বিজয়াদশমী

পীযূষ কান্তি সরকার
পীযূষ কান্তি সরকার
2 মিনিটে পড়ুন

প্রায় পঁচিশ বছর আগের কথা। প্রতি বিজয়াদশমীর বিকালে দূরর্গার মূর্তি গঙ্গায় পড়ার পর বেলপাতায় ‘দূর্গানাম’ লেখা-র পর সামান। সিদ্ধি মুখে দিয়ে মা-বাবাকে প্রণাম করে মামার বাড়ি চলে যেতাম। সেবার সঙ্গে গেল নব-পরিণীতা স্ত্রী সর্বাণী। মামার বাড়ি ঘুগনি-নিমকি সহযোগে চা-পানের পর প্রতিমা দর্শনের গল্প সেরে বেশ কয়েকটি গজা-নাড়ু-ক্ষীরের সন্দেশ খেয়ে বিসর্জনের শোভাযাত্রা দেখতে দেখতে বাড়ি ফিরছি মাথাটা কেমন টলে গেল। হঠাৎ করে এমনটা হল কেন বুঝতে পারলাম না। সর্বাণী কিছু একটা আন্দাজ করে হাত ধরে নিয়ে এলো বাড়িতে। বাড়ি ফিরে দেখি বিষম কাণ্ড ঘটছে। ছোটোভাই বিছানায় শুয়ে ঠক্ ঠক্ করে কাঁপছে। মা বিপর্যস্তের মতো বসে। মেজোভাইও অকারণে হাসছে। মেজোভাইয়ের একবন্ধু এসেছিল মা-কে প্রণাম করতে, সে চুপ করে দাঁড়িয়েছিল। সর্বাণীকে দেখেই মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে বলল, “শু-শু-ভ বিজয়া বৌদি।”

এমন সময় বাবা এসে ঢুকলো বাড়িতে। মায়ের মুখে কথা ফুটলো, “দ্যাখো, কী ভয়ঙ্কর সিদ্ধি এনেছো এবার!  এমনটাতো কোনোকালেই হয়নি। বিয়ে হয়ে এ-বাড়িতে এসেছি সাঁইত্রিশটা বছর হয়ে গেল- কখনো কই এমনটা তো দেখিনি।”

বাবা বাকি সব বাটা সিদ্ধি বাইরফেলে দিয়ে এসে বলল, “দোকানদার বলেছিল ভালো সিদ্ধি দিচ্ছি, খেলে ভালো লাগবে! কি করে আর জানবো …”

এই সময় খবর পেয়ে আমার বড় ভায়রাভাই এসে পড়ল। সবাইকে তেঁতুল-গোলা জল খাওয়াতেই বমি হয়ে সিদ্ধি বেরিয়ে গেল। রাতে না-খেয়েই সব শুয়ে পড়লাম। তবে ঘুম হয়েছিল জোরদার। সকালবেলা সবাই সুস্থ হয়ে গেলাম।

- বিজ্ঞাপন -

গুগল নিউজে সাময়িকীকে অনুসরণ করুন 👉 গুগল নিউজ গুগল নিউজ

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া শহরের ব্যাঁটরা থানা এলাকায় পীযূষ কান্তি সরকারের জন্ম ১৩৬৮ সালের ১৩ই বৈশাখ ( ২৭ এপ্রিল ১৯৬১ )। হাওড়ার কদমতলায় সাতপুরুষের ভিটে। বাবা রতন সরকার, মা বেবি সরকার-- উভয়েই প্রয়াত। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং -এ ডিপ্লোমা প্রাপ্ত সাহিত্যিক নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ঞ মিশনের আইটিআই-এর শিক্ষক। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা কবিতা,গল্প, নিবন্ধ নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২টি কবিতার বই -- 'জীবনের জানলায়' ও 'আলোর কলম' প্রকাশিত হয়েছে।
একটি মন্তব্য করুন

প্রবেশ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

আপনার অ্যাকাউন্টের ইমেইল বা ইউজারনেম লিখুন, আমরা আপনাকে পাসওয়ার্ড পুনরায় সেট করার জন্য একটি লিঙ্ক পাঠাব।

আপনার পাসওয়ার্ড পুনরায় সেট করার লিঙ্কটি অবৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

প্রবেশ করুন

Privacy Policy

Add to Collection

No Collections

Here you'll find all collections you've created before.

লেখা কপি করার অনুমতি নাই, লিংক শেয়ার করুন ইচ্ছে মতো!