শিশুদের পর্নো আসক্তির কারণ ও এর কুফল

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী
সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী - পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম
12 মিনিটে পড়ুন
শিশুদের পর্নো আসক্তির কারণ ও এর কুফল, চিত্র: থর, টুনস ম‍্যাগ

ইসলামে যাবতীয় অশ্লীলতা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, আর পর্নোগ্রাফি তার মধ্যে অন্যতম। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে শিশুরা এই পর্নোগ্রাফির জালে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়ছে। শিশুদের পর্নো আসক্তি একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই এই ক্রমবর্ধমান বিপদ সম্পর্কে সকলের সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই নিবন্ধে আমরা শিশুদের পর্নো আসক্তির কারণ এবং এর ভয়াবহ কুফলগুলো বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করব।

সূচিপত্র

পর্নোগ্রাফি কাকে বলে?

সহজ ভাষায়, পর্নোগ্রাফি হলো এমন ধরনের যৌন বিষয়বস্তু যা দর্শকদের মনে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়। এটি সাধারণত ছবি, ভিডিও, অডিও বা এমনকি গল্প, কবিতা ইত্যাদি বিভিন্ন মাধ্যমে উপস্থাপিত হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যৌন আবেদনময়ী বিষয়বস্তু পরিবেশন করে দর্শককে উত্তেজিত করা।

শিশু পর্নো আসক্তি কী?

শিশু পর্নো আসক্তি বা যৌন আসক্তি বলতে শৈশবে বা কৈশোরে (অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে) পর্নোগ্রাফি দেখা বা নিষিদ্ধ যৌন কার্যকলাপে জড়িত হওয়া এবং তাতে আসক্ত হয়ে পড়াকে বোঝায়। এটি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কেন শিশুরা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়?

পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তি কেবল শিশু নয়, যেকোনো বয়সের মানুষের মধ্যে দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এর পেছনে একাধিক জটিল কারণ কাজ করে, যা পারিবারিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং রাষ্ট্রীয় স্তরে বিদ্যমান।

- বিজ্ঞাপন -

বৈজ্ঞানিক কারণ

আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক এক ধরনের হরমোন থাকে, যা মানুষের আবেগ ও আনন্দের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। যখন কোনো ব্যক্তি আনন্দদায়ক কিছু দেখে বা অনুভব করে, তখন এই হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা সাময়িকভাবে দুঃখ, কষ্ট, হতাশা বা উদ্বেগ ভুলিয়ে দেয়। পর্নোগ্রাফি দেখার সময় মস্তিষ্কে প্রচুর পরিমাণে ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা তাৎক্ষণিক আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। মস্তিষ্কের এই “পুরস্কার ব্যবস্থা” (reward system) ব্যক্তিকে বারবার সেই আনন্দ পেতে উৎসাহিত করে এবং ধীরে ধীরে এই অভ্যাসকে স্থায়ী করে তোলে। এর ফলে শিশু যখনই সুযোগ পায়, তখনই সেই “আনন্দ” পেতে পর্নোগ্রাফির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

পারিবারিক কারণ

পারিবারিক পরিবেশের ভূমিকা শিশুদের পর্নোগ্রাফির আসক্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারে ধর্মীয় চর্চার অভাব

ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতি শিশুদের মধ্যে পাপ কাজের প্রতি অনীহা কমিয়ে দেয়। পরিবারে সঠিক ধর্মীয় চর্চা না থাকলে শিশুরা সহজেই নৈতিক স্খলনের শিকার হতে পারে।

বাবা-মায়ের ব্যস্ততা

যেসব পরিবারের বাবা-মা কর্মজীবী বা অন্য কারণে শিশুদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না, সেই শিশুরা একাকীত্ব অনুভব করে। এই একাকীত্ব বাউণ্ডুলেপনার দিকে ঠেলে দেয় এবং তারা সহজেই পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

অবহেলা

পরিবার থেকে পর্যাপ্ত মনোযোগ, আদর বা ভালোবাসা না পেলে শিশুরা অন্য কোথাও থেকে এই শূন্যতা পূরণ করতে চায়। পর্নোগ্রাফি তখন তাদের জন্য একটি ক্ষণিকের আশ্রয় বা আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে।

- বিজ্ঞাপন -

একাকীত্ব

যেসব শিশু পরিবারে একা সময় কাটায়, তাদের মধ্যে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। যেখানে কোনো তদারকি বা বাধা থাকে না, সেখানে শয়তানের কুমন্ত্রণা বেশি কাজ করে।

মানসিক চাপ

পড়াশোনা বা পারিবারিক বিভিন্ন কারণে শিশুরা মানসিক চাপে থাকে। এই অবস্থায় যখন তারা পর্নোগ্রাফিতে আনন্দের সন্ধান পায়, তখন ভালো-মন্দের বিচার না করেই তাতে ঝুঁকে পড়ে।

যৌন নির্যাতন

শিশু বয়সে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুদের মনে বিকৃত যৌন শিক্ষার বীজ বপন করে। তারা নিজেদের অজান্তেই এই বিকৃত ধারণাগুলো ধারণ করে এবং পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।

- বিজ্ঞাপন -

মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা

বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, বা অতীতের যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতা শিশুদের পর্নোগ্রাফি আসক্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

যৌন শিক্ষার অভাব

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে যৌনতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণে শিশুরা কৌতূহলবশত পর্নোগ্রাফির দিকে আকৃষ্ট হয়।

পরিবারে যৌন হিংসা

যদি কোনো শিশু পরিবারে যৌন হিংসার শিকার হয় বা তার চারপাশে এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে তার মানসিক অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে এবং সে পর্নোগ্রাফির দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।

পরিবারে পর্নোগ্রাফি দেখা

যদি পরিবারের কোনো সদস্য (যেমন—বড় ভাই-বোন) পর্নোগ্রাফি দেখে, তবে শিশুরা তাদের অনুকরণ করে তাতে জড়িয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত স্বাধীনতা

শিশুকে অতিরিক্ত স্বাধীনতা দিলে এবং ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ না করলে সে সহজেই পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসে ও তাতে আসক্ত হয়।

পরিবার ও সমাজের তদারকির অভাব: অনেক পরিবার ও সমাজে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর যথাযথ নজরদারি না থাকায় শিশুরা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

শিশুদের পর্নো আসক্তির কারণ ও এর কুফল
শিশুদের পর্নো আসক্তির কারণ ও এর কুফল, চিত্র: থর, টুনস ম‍্যাগ

সামাজিক কারণ

শিশুদের পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হওয়ার পেছনে সমাজেরও নানান ভূমিকা রয়েছে।

সহপাঠীদের প্রভাব

শিশুরা সাধারণত তাদের বন্ধুদের অনুকরণ করে থাকে। সহপাঠীদের মধ্যে পর্নোগ্রাফি নিয়ে আলোচনা শিশুদের মনে কৌতূহল জাগায় এবং তাদের আসক্ত করে তুলতে পারে।

বাউণ্ডুলে সঙ্গ

পড়াশোনা ছেড়ে বাউণ্ডুলে হয়ে পড়া শিশুরা একসময় নানান অপরাধে জড়িত হয় এবং তাদের মধ্যে পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তি দেখা যায়।

দারিদ্র্য: দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুরা অনেক সময় পারিবারিক, সামাজিক বা ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। যৌনতা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তারা সহজেই পর্নোগ্রাফিতে জড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফির প্রচার ব্যাপক। শিশুরা কৌতূহলবশত বা বন্ধুদের অনুকরণ করে এই ধরনের কনটেন্টের সংস্পর্শে এসে এতে জড়িয়ে পড়ে।

অসামাজিক পরিবেশ

শিশু যদি অসামাজিক পরিবেশে (যেমন—পতিতালয় বা অপরাধপ্রবণ এলাকায়) বড় হয়, তাহলে সে অতি সহজেই পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে চলে আসে।

সুস্থ বিনোদনের অভাব

সমাজে সুস্থ ও স্বাভাবিক বিনোদনের অভাব রয়েছে। যৌন উত্তেজক বিনোদনের ছড়াছড়ি শিশুদের এসবের দিকে ঠেলে দেয়।

মাদকাসক্তি

অনেক শিশু পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এই মাদকাসক্ত শিশুরা সহজেই পর্নোগ্রাফিতে লিপ্ত হয়।

মিডিয়া ও বিনোদন জগতের প্রভাব

চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং অন্যান্য মিডিয়ায় যৌনতা ও উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্য প্রায়শই দেখানো হয়, যা শিশুদের মনে যৌন কৌতূহল জাগিয়ে তোলে এবং তারা তা পূরণের জন্য পর্নোগ্রাফির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

সমাজের উদাসীনতা

অনেক সময় সমাজের একটি বড় অংশ এই সমস্যার গুরুত্ব বুঝতে পারে না, ফলে শিশুদের সুরক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।

পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ

ইন্টারনেটে পরিচয় গোপন রেখে পর্নোগ্রাফি দেখা যায়, যা অনেককে এই ধরনের কনটেন্ট দেখার জন্য উৎসাহিত করে।

সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন

একসময় সমাজে যৌনতা সম্পর্কে যে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা সময়ের সাথে সাথে অনেকটাই শিথিল হয়েছে। যৌনতার প্রতি এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি এক শ্রেণির শিশুদের পর্নোগ্রাফি দেখার প্রতি আকৃষ্ট করছে।

রাষ্ট্রীয় কারণ

শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু রাষ্ট্রের নানান দুর্বলতার সুযোগে শিশুদের মধ্যে পর্নোগ্রাফির আসক্তি দিন দিন বেড়ে চলেছে।

ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা

পর্নোগ্রাফির মূল উৎস হলো ইন্টারনেট। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের মাধ্যমে যেকোনো শিশু খুব সহজেই পর্নোগ্রাফি দেখতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপসের মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে পড়ছে।

আইনের শীতলতা

পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও, দেশে এটি অবাধে তৈরি, বিক্রি ও প্রচারিত হচ্ছে। সামাজিক নীতির দুর্বলতা এবং আইন প্রয়োগের অভাবে শিশুরা সহজেই পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসে।

ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের অভাব

ইন্টারনেটের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে পড়া সবচেয়ে সহজ। আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই, যেমন—পর্নো ওয়েবসাইট ব্লক করা বা ফিল্টারিং সিস্টেম চালু করা।

সচেতনতার অভাব

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শিশু পর্নোগ্রাফি আসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পর্যাপ্ত জনসচেতনতা সৃষ্টির যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয় না।

শাস্তি না হওয়া

পর্নোগ্রাফি বন্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগের অভাব এবং জড়িতদের দৃশ্যমান শাস্তি না হওয়ায় সমাজে এটি মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

শিশুদের পর্নো আসক্তির কারণ ও এর কুফল
শিশুদের পর্নো আসক্তির কারণ ও এর কুফল, চিত্র: থর, টুনস ম‍্যাগ

পর্নোগ্রাফি শিশুদের কী ক্ষতি করে?

পৃথিবীতে কোনো খারাপ কাজই কখনো ভালো ফল বয়ে আনে না। পশ্চিমা বিশ্বে পর্নোগ্রাফি অবাধ ও সহজলভ্য হলেও আমাদের মতো ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশে এর কোনো ভালো দিক নেই। বরং শিশুদের এই আসক্তির নানান কুফল আমাদের পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে আজ দৃশ্যমান। একজন শিশু যখন বয়ঃসন্ধির সময় কিংবা তারও আগে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়, তখন তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নানান সমস্যা সৃষ্টি হতে থাকে।

ধর্মীয় উদাসীনতা

পর্নোগ্রাফিতে লিপ্ত হলে শিশুদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনাবোধ কমে যায়। ফলে তারা ধীরে ধীরে ধর্মীয় অনুশাসন থেকে দূরে সরে যায়, যা তাদের মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞান ও চর্চা থেকে বিচ্যুত করে।

শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি: বয়ঃসন্ধিকালে শিশুরা যখন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয় এবং তা চর্চা করে, তখন তাদের শারীরিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এর ফলে তাদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি

পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত শিশুরা প্রায়শই বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মসম্মানের অভাব, এবং একাকীত্বের মতো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয়, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী অবনতিতে অবদান রাখে।

সম্পর্কের অবনতি

পর্নোগ্রাফির প্রভাবে শিশুরা নারী সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে এবং তাদের চোখে নারীরা নিচু হিসেবে ধরা দেয়। এর ফলে পরিবার, বন্ধু এবং অন্যান্য মানুষের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

আত্মসম্মানের অভাব 

অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফি দেখার ফলে শিশুর আত্মসম্মানবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে তার নিজস্ব ব্যক্তিত্ব কমে যায় এবং সে নিজেকে তুচ্ছ ভাবতে শুরু করে।

যৌন অপরাধ

পর্নোগ্রাফিতে দেখানো যৌন কাজগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করার চেষ্টা করার প্রবণতা বাড়ে। এর ফলে সে আশেপাশের শিশু বা নারীদের যৌন হেনস্থা, এমনকি ধর্ষণের মতো অপরাধ করার চেষ্টা করতে পারে।

পড়াশোনার অবনতি

পর্নো আসক্ত শিশুদের মানসিক বিকাশ পরিপূর্ণ হয় না বলে তারা পড়াশোনায় খারাপ করতে থাকে, যা তাদের শিক্ষা ও কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

কর্মক্ষমতা হ্রাস

পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে পড়াশোনা, কাজ এবং অন্যান্য দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে তার অসুবিধা হয়।

সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

পর্নোগ্রাফি সামাজিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং নারীদের প্রতি ভুল ধারণা সৃষ্টি করে, যা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়।

বিশ্বাসের সংকট

যখন কোনো শিশু পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয় এবং তা জানাজানি হয়, তখন তার উপর পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস উঠে যায়। এই বিশ্বাসের সংকট তাকে পরবর্তী সুন্দর জীবন গঠনে বাধাগ্রস্ত করে।

মিথ্যাচার ও ভুল তথ্য

পর্নোগ্রাফিক ভিডিওগুলিতে প্রদর্শিত যৌন কাজগুলো প্রায়ই অস্বাভাবিক ও অবাস্তব হয়। এগুলি যৌনতা সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয় এবং যৌন সম্পর্কের প্রতি অস্বাস্থ্যকর আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে।

ব্ল্যাকমেইলের শিকার

অনেক সময় শিশুরা সমবয়সী বা বড়দের সাথে পর্নোগ্রাফিতে লিপ্ত হলে, তারা পরবর্তীতে বড়দের দ্বারা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়।

শেষ কথা

পর্নোগ্রাফি এমন একটি বিষয় যা যেকোনো বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করে, কিন্তু শিশুরা এর কঠিন পরিণতি সম্পর্কে অবুঝ থাকে। তারা চারপাশের পরিবেশের কারণে সহজেই এতে জড়িয়ে পড়ে। তাই আমাদের অভিভাবকদের অবশ্যই এই পাপ থেকে নিজেদের সন্তানদের রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা, শিশুদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, তাদের ইন্টারনেট ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা, এবং মানসিক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করা অপরিহার্য। পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এই মহামারী রোধ করা সম্ভব।

সাখাওয়াতুল আলম চৌধুরী

লেখক ও সমাজ বিশ্লেষক

✍️এই নিবন্ধটি সাময়িকীর সুন্দর এবং সহজ জমা ফর্ম ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। আপনার লেখা জমাদিন!

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মন্তব্য নেই

প্রবেশ করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

একটি অ্যাকাউন্ট নেই? নিবন্ধন করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

আপনার অ্যাকাউন্টের ইমেইল বা ইউজারনেম লিখুন, আমরা আপনাকে পাসওয়ার্ড পুনরায় সেট করার জন্য একটি লিঙ্ক পাঠাব।

আপনার পাসওয়ার্ড পুনরায় সেট করার লিঙ্কটি অবৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

প্রবেশ করুন

Privacy Policy

Add to Collection

No Collections

Here you'll find all collections you've created before.

লেখা কপি করার অনুমতি নাই, লিংক শেয়ার করুন ইচ্ছে মতো!