-5.6 C
Drøbak
সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১
প্রথম পাতাসাম্প্রতিকবরিশাল সদর হাসপাতালের শতবর্ষী ভবন ভাঙার কাজ চলছে: স্মৃতি সংরক্ষণের আহবান বিশিষ্ট...

বরিশাল সদর হাসপাতালের শতবর্ষী ভবন ভাঙার কাজ চলছে: স্মৃতি সংরক্ষণের আহবান বিশিষ্ট জনদের

১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত জনগনের দানে গরে ওঠা বরিশাল বিভাগের প্রথম হাসপাতাল ’সদর হাসপাতাল’ এর ছয়টি পুরোনো ভবন অবশেষে ভেঙে ফেলা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে ছয়টি পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ।বরিশালের নাগরিক সমাজ পুরোনো ভবনের আদলে নতুন ভবন তৈরী করে পুরোনো ভবনের ফলক, ভাস্কর্য ও নামলিপি সংরক্ষণের দাবী জানিয়েছেন। তবে অনেকেই মনে করেন কর্তৃপক্ষ সচেতন হলে পুরোনো ভবন সংস্কার করেই এর কার্যক্রম চালাতে পারতেন।

হাসপাতালের সামনে স্থাপিত ফলক দেখে জানা যায় লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার ল্যান্সলট হেয়ার ১৯১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল ১৯১২ সালের ১৩ জুলাই হাসপাতাল ভবন উদ্বোধন করেন।

কয়েকজন সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তি আলাদা ভাবে একাই একটি ভবনের নির্মাণ ব্যায়ভার বহন করেছেন তন্মধ্যে, ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে বাইসারীর ইন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর মা গোলকমনির নামে লেবার ওয়ার্ড নির্মাণ করেন। ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র সেন আলোকমনি মহিলা ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। কালী চন্দ্র ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে শশীমুখী অপারেশন থিয়েটার নির্মাণ করেন। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ দস্তিদার কলেরা ওয়ার্ড নির্মাণ করেন। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে জমিদার বিনয় গুপ্ত তাঁর পিতার নামে জগত চন্দ্র পেয়িংপুরুষ ওয়ার্ড এবং ব্যারিষ্টার নলিনী গুপ্ত তাঁর মাতা মুক্তাকেশীর নামে একটি নারী পেয়িং ওয়ার্ড নির্মাণ করেন।

গত শুক্রবার হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে নির্মান শ্রমিকরা হাসপাতালের দুইটি ভবনের ছাদ ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলছে, মুক্তাকেশি ফিমেল পেয়িং ওয়ার্ডের মুক্তাকেশীর শ্বেত পাথরের প্রায় শতবর্ষী ভাস্কর্য দেয়ালে ভাঙার অপেক্ষায়। দাতাদের নাম ফলক খুলে রাখা হয়েছে।

’সে সময়ে শুধু বরিশাল বিভাগ নয় পদ্মার পারে এটিই ছিল প্রথম হাসপাতাল জা জনগনের দানে গরে ওঠে’ জানান সচেতন নাগরিক কমিটির আহবায়ক শাহ সাজেদা হাসপাতালটি ১৯১০ সালে হলেও এর ভবনগুলির অধিকাংশ ১৯৩৮ সালে নির্মিত হয়, যা ঠিক মত সংস্কার করা হলে এটি ব্যবহার যোগ্য করা যেতো বলে মনে করেন হাসপাতালের সাবেক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ড. মিজানুর রহমান।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বরাল জানান, আমরা পুরোনো ভবনের ছবি ও ভিডিও করে রেখেছি, যা নতুন ভবনে স্থাপন করা হবে। এখানে আরাইশো শয্যার বহুতল ভবন নির্মান করা হবে। সে সময়ে এই নাম ফলকগুলি আমরা একটি কক্ষে স্থাপন করবো।

সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন জানান দুই মাসের মধ্যে পুরোনো ভবন ভেযে নতুন ভবন নির্মানের কাজ শুরু হবে। তিনি জানান প্রায় সতেরো লক্ষ টাকা ব্যায়ে ছয়টি ভবন ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। এখানে ১২ তলা ভবন নির্মান হবে। তবে এখানে আলাদা কোন জায়গা ছিল না যেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা যায়। তবে নাগরিকদের নিয়ে পুরোনো রেপ্লিকা সংরক্ষণ করা হবে।
’উন্নয়নের জন্য এটা আমাদের করতে হচ্ছে’ তিনি জানান।

’আমরা হাসপাতালের পুরোনো নাম ফলক, ভাস্কর্য সংরক্ষণ করে নতুন ভবনটি যাতে পুরোনো ভবনের আদলে করা হয় সেজন্য কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই’, জানান বরিশাল সাংস্কৃাতক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ এর সহ সভাপতি শুভংকর চক্রবর্তী।
সুশান্ত ঘোষ

অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।