8.8 C
Drøbak
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২১, ২০২১
প্রথম পাতাআন্তর্জাতিকরঞ্জনা রায়ের হাফ ডজন কবিতা

রঞ্জনা রায়ের হাফ ডজন কবিতা


অঙ্গীকার

চেতনার অন্তর্লোকে ঘুমায় পদ্মকলি
বোধের উন্মেষে বাঙ্ময় ধ্বনি
অক্ষরের হীরকদ্যুতিতে সাজানো চন্দ্রহার
সে আমার হৃদয়ের ভাষা
আমার বাংলা ভাষা।

অনেক যুদ্ধ, অনেক শহীদের আত্মত্যাগ
ভাষা শরীরে রক্ত আঁচড়ে লেখা আছে
বরাকে জ্বলেছে আগুন, জ্বলেছে শাহবাগে
জীবনের সুরক্ষায়, অস্তিত্বের আহবানে
প্রাণে প্রাণে এক হয়ে—
মানুষ নিয়েছে অঙ্গীকার
বাংলা আমার প্রাণ আমার যত্নের ধন
স্বর্ণ নির্মোকে রক্ষা করবো
আমার ভাষা মায়ের সম্মান।

চিরন্তন

কোজাগরী পূর্ণিমা
আকাশে আজ অনন্ত জ্যোৎস্না
তোমার হাতে রেখেছি হাত।

আজ সকালের দোতারায় ছিল টুংটাং
প্রেমের খুনখারাপি বন্দিশ
শিশির ভেজা ঘাসের বুকে রিনঝিন
সোনালি ওড়নার উঁকিঝুঁকি।

তোমার হাতের উল্কির মাঝে
ঘুমায় আমার ঝকমকে নাকছবি
চুমুগুলো ফুটতে চায় রোমশ বুকে
দেওয়া-নেওয়ার হিসেব ওলট পালট।

আজ এই জ্যোৎস্না মাখানো রাতে
আমাদের অতীত বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ
সব কিছুই ধুয়ে মুছে যাক
শুধু ফুটে উঠুক বিশ্বাস চিরন্তন।

শবযাত্রা

আমি হাঁটছি
আমার দু’পাশে অসংখ্য শববাহী গাড়ি
আমার সঙ্গে হাঁটছে
আমার গতকাল, আজ
কিংবা আগামিকালের সব ছায়াশরীর।
আমার অতীত আর বর্তমান আমাকে গড়ে তোলে
আমি ঝরা ফুলের সুগন্ধে বিষন্ন হবো না আজ
আমার ছায়াশরীর
আজও দেখেছে একটি উজ্জ্বল প্রদীপের স্বপ্ন।
প্রেম একটি উড়ে আসা প্রজাপতির মতো
আমাকে ছুঁয়ে গেছে বারবার
সেই সব ছোট্ট ছোট্ট অবসরে জেগেছে শরীর
প্রেমিকের চুমুগুলো যেন জ্যোৎস্নার বালিশ।
রাত শেষ হয়
আমার ছায়াশরীর একা হাঁটে
ভাদ্র দুপুরের খর রোদে
প্রেমিকের নাটুকে ছলা-কলা
শুকনো আঁশের মতো ঝরে যায়।
আমি আর আমার ছায়াশরীর
তীব্র ক্লান্তিতে একা হই
কারণ শবযাত্রার সময় এসেছে।

চরৈবেতি

আমরা রোজ হাঁটি
হাঁটতে হাঁটতে দূরত্ব মাপি
এলোমেলো ভাবনার বাতাস ভেসে আসে

রাত বারোটায় চাঁদের মুখোমুখি হতে ভয় হয়
জন্ম-জন্মান্তরের অববাহিকায় অশরীরী ইচ্ছেরা
জারজ দুঃখের মতো অতৃপ্তিতে ভোগে

হাঁটার বিরাম নেই
পেরিয়েছি সাতটি মরুভূমি
হয়তো পেরোতে হবে আরো
চরৈবেতি মন্ত্রের উদযাপনে।

প্রতীক্ষা

মনের আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাজানো স্বপ্ন
জীবনের উত্তর পর্বে যখন চাঁদ ওঠে
তখন স্বপ্ন বাস্তবের দরজায় কড়া নাড়ে।
ঝাড়পোঁছ চলে—
জীবনকে ধুলো ঝেড়ে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে হয়।

স্বপ্নের মমি জেগে ওঠে রাতে
নীরবতা ভেঙেচুরে ঝড় আসে
শরতের সোনালি রোদে একা পাখি
অনন্তকাল বসে থাকে সুরের প্রতীক্ষায়।

তিতির

ড্রাইভিং সিটে বসে আছি
মসৃণ রাস্তা এক্সিলেটরে চাপ বাড়ে
ব্যাক সীটে তুমি
আমার প্রতি কোষে ছড়িয়ে যায়
শব যাত্রার বিষন্ন বিষাদ

ছটপটে একটি ছোট্ট তিতির
একদিন বাসা বেঁধেছিল
তোমার আমার স্বপ্ন সাজানো মেঘ কুটিরে
শুকতারার আলোয় বুনেছিল আকাশি ওড়না
তিতিরের ডানায় ভালবাসার মুক্তোবিন্দু

লুকিং গ্লাসে দুটি চোখ
ঘৃণার আগুনে জ্বলে
স্পিড লিমিট এখন প্রাগৈতিহাসিক বিবর্তনে
তিতিরের ডানায় কয়েক ফোঁটা রক্ত
একটি বুলেটের ভবিষ্যৎ কল্পনা।

রঞ্জনা রায়
রঞ্জনা রায়
কবি পরিচিতি: অখণ্ড মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার অন্তর্গত কোতাইগড়--- তুর্কা এস্টেটের জমিদার বংশের সন্তান রঞ্জনা রায়। জন্ম, পড়াশুনা ও বসবাস উত্তর কলকাতায়। বেথুন কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে সাম্মানিক স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উপাধি লাভ করেন। ১৯৭০ সালের ৩০শে মে রঞ্জনা রায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম স্বর্গীয় জগত কুমার পাল, মাতা স্বর্গীয় গীতা রানি পাল। স্বামী শ্রী সন্দীপ কুমার রায় কলকাতা উচ্চ ন্যায়ালয়ের আইনজীবী ছিলেন। রঞ্জনা উত্তরাধিকার সূত্রে বহন করছেন সাহিত্যপ্রীতি। তাঁর প্রপিতামহ স্বর্গীয় চৌধুরী রাধাগোবিন্দ পাল অষ্টাদশ দশকের শেষভাগে 'কুরু-কলঙ্ক’ এবং 'সমুদ্র-মন্থন’ নামে দু'টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করে বিদ্বজনের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। ইতিপূর্বে রঞ্জনা রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'এই স্বচ্ছ পর্যটন’ প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'ট্রিগারে ঠেকানো এক নির্দয় আঙুল' সাহিত্যবোদ্ধাদের প্রভূত প্রশংসা পেয়েছে। তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ 'নিরালা মানবী ঘর' (কমলিনী প্রকাশন) ও চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ 'ইচ্ছে ঘুড়ির স্বপ্ন উড়ান' (কমলিনী প্রকাশন) দে’জ পাবলিশিংয়ের পরিবেশনায় প্রকাশিত। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় কবির কবিতা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে প্রকাশিত হয়ে চলেছে।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।