10 C
Drøbak
সোমবার, অক্টোবর ২৫, ২০২১
প্রথম পাতাসম্পাদকীয়উপসম্পাদকীয়মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা

মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা

ভারতে যে পদ্ধতিতে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ক্লাসে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার, সেটা মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়, স্বাস্থ্যকর তো নয়ই।

এই পদ্ধতিতে ক্লাসে ওঠার ছাড়পত্র হাতে পাওয়ার পরে এই সব ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার জন্য যে বিষয় নির্বাচন করবে, সেখানে এত দিন ধরে পরীক্ষায় পাওয়া যে প্রাপ্ত নম্বর দেখে বাছাই করা হতো, কে কোন বিষয় পড়ার অধিকারী, যদি সেই পরীক্ষাই না হয় এবং এই ধরনের অবৈজ্ঞানিক প্রথায় প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে যদি কেউ উচ্চশিক্ষার জন্য এমন কোনও বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে, যেটা পড়ার সামান্যতম মেধাও তার নেই, তা হলে সেটা হবে সব চেয়ে বড় কেলেঙ্কারি। শুধু রাজ্যের নয়, সেটা হবে গোটা দেশের পক্ষে ভবিষ্যতের জন্য একটা বড় ধরনের বিপর্যয়।

সেই বিপর্যয় ঠেকাতে হলে অতি অবশ্যই মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তার জন্য যদি রাজ্য সরকারকে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হয়, যদি পর্যাপ্ত মাস্ক এবং স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করতে হয়, যদি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে নিরাপত্তার কারণে হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করতে হয়, সেটা করতে হবে। করতেই হবে। কারণ এটা রাজ্য এবং দেশের পক্ষে মঙ্গলজনক।

যেখানে বাজার-হাট খুলে গেছে, যেখানে পঁচিশ শতাংশ লোক নিয়ে সরকারি এবং বেসরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে রেঁস্তোরাও খুলে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিমন্ত্রিতদের নিয়ে সামাজিক আচার অনুষ্ঠান করা হচ্ছে, যেখানে বিধানসভা নির্বাচনের মতো এত বড় একটা কর্মযজ্ঞ হয়েছে, সেখানে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের মতো জীবনের প্রথম বড় দুটি পরীক্ষা বাতিল করার কোনও মানেই হয় না।

অতিমারি পরিস্থিতিতে যাবতীয় নিয়মকানুন মেনে অনায়াসে এই পরীক্ষা নেওয়া যেতেই পারে। সরকারের পক্ষে অসুবিধে হলে, যে সব স্কুল থেকে ছেলেমেয়েরা অন্য স্কুলে পরীক্ষা দিতে যাবে কিংবা যে সব স্কুলে পরীক্ষার্থীদের সিট পড়বে, সেই সব স্কুলের যে কোনও একটিকে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করার গুরুদায়িত্ব দিয়ে দেওয়া যেতেই পারে।

স্কুলে কোভিড দূরত্ব বজায় রাখার মতো পর্যাপ্ত ঘর না থাকলে স্কুলের মাঠে কিংবা নিকটবর্তী কোনও খোলা জায়গায় প্যান্ডেল করেও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

দরকার হলে যাবতীয় নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্তরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা যেতে পারে।

অর্থাৎ পরীক্ষা বাতিল করার জন্য কোনও অজুহাত বা অবৈজ্ঞানিক কৌশল নয়, পরীক্ষা নেওয়ার জন্য যে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া দরকার, রাজ্য সরকারের উচিত সেই পদ্ধতি অবলম্বন করা। তার জন্য যা যা করণীয় সেটা রাজ্য সরকারকেই করতে হবে। কিন্তু কোনও মতেই পরীক্ষা বাতিল করা সমীচীন নয়।

সিদ্ধার্থ সিংহ
সিদ্ধার্থ সিংহ
২০২০ সালে 'সাহিত্য সম্রাট' উপাধিতে সম্মানিত এবং ২০১২ সালে 'বঙ্গ শিরোমণি' সম্মানে ভূষিত সিদ্ধার্থ সিংহের জন্ম কলকাতায়। আনন্দবাজার পত্রিকার পশ্চিমবঙ্গ শিশু সাহিত্য সংসদ পুরস্কার, স্বর্ণকলম পুরস্কার, সময়ের শব্দ আন্তরিক কলম, শান্তিরত্ন পুরস্কার, কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার, কাঞ্চন সাহিত্য পুরস্কার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা লোক সাহিত্য পুরস্কার, প্রসাদ পুরস্কার, সামসুল হক পুরস্কার, সুচিত্রা ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, অণু সাহিত্য পুরস্কার, কাস্তেকবি দিনেশ দাস স্মৃতি পুরস্কার, শিলালিপি সাহিত্য পুরস্কার, চেখ সাহিত্য পুরস্কার, মায়া সেন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও ছোট-বড় অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননা। পেয়েছেন ১৪০৬ সালের 'শ্রেষ্ঠ কবি' এবং ১৪১৮ সালের 'শ্রেষ্ঠ গল্পকার'-এর শিরোপা সহ অসংখ্য পুরস্কার। এছাড়াও আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত তাঁর 'পঞ্চাশটি গল্প' গ্রন্থটির জন্য তাঁর নাম সম্প্রতি 'সৃজনী ভারত সাহিত্য পুরস্কার' প্রাপক হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।