শনিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২২

পাভেল আমান এর কবিতা

প্রকাশিত:

দগ্ধ জীবন

এক অদ্ভুত নিরবতার দহনে
জীবনের ডালপালা ক্রমশ দগ্ধ
বিনাশের দীর্ঘপথের অভিযানে,
ইচ্ছা-অনিচ্ছার নিদারুণ দ্বন্দ্বে
চাওয়া-পাওয়ার চিরায়ত স্বপ্নগুলো
শীত ঘুমে আচ্ছন্ন।
বিবর্ণ নৈরাশ্যের প্রলম্বিত হাতছানিতে
মাদকাসক্তের মতো চরম আক্রান্ত
জীবন প্রবাহের সহজপাঠ।
ঘাত-প্রতিঘাতের অসম যাতনায়
বেঁচে থাকার স্বতঃস্ফূর্ত আকাঙ্ক্ষাগুলো
অনুভুতির সাগরে ডুবন্ত।
প্রচেষ্টার ক্ষত নিরাময়ের মলমকে সরিয়ে
বেছে নিয়েছি চূড়ান্ত পরিণতির আহ্বান,
কালের সময়কে সাক্ষী রেখে
দ্রুত পদক্ষেপের দূর্বার গতিতে
সবকিছু অসুস্থতায় পর্যবসিত।
অধৈর্যের সীমালঙ্ঘনে দীপক রাগে
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রচন্ড উত্তাপে জর্জরিত
চিরসবুজ বাহারি দৃশ্যপট,
নিমেষেই বিবর্ণ বিশুষ্ক প্রায়
যেখানে অবিরাম ভাসমান
দগ্ধ জীবনের নিরন্তর হাহাকার।

জমে থাকা কথামালা

তবুও স্মৃতিপটে
তুলে রেখেছি ভাবনার কথামালা
সময়ের সরণি বেয়ে
এগিয়ে চলেছি সম্মুখে
কিছু ঘাত প্রতিঘাত
সয়েছি অবচেতন গহনে
জেগে থাকা একরাশ স্মৃতিতে
ভালোলাগার সান্নিধ্য
নির্লিপ্ত মননে খুঁজছি
একটু প্রশান্তির ছায়া
যেখানে অহর্নিশ মিশে গেছে
জীবনের বিবিধ খোরাক।
এভাবেই কেটে যাক
আগামীর পথ চলা।
তবুও স্মৃতিপটে চিরভাস্বর
যতসব জমে থাকা কথামালা।

নীরবতার পাঁচিল

দীর্ঘ নিরবতার বিস্তৃত পাঁচিলে
অবরুদ্ধ স্পন্দন
লকলকে স্বপ্নগুলো আকাশ ছোঁয়ার
দুর্বার বাসনায়,
অনুভূতির সতেজ ডালপালাতে
পরজীবীদের নিরন্তর বাসা
একটানা স্বাভাবিকতার সহজপাঠ
আছড়ে পড়ে কালের আঘাত,
বিপর্যয়ের ফল্গুধারায় নিরবধি ভাসমান
গোছানো যাপন প্রবাহ
অনুভবী দৃষ্টির সতত নির্মমতায়
তবু হাতড়ে থাকি;
প্রচেষ্টার সর্বোচ্চ মাত্রায় জারি আছে
জীবনের স্থিতিশীলতা
সহিষ্ণুতার পরাকাষ্ঠাতে ধাবমান
একরাশ আশালতা,
মুহূর্তের অভিযোজনে জেগে ওঠে
বেঁচে থাকার নব আঙ্গিক
আবারো দিশেহারা স্মৃতির পাতায়
বুনতে আছি চেতনার জাল
বিশ্বাস মনে প্রহর গুনতে গুনতে
ভেঙে পড়ে নিরবতার দীর্ঘ পরিবেষ্টন
তৎসহ স্পন্দনের শৃংখল মোচন-

অবক্ষয়িত সমাজ

পড়ে আছি অবক্ষয়িত সমাজে
বিবর্ণ খসে যাওয়া পাতার মতো
চারিদিকে অবিরাম নীতিহীনতা
মূল্যবোধ ইতিহাসের সোপান বেয়ে
ফসিলে পরিণত
দৃষ্টির স্বচ্ছতায় শুধুই ঝাপসা
নিমেষে ধাবমান দুধ কুয়াশা
সরে যাচ্ছে সুস্থতার নিত্যতা
হাপিত্যেশ খুঁজে বেড়াই
বেঁচে থাকার জীবন
একরাশ হতাশায়
আচ্ছন্ন অবচেতন অনুভূতি
সহসা ধাক্কা মারে
স্তব্ধতার পরিপূর্ণতায়
এভাবেই বিস্তৃত
দীর্ঘ শূন্যতার নীরবতা
ডুবে যাচ্ছে নৈতিকতা, সাম্য
ভগ্নপ্রায় মনুষ্যসমাজ।

হাত বাড়ালেই

হাত বাড়ালেই বন্ধু আসে
অসময়ে থাকো যদি পাশে।
পথ চলাতেই পাবে খুঁজে
আনন্দের ভাষা চোখ বুঁজে।

জীবন মানেই নব অভিযান
আমৃত্যু বজায় এক অভিধান।
ভালো মন্দের ভুবনে তটে
কত কিছুই ঘটনা ঘটে ।

বাধা বিঘ্নের প্রাচীরে যথা
জুড়াতে থাকি হাজারো কথা।
বাঁধনটা আজ ছিন্ন করে
চলেছি লক্ষ্যে চির তরে।

হাত বাড়ালেই বন্ধু সুজন
শুনতে পাবে পাখির কূজন
চলার পথে দেখতে থাকি
জীবন পটেই স্বপ্ন আঁকি।

ওদের জীবন

নিঠুর বাস্তবতাকে সাঙ্গ করেই
ওরা বেঁচে আছে
এই পৃথিবীর প্রতিটি পদক্ষেপে
ওদের নিরবধি সংগ্রাম
দাঁতে দাঁত চেপে চোয়াল শক্ত রেখে
চলছে সম্মুখের অভিযান
ওরা থেমে নেই
জীবনের অপূর্ণতায়
ঘাত প্রতিঘাতের বিবিধ জাঁতাকলে
জুড়ে গেছে ঘনঘটা
বাদশার অদম্য স্পৃহায়
অবিরাম বুনছে স্বপ্নের জাল
যেখানে শুধুই অস্তিত্বের লড়াই
এভাবেই চলতে থাকে
ওদের নিদারুণ জীবনেতিহাস।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
পাভেল আমান
পাভেল আমান
ইংরেজিতে স্নাতক। পেশা শিক্ষকতা। ছাত্রাবস্থা থেকেই লেখালেখির প্রতি আকর্ষণ। বিশেষত কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ বিভিন্ন ফিচার লিখতে অভ্যস্ত। প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় উদার আকাশ পত্রিকা। এরপর শব্দসাঁকো, জিলিপি, শারদীয়া আগন্তুক, আলেখ্য, আখর কথা, পত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত। আনন্দবাজার পত্রিকা, প্রতিদিন, উত্তরের সারাদিন, পুবের কলম, দিনদর্পন, সাত সকাল প্রভৃতি পত্রিকায় প্রবন্ধ চিঠিপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এখনো ভালো লাগে কলমটাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিয়ত সৃষ্টিশীলতায় ভেসে গিয়ে ভাব জগতে বিচরণ করে কিছু না কিছু লিখতে। লেখালেখিটা অনেকটা জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। ক্রমশই অনুভূত লেখনিই আমার জীবনের অবশ্যিক অভিব্যক্তি।

সর্বাধিক পঠিত

আরো পড়ুন
সম্পর্কিত

তৈমুর খানের ছ’টি কবিতা

একটি মৃত্যু শুধু কাজল পরোনিওই চোখে মেঘলা বিশ্বাস আমি আত্মহত্যাকারীসব সিঁড়ি...

তৈমুর খানের নির্বাচিত ছয়টি কবিতা

আস্ফালন একা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছি নিরক্ষরসব অক্ষরগুলি মার্জিত নিবেদনে...

জয়িতা ভট্টাচার্যের নির্বাচিত ছয়টি কবিতা

আবহমান যখনই উল বুনিঘর ভুল হয়ে যায়।দুটো কাঠি বলাবলি করে...

আবু আশরাফী’র ছয়টি নির্বাচিত কবিতা

নিস্তব্ধ সান্তনা মাছে মাছ খাবেতুমি কেন খাবে? আসমানে আছে লক্ষ কোটি...
লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।