17.5 C
Drøbak
বৃহস্পতিবার, মে ২৬, ২০২২
প্রথম পাতামুক্ত সাহিত্যকবি টি এম মিলজার হোসেনের ছয়টি কবিতা

কবি টি এম মিলজার হোসেনের ছয়টি কবিতা

আমার ক্ষুধারা

আজ আমি খুব খুবই ক্ষুধার্ত
আমার পাকস্থলীর চিৎকারে আমার মস্তিষ্ক হতাহত,
আমার লকলকে জিভ হাহাকার করছে,
রুগ্ন মায়ের পাশে থাকা
বিচ্ছিন্ন অবুঝ পথ শিশুর চোখের জলের মত,
আমার ইন্দ্রিয় সাইরেন বাজাচ্ছে,
ঢাকার বেয়ারা গাড়ি চালক গুলোর
অনর্থক বিরক্তিকর হর্নের মত।

আজ আমার চোখ জোড়া খাবার খোঁজে
বাজপাখির চোখের নিশানায়,
আমার নাক খাবারের গন্ধ খোঁজে

কত শতাব্দী যেন আমি খাই নি
খাদ্য বিলাস করতে করতে
ভোজ বিলাসী হতে চাই,
তোমার রসনা বিলাসে আমি আজ বিলীন হতে চাই।

তুমি আমি

নরক বসন্ত শেষে
স্বর্গ বসন্তে এসে
আমার পাওয়া নতুন স্বর্গ জেনে, তোমায় ভুলে
অপক্ষেমাণ সত্তর হূরপরীর কাছে!
আমি যাবোনা,
যাবোনা স্বর্গ আলিঙ্গনে,
তুমি যদি মানো, তুমি যদি জানো,
অনন্তকাল তুমি যদি
আমার হয়ে থাকো,
চাইনা আমি আমার কাঙ্ক্ষিত
স্বর্গ বসন্ত বাস,
রাজি যদি থাকো
না হয় ফিরে গেলাম
ভালোবেসে নরক বসন্তে,
তোমায় আলিঙ্গনে
অনন্ত মিলনে
চলোনা ফিরে যাই ,
ভালোবাসার অবিচ্ছিন্নতার দায়ভারে
নরক বসন্ত হয়ে, অনন্তকাল!

প্রণয়ী ও মহামায়া

আমি শুন্য থেকে লাফিয়ে পড়ে
মেঘের সাথে গা ঘষে শূন্যে গা ভাসিয়ে
মাটিতে ফিরে এসে বলবো মহামায়া,
সত্যি – আকাশ বলে কিছু নেই।

দেখা হয়েছিল স্তরে স্তরে ভাসমান রোদ ও মেঘের সাথে।

আমি শুন্য থেকে লাফিয়ে পড়ে
মেঘের সাথে গা ঘষে
উন্মাত্ত বাতাসে মাতাল হব,

তোমার কাছে ফিরে আসবো মহামায়া,
যদিও মানুষের নিঃসঙ্গতা ধ্রব সত্য।
এটাই যেন প্রণয়ীদের ঘুরে ফিরে
অবাঞ্ছিত শেষ গন্তব্যে ফিরে আসা,
ভালো থাকা হয় প্রণয়ী ও মহামায়া।

মর্ত্যভূমি

দানব-মানব বিষে মৃত্যুর উৎসবে
জীবন্ত মানুষের অদৃশ্য পোড়া দেহ
এ মর্ত্যভূমিতে,

মুদ্রা দানবের লোভে, বিলাসে মৃত্যু মিছিল
এ মর্ত্যভূমিতে,
বানিজ্যিক মুদ্রা মাফিয়ার অদৃশ্য গান পয়েন্টে পুনঃ মৃত্যুর লাশ
এ মর্ত্যভূমিতে,
আপনজনের প্রবঞ্চনা ভালোবাসার শবদেহ
এ মর্ত্যভূমিতে,
পিতা কিংবা মাতা অনিয়ন্ত্রিত যৌন ক্ষুধায়, শিশু সন্তানের হিম দেহ
এ মর্ত্যভূমিতে,
মানবের স্বার্থপরতায় মরা সম্পর্কের মরাদেহ
এ মর্ত্যভূমিতে,
সব জীবন্ত লাশ পুড়ছে পোশাকি সভ্যতার
মানব সৃস্ট অদৃশ্য নোংরা, বিষাক্ত, হিংস্র কিংবা শীতল অগ্নিতে,
এ মর্ত্যভূমিতে,
অনাথ মস্তিষ্কে বাসা বাঁধে-
সমসাময়িক, কৌশলি ও পোশাকি চলমান ভদ্রতা,
এর চেয়ে, বেশ্যার সাথে শুয়ে উন্মাদনা উপভোগ পবিত্র,
এ মর্ত্যভূমিতে।

ধ্বংস ফানুশ

মানুষের রক্তে ভেজে মাটি
লুটিয়ে কাঁদছে মানবতা ও পৃথিবীর জন্মদাত্রী।
ধর্মের নামে বিকট অট্টহাসি হাঁসে অমানুষ
গতি আনে ধাতবে অস্ত্রে পিশাচ বাহিনী,
অমানুষ মানুষ মারে,
কবে হবে শান্তির হুস?
এখনও মানুষ কিংবা ধার্মিক বেহুস,
আখের গোছায় বক ধার্মিক, ধার্মিক হারায় তাঁর শান্তির বার্তা,
ধর্মকে অধর্ম করে বক ধার্মিক উড়ায় লাভের ফানুশ,
মানুষ ও ধার্মিক কবে হবে তোমার হুস?

ওদের পতনে, বাকিতে আছে নরকের জন্মদাত্রী,
যদিও বড্ড দেরি, তাতে মানব ও পৃথিবীর কি!?

মনুষ্য প্রাণী ও পিশাচ

মনুষ্য প্রাণীর
মস্তিষ্কে দানবের বাস,
আর সেই দানব মনুষ্য প্রাণীর
সাথে পিশাচের প্রতিনিয়ত সহবাস।

আর মানুষ ! নির্বাসিত বার মাস !
মানুষ
এ ভূমিতে দানবের সৃষ্ট নরকে তোমার নরক বাস,
কোরবানি হবে নিরীহ ইতর প্রাণী,
তবে দানব আর পিশাচের কি হবে!?
মুদ্রা মাফিয়ারা রেফ্রিজারেটরে দিয়েছে মূল্যহ্রাস
তবে এখন শুধুই কি রসনা বিলাস!?

অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।