16.9 C
Drøbak
শনিবার, জুলাই ২, ২০২২
প্রথম পাতামুক্ত সাহিত্য‘মহাশূন্যে জুরান’ সিদ্ধার্থ সিংহের ধারাবাহিক উপন্যাস

‘মহাশূন্যে জুরান’
সিদ্ধার্থ সিংহের ধারাবাহিক উপন্যাস

শুরু হল কথাসাহিত্যিক সিদ্ধার্থ সিংহের কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক উপন্যাস মহাশূন্যে জুরান। শরিকি বিবাদে পূর্বপুরুষের কড়িবরগার প্রকাণ্ড পাঁচ মহলা বাড়িটা বিক্রি করে নতুন ফ্ল্যাটে উঠে এসেছিলেন জুরানের বাবা। আসার সময় ওই বাড়ির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি ইট আর দুটো সেগুন কাঠের খড়খড়িওয়ালা জানালা লাগিয়ে নিয়েছিলেন এই ফ্ল্যাটে। সেই জানালা দিয়ে যখন ফুরফুর করে হাওয়া ঢোকে, তখন নাকি সেই হাওয়ার মধ্যে তিনি তাঁর পুরনো বাড়ির গন্ধ খুঁজে পান। সেই গন্ধই তাঁকে টানতে টানতে নিয়ে যায় ছোটবেলায়। তিনি খুঁজে পান তাঁর ছেলেবেলাকার সঙ্গী-সাথীদের। পাঁচ মহলা বাড়ির কানাঘুঁজি অলিন্দে তিনি তখন ছোটাছুটি করেন। চোর চোর খেলেন।একদিন রাত্রিবেলায় লোডশেডিং হয়ে যাওয়ায় সেই জানালা দিয়ে তাকাতেই জুরানের জীবনে এক ঘটল বিপত্তি। কী কী ঘটল? তা জানতে হলে আপনাকে পড়তেই হবে কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক এই উপন্যাস— মহাশূন্যে জুরান।

।।চোদ্দো।।

আমাদের পৃথিবীটা মরা গ্রহে পরিণত হবে! তার মানে সেখানে আর কোনও মানুষ বসবাস করতে পারবে না! তা হলে তার বাবা-মা কোথায় থাকবে! কোথায়!
বাবা-মায়ের জন্য আবারও জুরানের মনটা কেমন যেন হু হু করে উঠল। মনে হল, এক্ষুনি এক ছুট্টে সে যদি তার বাবা-মায়ের কাছে চলে যেতে পারত, তা হলে খুব ভাল হত। কিন্তু সে যাবে কী করে! যাবার কোনও উপায় আছে কি!
যে ওকে প্রায় ছোঁ মেরে এখানে তুলে নিয়ে এসেছে, সেই সময়-কণা কি তাকে ছাড়বে! সে রকম কোনও দয়া-মায়া কি তার আছে! নিশ্চয়ই নেই। কিন্তু তার যে এক্ষুনি পৃথিবীতে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি, সেটা বোঝালেও কি সে বুঝবে না! এতটাই অবুঝ! তাই অনেক ভেবে-চিন্তে নতুন এক কৌশল নিল জুরান। সময়-কণাকে তার ঠোঁট নড়া দেখিয়ে-দেখিয়েই বিড়বিড় করে বলল, আমি তো এখানে এসেছি অনেকক্ষণ হয়ে গেল। এতক্ষণে বুঝি পৃথিবীতে সকাল হয়ে গেছে। আর সকাল হলেই তো আমাকে ডেকে দেওয়ার জন্য মা ঘরে আসে। মা যদি ঘরে ঢুকে দেখে আমি নেই, তা হলে যে কী হবে, কে জানে!
— কিচ্ছু হবে না…
— তুমি আমার মাকে চেনো না। তাই এ কথা বলছ।
— চিনি চিনি। আমি সব্বাইকে চিনি। আর এটাও জানি, কোনও কিছু রোজ রোজ অনায়াসে পাওয়ার চেয়ে, সেটা হঠাৎ করে হারিয়ে আবার আচমকা ফিরে পাওয়ার আনন্দটা অনেক অনেক অনেক বেশি।
— কিন্তু সামনেই যে আমার পরীক্ষা। সকালবেলায় আমি যে রোজ পড়তে বসি…
সময়-কণা বলল, কী পড়ো?
জুরান বলল, বই পড়ি।
— পড়ে কী হয়?
— পড়লে, পরীক্ষায় যে প্রশ্ন আসে, তার ঠিক ঠিক উত্তর দেওয়া যায়।
সময়-কণা বলল, ঠিক ঠিক উত্তর দিলে কী হয়?
— নম্বর বেশি পাওয়া যায়। খুব ভাল ভাবে পাশ করা যায়।
— পাশ করলে কী হয়?
জুরান বলল, আরও উঁচু ক্লাসে ওঠা যায়।
— কত উঁচু ক্লাসে?
— পাশ করে করে অনেক অনেক অনেক উঁচু ক্লাসে ওঠা যায়।
সময়-কণা বলল, উঠে কী হয়?
— ভাল ভাল চাকরি পাওয়া যায়। ডাক্তার হওয়া যায়। ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়। উকিল হওয়া যায়…
— ও সব হয়ে কী হয়?
জুরান বলল, সমাজে একটা জায়গা পাওয়া যায়। লোকে সম্মান করে। শ্রদ্ধা করে।
— ও সব পেয়ে কী হয়?
— ও সব পেয়ে! ও সব পেয়ে… ও সব পেয়ে…
সময়-কণা বলল, ও সব পেয়ে কিচ্ছু হয় না। কিচ্ছু না। আচ্ছা, তোমার কথা মতো না-হয় ধরেই নিলাম, ও সব হলে সম্মান পাওয়া যায়, শ্রদ্ধা পাওয়া যায়। কিন্তু তুমি কি জানো, যাঁরা ও সব পান, তাঁরা কাকে সম্মান করেন? শ্রদ্ধা করেন? কার পায়ের কাছে মাথা নত করেন?
জুরান অবাক হয়ে গেল। সমাজে যাঁরা সম্মানিত, তাঁরাও মাথা নত করেন! কার কাছে?
— যাঁর কাছে মাথা নত করেন, তিনি কিন্তু কোনও পাশ-টাস করা কেউ নন। হয়তো দেখা যাবে, তিনি কোনও দিন কোনও পড়ালেখাও করেননি।
— তাই নাকি! এ রকম আবার হয় নাকি! পাশ করাও নয়? কে!
সময়-কণা বলল, একজন নন। এ রকম অনেকেই আছেন।
— অনেকেই?
— হ্যাঁ, অনেকেই। তার মধ্যে তুমিও কারও কারও কথা জানো।
জুরান অবাক হয়ে বলল, আমি জানি?
— হ্যাঁ জানো। যেমন ধরো, তোমার বাবা-মা যাঁর ছবি লক্ষ্মীর আসনে রেখে পুজো করেন, সেই রামকৃষ্ণও তার মধ্যে একজন।
— অ্যাঁ!
সময়-কণা বলল, অ্যাঁ নয়, হ্যাঁ। কারণ কী জানো?
— কী?
— তোমরা যতই বলো, পড়াশোনা মানুষের মনের জানালা খুলে দেয়। এক ঝলক মুক্ত বাতাস বয়ে আনে। আসলে পড়াশোনা মানুষের ভাবনা-চিন্তাকে একটা গণ্ডির মধ্যে বন্দি করে দেয়। যে গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে এসে, পড়ালেখা করা কোনও মানুষের পক্ষে নতুন ভাবে কিছু বলা সত্যিই মুশকিল।
জুরান বলল, সে কী!
— হ্যাঁ। যেমন ধরো, আমি যদি তোমাকে জিজ্ঞেস করি, দুই আর দুইয়ে কত? তুমি কী বলবে? চার। তাই তো? শুধু তুমি নও, তোমার মতো যারা পড়াশোনা করে, তারা প্রত্যেকেই এই একই কথা বলবে। অর্থাৎ তোমাদের সবার রা— ওই একই। কিন্তু যে ছেলেটা পড়াশোনা জানে না। কোনও দিনও বই ওল্টায়নি, সে কিন্তু তার অজ্ঞতার জন্যই অনায়াসে বলে দিতে পারে পাঁচ, নয়, বারো কিংবা তিরিশ। তাই নয় কি?
আমতা আমতা করে অস্ফুট স্বরে জুরান বলল, হ্যাঁ।
— সবার থেকে এই আলাদা করে কিছু বলাটাই হল আসল কৃতিত্ব।
— কিন্তু সেটা তো ভুল!
সময়-কণা বলল, না না। মোটেই না। তোমাদের পুঁথিগত বিদ্যার জ্ঞানে ভুল মনে হলেও, আসলে ওটা ভুল নয়। একদমই নয়। বরং খুব সহজ ভাবে অবলীলায় সত্যি কথা বলার ওটা একটা প্রস্তুতি। এই ভাবে ছোট ছোট ভুল বলতে বলতেই, ভুল করেই মানুষ একদিন সব চেয়ে বড় সত্যি কথাটা হুট করে বলে ফেলেন। আর তিনি যখন সেই কথাটা বলে ফেলেন, তার অন্তর্নিহিত মানে বুঝতে পেরে প্রচুর বই-পড়া পণ্ডিত মানুষেরাও হতবাক হয়ে যান। তাঁকে কুর্নিশ করেন। শ্রদ্ধা জানান। তাঁর ভক্ত হয়ে ওঠেন।
— কিন্তু যারা পড়াশোনা করে না, লোকে তো তাদের ‘মূর্খ’, ‘অপদার্থ’, ‘ব্যর্থ’, ‘অযোগ্য’, ‘জীবনে কিচ্ছু করতে পারবি না’, বলে!
— কিন্তু বাস্তব কী বলে?
জুরান বলল, কী?
সময়-কণা জিজ্ঞেস করল, তুমি কি জানো, বিশ্বে যত যা উন্নতি হয়েছে, যা কিছু আবিষ্কার হয়েছে, তার পিছনে কে?
— কে?
— সাহিত্য। সাহিত্যই মানুষের চোখ খুলে দেয়। মানুষের মনকে নাড়া দিয়ে যায়। মানুষকে ভাবতে শেখায়।
— তাই!
— হ্যাঁ তাই। আচ্ছা, তুমি কি জানো, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কোন ভাষায় লেখা হয়েছে?
জুরান বলল, না। কোন ভাষায়?
— ফরাসি ভাষায়। সেই ভাষার জনক কাকে বলা হয় জানো?
— না। কাকে?
সময়-কণা বলল, বালজাককে। ছোটবেলায় যে-ছেলেটা পড়াশোনায় এতটাই অপদার্থ ছিলেন যে, তাঁর বাবা-মা পর্যন্ত তাঁকে কখনও তাঁদের কাছে রাখতে চাননি। পাঠিয়ে দিয়েছিলেন বহু দূরের একটা বিনে-পয়সার সরকারি আবাসিক-স্কুলে। সেই স্কুলে, ক্লাসে যারা পড়াশোনা পারত না, মানে পড়ালেখায় যারা ছিল একেবারেই কাঁচা, গণ্ডমূর্খ, সোজা বাংলায় যাকে বলে গর্দভ, তাদের গিয়ে বসতে হত স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে রাখা ‘গাধার বেঞ্চ’-এ। যাতে সামনে দিয়ে যাতায়াত করা পথ-চলতি লোকেরা তাকে দেখতে পায়। ওই লোকজন দেখছে দেখে, তাদের যাতে একটু লজ্জা হয়। লজ্জায় পড়ে যাতে তারা পড়ালেখা করে। পড়া মুখস্থ করে।
কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে ওই দাওয়াই কাজ করলেও, তাঁর ক্ষেত্রে নাকি কোনও কাজ করেনি। সেই বেঞ্চে নাকি ওই বালজাককে যত বার বসতে হয়েছে, ওই স্কুলের আর কোনও পড়ুয়াকে নাকি অত বার বসতে হয়নি। যার জন্য খ্রিস্টমাসের দীর্ঘ ছুটির সময় সবার অভিভাবকেরা যখন তাঁদের সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যেতেন, তখনও তাঁর বাবা-মা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যেতেন না। এমনকী, কেউ তাঁদের কাছে বালজাকের কথা জিজ্ঞেস করলেও, তাঁরা অতি সম্তর্পণে সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতেন।
যাঁর সম্পর্কে বাবা-মা তো বটেই, আত্মীয়স্বজন, এমনকী পাড়াপ্রতিবেশীরা অবধি এতটা হতাশ ছিলেন, সেই গণ্ডমূর্খ, অপদার্থ ছেলেটাই কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই লোকগুলির মাতৃভাষার শ্রেষ্ঠ লেখক হয়ে উঠলেন। হয়ে উঠলেন ফরাসি সাহিত্যের জনক।
জুরান বলল, কী করে হলেন?
— হলেন। কারণ, স্কুলের পাঠক্রম তাঁর চোখে কোনও ঠুলি পরাতে পারেনি। উনি নিজের মতো করে সব কিছু দেখেছেন। নিজের মতো করে বুঝেছেন। নিজের মতো করে ভেবেছেন। নিজের মতো করে বলেছেন। আর নিজের মতো করে লিখেছেন।
— কিন্তু উনি যদি পড়ালেখাই না-করতেন, যতটুকু পড়েছেন, সামান্য ওই শিক্ষাটুকুও যদি অর্জন না-করতেন, যদি কলম দিয়ে সাদা পাতায় আঁচড়ই না-কাটতে শিখতেন? তখন?
সময়-কণা বলল, তখন হয়তো তার চেয়েও বড় লেখক হতেন।
— না লিখেই?
— তুমি হয়তো জানো না, শুনে রাখো। এক বিশাল বড় ব্যবসায়ীর দুটি বিচ্ছু ছেলে ছিল। তারা শুধু চঞ্চলই ছিল না, ছিল ভীষণ দুষ্টুও। কখন যে কী করে বসে, এক মুহূর্ত আগেও কেউ বুঝতে পারত না। কেউ নাকি তাদের কখনও কোথাও শান্ত হয়ে দু’দণ্ড বসতে দেখেনি। তাদের দেখাশোনার জন্য কত লোক যে রাখা হয়েছিল, তার কোনও ইয়ত্তা নেই। কিন্তু কেউই ওদের অত্যাচারে দু’দিনের বেশি টিকতে পারত না।
সেই দুটো ছেলেকে তাদের বাবা-মা একদিন বিকেলবেলায় পার্কে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আর পার্কে ঢুকেই ছেলে দুটি চোখের পলকে কোথায় যে ছুটে গেল, আর খুঁজে পাওয়া গেল না। খুঁজতে খুঁজতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। তখন তাদের বাবা-মা হঠাৎ দেখলেন, সেই বিশাল পার্কের এক ধারে প্রকাণ্ড একটা গাছের তলায় ছেঁড়া-ময়লা পোশাক পরা, এক-মুখ দাড়ি-গোঁফওয়ালা পাগলাগোছের আধবুড়ো একটা লোকের সামনে ওই দুই ভাই চুপটি করে বসে আছে। মুগ্ধ হয়ে তাঁর কথা শুনছে।
বাবা-মা তো অবাক। পাগলাটা তাঁদের ছেলে দুটিকে কোনও জাদুটোনা করেনি তো! লোকটা ওদের কী বলছে! শোনার জন্য পা টিপে-টিপে ছেলেদের পিছনে গিয়ে বসে পড়েছিলেন সেই বাবা-মা।
যখন ঘোর কাটল, তখন ভোর হয়ে গেছে। ওঁরা অবাক। এমন মনোমুগ্ধকর গল্প কেউ এই ভাবে অনর্গল বলে যেতে পারে! লোকটিকে ওঁরা নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এলেন। লোকটা তাঁদের দুই ছেলেকে প্রত্যেক দিন বিকেলবেলায় বাড়ির সামনের লনে বসে গল্প শোনাতেন। আর ওই স্বামী-স্ত্রী সেগুলি লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। পরে যখন সেটা বই হয়ে বেরোল, গোটা পৃথিবী স্তম্ভিত হয়ে গেল। অনুবাদ হয়ে গেল বিশ্বের প্রায় সমস্ত ভাষায়। সেই বই থেকে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে এত রয়্যালটি আসতে লাগল যে, ওই ব্যবসায়ী স্বামী-স্ত্রী তাঁদের এত দিনের অত্যন্ত লাভজনক অন্যান্য ব্যবসা গুটিয়ে একটা প্রকাশনা খুলে ফেললেন এবং সেই পাগলাগোছের লোকটার পি.এ হয়েই সারা জীবন কাটিয়ে দিলেন।
না। ওই পাগলাগোছের লোকটা লিখতে-পড়তে জানতেন না। তবু, এখনও রহস্য, রোমাঞ্চ, ভূত, অলৌকিক, কল্পবিজ্ঞান, রূপকথার কথা উঠলেই গোটা দুনিয়ার মানুষ একবাক্যে তাঁর নাম উচ্চারণ করেন।
জুরান জিজ্ঞেস করল, তাঁর নাম কী?
— তাঁর নাম! এই রে! এক্ষুনি মনে পড়ছে না। দাঁড়াও, মনে পড়লেই তোমাকে বলছি।
— তাই? কিন্তু আমি তো শুনেছিলাম, যারা পড়াশোনা করে না, কাজকর্ম করতে চায় না, একদম কুঁড়ে, তাদের জীবনে নাকি কিচ্ছু হয় না!
সময়-কণা জানতে চাইল, কে বলল?
— সবাই তো তাই-ই বলে।
— ভুল বলে। সম্পূর্ণ ভুল বলে। বরং উল্টোটাই ঠিক। যারা কুঁড়ে হয়, অলস হয়, দেখা গেছে, পৃথিবীর সব চেয়ে কঠিন কাজগুলো সহজে করার রাস্তা তারাই বার করেন।
জুরান বলল, তাই নাকি?
— হ্যাঁ। যেমন ধরো, দুটো গ্রামের মাঝখান দিয়ে একটা নদী বয়ে গেছে। এক গ্রাম থেকে আর এক গ্রামে যেতে হলে অনেকটা পথ ঘুরে যেতে হয়। তাই, যারা কুঁড়ে, যারা অতটা পথ হাঁটতে চায় না, অতি সহজে টুক করে ও পারে চলে যাবার সহজ রাস্তা তারাই প্রথম বার করেছিল।
— কী?
সময়-কণা বলল, কলার ভেলা। যার পরবর্তী ধাপ নৌকো। সেই নৌকোর দাঁড় টানতেও যাদের অনীহা ছিল, তারাই প্রথম তৈরি করেছিল সাঁকো। যাকে তোমরা ব্রিজ বলো। আসলে যারা কুঁড়ে হয়, তারা বেশি খাটতে চায় না। শর্টকাটে কাজ সারতে চায়। সহজ রাস্তা খোঁজে। আর সেটা খুঁজতে গিয়েই আবিষ্কার করে ফেলে একটার পর একটা অভিনব উপায়।
বয়সে ছোট হলেও জুরান বুঝতে পারল, সময়-কণা তাকে বোঝাবার জন্য তার লেভেলে নেমে এসে সহজ করে এই কথাগুলো বলছেন। তিনি যদি এগুলো এ ভাবে না বলতেন, তা হলে হয়তো পুরো ব্যাপারটাই তার কাছে বড্ড জটিল লাগত। লাগত বড্ড কঠিন। কিন্তু কই, তার কাছে তো তা লাগল না। এত সুন্দর করে বললেন… কিন্তু সময়-কণা যা বললেন, তা কি ঠিক বললেন? পুরোটাই ঠিক? জুরান ভাবতে লাগল, ভাবতেই লাগল।

চলবে…

আরও পড়ুন:
মহাশূন্যে জুরান- তেরো পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- বারো পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- এগারো পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- দশ পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- নয় পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- আট পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- সাত পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- ছয় পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- পঞ্চম পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- চতুর্থ পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- তৃতীয় পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- দ্বিতীয় পর্ব
মহাশূন্যে জুরান- প্রথম পর্ব

সিদ্ধার্থ সিংহ
সিদ্ধার্থ সিংহ
২০২০ সালে 'সাহিত্য সম্রাট' উপাধিতে সম্মানিত এবং ২০১২ সালে 'বঙ্গ শিরোমণি' সম্মানে ভূষিত সিদ্ধার্থ সিংহের জন্ম কলকাতায়। আনন্দবাজার পত্রিকার পশ্চিমবঙ্গ শিশু সাহিত্য সংসদ পুরস্কার, স্বর্ণকলম পুরস্কার, সময়ের শব্দ আন্তরিক কলম, শান্তিরত্ন পুরস্কার, কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার, কাঞ্চন সাহিত্য পুরস্কার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা লোক সাহিত্য পুরস্কার, প্রসাদ পুরস্কার, সামসুল হক পুরস্কার, সুচিত্রা ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, অণু সাহিত্য পুরস্কার, কাস্তেকবি দিনেশ দাস স্মৃতি পুরস্কার, শিলালিপি সাহিত্য পুরস্কার, চেখ সাহিত্য পুরস্কার, মায়া সেন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও ছোট-বড় অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননা। পেয়েছেন ১৪০৬ সালের 'শ্রেষ্ঠ কবি' এবং ১৪১৮ সালের 'শ্রেষ্ঠ গল্পকার'-এর শিরোপা সহ অসংখ্য পুরস্কার। এছাড়াও আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত তাঁর 'পঞ্চাশটি গল্প' গ্রন্থটির জন্য তাঁর নাম সম্প্রতি 'সৃজনী ভারত সাহিত্য পুরস্কার' প্রাপক হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।