8 C
Oslo
বুধবার, মে ১৯, ২০২১
প্রথম পাতাবাক স্বাধীনতাচাঁদের ফাঁদে মুসলমান: চাঁদ ও চন্দ্র (২য় পর্ব)

চাঁদের ফাঁদে মুসলমান: চাঁদ ও চন্দ্র (২য় পর্ব)

চাঁদের ফাঁদে তারাবিহ, রোজা, ফেতরা ও ঈদ। রোজাদাররাও চাঁদের চাঁদনী খেলায় দিকভ্রান্ত; দলে-উপদলে বিভক্ত। “চাঁদ দেখে রোজা ও ঈদ” করার গোলকধাঁধায় পড়ে তারা কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলছে। যারফলে; কিছু লোক তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করলেও অধিকাংশ মানুষ হয় দুর্ভোগের শিকার। এই প্রবন্ধটি ছয় পর্বে শেষ করা হয়েছে। এই পর্বে চাঁদের ও চন্দ্রের আলোচনা করা হয়েছে। এটি দ্বিতীয় পর্ব।

পৌরাণিক চাঁদ ও চন্দ্র পরিভাষা বুঝার সুবিধার্থে পৌরাণিক পাখি পরিভাষার সামান্য আলোকপাত করা একান্ত প্রয়োজন। এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; পৌরাণিক সাহিত্য কখনই আভিধানিক অর্থে নির্মাণ করা হয় না। বরং পৌরাণিক সাহিত্য সর্বদাই প্রায়োগিক অর্থে নির্মাণ করা হয়। যেমন; মাত্র দুয়েকটি ক্ষেত্রে পাখি পরিভাষা দ্বারা আভিধানিক অর্থ প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ, পাখি দ্বারা শূন্যে উড়ন্ত বিহঙ্গকে বুঝান হয়। অবশিষ্ট সব ক্ষেত্রের পাখি পরিভাষাকে প্রায়োগিক অর্থে ব্যবহার করা হয়।

পাখি অর্থে ‘পাখি’ পরিভাষার ব্যবহার
(Using the terminology bird sense for bird)
১. “ব্যাধ নলেতে পাখি ধরেরে, তেমনি, মতো ধরতে হয়রে, তেমনি, অনুরাগের আঠা, লাগাও গুরুর রাঙাপায়।” (পবিত্র লালন- ৮৬১/২)
২. “ব্যাধে যখন পাখি ধরতে যায়, তখন ঊর্ধ্বমুখে রয়, থাকে এক নিরীক্ষে পাখির দিকে, ফিরে তাকায় না, তুমি আঁখি রেখ পাখির দিকে, নয়নে পলক দিও না।” (পবিত্র লালন- ৩৯০/২)।

এছাড়া; বাংলা সাহিত্যে যেমন পাখি বললেই পাখি বুঝায় না; ঠিক তেমনই মরমীবাদে ও পুরাণেও পাখি বললেই পাখি (bird) বুঝায় না। এযাবৎ পৌরাণিক পাখি পরিভাষাটির ৯টি ভাবার্থ পাওয়া গেছে। যথা; ১. উপাসক, ২. কানাই, ৩. পালনকর্তা, ৪. বিদ্যুৎ, ৫. বৈতরণী, ৬. ভৃগু, ৭. মন, ৮. শান্তি ও ৯. শ্বাস। তারমধ্যে; দুইটি ভিন্ন নামে পাওয়া গেছে। যথা; চকোর ও চাতক। কেবল এই দুইটি পৌরাণিক পরিভাষা দ্বারা উপাসক বা সাধক বুঝানো হয়েছে। এছাড়া; দুই হতে নয় পর্যন্ত পৌরাণিক পাখি পরিভাষা দ্বারা মানুষে বিদ্যমান ভিন্ন ভিন্ন মূলক সত্তা বুঝানো হয়েছে। এককথায় বলা যায়; পৌরাণিক পাখি পরিভাষা দ্বারা কখনই আকাশে উড়ন্ত বিহঙ্গকে বুঝায় না। বরং পৌরাণিক পাখি পরিভাষা দ্বারা সর্বদাই উপাসক, কানাই, পালনকর্তা, বিদ্যুৎ, বৈতরণী, ভৃগু, মন, শান্তি ও শ্বাস এসব মূলক বুঝায়।
ক্র বাংলা ইংরেজি আরবি ব্যবহার মূলক
০. চকোর Partridge (পার্ট্রিজ) হাজাল (حَجَلٌ) উপমান উপাসক
০২. চাতক Jacobinus (জ্যাকৌবিনাস) আন্দালীব (عَنْدَلِيْبٌ) উপমান উপাসক
০১. পাখি১ Strix (স্টেক্স) বুমাহ (بُوْمَةٌ) উপমান বিদ্যুৎ
০২. পাখি২ Phoenix (ফিনিক্স) আনক্বাউ (عَنْقَاءٌ) উপমান কানাই
০৩. পাখি৩ Hoopoe (হুপী) হুদহুদ (ﻫُﺪْﻫُﺪٌ) উপমান ভৃগু
০৪. পাখি৪ Pigeon (পিজিন) হামামাহ (حَمَامَةٌ) ছদ্মনাম শান্তি
০৫. পাখি৫ Dragon (ড্র্যাগন) তানীন (تَنِيْنٌ) ছদ্মনাম মন
০৬. পাখি৬ Pegasus (পেগাসাস) বিগাসূস (بِيْغَاسُوْسٌ) উপমান পালনকর্তা
০৭. পাখি৭ Siren (সাইরেন) সাফারাহ (صَفَارَةٌ) ছদ্মনাম শ্বাস
০৮. পাখি৮ Griffin (গ্রিফিন) আবাবিল (أَبَابِيْلٌ) ছদ্মনাম বৈতরণী

পাখি১ বিদ্যুতের এর উদাহরণ (Examples of bird1 the Electricity)
১. “কখন উড়াল দেয় পাখি, মুদে যায় ডাগর আঁখি, সোনার খাঁচা ভেঙ্গেচুরে, এ মহামায়ার জাল কাটি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৯)।
২. “সবে বলে প্রাণ-পাখি, শুনে চুপে চুপে থাকি, জল কী হুতাসন- ক্ষিতি কী পবন, আমি ধরতে গেলে পাই না তারে।” (পবিত্র লালন- ১২৩/৩)।
পাখি২ কানাই এর উদাহরণ (Examples of bird2 the Leaky)
১. “রাত পোহালে পাখি বলে, দেরে খায় দেরে খায়, তখন গুরুকার্য মাথায় থুয়ে, কী করি কোথায় যাই।” (পবিত্র লালন- ৮৬৩/১)।
২. “ফাল্গুন মাসের তিন তারিখ শনিবার যেদিন, ধাতব-পাখি হানবে আঘাত করিবে জনহীন, পাতালভেদী কত মানুষ- কর্মদায় রবে বেহুঁশ, কাঁধে লয়ে আপনার দোষ পূর্বেতে করবে ধিয়ান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪৭)।
পাখি৩ ভৃগু এর উদাহরণ (Examples of bird3 the Estuary)
১. “কলের পাখি কলের ছোঁয়া, কলের মোহর গিরা দেওয়া, কল ছুটলে যাবে হাওয়া, কে রবে কোথায়।” (পবিত্র লালন- ৩৫৬/৩)।
২. “তাদের প্রতি পক্ষীদল প্রেরিত হয়।” “وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ” (ওয়া আরসালা আলাইহিম ত্বইরান আবাবিল) (Wa arsala alayhim tayran ababeel) “And sent against them phoenixs in flocks.” (কুরান- ফিল- ৩)।
পাখি৪ শান্তি এর উদাহরণ (Examples of bird4 the Peace)
১. “আমার সোনার ময়না পাখি কোন দেশেতে গেলা উইড়া রে, দিয়া মোরে ফাঁকি রে আমার সোনার ময়না পাখি।”
২. “ভেঙ্গে গেল যৌবনের ডাল, সুখপাখিটা দিলো উড়াল, জনমদুঃখী নিঃস্ব কাঙাল, আমায় করে রাখিলে।” (বলন তত্ত্বাবলী, গীতিকার, বলন কাঁইজি)।
পাখি৫ মন এর উদাহরণ (Examples of bird5 the Nous)
১. “মন-পাখি তুই আর কতকাল থাকবি খাঁচাতে।” (জনৈক গীতিকার)।
২. “সাঁই নাম বলরে আমার মন-পাখি, ভবে কেউ কারো নয় দুঃখের দুঃখী।” (পবিত্র লালন- ৯৩৪/১)।
পাখি৬ পালনকর্তা এর উদাহরণ (Examples of bird6 the Guardian)
১. “কত করি পাখির যতন, হলো না সে মনের মতন, উড়াল দিয়ে যাবে যখন, কী হবে কান্নাকাটি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৯)।
২. “দুই পায়ে চলে পাখি, জগতে নাই তাকিয়ে দেখি, সে পাখির ফাঁকিফুকি, বুঝবি কিসে তোরা।” (পবিত্র লালন- ৪৫৭/৪)।
পাখি৭ শ্বাস এর উদাহরণ (Examples of bird7 the Breath)
“খাঁচার ভিতর অচিন-পাখি, কেমনে আসে যায়, তারে ধরতে পারলে মনোবেড়ি, দিতাম তার পায়।” (পবিত্র লালন- ৩৭৫/১)।
পাখি৮ বৈতরণী এর উদাহরণ (Examples of bird8 the Styx)
“লোকে বলে কলের পাখি, সদাই তারে পাতালে দেখি, এমনই সে উল্টোমুখী, কামড়ালে কেউ বাঁচে না।।” (বলন তত্ত্বাবলী (২য় খণ্ড))।
চকোর৯ উপাসকের উদাহরণ (Examples of bird9 the Admirer)
১. “কারবা আশায় রইলি চকোর, কারেবা ভালোবেসে, দিন ফুরাল বেলা গেল, মায়াময় সংসারের আশে।” (বলন তত্ত্বাবলী)।
৩. “যে করে এ আসমানি কারবার, না জানি কোথায় বাড়ি ঘর, কোন সময় কখন- কোথায় আগমন, চাঁদ-চকোরে খেলে কখন এসে।” (পবিত্র লালন- ৩৬১/৩)। (মুখ; “কোন দিন সূর্যের অমাবস্যে, দেখি চাঁদের অমাবস্যা মাসেমাসে”)।
চাতক১০ উপাসকের উদাহরণ (Examples of bird10 the Admirer)
১. “চাতক পাখির এমনই ধারা, তৃষ্ণায় জীবন যায় মারা, অন্য বারি খায় না তারা, মেঘের জল না হলে।” (পবিত্র লালন- ৪৪২/৩)।

অনুরূপভাবে; মাত্র দুয়েকটি ক্ষেত্রে চাঁদ ও চন্দ্র পরিভাষা দ্বারা সৌরজগতের জ্যোতিষ্ক বুঝায়। যেমন;
সাধারণ ‘চাঁদ’ অর্থে ‘চাঁদ’ পরিভাষাটি ব্যবহার
(Using the terminology moon sense for ordinary moon)
১. “অনুমানে শাস্ত্র হয় না, জলে যেমন চাঁদ রহে না, বলন কয় মনরে কানা, সার শূন্যতা ডুবপাড়া।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০৪)।
২. “জলে যেমন চাঁদ দেখা যায়, ধরতে গেলে হাতে না পায়, লালন অমনি সাধন দ্বারায়, পড়ল গোলমালে।” (পবিত্র লালন- ৯৬৯/৪)।
৩. “জলের মাঝে চাঁদ দেখা যায়, ধরতে গেলে দূরে পালায়, বলন কয় মনের ধোঁকায়, তেমনই ঘুরবি জনম জনমে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৪)।
৪. “জলের মধ্যে চাঁদ দেখা যায়, ধরতে গেলে হাতে কে পায়, তেমনি, আলেক-মানুষ সদাই, থাকে আলেকে মিশে।” (পবিত্র লালন- ৭৮৭/২)।
৫. “নিরীক্ষ বিনা সাধন হয় না, জলে যেমন চাঁদ মিলে না, মনোযোগ না হলে সঠিক, সাধন ভজন কিছুই হয় না।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৬৯)।
এছাড়া প্রায় ক্ষেত্রেই পৌরাণিক চাঁদ, চন্দ্র, চন্দ্ন ——-শশী সহ চাঁদের যতো প্রতিশব্দ মরমীবাদে ও পুরাণে ব্যবহৃত হয়; কোনো চাঁদ দ্বারাই সৌরজগতের জ্যোতিষ্ক বা উপগ্রহকে বুঝায় না। এযাবৎ; চাঁদ ও চন্দ্র পরিভাষাটির ৯টি ভাবার্থ পাওয়া গেছে। যথা; উপাস্য, কাঁই, কৈশোরকাল, জ্ঞান, দুগ্ধ, দেহ, মানুষ, শিশ্ন, শুক্র ও সাঁই। তাই; নির্দ্বিধায় বলা যায়; পৌরাণিক চাঁদ ও চন্দ্র পরিভাষা দ্বারা সর্বদাই উপাস্য, কাঁই, কৈশোরকাল, জ্ঞান, দুগ্ধ, দেহ, মানুষ, শিশ্ন, শুক্র ও সাঁই এসব পৌরাণিক মূলক সত্তাকেই বুঝায়।

চাঁদ
Moon (মুন)/ ‘ﻘﻤﺮ’ (ক্বামরা)
ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি ‘বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’র ‘মানুষ’ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি ‘বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা’। এর ‘বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা’ ‘মানুষ’। এর ‘বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা’ ‘গাছ১’। এর অন্যান্য ‘বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা’ ‘চতুষ্পদ’। এর ‘বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা’ ‘শর্মা’ এবং এর ‘বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা’ ‘উবুদগাছ ও কল্পতরু’।
চাঁদের ওপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of moon)
১. “চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, আমরা ভেবে করব কী, ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম, তাকে তোমরা বলো কী।” (পবিত্র লালন- ৪৪০/১)।
২. “চাঁদের নদে চাঁদ ভেসে যায়, কোন সাধনে ধরবি তারে, ধরতে গেলে দূরে পালায়।” (বলন তত্ত্বাবলী)।
৩. “চেয়ে দেখনা রে মন দিব্য নজরে, চারচাঁদ দিচ্ছে ঝলক, মণিকোঠার ঘরে।” (পবিত্র লালন- ৪৫২/১)।
৪. “সে কালাচাঁদ নদে এসেছে, সে বাজিয়ে বাঁশী ফিরছে সদাই, ব্রজঙ্গনার কুল নাশে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯/১)।
কাঁই অর্থে ‘চাঁদ’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology moon sense for Lord)
১. “এস গো দয়াল বন্ধু শ্যাম কালা চাঁদ, মনের বনে ফুল ফুটেছে, প্রেমযমুনায় ভরা বান।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৫৪)।
২. “বলন কাঁইজি ভিক্ষার ঝুলি বান্ধিয়া গলায়, বুকের মাণিক কালা চাঁদরে খুঁজিয়া বেড়ায়, না পাইলে কালার দর্শন, ভেকবসনে কী শোভা আছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২১৫)।
৩. “সে কালা চাঁদ নদে এসেছে, সে বাজিয়ে বাঁশী ফিরছে সদাই, ব্রজঙ্গনার কুল নাশে।” (পবিত্র লালন- ৯৫৯/১)।
শিশ্ন অর্থে ‘চাঁদ’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology moon sense for penis)
১. “অমাবস্যা পর পূর্ণমাসী, তাতে মহাযোগ প্রকাশি, ইন্দ্র চাঁদ বাও বরুণাদি, সে যোগ বাঞ্ছা করে, তাই ভেবে লালন কয়, মানুষ সাধনার প্রমাণরে।” (পবিত্র লালন- ৭৮২/৪)।
২. “এক পিরিতে শক্তিপদে, মজেছিল চণ্ডী চাঁদে, জানলে সে ভাব মনকে বেঁধে, ঘুচে যেত পথের বিবাদী।” (পবিত্র লালন- ৬৩৪/২)।
মানুষ অর্থে ‘চাঁদ’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology moon sense for man)
“সৃষ্টিতত্ত্ব দ্বাপরলীলা, আমি শুনতে পাই, চাঁদ হতে হয় চাঁদের সৃষ্টি, চাঁদ চাঁদে হয় চাঁদময়।” (পবিত্র লালন- ৯৫৫/১)।
উপাস্যের ‘নাম কীর্তিন’ অর্থে ‘চাদ’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology moon sense for the glorification of adored)
“চাঁদকে কেউ চাঁদ ডাকিলে, চাঁদে কী আর কথা কয়, দৃশ্যাদৃশ্য বিধির বিধান, মহাশূন্যে ভেঁসে রয়।” (বলন তত্ত্বাবলী)।
কৈশোরকাল অর্থে ‘চাঁদ’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology moon sense for the adolescence period)
১. “চাঁদ হয়েছে চাঁদে উদয়, চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ, চাঁদেই বিশ্ব জ্যোতির্ময়।” (বলন তত্ত্বাবলী)।
২. “চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, আমরা ভেবে করব কী, ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম, তাকে তোমরা বলো কী।” (পবিত্র লালন- ৪৪০/১)।
দেহ অর্থে ‘চাঁদ’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology moon sense for the corpus)
“চাঁদের গায়ে চাঁদ লেগেছে, আমরা ভেবে করব কী, ঝিয়ের পেটে মায়ের জন্ম, তাকে তোমরা বলো কী।” (পবিত্র লালন- ৪৪০/১)।
মানুষগুরু অর্থে ‘চাঁদ’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology moon sense for the metaphysician)
“গুরুচাঁদ হলে সদয়, ঊর্ধ্বগমন ভাগ্যেতে হয়, প্রভুময় গোপন আলয়, নিরসে স্ব’রস খনি।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৩৯)।
মুখমণ্ডল অর্থে ‘চাঁদ’ পরিভাষাটির ব্যবহার
(Using the terminology moon sense for the face)
১. “তোর চাঁদ বদন দেখার আশে, ত্রিবেণীঘাট বাঁধলাম কষে (রে), মদনরাজা বুদ্ধি নাশে, ছয়চোরাতে কাটে ঘর।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮৭)।
২. “সাধুকুল হারাইয়া আমি, কাঁদি বসে দিনরজনী, ঝরার খালে ঝরছে মণি, দেখা দাও চাঁদ বদনে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ২০০)।
চাঁদের সংজ্ঞা (Definition of moon)
পৃথিবীর নিকটতম একটি উপগ্রহকে চাঁদ বলে।
চাঁদের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of moon)
১. মরমীবাদে; সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকে চাঁদ বলে। যেমন; গুরুচাঁদ।
২. মরমীবাদে; মানুষকে চাঁদ বলে।
চাঁদের প্রকারভেদ (Variations of moon)
চাঁদ ৪ প্রকার। ১. সরল চাঁদ ২. গরল চাঁদ ৩. রোহিণী চাঁদ ও ৪. মোহিনী চাঁদ।
সরল চাঁদ (Simplistic moons)
মরমীবাদে; সহজে হস্তগত করা যায় বলে দুগ্ধ ও শুক্রকে সরল বলা হয়। আর এ সরলকেই সরলচাঁদ বলা হয়। সারা বিশ্বের সর্বপ্রকার পারম্পরিক, মরমী ও আদ্য-ত্মিক পুস্তক-পুস্তিকার মধ্যে এর অধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
সরল চাঁদের সংজ্ঞা (Definition of simplistic moons)
মরমীবাদে; কেবল দুগ্ধ বা শুক্রকে সরলচাঁদ বলে।
সরল চাঁদের প্রকারভেদ (Variations of simplistic moons)
সরল চাঁদ দুই প্রকার। যথা; ১. দুগ্ধ ও ২. শুক্র।
১. দুগ্ধ (Milk)
মাতৃস্তন্য হতে নিঃসৃত দুগ্ধকে সরলচাঁদ বলে।
২. শুক্র (Semen)
মৈথুনের সময়ে শিশ্নের মাধ্যমে স্খলিত শুক্রকে সরলচাঁদ বলে।
যথাস্থানে উক্ত শিরোনামের অধীনে সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।
গরল চাঁদ (Venom moons)
গরল বা বিষ মানব দেহের জন্য যেমন ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর; তাদৃশ মূত্র ও রজরক্ত দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলেই মরমীবাদে মূত্র ও রজকে গরল বলা হয়। মরমীবাদে; এ গরলকেই গরলচাঁদ বলা হয়। পারম্পরিক, মরমী ও আধ্যাত্মিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর অধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
গরল চাঁদের সংজ্ঞা (Definition of venom moons)
মরমীবাদে; রজকে গরলচাঁদ বলে।
গরল চাঁদের প্রকারভেদ (Variations of venom moons)
গরলচাঁদ দুই প্রকার। যথা; ১. মূত্র ও ২. রজ।
১. মূত্র (Urine)
মরমীবাদে; মূত্রকে গরলচাঁদ বলে।
২. রজ (Menses)
মরমীবাদে; রজকে গরলচাঁদ বলে।
যথাস্থানে উক্ত শিরোনামের অধীনে সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।
রোহিণী চাঁদ (Ascending moons)
মরমী ও আত্মজ্ঞানী সাধকরা সাধনের একটি বিশেষ স্তরে উপনীত হওয়ার পর মনবের পালনকর্তার সন্ধানলাভ করে থাকেন। মরমীবাদে; এ হতেই মানবের পালনকর্তা বা সাঁইকে রোহিণী বস্তু বলা হয়। মরমীবাদে; এ রোহিণী বস্তুকেই রোহিণীচাঁদ বলা হয়।
রোহিণী চাঁদের সংজ্ঞা (Definition of ascending moons)
মরমীবাদে; শ্বেতবর্ণের মানবজলকে পালনকর্তা বা রোহিণীচাঁদ বলে।
মোহিনী চাঁদ (Seductress moons)
মরমী ও আত্মজ্ঞানী সাধকরা কাঁইকে সর্বদা মোহনীয় বস্তু বলে অভিহিত করে থাকেন। মরমীবাদে বর্ণিত এ মোহনী বস্তু হতেই মোহিনী চাঁদ পরিভাষাটির উদ্ভব। মরমীবাদে; এ মোহিনী চাঁদ দ্বারা সর্বদা কাঁইকে বুঝায়।
মোহিনী চাঁদের সংজ্ঞা (Definition of seductress moons)
মরমীবাদে; সৃষ্টিকর্তাকে মোহিনী চাঁদ বলা হয়
আবার চাঁদ দুই প্রকার। যথা; ১.উপমান চাঁদ ও ২.উপমিত চাঁদ।
১ উপমান চাঁদ (Analogical moons)
পৃথিবীর নিকটতম একটি উপগ্রহকে উপমান চাঁদ বলে।
২ উপমিত চাঁদ (Compared moons)

মরমীবাদে; মানুষকে উপমিত চাঁদ বলে।
চাঁদের পরিচয় (Identity of moons)
এটি ‘বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’র ‘মানুষ’ পরিবারের অধীন একটি ‘বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা’ বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার হওয়ার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণত; পৃথিবীর একটি উপগ্রহকে চাঁদ বলা হয়। অন্যদিকে; মরমীবাদে মানুষে বিদ্যমান সর্বপ্রকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকে চাঁদ বলা হয়। যেমন; গুরুচাঁদ, নয়ন-চাঁদ ও শিষ্য-চাঁদ ইত্যাদি। তবে; এখানে; কেবল মানুষকেই চাঁদ বলা হয়েছে। কেবল মরমীবাদে নয়; সাধারণ সাহিত্যেও মানুষকে চাঁদ বলার প্রমাণ লক্ষ্য করা যায়। যথা; “আয় আয় চাঁদ-মামা তাড়াতাড়ি আ; চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা।” পরিষ্কারভাবেই বুঝা যায় যে; এখানে; কেবল শিশুকেই চাঁদ বলা হয়েছে।

অথচ বড় হাস্যোপহাসের বিষয় হলো; বর্তমানকালে প্রায় সারা বিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মতবাদের ধ্বজাধারী মনীষী, বক্তা, ব্যৈখ্যিক, টৈকিক, অভিধানবিদ, অনুবাদক, বেতার ও দূরদর্শনের সংবাদ পাঠক, সাংবাদিক ও প্রবন্ধকাররা মরমীবাদে বর্ণিত ‘চাঁদ’ পরিভাষাটির দ্বারা কেবল সৌরজগতের একটি জ্যোতিষ্ক বা পৃথিবীর নিকটতম উপগ্রহকে চাঁদ রূপে বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। তারা একটিবারও চিন্তা করে না যে; পূর্বকালে নির্মিত পৌরাণিক সাহিত্যাদি বর্তমানকালের মানুষের জীবনবিধান। আর জীবনবিধান কখনও সৌরবিধান হতে পারে না। এজন্য; জীবন বিধানের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও সৌরবিধান দ্বারা করা যায় না। মরমীবাদের প্রকৃতশিক্ষা সমাজে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে হলে, মানুষকে সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ হতে বের করে আনতে হলে অবশ্যই ‘বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা’গুলোর উপমিত পদ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে; “বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।” যেহেতু; পুরাণ উপমিত পদের অর্থ প্রধান শিল্প। সেহেতু; এর অর্থ উপমিত পদ দ্বারা করাই আবশ্যক।

চন্দ্র
Phoebe (ফিবি)/ ‘القمر’ (আলক্বামার)
ভূমিকা (Prolegomenon)
এটি ‘বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’র ‘পালনকর্তা’ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ‘বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা’। এর ‘বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা’ ‘পালনকর্তা’। এর ‘বাঙালী পৌরাণিক রূপক পরিভাষা’ ‘সাঁই’। এর অন্যান্য ‘বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা’ ‘অমৃতসুধা, গ্রন্থ, জল১, তীর্থবারি, পাখি৬, ফল ও ফুল১’। এর ‘বাঙালী পৌরাণিক চারিত্রিক পরিভাষা’ ‘ননি, বিষ্ণু, মাণিক, রাজা, রাম, লালন, স্বরূপ ও হরি’ এবং এর ‘বাঙালী পৌরাণিক ছদ্মনাম পরিভাষা’ ‘ঈশ্বর, উপাস্য, চোর, পতিতপাবন, পরমগুরু, প্রভু, মনের-মানুষ ও সুধা’। এ পরিভাষাটি ‘বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’র সব ‘বাঙালী পৌরাণিক মূলক সত্তা’ ও পরিভাষার সহগশব্দ রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন; “নয়ন-চন্দ্র প্রসন্ন যার স্বরূপ-চন্দ্র দৃষ্ট হয় তার।”

চন্দ্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of phoebe)
১. “চাঁদ হয়েছে চাঁদে উদয়, চাঁদে চাঁদে চন্দ্রগ্রহণ, চাঁদেই বিশ্ব জ্যোতির্ময়।।” (বলন তত্ত্বাবলী)।
২. “হীরা কাঞ্চন জহরত কোটিময়, সে চাঁদ সহস্র যোজন ফাঁকে রয়, কোটি চন্দ্রে জোৎস্নাময়।” (পবিত্র লালন- ৯৯৬/১)।
চন্দ্রের ওপর একটি পূর্ণ বলন
(A full Bolon on the phoebe)
“চাঁদের নদে এক চাঁদ ভেসে যায়
কোন্ সাধনে ধরবি তারে
ধরতে গেলে দূরে পালায়।
সাদা ও কালো দুটি শশী
আলো জ্বালায় দিবানিশি
চাঁদ কুড়াতে সাধু সন্ন্যাসী
বসে রয় তেমাথায়।
যুগল চাঁদের স্বরূপ আভা
সকাল বিকাল মনলোভা
ভূলোক দ্যুলোক করে শোভা
ষোড়শী ষোলকলায়।
চাঁদ ধরবি নদীর মাঝে
আগে জানো সাধুর কাছে
বলন কয় জলে ভাসে
প্রাণনাথ দয়াল কাঁই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১০৫)

চন্দ্রের ওপর একটি পূর্ণ লালন
(A full Lalon on the phoebe)
১. “১নিচে পদ্ম উদয় জগৎময়,
আসমানে যার চাঁদ চকোরে,
কেমন করে যুগল হয়।

২নিচে পদ্ম দিবসে মূদিত,
আসমানে চন্দ্র হয় বিকশিত,
তারা দুয়েতে এক যুগল আত্মা,
সহস্রযোজন ছাড়া রয়।

৩চন্দ্র-পদ্ম কান্ত শান্ত যে;
মালির সঙ্গে রসরঙ্গে যোগ করছে সে
মালী যেমন সাজিয়ে ডালি,
বসে আছে দরজায়।

৪গুরুপদ্ম শিষ্য-চন্দ্র হয়,
শিষ্যপদ্মে গুরু বন্দি রয়,
লালন বলে একরূপ হলে,
তাদের যুগল আত্মা জানা যায়।” (পবিত্র লালন- ৬০২)।

চন্দ্রের সংজ্ঞা (Definition of phoebe)
সাধারণত; পৃথিবীর একটি উপগ্রহকে চন্দ্র বলে।
চন্দ্রের আধ্যাত্মিক সংজ্ঞা (Theological definition of phoebe)
সারা জগতের পালনকর্তাকে সাঁই বা রূপকার্থে চন্দ্র বলে।
চন্দ্রের প্রকারভেদ (Variations of phoebe)
চন্দ্র চার প্রকার। ১. সরল চন্দ্র ২. গরল চন্দ্র ৩. রোহিণী চন্দ্র ও ৪. মোহিনী চন্দ্র।
১. সরল চন্দ্র (Simplistic phoebe)
সহজে হস্তগত করা যায় বলে মরমীবাদে দুগ্ধ ও শুক্রকে সরল বলা হয়। আর এ সরলকেই সরল-চন্দ্র বলা হয়। সারা বিশ্বের সর্বপ্রকার পারম্পরিক, মরমী ও আধ্যাত্মিক পুস্তক-পুস্তিকার মধ্যে এর অধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
সরল চন্দ্রের সংজ্ঞা (Definition of simplistic phoebe)
মরমীবাদে; কেবল দুগ্ধ বা শুক্রকে একত্রে সরল চন্দ্র বলে।
সরল চন্দ্রের প্রকারভেদ (Variations of simplistic phoebe)
মরমীবাদে সরল চন্দ্র দুই প্রকার। যথা; ১. দুগ্ধ ও ২. শুক্র।
১. দুগ্ধ (Milk)
মাতৃস্তন্য হতে নিঃসৃত সুপেয় দুগ্ধকে সরল চন্দ্র বলে।
২. শুক্র (Semen)
মৈথুনের সময়ে শিশ্নের মাধ্যমে স্খলিত শুক্রকে সরল চন্দ্র বলে।
১. “মেয়ে হয়ে মেয়ের দেশে, ভক্তি সাধন করো বসে, আদি-চন্দ্র রাখ কষে, কখনও তারে ছেড় না, ডুব দিলে প্রেমানন্দে, সুধা পাবে দণ্ডে দণ্ডে, লালন কয় পাপ খণ্ডে, আমার মুক্তি হলো না।” (পবিত্র লালন- ৬৯/৪)।
২. “শক্তি-চন্দ্র মণি-চন্দ্র হয়, তা তো ভিন্ন কিছু নয়, এ চাঁদ ধরলে সে চাঁদ মিলে, লালন কয় তাই নির্জনে।” (পবিত্র লালন- ৫৮৭/৪)।
যথাস্থানে উক্ত শিরোনামের অধীনে সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।
গরল চন্দ্র (Venom phoebe)
গরল বা বিষ মানব দেহের জন্য যেমন ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর। তাদৃশ মূত্র ও রজরক্ত দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলেই মরমীবাদে মূত্র ও রজকে গরল বলা হয়। মরমীবাদে; এ গরলকেই গরল-চন্দ্র বলা হয়। পারম্পরিক, মরমী ও আধ্যাত্মিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর অধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
গরল চন্দ্রের সংজ্ঞা (Definition of venom phoebe)
মরমীবাদে; মূত্র ও রজকে একত্রে গরল চন্দ্র বলে।
গরল চন্দ্রের প্রকারভেদ (Variations of venom phoebe)
মরমীবাদে; গরল চন্দ্র দুই প্রকার। যথা; ১. মূত্র ও ২. রজ।
১. মূত্র (Urine)
মরমীবাদে; মূত্রকে গরলচাঁদ বলে।
২. রজ (Menses)
মরমীবাদে; রজকে গরল চাঁদ বলে।
যথাস্থানে উক্ত শিরোনামের অধীনে সবিস্তার আলোচনা করা হয়েছে।
রোহিণী-চন্দ্র (Ascending phoebe)
মরমী ও আত্মজ্ঞানী সাধকরা সাধনের একটি বিশেষ স্তরে উপনীত হওয়ার পর মানবের পালনকর্তার সন্ধানলাভ করে থাকেন। মরমীবাদে; এ হতেই মানবের পালনকর্তা বা সাঁইকে রোহিণী বস্তু বলা হয়। মরমীবাদে; এ রোহিণী বস্তুকেই রোহিণী-চন্দ্র বলা হয়।

রোহিণী-চন্দ্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of ascending phoebe)
১. “একটি চন্দ্র হাজার তারা, সারা আকাশ ছেয়ে রয়, অমাবস্যা লাগলে সে চন্দ্র, আবার কোথায় গিয়ে লুকায়।” (পবিত্র লালন- ৬৭৯/৩)।
২. “চন্দ্র সাদা সূর্য কালো, যাতে উদয় জ্ঞানের আলো, কোন সাধনে পাবো বলো, তা এখন কারে শুধাই।” (বলন তত্ত্বাবলী- ৮২)।
৩. “সে যে আজব গাছে, চন্দ্র সূর্য ফুল ফুটেছে, কী শোভা তাতে দেখাচ্ছে, বোঁটাহীন ফুল ধরে গাছে।” (পবিত্র লালন- ৪৯১/২)।
৪. “হীরা কাঞ্চন জহরত কোটিময়, সে চাঁদ সহস্র যোজন ফাঁকে রয়, কোটি চন্দ্রে জোৎস্নাময়।” (পবিত্র লালন- ৯৯৬/১)।

রোহিণী-চন্দ্রের সংজ্ঞা (Definition of ascending phoebe)
মরমীবাদে; শ্বেতবর্ণের মানবজলকে পালনকর্তা বা রোহিণী-চন্দ্র বলে।
মোহিনী-চন্দ্র (Seductress phoebe)
মরমী ও আত্মজ্ঞানী সাধকরা কাঁইকে সর্বদা মোহনীয় বস্তু বলে অভিহিত করে থাকেন। মরমীবাদে; এ মোহনী বস্তু হতেই মোহিনী-চন্দ্র পরিভাষাটির উদ্ভব। মরমীবাদে; এ মোহিনী-চন্দ্র দ্বারা সর্বদা কাঁইকে বুঝায়।
মোহিনীচন্দ্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি
(Some highly important quotations of seductress phoebe)
১. “উভয় চন্দ্রের গুণপণা, সাধু বিনা কেউ জানে না, বলন কয় পাগলমনা, ঘুররে কালো চন্দ্রের আশে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮১)।
২. “মিশ্র-চন্দ্র সাদা কালো, সাদা হতে কালো ভালো, আঙ্গুলের ইঙ্গিতে ভেঙ্গে ফেল, ভেদ বুঝে সাধুর কাছে।” (বলন তত্ত্বাবলী- ১৮১)।
মোহিনীচন্দ্রের সংজ্ঞা (Definition of seductress phoebe)
মরমীবাদে; সৃষ্টিকর্তাকে মোহিনী-চন্দ্র বলা হয়
মরমীবাদে; আবার চন্দ্র দুই প্রকার। যথা; ১. উপমান চন্দ্র ও ২. উপমিত চন্দ্র।
১. উপমান চন্দ্র (Analogical phoebe)
সাধারণত; ভূগোলে পৃথিবীর একটি উপগ্রহকে উপমান চন্দ্র বলে।
২. উপমিত চন্দ্র (Compared phoebe)
মরমীবাদে; সারা জগতের পালনকর্তাকে সাঁই বা উপমিত চন্দ্র বলে।

চন্দ্রের পরিচয় (Identity of phoebe)
এটি ‘বাঙালী পৌরাণিক চরিত্রায়ন সত্তা সারণী’র ‘পালনকর্তা’ পরিবারের একটি ‘বাঙালী পৌরাণিক উপমান পরিভাষা’ বিশেষ। সারাবিশ্বের সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক পুস্তক-পুস্তিকায় এর ন্যূনাধিক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে; এ পরিভাষাটি একেক গ্রন্থে একেক ভাষায় ব্যবহার করার কারণে সাধারণ পাঠক-পাঠিকা ও শ্রোতাদের তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না। সাধারণত; পৃথিবীর একটি উপগ্রহকে চন্দ্র বলা হয় কিন্তু মরমীবাদে; মানুষে বিদ্যমান সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকেই চন্দ্র বলা হয়। তবে; এখানে; কেবল সাঁই বা পালনকর্তাকে চন্দ্র বলা হয়েছে। সাধুশাস্ত্রে প্রবাদ আছে যে; “চার চন্দ্রের ভেদ যিনি জানেন; দৈত্য, দানব ও দেবতাগণও তাঁকে মানেন।” মরমীবাদে; ব্যবহৃত চন্দ্র পরিভাষাটি দ্বারা কখনই সৌরজগতের শীতল জ্যোতিষ্ক চাঁদকে বুঝায় না। বরং চন্দ্র দ্বারা সর্বদাই উপাস্য, কাঁই, কৈশোরকাল, দুগ্ধ, দেহ, মানুষ, মানুষগুরু, মুখমণ্ডল, শুক্র, শিশ্ন ও সাঁই ইত্যাদি পৌরাণিক মূলক সত্তাকেই বুঝায়। অথচ অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো; সারাবিশ্বের সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মনীষী ও বক্তারা সাম্প্রদায়িক, পারম্পরিক ও মরমী পুস্তক-পুস্তিকার মধ্যে ব্যবহৃত চন্দ্র পরিভাষাটির দ্বারা সৌরজগতের শীতল জ্যোতিষ্ক বা পৃথিবীর উপগ্রহ চন্দ্রকেই বুঝে ও বুঝিয়ে থাকে। দেহজগতের চন্দ্রের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সৌরজগতের চন্দ্র দ্বারা কোটি বছর পর্যন্ত লিখলেও বিশ্ববাসীর তিল পরিমাণও উপকার হবে না।

(প্র) ১. ব্রহ্মার মানসপুত্র অত্রিমুণির পুত্র। জন্মের পরেই চন্দ্র ত্রিচক্র রথে আরোহণ করে পৃথিবী পরিক্রমা ও আলোকদান করতে থাকেন। দক্ষের ভরণী, কৃত্তিকা, আর্দ্রা, অশ্লেষা, মঘা, উত্তরফাল্গুনী, বিশাখা, উত্তরাষাঢ়া ও রোহিণী প্রমুখ সাতাশটি কন্যাকে তিনিই বিবাহ করেন। তাঁদের মধ্যে রোহিণীই চন্দ্রের সর্বাপেক্ষা প্রিয়তমায় উত্তীর্ণ হয়। এজন্য; অন্য কন্যারা দক্ষের নিকট পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। জামাতার মত পরিবর্তনে অসমর্থ হয়ে দক্ষ অভিশাপ দেন যে; চন্দ্র পুত্র-কন্যাহীন ও যক্ষ্মা রোগগ্রস্ত হবেন। এতে তাঁর স্ত্রীরা অত্যন্ত ভীত হয়ে পিতাকে শাপ প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করেন। কন্যাদের কথায় তিনি শাপ পরিবর্তন করে বলেন যে; যক্ষ্মারোগে চন্দ্র মাসের মধ্যে এক পক্ষে ক্ষয়প্রাপ্ত হবেন ও অন্যপক্ষে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হবেন। এখানে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে; পৌরাণিক কাহিনীর প্রতি অন্ধবিশ্বাসীরা মনে করে যে; তখন হতেই চন্দ্রের দিইটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। যা এখন চন্দ্রের কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষ নামে প্রসিদ্ধ (কালিকা পুরাণ)।

২. সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃত, পারিজাত, লক্ষ্মী, ঐরাবত ও ঊচ্চৈঃশ্রবার সঙ্গে চন্দ্রের জন্ম হয়। তিনি দেবতাগণের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য হন।
অমৃতপানকালে দেবতাগণের মধ্যে রাহু নামে এক অসুর গোপনে অমৃতপান করতে উদ্যত হয়। চন্দ্র তাকে দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ তা বিষ্ণুকে বলে দেন। কণ্ঠের নিচে অমৃতগলাধঃকরণের পূর্বেই বিষ্ণু তাঁর চক্র দ্বারা রাহুর মস্তক ছেদন করেন। সে হতেই রাহুর সঙ্গে চন্দ্রের শত্রুতা এবং মস্তকহীন রাহু সুযোগ পেলেই চন্দ্রকে গ্রাস করেন কিন্তু ছিন্ন কণ্ঠ দিয়ে চন্দ্র পুনরায় নির্গত হন। একেই লোকে চন্দ্রগ্রহণ বলে থাকেন।

৩. একদা রাজসূয় যজ্ঞ করে চন্দ্র অতি অহংকারী ও কামাসক্ত হন। দেবগুরু বৃহস্পতির স্ত্রী তারাকে হরণ করেন। যারফলে; তিনি দেবতাগণের বিরাগভাজন হন। এজন্য; স্বর্গলোকে ঘোর অশান্তির সৃষ্টি হয়। বহু দৈত্য, দানব ও অসুর চন্দ্রের পক্ষে যোগদান করেন। ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতাগণ বৃহস্পতির পক্ষ গ্রহণ করেন। যারফলে; দুই পক্ষে তুমুল যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। মহাদেব ও শুক্রাচার্য বৃহস্পতির পক্ষ গ্রহণ করেন। বৃহস্পতি পুত্র কচ শুক্রাচার্যের প্রিয় শিষ্য। এজন্য; দেবগুরু বৃহস্পতির বিপদে দৈত্যগুরু শুক্রাচার্যের সাহার্যের জন্য অগ্রসর হন। অবশেষে; ব্রহ্মা স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে মহাদেব ও শুক্রাচার্যকে বিবৃত্ত করেন এবং তারাকে চন্দ্রের নিকট হতে গ্রহণ করে বৃহস্পতির নিকট প্রত্যার্পণ করেন। তারা তখন অন্তঃসত্বা ছিলেন। বৃহস্পতির আদেশে তারা তৎক্ষণাৎ এ গর্ভ শরস্তম্ভে ত্যাগ করেন। যারফলে; একটি পুত্রের জন্ম হয়। ব্রহ্মা তারাকে জিজ্ঞেস করেন যে; ইনি কার পুত্র ? উত্তরে তারা বলেন যে; চন্দ্রের। তখন চন্দ্র এই পুত্রকে গ্রহণ করে তার নাম রাখেন বুধ। আকাশে এই বুধই চন্দ্রের বিপরীত দিকে উদিত হয়। বৃহস্পতির শাপে চন্দ্র যক্ষ্মারোগগ্রস্ত হন ও রোগমুক্ত হবার জন্য পিতা অত্রির শরণাপন্ন হন। অত্রির অনুগ্রহে তিনি শাপমুক্ত হন ও পুনরায় দীপ্তিসম্পন্ন হন।

চাঁদ/ চন্দ্র মরমীবাদের প্রত্যয় বিশেষ
(Moons/ phoebe are special affix of the Mysticism)
প্রত্যয় বি দেবতা, বিশ্বাস, নিঃসন্দিগ্ধতা (ব্যা) যে শব্দাংশ; নামপদ বা ধাতুর শেষে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ নির্দেশ করে।
চাঁদ ও চন্দ্র মরমীবাদের একটি প্রত্যয় বিশেষ। মরমীবাদে মানুষে বিদ্যমান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুর পরে ‘চাঁদ বা চন্দ্র’ পরিভাষাটি প্রত্যয়ের মতো ব্যবহৃত হয় (গুরু-চাঁদ, গুরু-চন্দ্র)। এটি; আধ্যাত্মিক গুরুত্বপূর্ণ শব্দের পরে বসে কিন্তু মূল শব্দের অর্থের পরিবর্তন কখনই ঘটায় না। এছাড়াও; মরমীবাদে ও পুরাণে আরও কিছু প্রত্যয় দেখা যায়। যেমন; ‘পদ্ম’ ও ‘ফুল’। এ পরিভাষা দুটিও মানুষে বিদ্যমান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষার পরে বসে কিন্তু অর্থের কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। যেমন; গুরু ফুল, গুরু পদ্ম, নয়ন পদ্ম ও পাদপদ্ম ইত্যাদি।

সর্বশেষে; আবারও স্মরণ করতে চাই যে; সারাবিশ্বের সব সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক মরমীবাণীতে ও পুরাণে ব্যবহৃত চাঁদ ও চন্দ্র পরিভাষা দ্বারা উদাহরণ দেওয়ার জন্য মাত্র দুয়েকটি স্থানে সৌরজগতের জ্যোতিষ্ক চাঁদকে বুঝানো হয়। এছাড়া সর্বক্ষেত্রেই চাঁদ, চন্দ্র —— (যত প্রতিশব্দ আছে) পরিভাষা দ্বারা উপাস্য, কাঁই, কৈশোরকাল, জ্ঞান, দুগ্ধ, দেহ, মানুষ, শিশ্ন, শুক্র ও সাঁই ইত্যাদি পৌরাণিক মূলক সত্তাকেই বুঝানো হয়।
তাই; কোন চাঁদ দ্বারা তারাবিহ, রোজা, ফেতরা, ঈদ, সাহরি ও ইফতার করবেন সিদ্ধান্ত আপনার।

সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী ডট কম’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন।
আমাদের ইমেইল ঠিকানা [email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।