16.3 C
Drøbak
সোমবার, জুন ২১, ২০২১
প্রথম পাতাসাম্প্রতিকনাহার আহমেদের হাফ ডজন কবিতা

নাহার আহমেদের হাফ ডজন কবিতা

কবি নাহার আহমেদ

রোমাঞ্চিত করলে তুমি

কাশের বনের ধার ঘেষে যে
ছোট্ট বুনো পথ
থেমেছিল সেইখানেতে
প্রথম আমার ভালোবাসার রথ।
ঝিরিঝিরি সুরের দোলায়
হ্দ্য় ছিল মেতে
একমুঠো নীল ভালোবাসা পেতে।
কাব্য ডানা মেলে দিলেম
ঐ যে আকাশটাতে
ছন্দগুলো সংগে নিয়ে
শিশির ভেজা মিষ্টি আকাশটাতে।
মেঘেদের ভেসে যাওয়া
দেখতে দেখতে কখন যেন
আনমনা হয়ে যাই।
ও আকাশ! তুমি দাওনা খানিক নীল।
হৃদয়ের ক্যানভাসে আঁকবো
ভালোবাসার ছবি।
লাজুক সিক্ত ঘাসের তুলিতে ।
মেঘবালিকার খোলা বুকটাতে
একরাশ নীলাভ যন্ত্রনা।
শরৎ এসে কখন যেন
মধুর পরশ বুলিয়ে স্নিগ্ধতার অবগাহনে তাকে সিক্ত করে যায় ।
শরৎতোমার “অরুন আলোর অন্জলী“
আমার সারা অঙ্গে এক নাবলা শিহরণ,
বিসুভিয়াসের লাভার
টগবগে উত্তাপ আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে
কড়া নেড়েছিল।
অনুভূতির পাখায় ভর করে
উড়াল দিতে ইচ্ছে করলো
সেই আকাশটাতে।
যেখানে শরতের লাজুক মেঘেদের
লুকোচুরি খেলা,নীলান্জনার মিষ্টি পরশ
দুহাত বাড়িয়ে আছে আমায় আলিঙ্গন করতে,
হৃদয়ে আমার রঙ ছড়াতে।
তাইতো গাইতে ইচ্ছে করলো
“হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে
ময়ুরের ও মতো নাচেরে। “

পুর্নজন্ম

বেশ কদিন ধরে খচ্ খচ্ করে
সুঁই এর মতো বিঁধছিল বুকেরভেতর একটা চাপা কষ্ট।
একরাশ দীর্ঘশ্বাসের সমঝোতায়
যন্ত্রনার পুঁটুলিটা নামালাম।
ওমা ! এ যে দেখছি গড়ের মাঠ।ফাঁকা,
পুরোনো ন্যাকরার মতো।
জমে থাকা কিছু অভিমান ক্ষোভ
নিজেকে বেশ হালকা লাগছিল।
নতুন করে শ্বাস নিলাম।
মনেহলো খোলস বদলালাম।
গত কদিনের বিনিদ্র রাতের
একমাত্র সঙ্গীটাকে সযতনে
ড্রয়ারের অন্ধকারে কারাবন্দি করলাম।
বুকের ভেতর যন্রনার দাবদাহ নেই
বাইরে শ্রাবণের সুললিত নূপুরের নিক্কন।
নতুন করে স্বপ্নের হাতছানিতে
বিভোর হলাম।
মিথ্যে অভিমানের আড়ালে
কঠিন সত্যিটাকে অনেক আগেই
দাহ করেছি ঘৃনার চিতায়।
আলপনা আঁকা জীবনটা
কালির আঁচড়ে বৃষ্টিহীনখরার মাটি ।ফেটে চৌচির ।
নেতিয়ে পড়া সুখেরা অসাঢ়।
আজযে আমার পূর্নজন্মের ক্ষণ।
নতুন করে বিশ্বাসের সামিয়ানায়
রাঙিয়ে নেবো ক্যানভাস।
জেগে উঠা নতুন চরে গড়বো
কল্পিত স্বপ্নের ভাস্কর্য।

বৈধ স্থাপনার উচ্ছেদ

বিশ্বাসের পাহাড় কেটে কেটে
ভালবাসার সৌধ গড়ে – তুলেছিলাম ।
সন্দেহের ছায়ায় সেখানে কোন
অন্ধকার রাত,অনুপ্রবেশ করেনি
।ছিল সোহাগ মাখা আলো –
ঝলমল জ্যোৎস্না ছাওনি।
সব কিছু এলোমেলোকরেএকদিন প্রবঞ্চনার বুলডেজারে,
স্হায়ী স্হাপনার উচ্ছেদ হলো।
তিল তিল করে গড়ে তোলা ভালবাসার মহলটা,
যন্ত্রনার ধাক্কায় নিমিষে গুড়িয়ে গেল।
এতো কোন অবৈধ স্থাপনা নয় ,
দু চোখের নোনা জলধারার – নীরব চাহনী,
প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।
ধ্বংসস্তুপে পড়ে রইলো
স্মৃতি বিজড়িত স্বপ্নের কারুকাজ।
নান্দনিকতার নিপুণ স্পর্শে
সযতনে সাজানো গোছানো -বাগানটা।
নিরাপদ আশ্রয়ের চিহ্ন।
সময়ের দীর্ঘশ্বাস গুলোয়
তপ্ত দাবানলের আর্তনাদ আর
হাহাকারের মাতম ।
প্রতিটা ক্ষণ যেন বিশ্বাসঘাতকতার
আঁচড়ে – ক্ষতবিক্ষত ।
এতো দেখি শুধুই মিছে
মরীচিকার পিছনে ছুটে যাওয়া বৈ
কিছু ছিলনা
সরলতার সুযোগ গ্রহন করার
মোক্ষম উপায়।
ছিঃ ! ছিঃ ভবিতব্য
কুৎসিত উদ্দেশ্য সফল করতে ,
মনুষত্ব্য কে বিসর্জন দিলে?
স্বর্নালী কোন আগামীর হাতছানি
সান্তনা হয়ে হয়তো পাশে দাঁড়াবে
কিন্তু চিড় খাওয়া আর্শিতে
হৃদয়ের ছবি দেখা যায়না।
নিশ্চিত কোন
নির্ভরতার,শক্ত খুঁটির সন্ধান
জানি কেউ দিতে পারেনা।
এই ভাসমান জীবনে
মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াবার -জন্য,
একমাত্র হাতিয়ার ,আত্মবিশ্বাস।
যে কোনদিন করেনা প্রবঞ্চনা,
বিশ্বাস ঘাতকতা।
অভিমানী মেঘরা যখন
সোহাগের সুর্যকে আড়াল করে পথ আগলে রাখে ,
প্রত্যাশিত আলো মুখ ঘুরিয়ে – নেয়।
রঙধনু ভাবনায় বিভোর
স্বপ্নের জাল বুনে যাওয়া হৃদয়ের ,
অবুঝ চাওয়া পাওয়ার – সামিয়ানায়,
শকুনের লোলুপ থাবার হিংস্রতায়
আছড়ে পড়ে সভ্যতার লালিত্য ।
জটিলতার সেতু বেয়ে ,
অনাকাঙ্খিত হতাশাকে আঁকড়ে
কতটা পথ চলতে হবে জানা নেই।

বিকলাঙ্গ বাস্তবতা

অভিমানের পাহাড় ডিঙাতে – পারলাম।
না, অসহায়ের মতো দ্বন্দ্বের চূড়ায় –
তাকিয়ে রইলাম।
নিয়তির নীরব দৃষ্টিতে সান্তনার – ছায়া
শিরায় শিরায় অদৃশ্য অব্যাক্ত – মোচড়।
সীমাহীন স্বপ্নেরা প্রজাপতির মতো
ডানা মেলেছিল একসময়।
প্রশান্তির আকাশটাতে ছিল
প্রতিশ্রুতির বেহিসেবী হাতছানি।
সময়ের নিষ্ঠুর শেকল
তার লাগাম টেনে ধরলো।
ঝরে গেল নিরুপায় মুকুলরা।
একাকী দৃশ্যমান ,প্রবঞ্চনার -রুক্ষতা ,নির্লজ্জতা।
বাকরুদ্ধ শূন্যতা ,যন্ত্রনার –
কবোষ্ণতা বাড়িয়ে তোলে।

চাতক চাহনীর যন্ত্রনা

বিমুগ্ধ নীল জোছনার ফোয়ারায়
ভেসে উঠে তোমার প্রতিবিম্ব।
আমাকে হাতছানি দেয়
অবগাহনে সিক্ত হতে।
সমস্ত আড়ষ্ঠতা কাটিয়ে
ছুটে যেতে চেয়েছিলাম।
হোঁচট খেলাম
বিবেকের সতর্ক বানীতে।
‘মিছে মরীচিকার পিছনে যেওনা ‘
কিন্তু হায় ! সেই প্রতিবিম্ব
একাকার হয়ে মিশে গেল
কালো মেঘের অন্তরালে।
তোমায় কোথায় পাবো?
বড্ড জানতে ইচ্ছে করে।
হতে যদি কোন খসে পড়া তারা
কুড়িয়ে নিতাম সোহাগ করকমলে
অপেক্ষার সন্তরণে আর কতদিন
কাটাতে হবে,চাতক চাহনী মেলে
অসীম আকাশ পানে?
আকাঙ্খার বর্নালী প্রহর গোনায়।
পু ঝিক্ ঝিক্ পু ঝিক্ ঝিক্
একদৃষ্টে চেয়ে থাকা ডাউন ট্রেনের
চলে যাওয়া দেখতে দেখতে
যেমন করে বিষন্ন গোধূলী
পার হয়ে যায় ,সন্ধ্যা নামে
কৌতুহলের আঁচল মেলে দিয়ে।
ভাবনার অবগুন্ঠনে নিজেকে
হারিয়ে ফেলি।
স্বপ্নগুলো জমাট বেঁধে থাকে
রেটিনার অন্তরালে।
সময়ের পেন্ডুলাম নির্ভীকের মতো
পার হয়ে যাচ্ছে ,
জীবন আঙিনা থেকে।
পু ঝিক্ ঝিক্ পু ঝিক্ ঝিক্
ঐ ট্রেনের মতো।

ঋতু বদল

হৃদয়ের খোলা অলিন্দে
তার যাতায়াত ছিল অবাধ।
কিন্তু ভালোবাসার চড়ুইটা
বাসা বাঁধতে পারলোনা সেখানে।
মিথ্যে কিছু সন্দেহের
কালো তার কাঁটার জন্য।
সেখানে সকালের রোদ এখনো
স্নিগ্ধ আলোর ছায়া ফেলে।
মসলিন বাতাসের ঝিরিঝিরি
পদচারনা এখনো সেখানে
দক্ষিনার পরশ বুলায়।
জীবনের ধারাপাতে ধীরেধীরে
পরিবর্তন আসে।
স্বাভাবিকতার মিছিলে,
সহজে সেটা আত্মস্হ করাটা ছিল
কষ্টকর বৈকি।
বাস্তবতার পেন্ডুলামটা বড্ড বেরসিক।
কঠিন প্রলেপ বুলাতে খানিকটা
সময় লেগেছিল বৈকি।
এখন মনে হয় কারো জন্য
অপেক্ষার প্রহর গোনা নিছক
ছেলেমানুষি বা নির্বুদ্ধিতা বৈ কিছু না।

অতিথি লেখক
অতিথি লেখকhttps://www.samoyiki.com
সাময়িকীর অতিথি লেখক একাউন্ট। ইমেইল মাধ্যমে প্রাপ্ত লেখাসমূহ অতিথি লেখক একাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।