শনিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২২

ধর্মবাজ বনাম মুক্তবাজ: জাত পাত যার যার; আত্মদর্শন সবার পর্ব-৪

প্রকাশিত:

ধর্মীয় অনুভুতি কথাটি ভুল, ভুয়া ও অন্তঃসারশূন্য।
ধর্মীয় অনুভুতি বাক্যটিও যেমন ভুয়া, এর ব্যবহারও তেমন ভুল। কারণ ধর্ম বলতে পদার্থের বৈশিষ্ট্যকে বুঝায়। যেমন আগুনের ধর্ম দাহ্য করা, চুম্বকের ধর্ম লোহাজাতীয় পদার্থকে আকর্ষণ করা, দিকনির্ণায়কের (Compass) ধর্ম দিক নির্ণয় করা ও জলের ধর্ম নিম্নগামিতা। যেমন- কোনো আগুন যদি দাহ্য না করে, কোনো চুম্বক যদি লোহাজাতীয় পদার্থকে আকর্ষণ না করে, কোনো দিকনির্ণায়ক যদি দিক নির্ণয় না করে এবং কোনো জল যদি নিম্নগামী না হয়, তবে তাদের ধর্মীয় অনুভুতি নষ্ট হয়ে গেছে। তারা ধর্ম হারিয়ে ফেলেছে।

মতবাদ যেভাবে ধর্ম হলো:
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ নতুনভাবে যা দেখতো তাই ভক্তি করতো। তারপর ভক্তির নাম হয় পূঁজা। মানুষ যখন জানতে পারে যে; সবচেয়ে বড় ঈশ্বর বা দেবতা হলো শিশ্ন। আর তার সহযোগী হলো কবন্ধ (যোনি)। এটা ছিল মানবসভ্যতার মহা-দর্শন (Super philosophy)। ঐ সময়কে বলা হতো মহা-দার্শনিক যুগ (Super philosophical period)। তখন হতে মানুষ শিশ্ন (Penis) ও কবন্ধ (Vagina) পূঁজা করতে আরম্ভ করে। এটা ছিল মানবসভ্যতার মহা-ঈশ্বরতত্ত্ব (Super theosophy)। ঐ সময়কে বলা হতো মহা-ঐশ্বরিক যুগ (Super theosophical period)। অতঃপর বিগত ৪,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ হতে ১,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত মানুষ শিশ্ন-কবন্ধ পূঁজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ঐ সময়কে বলা হতো প্রকৃত আত্মদর্শন যুগ (Real theosophical period)।

১,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এসে লজ্জা ও ব্রীড়ার প্রতি লক্ষ্য করে প্রতীকী আত্মদর্শন (Symbolic theosophy) আবিষ্কার হয়। তারপর হতে শিশ্ন ও কবন্ধকে বাতাবারণ দ্বারা আড়াল করার জন্য আত্মতাত্ত্বিকগণ একের পর এক পরিভাষা আবিষ্কার করতে থাকেন। সাথে সাথে শিশ্ন-কবন্ধ পূঁজাবিধিরও পরিবর্তন হতে থাকে।

যার ফলে ১,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এসে মহা-ঈশ্বরতত্ত্ব (Super theosophy) দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যথা ১ প্রকৃত আত্মদর্শন (Real theosophy) ও ২ প্রতীকী আত্মদর্শন (Symbolic theosophy)।
বিশেষ করে সুস্থজীবন, শুক্রনিয়ন্ত্রণ, অমৃতসুধা-অমৃতমধু আহরণ ও দীর্ঘায়ুলাভ এসবই ছিল তখনকার তাত্ত্বিক বিষয়। এসবের ওপর নির্ভর করে ভারতবর্ষে তখন নির্মিত হয়েছিল বেদ (৪,৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), রামায়ণ (৩,৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), মহাভারত (৩,২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ও পুরাণসমগ্র (৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ- ৮০০ খ্রিস্টাব্দ)।

এ সময়ে বিশ্বের কোথাও মতবাদকে ধর্ম বলা হতো না। বরং সর্বদা তত্ত্ব, মত, বাদ, মতবাদ, ব্যক্তিগত ঈশ্বরবাদ ও ব্যক্তিগত দেবতায় বিশ্বাসবাদ প্রভৃতি বলা হতো। মতবাদগুলো ঈশ্বর প্রদত্ত, ঈশ্বর প্রেরিত ও ঈশ্বরের মনোনীত এসবও বলা হতো না। এরূপ মহান গ্রন্থ অমুক কবি নির্মাণ করেছেন; পূর্বকালে এরূপ বলতেই মানুষ গর্ববোধ করতো। তখন রীতিমতো প্রতিযোগীতা চলতো ব্যক্তিগত ঈশ্বর বা ব্যক্তিগত দেবতা নির্মাণের। যে যত সুন্দর ঈশ্বর বা যত সুন্দর দেবতা নির্মাণ করতে সক্ষম হতো বলিহারি দেওয়া হতো তাঁকে।
তখনো; প্রতীকী মূর্তির মাধ্যমে মনুষ্য নির্মিত ঈশ্বরের পূঁজা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি। প্রতিযোগীতা চলছে কেবল ঈশ্বর নির্মাণের। তখনি ভারতবর্ষে ঈশ্বররূপে নির্মিত হয় ব্রহ্মা, কৃষ্ণ, রাম ও বুদ্ধ। তারপর বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ঈশ্বররূপে নির্মিত হয়; ‘الله’ (আল্লাহ), ঈশ্বর, ロード (এয়াদা), ওয়াহিগুরু, ‘خدا’ (খোদা), ‘خداوند’ খোদাওন্দ), 主 (চু), Chúa tể (চো তে), Jehovah (জোভ), Tanrı (তানরি), 老爺 (লাংইয়ে), Lord (লর্ড), 범천 (হামসান) ও Here (হিরিই)। এছাড়াও; মারাংবুরু, কারাতারা ও খামিসামা এগুলোও বিশ্বের কোনো কোনো সাম্প্রদায়িক মতবাদের ঈশ্বর।

স্মরণীয় যে; সৃষ্টিকর্তা ও নির্মিত সাম্প্রদায়িক সৃষ্টিকর্তা এক নয়। যেমন বাংলা ভাষার বিধাতার নাম সৃষ্টিকর্তা। অন্যদিকে; বাংলা ভাষার নির্মিত সাম্প্রদায়িক সৃষ্টিকর্তার নামগুলো হচ্ছে হিন্দুদের ব্রহ্মা, বৌদ্ধদের ঈশ্বর, আত্মতাত্ত্বিকদের কাঁই ইত্যাদি। ব্রহ্মা, ঈশ্বর ও কাঁইয়ের চরিত্র ও জীবনী আছে। এগুলো ভারতীয় পৌরাণিক সাহিত্যের ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র। অন্যদিকে; সৃষ্টিকর্তার চরিত্র বা জীবনী কিছুই নেই। কারণ; সৃষ্টিকর্তা পৌরাণিক কোনো চরিত্র নন। এটি আভিধানিক একটি পরিভাষা মাত্র। নিচে কয়েকটি সম্প্রদায়ের নির্মিত সাম্প্রদায়িক ঈশ্বরের নাম তুলে ধরা হলো।
১ ইয়াজিদীদের Tanrı (তানরি)।
২ ইয়ারসানীদের ‘خداوند’ (খোদাওন্দ)।
৩ মুসলমানদের ‘الله’ (আল্লাহ)।
৪ ইহুদীদের Jehovah (জোভ)।
৫ কনফুসীদের 老爺 (লাংইয়ে)।
৬ ক্যাওদাইদের Chúa tể (চো তে)।
৭ খ্রিস্টানদের Lord (লর্ড)/ ‘לורד’ ()।
৮ জরথুস্ত্রদের ‘خداوند’ (খোদাওন্দ)।
৯ জুসিদের 범천 (হামসান)।
১০ জেনদের ব্রহ্মা।
১১ জৈনদের ব্রহ্মা।
১২ তাওদের 主 (চু)।
১৩ তেনরিকোদের ロード (এয়াদা)
১৪ দ্রুজদের ‘לורד’ ()।
১৫ নিওপ্লাটোদের ‘خدا’ (খোদা)।
১৬ বাহাইদের ‘اللہ’ (আল্লাহ)।
১৭ বৌদ্ধদের ঈশ্বর।
১৮ মাজদাকদের ‘خدا’ খোদা।
১৯ মান্দাইদের ব্রহ্মা।
২০ রাস্তাফারীদের Here (হিরিই)।
২১ শাক্তদের ব্রহ্মা।
২২ শিখদের ওয়াহিগুরু।
২৩ শিন্তোদের ロード (এয়াদা)
২৪ সামারিতানদের ‘לורד’ ()।
২৫ হিন্দুদের ব্রহ্মা।
২৬ হোয়া-হাওদের Chúa tể (চো তে)।

যতসম্ভব জানা যায়; ১,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ হতে মনুষ্যনির্মিত ঈশ্বরের পূঁজা প্রথা আরম্ভ হয়। যেহেতু; ঈশ্বরকে দেবতা বলা হয়। সে সূত্র ধরেই ভারতে দেব-দেবীর পূঁজা আরম্ভ হয়। যেমন সরস্বতীপূঁজা, লক্ষ্মীপূঁজা, দূর্গাপূঁজা ও কালীপূঁজা প্রভৃতি। এগুলো ছিল প্রতীকী আত্মদর্শনের অবদান।

শিশ্ন ও কবন্ধ পূঁজাকে কেন্দ্র করে সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকা একদিকে নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে; আবিষ্কার করা হয়েছে আরাধনা, উপাসনা, ধ্যান, পূঁজা, প্রাণায়াম, যজ্ঞ, যোগ ও সাধনা। দেওয়া হয়েছে একেক দেশে একেক ভাষায় একেক প্রকার নাম।

অবশেষে ভারতবর্ষে কবন্ধকে ভগ ও শিশ্নকে বাণ ধরে এর নাম দেওয়া হয়েছে ভগবান (ভগ+বাণ = ভগবান)। সারাবিশ্বের সর্ব প্রকার দ্বিপস্থ সৃষ্টিকুল এই ভগবাণের পূঁজায় ব্যতিব্যস্ত। এটাই প্রকৃত দর্শন, এটাই প্রকৃত বিজ্ঞান, এটাই প্রকৃত সাধন, এটাই প্রকৃত উপাসনা, এটাই প্রকৃত আরাধনা। সারা বিশ্বের সর্ব প্রকার কর্ম, বৃত্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্য এ ভগবানের পুঁজার সাথে কোনো না কোনভাবে সম্পৃক্ত। ভগবানের পুঁজা কোনো ব্যবসা নয় এটা প্রেম-ভালোবাসা।

অন্যদিকে; সাম্প্রদায়িকরা মূল ভগবাণকে হারিয়ে ফেলেছে। তাই তারা প্রতীকী আত্মদর্শনের মাধ্যমে পাথর, কাঠ, বাঁশ বা মাটি দ্বারা শিশ্নের প্রতীক প্রস্তুত করে তার আরাধনা করে। যেমন ভারতীয় সাম্প্রদায়িক হিন্দুদের শিবলিঙ্গ পূঁজা। জাপানের শিন্তোদের শিশ্নপূঁজা।

অন্যদিকে; কেউ কেউ প্রতীকী আত্মদর্শনের মাধ্যমে পাথর, কাঠ, বাঁশ বা মাটি দ্বারা কবন্ধের প্রতীক প্রস্তুত করে তার আরাধনা করে। যেমন পারসিক ও আরব্য সাম্প্রদায়িকদের কালো পাথর চুম্বন। এগুলো কোনো না কোনভাবে ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো উপাসনাও নয় এমনকি প্রেম-ভালোবাসা নয় বরং ব্যবসা।

প্রকৃত আত্মদর্শনের অবদান ভগবানের পূঁজা, ভ্রতৃত্ব ও প্রেম-ভালোবাসা। অন্যদিকে; প্রতীকী আত্মদর্শনের অবদান ব্যবসা, ধ্বংস ও যুদ্ধ-বিগ্রহ। প্রকৃত আত্মদর্শনকে বলা হয় শ্বরবিজ্ঞান (Theology)। অন্যদিকে; প্রতীকী আত্মদর্শনকে বলা হয় পুরাণ (Mythology)।
শ্বরবিজ্ঞানের সূত্র দ্বারা নির্মাণ করা পৌরাণিক সাহিত্য। পৌরাণিক সাহিত্যে ব্যবহৃত সুন্দর সুন্দর নামকে বিধিবদ্ধ নিয়মে পূঁজা করার নীতিমালাকে বলা হয় সাম্প্রদায়িক মতবাদ। সাম্প্রদায়িক মতবাদকেই লুকোচুরি করে বর্তমানকালে বলা হচ্ছে Religion বা ধর্ম। সারাবিশ্বে বর্তমানে Religion বা ধর্মের যে আগ্রাসী অবস্থা ও যে করুণ পরিণতি তা আর বলার প্রয়োজন নেই।
সবাই এগিয়ে আসুন এখনি সাম্প্রদায়িকদের ব্যবহৃত “ধর্ম, ধার্মিক, ধর্মযুদ্ধ, বিধর্মী, ধর্মকর্ম ও ধর্মবিধান” প্রভৃতি পরিভাষার পরিবর্তে; “মত, মতবাদ, দর্শন, শাস্ত্র, সাম্প্রদায়িক-বিধান, মনগড়া মতবাদ ও কল্পনাপ্রসূত মতবাদ” প্রভৃতি পরিভাষার ব্যবহার আরম্ভ করি। তাহলে কিছুটা হলেও তাদের পরিভাষার ভুল ব্যবহারের প্রতিবাদ করা হবে বৈকি।

বাবাও ডেলিভারি রোগে মারা গেছে:
কয়েকজন অশিক্ষিত লোক এক স্টলে বসে চা-আড্ডা করছিল। এমন সময় একজন বললো অমুকের স্ত্রী ডেলিভারিতে মারা গেলো। তখন ঐ অশিক্ষিতদের মধ্যে একজন বলে উঠলো গতবছর, “আমার বাবাও এ রোগেই মারা গেছে।” এর অর্থ হচ্ছে ঐ অশিক্ষিত লোকটি ডেলিভারি (Delivery) পরিভাষাটির অভিধা বা অর্থ জানে না। সে মনে করেছে কোনো মারাত্মক রোগের নাম ডেলিভারি। বিশেষ করে তার বাবা যে রোগে মারা গেছে হয়তো সে রোগের নাম ডেলিভারি। তেমনি বর্তমানকালে অধিকাংশ লোক মনে করছে Religion পরিভাষার অর্থ ধর্ম। আর এর ওপরই গড়ে উঠেছে অভিধান, ওয়েবসাইট ও গুগোল অনুবাদ। তাই এখান থেকে বের হওয়া অনেক কঠিন। প্রকৃতপক্ষে ধর্ম পরিভাষাটির ইংরেজি অনুবাদ Attribute এবং আরবি سمة (সিমা) হবে। যেহেতু; সারা বিশ্বে ধর্ম পরিভাষাটির ইংরেজি Religion ও আরবি دين (দিন) হয়ে গেছে। সেহেতু এখন সঠিক অর্থে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত দুরহ ব্যাপার।

খাসি কুকুর হওয়া:
একবার এক ঠাকুর তার যজমানের বাড়িতে গেলো। যজমান ঠাকুরকে দু‘দিন পর্যন্ত যথেষ্ট যত্ন-সমাদর করলো। অতঃপর ঠাকুরের বিদায়ের সময় তার হাতে একটি খাসির দড়ি ধরিয়ে দিয়ে বললো- “ঠাকজি, একটা খাসি তো আপনাকে নিয়ে আমরা খেয়েছি, আর এ খাসিটি মাতাজি যেন বাড়ির অন্যান্যদের নিয়ে খান।” ঠাকুর খাসিটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় উঠলেন। খাসিটি দেখে তিনজন ঠকের লোভ হলো। তাদের প্রধান বললো- “ঠাকজির খাসিটি খেতে হবে কিন্তু তাকে কোনো প্রকার অসম্মান করা যাবে না। আমরা তিনজন পথের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে তাঁর সাথে দেখা করে খাসিটিকে কুকুর বলে তাঁকে ধোঁকা দিবো।”

কথামতো তারা অন্য পথ দিয়ে ঐ পথের তিন স্থানে গিয়ে বসে রইল। ঠাকুরকে দেখামাত্র তাদের একজন তাঁর পায়ে পড়ে পদচুম্বন করলো। অতঃপর বললো- “রাম রাম; ঠাকজি আপনি এতবড় কুকুরটি কেন টেনে নিয়ে যাচ্ছেন?” ঠাকুর একেবারে রেগে লাল হয়ে বললেন- “তোর মতো অন্ধরা তা-ই বলে। আমার যজমান আমাকে খাসিটি দিয়েছে বাড়ির লোকজন নিয়ে খাওয়ার জন্য। তুই কিনা বলছিস এটি কুকুর! দূর হ দূর হ।” অতঃপর ঠাকুর আবার কিছুপথ যেতেই অন্য মোড় দিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তি এসে ঠাকুরের পায়ে পড়ে পদচুম্বন করে বললো- “ছি! ছি! ঠাকজি আমরা সবাই আপনাকে মান্য করি, আর আপনার হাতে এতবড় কুকুরটা! আপনার মান-সম্মান সব ম্লান হয়ে যাবে। দয়া করে কুকুরটাকে ছেড়ে দেন।” ঠাকুর রেগে টগবগ করতে করতে বললেন- “আমার যজমান আমাকে ঠকাতে পারে না। সে-ই এটা আমাকে দিয়েছে।” তখন ঠকটি বললো- “ঠাকজি অবশ্যই আপনার যজমান আপনাকে ঠকিয়েছে।” অবশেষে ঠাকুর তাকে বকেছকে বিদায় করে খাসিটি নিয়ে যাত্রা করলেন। সর্বশেষে একটি হাটের কাছে তৃতীয় ঠকটি এসে ঠাকজির পদচুম্বন করে অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললো- “তা ঠাকজি আপনার হাতে এতবড় কুকুরটা! আজ হাটবার। হাতে অনেক লোকের আগম-নিগম। তারা অবশ্যই আপনাকে মন্দ বলবে। আমরা সবাই আপনাকে মান্য করি। আপনার কি মতিভ্রম হয়েছে যে এ পাঁজি কুকুরটার গলায় রশি লাগিয়ে হাটের মধ্যে দিয়ে যাবেন? “এবার ঠাকুর তাকে কিছুই না বলে সামনে যেতে থাকলেন। আর মনে মনে ভাবতে থাকলেন, একজন দুজন নয় পরপর তিনজন লোক এটাকে কুকুর বলছে। অবশ্যই আমার মতিভ্রম হয়েছে। অথবা যজমান আমাকে খাসি বলে কুকুর দিয়ে ঠকিয়েছে। এবার ডানে বামে সামনে ও পিছনে তাকিয়ে একটা ফাঁকা স্থান দেখে খাসিটি ছেড়ে দিয়ে বাঁচতে হবে। ঠিক কিছুক্ষণের মধ্যে ঠাকুর খাসিটি ছেড়ে দিয়ে দুর্বা ঘাসে হাত মুছে শুদ্ধ হয়ে হাটের মধ্যে ঢুকে গেলেন। অতঃপর উক্ত ঠকরা খাসিটি নিয়ে কেটে পড়লো।

ওপরের উদাহরণগুলো তুলে ধরার কারণ হলো- সমাজের ঠাক-পুরুৎ ও মোল্লা-মুন্সিরা আলোচনা করতে করতে বর্তমানকালে সাম্প্রদায়িক মতবাদকে ঈশ্বর প্রদত্ত, স্বয়ং ঈশ্বরের মুখের বাণী, স্বয়ং ঈশ্বর না হলেও ঈশ্বর কর্তৃক প্রেরিত স্বর্গীয় দূতের মাধ্যমে প্রাপ্ত বাণী। আকাশবাণী, ঐশিবাণী, দৈববাণী, অবতরণকৃত বাণী, স্বর্গীয়বাণী ইত্যাদি বলতে বলতে মানব নির্মিত পৌরাণিক সাহিত্যগুলোই বর্তমানকালে ঐশিগ্রন্থে পরিণত হয়েছে। মানুষের ধোঁকা দেয়া কথায় ঠাকুরের কাছে খাসিটি যেমন কুকুর হয়েছে, তেমন সাম্প্রদায়িক বাণী শুনতে শুনতে কাল্পনিক গল্পকাহিনী একদিন ইতিহাস হয়েছে। মুসলমানদের আরব্য ও পারসিক পৌরাণিক কাহিনী বর্তমান বাংলাদেশে ইসলামের ইতিহাস নামে পরিচিত। তাহলে অন্যান্যদের পৌরাণিক কাহিনীগুলোও তাদের সাম্প্রদায়িক ইতিহাস হবে। তারপর যাত্রাপালার রূপবান, নাটকের মদনকুমার, পুথির কালু ও বেহুলাও একদিন ইতিহাস হবে। আর ইতিহাস হবে একদিন লেখক হুমায়ুন আহমেদের বাকের ভাই।

তবে মজার বিষয় হলো একমাত্র মুসলমান ব্যতীত বিশ্বের কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রদায়েরই সাম্প্রদায়িক ইতিহাস নেই। বাঙালী মুসলমানদের ধারণা মতে কেবল তাদের কাসাসুল আম্বিয়ায় বর্ণিত পৌরাণিক কল্পকাহিনীগুলো ইতিহাস আর অন্যদের পৌরাণিক কল্পকাহিনীগুলো মিথ।

রিলিজন অর্থ ধর্ম নয় (Religion meaning is not creed)
Religion [রিলিজন] n শাস্ত্রবিশ্বাস, বিবেকের বিষয়, আশ্রমজীবন (প্র) যার যার সাম্প্রদায়িক ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস। একটি অলৌকিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস করা ও তার পূজা করা। বিশেষ করে প্রত্যেকের একেকজন ব্যক্তিগত ঈশ্বর বা দেবতায় বিশ্বাস করা {ই }

ইংরেজি Religion পরিভাষাটির অর্থ ছিল “একটি অলৌকিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস করা ও তার পূজা করা। বিশেষ করে প্রত্যেকের একেকজন ব্যক্তিগত ঈশ্বর বা দেবতায় বিশ্বাস করা।” অর্থাৎ প্রাইভেট ঈশ্বর বা পারসোনাল ঈশ্বর। যেমন- মেয়ের ঈশ্বর তার বয়ফ্রেন্ড, ছেলের ঈশ্বর তার গার্ল ফ্রেণ্ড, বাবার ঈশ্বর টাকা, মায়ের ঈশ্বর সংসার ইত্যাদি। তবে বর্তমানকালে Religion অর্থ ধর্ম না বলে উপায় নেই। কারণ বর্তমানকালের সাম্প্রদায়িক ঠাক-পুরুৎ, মোল্লা-মুন্সি, বৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ ও অনুবাদকরা স্বস্ব পুস্তক-পুস্তিকায় ধর্ম পরিভাষাটির ইংরেজি Religion এবং Religion পরিভাষাটির বাংলা ধর্ম লিখে সব লেজে গোবরে করে ফেলেছে।
[তখনো পর্যন্ত বৌদ্ধ বা জৈন মতবাদ কোনো পৃথক মতবাদরূপে গড়ে ওঠেনি। এমনকি আজকের ধারনায় যা ধর্মীয় মতবাদ, ঠিক তেমনভাবে ব্রাহ্মণ্য মতবাদকেও ধর্মীয় মতবাদ বলা যেতো না। পাঠকরা এখানে একটু বিভ্রান্ত হতে পারেন, তাই পরিস্কার করে বলা প্রয়োজন। আজ আমরা ধর্মীয় মতবাদ বলতে Religionকে বুঝি। কিন্তু সেযুগে Religion সম্বন্ধে কোনো ধারনাই ভারতীয় মানসে ছিল না। Religion হলো একটি আব্রাহামিক ধারনা। বর্তমানকালে যার প্রতিশব্দ বলছি ধর্ম। কিন্তু সে সময় জীবনযাপনের জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় আদর্শকেই মতবাদ বলা হতো। সুতরাং আমরা একথা বলতেই পারি যে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও অন্যান্য ভারতীয় মতবাদগুলো Religion-ই নয়। বরঞ্চ এগুলো Religion-এর থেকে অবশ্যই অধিক কিছু। way of life… (তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট) (নাগরিক)।]

এছাড়াও; Religion এর বর্তমানকালের অর্থ হচ্ছে ধর্ম, ধর্মাচরণ, আস্তিকতা, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস। Religion এর আদি অর্থ ও বর্তমানকালের প্রচলিত অর্থ দ্বারাও বহুঈশ্বর, নিরিশ্বর ও সর্বেশ্বরবাদী মতবাদগুলোকে Religion বলা যায় না। কারণ Religion অর্থ একক ঈশ্বরে বিশ্বাস করা। অর্থাৎ; স্ব স্ব ব্যক্তিগত ঈশ্বরে বিশ্বাস করা। যার যার ব্যক্তিগত ঈশ্বরে বিশ্বাস করা।

অর্থাৎ কারো ঈশ্বর বিবাহিত ও সন্তানাদি আছে (হিন্দু মতবাদ- নারায়ণ, মনু ব্রহ্মার মানসপুত্র এবং লক্ষ্মী মানসী কন্যা), কারো ঈশ্বর অবিবাহিত ও সন্তানাদি নেই (ইসলামী মতবাদ- আল্লাহ)। আবার কারো ঈশ্বর ক্ষেত্রজপুত্র উৎপাদন করেছেন। তা হলো ইসা (খ্রিস্টানদের একাংশ)। কারো ঈশ্বর মানুষের রূপধারণ করে (Non semitism) আবার কারো ঈশ্বর মানুষের রূপধারণ করে না (Semitism)। কোনো মতবাদে একাধিক ঈশ্বর। একে বলা হয় বহুঈশ্বরবাদ। আবার কোনো মতবাদে সবকিছুই ঈশ্বর। একে বলা হয় সর্বেশ্বরবাদ। আবার কোনো মতবাদে একক কোনো ঈশ্বরই নেই। একে বলা হয় নিরিশ্বরবাদ। এতো সব জানা বুঝার পর একজন অন্যজনের ভুয়া ঈশ্বরতন্ত্র মান্য করবেইবা কেন? আর একেকজনের ভুয়া ঈশ্বর অন্যজন না মানলেই সে নাস্তিক, যবন ও কাফির হবে! যারা ভুয়া ঈশ্বরতন্ত্র মানবে তারাই হবে আস্তিক। এমন হতেই পারে না। তাই আজ আমাদেরকে প্রকৃত ধর্ম সম্পর্কে জানতে হবে। মতবাদকে ধর্ম বলা যাবে না। ধর্ম হচ্ছে পদার্থের গুণাগুণ। ধর্ম হচ্ছে পদার্থের বৈশিষ্ট্য। বর্তমানকালে যাকে ধর্ম বলা হচ্ছে তা হলো সাম্প্রদায়িক মতবাদ। তা হলো সাম্প্রদায়িক মতবাদ। মতবাদকে কোনক্রমেই ধর্ম বলে মেনে নেওয়া যাবে না। সাম্প্রদায়িক মতবাদকে ঘৃণা করতে গিয়ে ধর্মকে গালি দেওয়া যাবে না। ধর্মকে গালি দেওয়া অর্থই হচ্ছে চিরন্তনাতকে গালি দেওয়া, সত্যকে অস্বীকার করা।

বাবাও যেমন ডেলিভারি রোগে মরেনি; কেবল অজ্ঞতার কারণেই সে এমন বিশ্বাস করেছে। খাসি বলেও তেমন কুকুর দেওয়া হয়নি; ঠকরা ঠাকজিকে কুকুর বলে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করেছে। তেমন Religion অর্থও ধর্ম নয়। অনুবাদক ও অভিধানবিদরা ধর্মকে Religion বলে এবং Religion কে ধর্ম বলে বুঝতে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করছে।

মতবাদ অর্থ ধর্ম নয় (Doctrine meaning is not creed)
মতবাদ অনেক প্রকার হতে পারে। যেমন বৈজ্ঞানিক মতবাদ, দার্শনিক মতবাদ, সাম্প্রদায়িক মতবাদ, রাজনৈতিক মতবাদ, বিবর্তন মতবাদ ও পুনর্জাগরণ মতবাদ। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে; বর্তমানকালের অনুবাদক ও অভিধানবিদরা প্রায় ক্ষেত্রেই মতবাদ বলতেই ধর্ম বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। ইংরেজি Religion অর্থও যেমন ধর্ম নয় বাংলা মতবাদ অর্থও তেমন ধর্ম নয়। ধর্ম হচ্ছে পদার্থ বা বস্তুর গুণাগুণ।

বর্তমানকালে একদল সাম্প্রদায়িক মতবাদকে ধর্ম বলে প্রচার করছে। অন্যদল Religion কে ধর্ম বলে প্রচার করছে। বাংলা ভাষায় সাম্প্রদায়িক মতবাদ বা সাম্প্রদায়িক মতবাদকে ধর্ম বলা হচ্ছে। মতবাদকে মতবাদ না বলে ধর্ম বলার কারণে কয়েকটি সমস্যার উৎপত্তি হচ্ছে।
১ ধর্মভীরুরা ধর্মের প্রতি আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
২ দুর্বৃত্তদের দুর্বৃত্তায়ন সহজ হচ্ছে।
৩ ধর্মের দোহাই দিয়ে বধ, বলি, হত্যা ও হননের পথ সুগম হচ্ছে।
৪ ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে সহজকিস্তিতে ধুমধাড়াক্কা স্বর্গ বাণিজ্য হচ্ছে।
৫ ধর্মের দোহাই দিয়ে উপসনাগারে বসে-শুয়েই ধ্বংসযজ্ঞের পরিকল্পনা করা সহজ হচ্ছে।
৬ ধর্মের দোহাই দিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার রূপে জীবন দেবার জন্য সাধারণ মানুষকে সহজ কিস্তিতে কেনা যায়।
৭ ধর্মের দোহাই দিয়ে কেবল সাধারণ মানুষ নয় অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষিত মানুষকেও বোকা বনিয়ে দেওয়া যায়।

এসব কারণেই মতবাদকে মতবাদই বলাই উচিত। মতবাদকে ধর্ম বলা যাবে না। আর ধর্ম বলতে হলে পদার্থ বা বস্তুর গুণাগুণকেই ধর্ম বলতে হবে। মতবাদ যেমন বস্তুর গুণাগুণ হতে পারে না; বস্তুর গুণাগুণও তেমন মতবাদ হতে পারে না।

এখন ব্যাখ্যা করে দেখতে হবে কোনো যুক্তিতে মতবাদকে ধর্ম বলা হচ্ছে? কি কারণে মানুষের নির্মিত শাস্ত্রকে ঈশ্বর প্রদত্ত শাস্ত্র বলা হচ্ছে? আকাশকে আকাশ ও পাহাড়কে পাহাড় বলা হয় চিরায়িত নিয়মে। এদের নামই এরূপ রাখা হয়েছে। কিন্তু ধর্মীয় মতবাদের বয়স তো তেমন নয়। তবে কেন একে ধর্ম বলা হচ্ছে? আপেক্ষিক মতবাদকে চিরন্তনরূপে প্রতীয়মান করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে? সাম্প্রদায়িক মতবাদের কোন অংশটি চিরন্তন? কি পূজা, কি রোজা, কি পশুবধ সবই তো পরিবর্তনশীল! সবই তো রূপান্তরশীল। এদেশে পূজাবিধি এক প্রকার, অন্যদেশে পূজাবিধি অন্য প্রকার। এখানে নামাজ এক প্রকার অন্য স্থানে নামাজ অন্য প্রকার। একই মতবাদে একাধিক দল-উপদল। একেক দলের একেক সংস্কৃতি। তবে মতবাদের কোন অংশটি নিত্য বা চিরন্তন? যেহেতু; মতবাদের কোনো অংশই চিরন্তন বা চিরস্থায়ী নয়, সেহেতু মতবাদকে কোনমতেই ধর্ম বলা যাবে না।

অন্যদিকে; ধর্ম নিত্য, ধর্ম চিরন্তন, ধর্ম চিরস্থায়ী, ধর্ম অপরিবর্তনীয়, ধর্ম অপরিবর্তনশীল। ধর্ম মানুষের সৃষ্টি নয়। ধর্ম লৌকিক নয়। বরং ধর্ম স্বয়ং বিধাতার সৃষ্টি এবং অলৌকিক। মতবাদকে ধর্ম মনে করে যারা ধর্মকে গালি দেয় তারা ধর্মকে নয় বরং মতবাদকেই গালি দেয়। ধর্ম গালি দেওয়ার মতো কোনো বিষয়বস্তু নয়। ধর্মকে বিধাতার নির্মিত ও চিরন্তন জেনেও গালি দিলে সে চরম বোকা বৈ নয়। তাই ধর্মকে সর্ব প্রকার গালাগালির ঊর্ধ্বে রাখা একান্ত প্রয়োজন।

অন্যদিকে; কথিত ধর্মবাজ, ধর্মজীবি, ধর্মব্যবসায়ী ও ধর্মভৃৎ অজ্ঞদেরও জানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে; তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে যেসব মুখস্ত কথা বলছে তা আদৌ ধর্ম নয় বরং তা অবশ্যই কারো না কারো দ্বারা নির্মিত মতবাদ। আর সাম্প্রদায়িক মতবাদগুলো একদিনে গড়ে উঠেনি। যুগের পর যুগ শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে গড়ে উঠে সাম্প্রদায়িক মতবাদ। তাই এর সংশোধন, পরিসংশোধন, বর্ধিত সংশোধন ও সংযোজন-বিয়োজন হতে হতে এটি এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে; জ্ঞানীরা কেউ এসব নিয়ম গ্রহণ করতে চায় না। কারণ সাম্প্রদায়িক মতবাদের কোনকিছুই বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তির সাথে মিলে না।

তাহলে সাম্প্রদায়িক মতবাদের যুক্তিভিত্তিক সমালোচনা ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করা ও সেন্সেটিভ স্থানে আঘাত করা ইত্যাদি কথাগুলোর ভিত্তি কোথায়? তাই এ নিবন্ধের মাত্রিকা করা হয়েছে “মুক্তবাজ বনাম ধর্মবাজ”। কোনো মতবাদকে কটাক্ষ করা বা কোনো মতবাদকে হেয় করার কোনো অভিপ্রয়াস আমাদের নেই। বরং আমরা বিশ্বের সর্ব প্রকার মতবাদকে, সংস্কৃতিকে, দেব-দেবীকে ও মতবাদকর্মকে সর্বদা শ্রদ্ধা করি। আমরা মানবকল্যাণকর সর্ব প্রকার মতবাদকে শ্রদ্ধা করি। মানবকল্যাণকর সর্ব প্রকার মতবাদাচারকে সম্মান করি।

চলবে…

ধর্মবাজ বনাম মুক্তবাজ: জাত পাত যার যার; আত্মদর্শন সবার পর্ব-৩

সর্বাধিক পঠিত

আরো পড়ুন
সম্পর্কিত

সমাজে পিরিয়ড সংক্রান্ত কুসংস্কার ও সচেতনতা

পিরিয়ড নারীদের একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। এটি সাধারণত প্রতি...

ধর্মবাজ বনাম মুক্তবাজ: যাত-পাত যার যার; আত্মদর্শন সবার পর্ব-৬

নাস্তিক Atheist (এ্যাথিস্ট)/ ‘ملحد’ (মিলহিদ)এটি শ্বরবিজ্ঞানের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘অবিশ্বাসী’...

বিভেদকামী শক্তির পতন সুনিশ্চিত করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই পথ দেখাবে

নভেম্বরের ৭ তারিখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর শুভ জন্মদিন। তৃণমূল কংগ্রেসের...

ধর্মবাজ বনাম মুক্তবাজ: জাত পাত যার যার; আত্মদর্শন সবার পর্ব-৫

ধর্ম/ Ism (ইজাম)/ ‘دين’ (দীন):এটি শ্বরবিজ্ঞানের বৈক্তিক-বৈশিষ্ট্য সারণির ‘স্বভাব’...
লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।