14 C
Drøbak
মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১
প্রথম পাতাসাম্প্রতিকঘূর্ণিঝড় ইয়াস: বরিশালের ছয় জেলায় পানিবন্দী লাখো পরিবার

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: বরিশালের ছয় জেলায় পানিবন্দী লাখো পরিবার

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র প্রভাবে বরীশাল বিভাগের ছয়টি জেলাই কম বেশি প্লাবিত হয়েছে। এই মুহূর্তে প্রতিটি জেলার নদীর পানি বিপদসীমার ওপর রয়েছে। ছয় জেলায় লাখো পরিবার এখন পানিবন্দী।

বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় বরিশাল জেলায় এক হাজার ৭১টি আশ্রয় কেন্দ্র, পটুয়াখালীতে ৯২৫টি, ভোলায় এক হাজার ১০৪টি, পিরোজপুরে ৭১২টি, বরগুনায় ৬২৯ এবং ঝালকাঠিতে ৪৭৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বরিশাল

বরিশাল জেলায় কীর্তনখোলা নদী বিপৎসীমা ২ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার হলেও পানি প্রবাহিত হচ্ছে দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায়। শহরের ভিতরে বটতলা, কাউনিয়া, বেলতলা, আমতলা মোড়ের খানসড়ক, পোর্টরোড সংলগ্ন এলাকায় প্লাবন দেখা গেছে।

এছাড়া কাউয়ারচর, চরমোনাই মৌলভীর হাট, বাকেরগঞ্জের হলতা, গোমা ফেরিঘাট, শিয়ালগুনীবাজার সহ নদী তীরের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ঝালকাঠি

ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঠালিয়ার বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীর পানি ঢুকে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদ এবং কাঠালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার বিষখালী তীরের বাঁধের একটা অংশ ভেঙে নদীর পানি ঢুকে বাড়ির আঙিনাসহ তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। এতে আতঙ্কে রয়েছেন ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।

পটুয়াখালী

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’–এর প্রভাবে পটুয়াখালীর নদ-নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত বছর আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারের পরও জেলায় ৬১ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। বেশি ঝুঁকিতে আছে ২০ কিলোমিটার বাঁধ।

এদিকে জোয়ারের পানির প্রবল চাপে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ উপচে জোয়ারের পানিতে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার অন্তত ১৬টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালীর অরক্ষিত পাঁচটি চরাঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার মানুষকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ভোলা

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ভোলায় জোয়ারের উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে ২৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের প্রায় ৮৫ হাজার পরিবার জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। ভেসে গেছে অর্ধশতাধিক গবাদিপশু।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে মেঘনায় জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৯৫ মিটার, যা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসে পাউবো-১-এর বন্যা-জলোচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোনো ক্ষতি হয়নি। বাঁধের বাইরে ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পিরোজপুর

পূর্ণিমা এবং ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পিরোজপুর জেলার কচা, সন্ধ্যা, বলেশ্বর ও কালীগঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর জোয়ারের পানিতে পিরোজপুর জেলায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে।

জেলার সুন্দরবন নিকটবর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলার মাঝের চর ও ইন্দুরকানির বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বাড়িঘর, দোকানপাট প্লাবিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ মে) জেলার টগরা ও মাঝের চর গ্রামের প্রায় আট কিলোমিটার বাঁধের প্রায় তিন কিলোমিটার ভেঙে গেছে।

এতে দুর্ভোগ পড়েছেন প্রায় সাড়ে পাঁচশ পরিবার। গ্রামবাসীরা জানান, দুই বছর আগে বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়েছিল। গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় কচা নদীর তীরের বাড়িগুলোতে যাওয়া যাচ্ছে না।

পিরোজপুরের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোজাহারুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় জেলার সাতটি উপজেলায় ৭১২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়াও জেলায় ৬৭টি মেডিকেল টিম গঠন ও দুর্যোগকালে খাদ্য ও সহায়তার জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

বরগুনা

পূর্ণিমা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সৃষ্ট উঁচু জোয়ারে বরগুনার লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্বল্প উচ্চতা ও ভাঙা বেড়িবাঁধই এ দুর্ভোগের কারণ বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকেই দায়ী করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

উপজেলার ঢালভাঙা, আয়লা ও পাতাকাটা এলাকায় স্বল্প উচ্চতার বাঁধের কারণে এবং বাধ ভেঙে এলাকার অন্তত হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের ঘর অন্তত চার ফুট পানির নিচে ডুবে গেছে। পানির তোড়ে ভেসে গেছে হাঁস-মুরগিসহ পুকুর ও মাছের ঘের। এলাকাবাসী উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী পদ্মা এলাকার বাঁধ অনেক আগ থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মঙ্গলবার সকাল ও রাতের জোয়ারে সে বাঁধ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। এতে ওই এলাকার চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত আট হাজার পরিবার।

অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।