বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২

জয়িতা চট্টোপাধ্যায়ের ছ’টি কবিতা

প্রকাশিত:

চতুর্থী পঞ্চমী

তোমার মহানিদ্রা জাগবার আগে
খুন জখম ভেসে চলে যায়
চলে যায় নদী নালা থেকে আধমরা গঙ্গায়
তোমার স্মিত হাসি, তোমার প্রনয় পিরীতে
দাঁড়িয়ে থাকি আমি হারহাভাতের মতন
প্রচন্ড শীতে, কেঁপে উঠেছিল শরীর
চক্ষু থেকে শুয়ে নিয়েছিলাম জল পরস্পর
তারপর হঠাৎ তোমার গর্জনের তাড়া
প্রান হাতে করে আমি তখন বাস্তুহারা
সবকিছু শেষ হল তারপরে
আমি তখন বিয়ের ছেঁড়া কাপড়ে
রক্ত গড়িয়ে পড়ছে ভেতরে ভেতরে
ঘর দোরে জমে ওঠে রক্ত বমি
ঘোচে না রক্তের দাগ, সেটাই আমাদের চতুর্থী পঞ্চমী।।

অভাব

আমাদের দুমুঠো সংসারে অভাবের টানাটানি
গভীর আগ্রহে তোমার মুখে তুলে ধরি প্রদীপের অন্ধকারখানি,
বড় অসাবধানী আমি বলে যায় কেউ কানে কানে,
কবিতা পেতে রেখেছি এখানে
মৃত শরীর জ্যন্ত হয়ে ওঠে পত্রিকায়
এঁকে বেঁকে চলে যায় পরের পাতায়
যেখানে আমাদের অভাব মাটি থেকে জলে
কেউ তাকায় সেখানে কৌতুহলে
সেই কাটা মাছ
রাতের সমুদ্রতীরে
জলের ভেতরে নেমেছে আজ
তোমার নামে তবু একঢোঁক প্রশংসা গিলে
নিজের পায়ের থেকে দড়ি সরিয়ে নিলে
এসেছি তোমার কাছে আকাশ ভরাবার আয়োজন নিয়ে।

খন্ড

তোমার দ্বারেই রেখে গেছি গান
যেটুকু যা আছে পথের সম্মান
মৃত ভাষা মৃত জিভ জীবিতদের মতো দেহ ধরে
কোথা থেকে ছুটে এসে অন্ধকারে পড়ে
আমি দিয়েছি কত সাড়া জঙ্গলে জলায়
জানি না কোন ভাগ্য রয়ে গেছে তলায়
প্রজাপতি পাখা আজ চড়ার ওপরে
অন্ধকার হাত বাড়িয়ে ধরে
শরীরের কাটা খন্ডগুলি বিভিন্ন সাগরে
ভিন্ন ভিন্ন নাম নিয়ে আজ ঘোরে।

অপরাধ

কত সময় চলে যায় দেশ আর কালে
যে ভাবে শরীর শিকারির জালে
আবির্ভূত হয় জল থেকে জলে পুনরায়
কত কত জনপদে ছিটকে যায়
নব নব বানিজ্যে বসতে তোমার অভ্যুত্থান
মাটি খুঁড়ে পেয়ে যাবে আমার আধমরা প্রাণ
অপরাধ প্রহসন বক্ষোপরে বসে
তামা তুলসী গঙ্গা জলে ভেসে আসে সে
কত সুখে আমরা তাকে ডাকি দুহাত বাড়িয়ে
তাকে বসতে দিই সুখে হাত পাখা নাড়িয়ে।

একাকার

মেঘে মেঘে তোমার অশরীরী হানা
পথভ্রম আমি সবার অজানা
চাঁদের মেঘ চক্রে আছেন যাঁরা
আমার তো জ্যোৎস্নাতেও আগ্নি পাহারা
নদীটির পাশ দিয়ে তুমি নাম ভেসে যায়
সব গাছ সাদা হয়ে আছে শূন্য কুয়াশায়
কত শতাব্দী কাল অবধি বাঁকা হল নদী
সেখানেই তোমার নামের শেষ অবধি
ওখানেই আমার ভবিষ্যতের তীর
নেমে আসে চাঁদ নৌকায় স্হির
ঠিক তার নীচে সময়ের পার
আমার সন্ধ্যা ভোর তোমার নামে একাকার।

মনে মনে

আমি সারা দিনের পরে তোমার কপালে
এসে পড়া ক্লান্ত চূর্ণ চুল সরিয়ে দিই মনে মনে
তোমার চোখের পাতা ছুঁয়ে দিই ঠোঁট দিয়ে
আর মনে মনে আঁকড়ে ধরি তোমার মুখ আমার বুকে
রৌদ্রের দিনে তোমার গানের সাথে সাথে
দিনগুলো হয়ে ওঠে বৃষ্টি মুখর
মনে মনে তোমার সাথে পথ চলি বনের পথ শাল পিয়াল,
ধূলি ধূসর তোমার মুখ আর কলেজের রিহার্সাল
মনে মনে তোমার সাথে চলা ভাঙা পথে রাঙা পথে,
ছোট্ট থেকে বড় হওয়ার নতুন বিষ আমার মতে
মনে মনে তুমি আমার বিষ ধুয়ে দাও রাত্রি দিন
হাওয়া মুঠোয় বিষ উড়ে যায়, তোমার কাছে জমছে ঋণ।

জয়িতা চট্টোপাধ্যায়
জয়িতা চট্টোপাধ্যায়
কবি। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

সর্বাধিক পঠিত

আরো পড়ুন
সম্পর্কিত

তৈমুর খানের নির্বাচিত ছয়টি কবিতা

আস্ফালন একা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছি নিরক্ষরসব অক্ষরগুলি মার্জিত নিবেদনে...

জয়িতা ভট্টাচার্যের নির্বাচিত ছয়টি কবিতা

আবহমান যখনই উল বুনিঘর ভুল হয়ে যায়।দুটো কাঠি বলাবলি করে...

আবু আশরাফী’র ছয়টি নির্বাচিত কবিতা

নিস্তব্ধ সান্তনা মাছে মাছ খাবেতুমি কেন খাবে? আসমানে আছে লক্ষ কোটি...

মাজরুল ইসলাম এর ছয়টি কবিতা

জেগে থাকো উৎসর্গ: প্রয়াত কবি নাসিম এ আলম মৃত্যুর খবর...
লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।