15 C
Drøbak
বৃহস্পতিবার, জুন ২৪, ২০২১
প্রথম পাতামুক্ত সাহিত্যএভাবেও ভাল থাকা যায় (১ম পর্ব)

এভাবেও ভাল থাকা যায় (১ম পর্ব)

আজকের মানুষ সত্যিই কি ভাল আছে? চারপাশে এই যে এত ভাল থাকার রসদ, তবুও কি আমরা সবাই ভাল আছি? এই ইঁদুর দৌড় প্রতিযোগিতায় মানুষ কি আদৌ ভাল থাকতে পারে!

প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে শুধুই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একাকীত্বের হাহাকার। সব আছে অথচ যেন কিছুই নেই। কেন এমন অনুভূতি আজকের মানুষের?

কেন এত বিষন্নতা! কেন এত কিছু থেকেও এত নিঃসঙ্গতা! নিস্তব্ধতা। 

চারপাশে এত বন্ধু, এত মানুষ, এত কোলাহল, তবুও একাকীত্বের গ্লানি তাকে কেন বয়ে বেড়াতে হয়? জীবন নামক সমুদ্রে কাঁধে বয়ে বেড়াতে হয় ভাল না থাকার দুর্বিসহ যন্ত্রণা!

আজকের মানুষের এত কিছু থেকেও কেন ভাল নেই? কেন একা? কেন চারপাশে আবেগহীন মানুষ? কেন শূন্যতা? কেন নেই সত্যিকারের একজন ভাল বন্ধু? তাহলে সত্যিই কি এভাবে ভাল থাকা যায়?

এই প্রশ্ন কিন্তু আমাদের সকলেরই।

শুনলে অবাক হবেন আপনি সত্যিই ভাল থাকতে পারেন। শুধু তাই নয় আপনি ভাল থাকতে পারেন কত সহজে আর কত শান্তিতে। এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে আপনিও ভাল থাকার রাস্তা দেখাতে পারেন। জীবনের সমস্ত একাকীত্ব, জীবনের সমস্ত যন্ত্রণা, ব্যথা, অপমান, অবমাননাকে কতো সহজেই জয় করে রাজার মতো আপনি বাঁচতে পারেন। আপনাকে দেখে আপনার পাশের মানুষটিও হঠাৎ চমকে উঠবে। দুচোখ ভরে দেখবে আর অবাক হয়ে ভাববে এভাবেও ভাল থাকা যায়!

সেই বিশ্বাসেই আমি কলম ধরেছি সেই মানুষদের জন্য যারা সত্যিই ভাল থাকতে চায়, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সুন্দর ভাবে শান্তিপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে অনুভব করতে চায়। সেই জীবনটাতে থাকবে এক আকাশ ভালোলাগা ।

আজ প্রথমেই তাই আলোচনা করব আমাদের এই মনটাকে নিয়ে। এই মনকে কিভাবে আমরা ভাল রাখতে পারি এবং যত্নে রাখতে পারি। আজকের আলোচনার বিষয় ‘মন’।

অর্থাৎ মন ভাল রাখার সুন্দর উপায়, বা মন ভাল রাখার রহস্য ঠিক কি?

মন ভাল রাখার রহস্য

মাঝে মাঝে আমাদের সকলেরই মনটা কেমন উদাস হয়ে যায়। কখনো ভীষণরকম ভেঙে পড়ি, কখনো কিছুই ভাল লাগে না। মনে হয় দমবন্ধ হয়ে আসছে। 

এরকম কম বেশি কিন্তু হয়েই থাকে সকলের। কেউ বুঝতে দেয়, কেউ দেয় না। 

কিন্তু মানুষের মন হঠাৎ করে তো আর খারাপ হয় না, তার পেছনে কোন না কোন কারন তো নিশ্চয়ই থাকে। তাই নিজের মনকে নিজেই প্রশ্নটা করতে হবে, মন খারাপের কারণটা খুঁজে বের করতে হবে। আর এই খারাপটাকে দূর করে এই মনটাকে আনন্দে ভরিয়ে তুলতে হবে। কিন্তু কিভাবে তাই তো?

হয়তো আমরা সচেতনভাবে বুঝতে পারি না, অবচেতন মন কিন্তু বুঝতে পারে। খুব বেশি মন খারাপ থাকলে স্বাভাবিক কাজকর্মের উপর তার প্রভাব কিন্তু পড়বেই। নিজস্ব কাজের জগতে অনেক ক্ষেত্রেই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।আর মন খারাপ নিয়ে যে সিদ্ধান্তগুলো আমরা নিয়ে থাকি তা অনেক সময় পরবর্তী জীবনের জন্য খারাপও হয়ে থাকে। তবে খারাপ মনটাকে ভালো করার উপায় কিন্তু আমাদের নিজেদেরই হাতে।

শুনতে অবাক লাগলেও এটাই কিন্তু বাস্তব সত্য এই মন ভাল করার চাবিকাঠি কিন্তু আমাদের নিজেদেরই হাতে। হ্যাঁ নিশ্চয়ই আজ তাই নিয়ে আলোচনা করব, যদি কারো জীবনে কাজে লাগে তবেই এ লেখার সার্থকতা।

হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়া মন নিমেষের মধ্যেই কিন্তু ভাল হয়ে যেতে পারে। সত্যিই ভাল হয়ে যায়। কিভাবে? এক একজনের ক্ষেত্রে এক একভাবে।

অনেকেই গান শুনতে ভীষণ ভালোবাসেন। মন খারাপ হলে তাই গান শুনলে অনেকের মন ভাল হয়ে যায়; কিম্বা গান শুনতে শুনতে ঘর সাজানো, গাদা গাদা কাজ করা, আলমারির জামাকাপড় গোছানো, বইগুলোকে পরিস্কার করে তাদের আদর করে চুমু খাওয়া, শরীরচর্চা করে প্রচুর ঘাম ঝরানো, এসব করলে দেখবেন ম্যাজিকের মতো মন ভাল হয়ে যাবে। কিম্বা গান শুনতে শুনতে নতুন নতুন সব পদ মনের মাধুরী মিশিয়ে রান্না করলে ধীরে ধীরে মনটা সত্যিই ভাল হয়ে যায়। 

তবে নিজের মন খারাপের দায় কখনোই কারো ওপরে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়, কখনো কারো সাথে ভাগ করে নেওয়াও উচিত নয়। অনেককেই দেখেছি মন খারাপের কথা সকলের সাথে ভাগ করে নিতে পছন্দ করেন, তারা মনে করেন মনের কথাগুলো কারো সাথে ভাগ করে নিলে মনটা খুব হালকা লাগবে।

অনেকেই আবার মন খারাপের কথা কারো কাছে বলতে পারেন না। আসলে কিছু ব্যথা, কিছু যন্ত্রণা, চোখের দু ফোঁটা জল এ যে সত্যিই একান্ত আপন। এ সব কি সত্যিই কারো সাথে ভাগ করা যায়? এসব কি ভাগ করার জিনিস! একনিষ্ঠ মনে চিন্তা করে দেখুন দুঃখের কথা ভাগ করে নেবার মধ্যে সত্যিই কি কোনো কৃতিত্ব আছে? আপনার দুঃখ আরো একজনের মধ্যে ঢেলে দিলেন। ভাল কিছু দিতে পারলেন কি? 

দুঃখের কথা, যন্ত্রণার কথা, মন খারাপের কথা ভাগ করার মধ্যে সত্যিই মহৎ কিছু নেই। একান্ত আপন কিছু জিনিস কারো সাথে সত্যিই ভাগ করে নিতে নেই। তবে সেই জোরটা অনেকেরই থাকে না। খুব কম মানুষই আছেন যারা নিজের সব ব্যথা নিজের কাছেই রাখেন। সেই বিশেষ সংখ্যার মানুষদের বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই তার মনের মধ্যে কতোটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অথচ তিনি হাসছেন, সবার সাথে গল্প করছেন, আর মনের ভেতরটা তোলপাড় করছে কেউ বুঝতেও পারছেন না। আবার অনেকেই উল্টো, অল্পতেই কাহিল হয়ে পড়েন। কারো সাথে সেই অনুভূতি নিয়ে যতক্ষণ না আলোচনা করছেন ততক্ষণ তিনি শান্তি পান না। আবার কিছু মানুষ বুঝে উঠতে পারেন না সেই পরিস্থিতিতে ঠিক কি করা উচিত বা কি উচিত নয়। 

প্রথমেই যেটা করতে হবে, মন খারাপের কারণটা প্রথমে নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে। কারণ কিন্তু একটা থাকবেই। কারণটা পেয়ে গেলে, তার নিরাময়ের রাস্তাও একটা বেরবে। যেমন একজন চিকিৎসক প্রথমে একজন রোগীর রোগটা সবার আগে খুঁজে বের করেন, তারপর তার চিকিৎসা সেভাবে শুরু করেন। একজন রোগীও সেই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো তখন ওষুধ শুরু করেন।

এখানেও ঠিক সেভাবেই শরীরের মতো মনের রোগটাকে প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে। কারণটা আগে খুঁজে বের করে নিলে চিকিৎসা করতে সুবিধে হবে। খুব বেশি রকম মনের অসুখ হলে মনের চিকিৎসকের কাছে যেতেই হবে। তাই মনের অসুখ যাতে খুব বেশি বাড়তে না পারে, তার জন্যেই এই লেখা। 

এক্ষেত্রে কি করা উচিত তাই নিয়ে আগে আলোচনা করা যাক –

(১) মন খারাপের একটি অন্যতম কারণ হলো কোনো কাজ খুঁজে না পাওয়া, অর্থাৎ অলস সময় পার করা। অলস সময় পার করলে একঘেঁয়ে আসবেই আসবে। এই একঘেয়েমিই কিন্তু মন খারাপে রূপ নেয়। এই একঘেঁয়ে ভাব প্রথমে কাটাতে হবে।  

এই একঘেয়েমি কিভাবে কাটাবেন তাই তো? 

এর প্রথম উপায় বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিত জনের সাথে কথা বলা। তাদের খোঁজ খবর নিলে মন অনেকটাই হালকা হবে। সময় কিছুটা তো কাটবেই। 

কথা বলার মাধ্যম তো এখন নাগালের মধ্যেই। সকলের কাছেই আছে মোবাইল, তাই ফোন করে গল্প করলে মনটা অনেক হালকা হয়ে যাবে। এতে একদিকে যেমন মন ভালো হবে তেমনি যার খোঁজ খবর নিচ্ছেন তারও ভাল লাগবে।

অনেকদিন পর কথা হলে যেমন গল্প হয়, মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা গল্প কিংবা প্রতিদিনের যাপনের কথা। হতেই পারে সম্প্রতি দেখা কোনো প্রিয় সিনেমা নিয়ে আলোচনা। কিম্বা যা মন চায় তাই করুন। 

(২) একটু একঘেয়েমি কাটাতে বাইরে বা ছাদে গিয়ে খোলা বাতাস, উন্মুক্ত আকাশ উপভোগ করলে মনটা খুব ভাল হয়ে যায়। তাছাড়া  রাতের আকাশের কিন্তু একটা সুন্দর মায়াবী রূপ আছে। রাতের তারাদের দেখলে মনে হয় পৃথিবীর সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে এই পৃথিবীকে কি সুন্দর আগলে রেখেছে এই নক্ষত্রমন্ডল। জ্বলজ্বল করে নিজেদের সবটুকু আলো ছড়িয়ে দিয়েছে এই অন্ধকারের বুকে। 

তাই মন খারাপ হলে ছাদে একটু পায়চারি করলে কিম্বা আপন মনে রাতের তারাদের দেখলে মনটা কেমন মোলায়েম হয়ে যায়। 

(৩) যোগ ব্যায়াম করতে পারেন বা শরীর চর্চা করতে পারেন। নিয়মিত করলে শরীর আর মন খারাপ কোনোটাই তেমন রেখাপাত করবে না। আর যারা নিয়মিত করেন না, তারা যদি মন খারাপের সময় শরীর চর্চা শুরু করেন দেখবেন মনটা কেমন ভাল হয়ে গেল। তারপর ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করুন। 

(৪) আপনার ভাল লাগে এমন কোনো মিউজিকের সাথে নাচ করতে পারেন। নাচ করলে ভীষণ মন ভাল হয়ে যায়। যে কোনো মিউজিকের সাথেই নাচতে পারেন। দেখবেন মনটাও কেমন নেচে উঠবে পায়ের সাথে সাথে, শরীরের সাথে সাথে। কিম্বা যারা নাচ ছেড়ে দিয়েছেন, একটা দুটো স্টেপ দিয়েই শুরু করুন, ফিরিয়ে আনুন সেই নাচকে। ফিরিয়ে আনুন পুরনো ভালোবাসাকে।  

(৫) গলা ছেড়ে গান গাইতে শুরু করুন, অদ্ভুত ভাললাগায় মনটা ভালো হয়ে যাবে। এতে সত্যিই মন ভালো হয়ে যায়। মনটা এক অনাস্বাদিত ভালোলাগায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

(৬) বই পড়ুন, মন ভালো করার জন্য এই পদ্ধতিটি খুবই কার্যকরী। যার যেমন বই ভাল লাগে তেমন বই নির্বাচন করুন। বই পড়ার বিশেষ উপকারের দিক হলো, আপনি নিশ্চয় সেখান থেকে কিছু না কিছু জানতে পারবেন। জীবন সম্পর্কে আপনার নতুন একটি ধারণা সৃষ্টি হবে। তাই মন খারাপ দূর করতে বই পড়াকে একটি মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলাই যায়।

(৭) কিছু সময় মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার থেকে একদম দূরে থাকতেই হবে। এটা কিন্তু একেবারে হাতে হাতে ফল পাবেন। দিনের একটা বা দুটো সময়ে মোবাইল ব্যবহার করুন। সারাক্ষণ মোবাইল কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকার ফলে অনেক সময়ই আমরা বাস্তব জীবনের সাথে নিজেদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলি। পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে তখন বেশ কষ্ট হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত এসব ব্যবহার না করলে শরীর ও মন দুইই ভালো থাকবে।

(৮) ঘর গোছালে বা সাজালে মনটা একদম ভাল হয়ে যায়। শুনতে কেমন কেমন মনে হলেও এটা কিন্তু সত্যিই। ঘরকে সুন্দর করে সাজালে মনটা সুন্দর হয়ে ওঠে। আর এটা তো সত্যিই আমাদের চারপাশটা যদি সাজানো গোছানো থাকে তবে স্বাভাবিক ভাবেই মনটা ভালো থাকবে। দ্বিতীয়ত, ঘর গোছানোর মাধ্যমে নিজেকেও ব্যস্ত রাখা যায়। শরীর আর মন দুইই ভালো হয়ে ওঠে।

(৯) শখের কাজ করলেও মন ভাল থাকবে। পুরনো হারমোনিয়াম বা গিটার পরিস্কার করে একটু বাজাতেই পারেন। আচ্ছা সত্যিই কি ইচ্ছে করে না নিজের হারিয়ে যাওয়া অনুভূতিকে আবার ফিরে পেতে? সেই কবেকার কত হারিয়ে যাওয়া নাচ বা গান বা ছবি আঁকা, আবৃত্তি করা বা যার যার শখের জিনিসকে কাছে টেনে আনা। ছেলেবেলার সেই দিনগুলোতে আবার ফিরে যাওয়া। বিশ্বাস করুন মনটাও আশ্চর্য রকম ভাবে ভালো হয়ে যায়।

(১০) সুন্দর একটা হাসি মন ভালো রাখার সব চেয়ে সেরা ওষুধ। খুব মন খারাপ হলে একটা হাসি মাখা মুখ যেমন মনকে ভাল করে দেয়, আবার নিজে হাসলেও মনটা ভাল হয়ে যায়। ভেবে দেখুন গুরুগম্ভীর মানুষকে দেখলে কি কারো হাসতে ইচ্ছে করে? বরং ঠিক উল্টৌটাই হয়, কেমন ভয় ভয় করে অন্যদিকে একটা সুন্দর হাসিমুখ মনটাকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। হাসির সুফল সুদূরপ্রসারী। খালি মন না, শরীরকেও সুস্থ রাখে হাসি। এ ছাড়াও এটি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে।

(১১) হাঁটলে কিন্তু বেশ সতেজ লাগে। ঘরে যদি কোনো কিছু করার না থাকে, বা ভালো না লাগে তবে মন ভালো করতে হাঁটতে বেরিয়ে যান। বাইরের খোলা হাওয়া মনকে সতেজ করবে। তাছাড়া হাঁটাচলা করলে শরীরও ভাল থাকে। 

(১২) নিয়ম করে রোদে দাঁড়ালে মন এবং শরীর দুইই ভাল থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কয়েক মিনিট রোদে দাঁড়ালে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন `ডি`পায়। ঝকঝকে সূর্যালোকের এমন ক্ষমতা আছে, যা মানসিক ভাবে সুস্থ রাখে।

(১৩) ছবি দেখলে মন ভাল হয়ে যায়। যাদের অ্যালবাম আছে তারা মাঝে মাঝে তার পাতা উল্টোতে পারেন। পুরোনো ছবির অ্যালবাম দেখুন, তাতে মন খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়। কারণ সেই সব ছবি পুরোনো দিনের মজার মজার কথা মনে করিয়ে দেয়। ফলে মন আপনা থেকেই খুশিতে ভরে ওঠে।

(১৪) খাওয়া দাওয়ারও কিন্তু বিশেষ ভূমিকা আছে। মন ভাল করতে মন চায় এমন খাওয়াদাওয়া করাই যায়। মাঝে মধ্যে একটু ইচ্ছে মতো খেলে কোনো দোষের নয়। বরং মেজাজটা বেশ সতেজ হয়ে ওঠে, তাছাড়া এটা তো মানতেই হয় মেজাজ হল প্রতিদিনের এগিয়ে চলার রসদ। মেজাজ খারাপ থাকলে একটা কাজও কিন্তু করা সম্ভব নয়।   

(১৫) ভাল করে স্নান করে মুখ হাত পরিস্কার করে ভাল করে সাজলেও মন ভাল হয়ে যায়। আর স্নান করলে এমনিতেই সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায় । বেশ ঝরঝরে লাগে মন এবং শরীর। তাছাড়া কে না জানে শরীরে জলের স্পর্শ কতোটা টনিকের কাজ করে। শরীরের পাশাপাশি মনটাও কি সুন্দর ভালো হয়ে যায়। তাই মন খারাপ হলেই ভাল করে স্নান করে নিতে হবে। 

(১৬) আরো একটা জিনিস করলে মন ভাল হয়ে যায়। পরিবারের সবার সাথে গল্প আড্ডা। বাড়িতে ছোট বড় সবাই মিলে ইনডোর গেমস খেলা যেতেই পারে। এর ফলে মন কতোটা ভাল হয়ে যায় তা কল্পনাও করতে পারবেন না। পরিবারের সবার সাথে গল্প করুন, চা কফি ট্রেতে সাজিয়ে দারুণ একটা আড্ডা হোক না, ছোটবেলার গল্প সবার সাথে হাসতে হাসতে ভাগ করে নিলে মনটা কেমন দোলা দিয়ে ওঠে না! দেখবেন নিজের ভাল লাগার পাশাপাশি অন্যরাও কেমন মজা পাবে।

আর বাড়িতে একান্তই যদি কাউকে না পান তাহলে সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজেই কফি আর মুখরোচক কিছু খেতে খেতে দারুণ হাসির একটা সিনেমা দেখতে দেখতে আর হাসতে হাসতে মনকে বলুন’ এই দেখো আমি তোমায় কতো ভালোবাসি …’ 

হ্যাঁ, নিজেকে ভালবাসতে হবে, আর মনকে আনন্দে ভরিয়ে রাখার দায়িত্বটাও কিন্তু নিজেকেই পালন করতে হবে কারোর ওপর নির্ভর না করে। জীবন একটাই আর তাকে ভাল রাখার দায় আমাদেরই। মন খারাপ হতেই পারে, আর সেই মনকে পরিচর্যা তো আমাদের নিজেকেই করতে হবে তাই না? অন্যের দিকে তাকিয়ে বসে থাকব কেন? আর নিজের মন খারাপের জন্যে পাশের লোককে কেন মন খারাপে ভরিয়ে দেব? কারো ভাল না করতে পারলেও কারো খারাপ করা তো উচিত নয়। আমার মন খারাপের দায় আর একজন নিতে যাবে কেন? আর নিজের মন খারাপের ওষুধ নিজেই বা কেন খুঁজে বের করব না?

কারণ আমরাই কিন্তু আমাদের এই মনের মালিক।

(চলবে…)

মণিজিঞ্জির সান্যাল
মণিজিঞ্জির সান্যাল
কবি, লেখক ও নৃত্যশিল্পী। শিলিগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

১ মন্তব্য

  1. প্রবন্ধটি খুব সময়োপযোগী। লেখিকার উপস্থাপনা আকর্ষণীয়। আমার মনে হয়, প্রবন্ধটি পড়ে সবাই উপকৃত হবেন বিশেষ করে এই করোনা মহামারীকালে যখন অনেকেই ডিপ্রেশনে ভুগছে তাদের জন্য এটি খুবই উপকারী হবেন। উল্লেখ্য যে, লেখিকা একজন মনোবিদও বটে।

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।