিশ টাকা খেয়ে কাজ করছেনা,নিজের স্বার্থের জন্য যাতে পদোন্নতি না আটকায় এমন ভুরি ভুরি অযিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনই মারাত্মক অভিযোগ আনার আগে কোন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ একবারের জন্য ও পিছন ফিরে তাকান না বরং পুলিশের চোদ্দ পুরুষের গুষ্টি উদ্ধার করে মেরুদন্ডহীন পুলিশের বিরুদ্ধে কথা তোলেন অমেরুদন্ডী প্রাণীরা।যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য অবশ্যই পুলিশের প্রয়োজন,পুলিশ ছাড়া কোন কাজই হয় না অথচ পুলিশকে তুলোধনা করতে পিছপা হয় না অমেরুদন্ডী প্রাণীরা।

আর এই সব অমেরুদন্ডী প্রাণীদের প্রয়োজন হয় পুলিশের,হয় দেহরক্ষী,নয়তো সমস্যা সমাধনের জন্য।পুলিশে ছুটি থাকলেও বাড়ী কেউ মারা গেলেও অধিকাংশ সময় ছুটি থেকে তারা বঞ্চনা শিকার হন। প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করতে গিয়ে পকেটে টাকা ভর্তি থাকলেও ভৌগলিক অবস্থানের জন্য অনেক সময় না খেয়েই ডিউটি পালন করে থাকেন। এমন অবস্থার খোঁজ রাখার তেমন কোন মানুষ পাওয়া দুষ্কর।আবার জলে জঙ্গলে কোন ক্রাইম দমন করতে পুলিশকে যখন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেন একবারও কি ভেবে দেখেন তাদের জীবনের মূল্য কতখানি!আর মৃত্যু হলে তো একটাই বাক্য ধরা বাঁধা “শহীদ” হলেন। বিভিন্ন ভাবে নাটকের মাধ্যমে শহীদ পুলিশ কর্মীদের ফটোতে মালা,চন্দন,ধূপ ধরিয়ে,বুকে কালো ব্যাচ পরে রঙ্গমঞ্চে অনেক বাক্য ব্যয় করেন সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষজন এমন কি ছলনা করে অনেকেই আবার নিজের চোখের জল রুমাল দিয়ে মুছে দেখিয়ে দেন তিনি কতখানি পুলিশ নামক বাক্যটিকে কদর করেন,সেটা আবার কিন্তু সাময়িক সময়ের জন্য।এমন কি অন্য কোন এক নামী দামী ব্যক্তিত্বের মৃত্যু হলে তাঁকে নিয়ে ছুটি ঘোষণা,মোমবাতি মিছিল এমন কি যাতে করে দেশের সমস্ত জায়গায় শোকসভা করে শোক পালন করার জন্য নির্দেশিকা পর্যন্ত জারী হয়।আবার মহান ব্যক্তিদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে যে সমস্ত পুলিশ কর্মীরা মহান ব্যক্তিত্বের জীবন রক্ষা করে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন তাঁদের কে কেউই মনে রাখেন না।বাতিও জ্বলে না,মোমবাতি মিছিলও হয় না,আর শোক পালন কিংবা ছুটি সেটাও দূর অস্ত।কিন্তু এক বারের জন্যও কি তার পরিবার কিংবা সেই মৃত পুলিশ কর্মীর ছোট্ট ফুটফুটে শিশুটির কথা কেউ ভাবেন?

পুলিশ অনেক সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য শূণ্যে গুলি চালিয়ে এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখে,আবার সেই শান্ত এলাকাকে গরম করে তুলতে রাজনৈতিক নেতাদের জুড়ি মেলা ভার।

PRB এবং পুলিশ আইন বলে একজন পুলিশকর্মী ২৪ ঘন্টার জন্য অন ডিউটি। আর অন্য একজন যে কোনো শ্রেনীর কর্মচারী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা (৮ঘন্টা) পর্যন্ত ডিউটি করে মাসিক বেতন যা পান তাতে করে একজন পুলিশ অফিসার ২৪ ঘন্টা ডিউটি করে পান একই বেতন। একজন শ্রমিকও ৮ ঘন্টার বেশি কাজ করলে ওভার টাইমের টাকা পেয়ে থাকেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্য পুলিশের হয়না। ৮ ঘন্টা কাজ করে সরকারের অন্যান্য চাকুরীজীবিরা যখন দশ হাজার টাকা পান সেখানে পুলিশের পাওয়ার কথা ত্রিশ হাজার টাকা। আবার যেহেতু পুলিশ সেহেতু একটা দিনও কাজ বন্ধ যাবেনা। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীরই যথেষ্ট ঘুমের প্রয়োজন আছে, মানুষ তার ব্যক্তিক্রম নয়। প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে ও আরামে ঘুমাতে চায়, ঘুমায়ও।

আর পুলিশ? আপনার ঘুম যাতে ভাল হয়, চোর ডাকাত থেকে রক্ষা, অগ্নি সংযোগ সহ সকল খারাপ লোকদের হাত থেকে সবার জীবন, মালপত্তর রক্ষার জন্য, নিজের ঘুমকে বিসর্জন দিয়ে কাজ করতে হয়। আর্ন্তজাতিক শ্রম আইনে উল্লেখ রয়েছে প্রত্যেক শ্রমিক ৮ ঘন্টা কাজ করবে। ৮ ঘন্টার বেশি কাজে বাধ্য করানো যাবে না। এর বেশি কাজ করলে সাধারন বেতনের বেশি হারে ওভারটাইম বেতন পাবেন। কিন্তু পুলিশ? পায় কি? মোটেই পায় না।

ডাক্তার হলে স্পেশাল প্রাইভেট চেম্বার থাকত। বেতনের বাইরেও মাত্রারিক্ত রোজগার থাকতো। কিন্তু আইন বলে আমরা পারিবারীক ব্যবসায়েও অংশীদারী বা প্রত্যক্ষ ভাবে সম্পর্কও রাখতে পারবো না। আমাদের দেশ পরিচালিত হয় গণতন্ত্রের সরকার দ্বারা। যার আদেশ, নির্দেশ মান্য হয় জনগনের নিকট পুলিশের দ্বারা। যদি সেনা, নৌসেনা, বিমান বাহিনী সহ সকল বাহিনী একসাথ মাত্র কয়েক ঘন্টা জন্য সমস্ত কর্মযজ্ঞ বন্ধ রাখেন তাহলে একবার চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন দেশে হাল কি হবে!!

আবার সাধারণ পুলিশের কাজ সারা দেশে যদি এক ঘন্টার জন্য বন্ধ থাকে তাহলে টাইফুন কিং সাইক্লোনের থেকে মারাত্মক হবে।ফল হবে,আপনার ঘরের সম্মান থাকবে না, দোকানে মাল থাকবে না, যাত্রাপথে রেল,বাস,ট্রম কোন যানবাহন থাকবেনা, মোড়ে মোড়ে শুধুমাত্র লাশ পাওয়া যাবে, সকল ব্যাবসা বাণিজ্য লাটে উঠবে, সরকার পদত্যাগ করবে, বিধায়ক,সাংসদ সহ নিজের পরনের বস্ত্রটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার মত শান্তি প্রিয় লোকগুলো নিজেকে লুকিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হবে।

এত সবের পরও পুলিশ নামক বাক্যটি অতি জঘন্যতম খারাপ?

দেশের লক্ষ লক্ষ লোক তাঁর নিজের চাকরীকে বলে সে ‘সার্ভিস’ করে। আসলে তারা সবাই চাকুরী করে। পৃথিবীর বুকে মাত্র ৪ টি পেশা হলো সার্ভিস- পুলিশ, ডাক্তারি ও নার্সিং, এ্যামবুলেন্স এবং ডাক বা চিঠিপত্র সংক্রান্ত বিভাগ।

আর একদিকে সকলের চোখে মুখে ঘুষ আর ঘুষ বাক্যটি অহরহ! এত টাকা ঘুষ খায়? শোনা যায়, পুলিশ ঘুষ খায়। আপনি কখনো ঘুষ দিয়েছেন কি? নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন দেখবেন বুঝতে পারবেন। যদি না দিয়ে থাকেন তাহলে কেন এই ধারণা? তাহলে কেন এই ধারনা? শুনেছেন আপনি? না শুনেই কিন্তু বলেই বেড়ান পুলিশ খারাপ? আর ঘুষ কেনই বা দিলেন? ছোট্টো একটি সামান্যতম উপহার বলেই কি ঘুষ দিলেন?

আপনার পরিবারের কেউ হয়তো সেদিন ধর্ষণ কেসের আসামী হিসাবে সেদিন গ্রেফতার হল, আর আপনি সম্মানীয় বাবার মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হল। আজও কেউ জানেনা, কাউকে বলেননি হয়তো আপনাদের সম্মানের কথা ভেবে।

এটাই কি পুলিশের দোষ?

পুলিশ এতই ঘুষ খায় তারপরও তার একটি ভালো বাড়ি নেই। ডাক্তার, কর্মহীন রাজনীতিবিদের মত ঝাঁ চকচকে বাড়ী গাড়ী কিছুই নেই। চাকরীর পাঁচ বছর পর ডাক্তাররা বাড়ী, গাড়ি করে ফেলে আর পুলিশ চাকরির পাঁচ বছর পর হয়তো একটি মোটর বাইক কেনেন আর তা ব্যবহার করেন জনসাধারণের চাকরির ভেরিফিকেশন, তাড়াতাড়ি ডিউটিতে যাওয়ার জন্য। এরপরেও যদি কোনও ভাবে দূর্ঘটনায় কেউ মারা যান তাহলে বলা হয়, একজন পুলিশ সহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন এমন কোন গুরুতর খবর নয়!

পুলিশ কি কোন মানুষ নয়!?

যাঁরা নিজে না ঘুমিয়ে অন্যের ঘুমকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন, যে ট্রাফিক পুলিশ রোদে পুড়ে, জলে ভিজে জনসাধারণের পথ চলা করে নির্বিঘ্নে করে দেন। যিনি ঈদের নামাজ, গীতা পড়া এবং গীর্জায় প্রার্থনা করতে না পেরে আপনার নামাজ পড়া, গীতা পড়া, গীর্জায় প্রার্থনা করা কে নিরাপদ করে দেন।

সে আর যাই হোক,সে হল পুলিশ। অসহায় জীবন কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জীবিকা।

সুভাষ চন্দ্র দাশ, কলকাতা
সুভাষ চন্দ্র দাশ, কলকাতা
জন্ম ১৯৭৬সালের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪পরগণার কমারশা গ্রামে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত আছেন। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তার লেখা ছোট গল্প ও কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।