-5.6 C
Drøbak
সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১
প্রথম পাতাবিবিধসিডর তাণ্ডবের ১৪ বছর: এখনও আঁতকে ওঠেন উপকূলের মানুষ

সিডর তাণ্ডবের ১৪ বছর: এখনও আঁতকে ওঠেন উপকূলের মানুষ

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বরগুনাসহ উপকূলে আঘাত হেনেছিলো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডর। ১৪ বছর পর এসে আজও সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতির কথা মনে পড়লে আঁতকে ওঠেন উপকূলের মানুষেরা। ভয়াবহ সিডর বরগুনাসহ উপকূলবাসীর জীবনযাত্রায় রেখে গেছে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন। এক ঝড়ে প্রাণ হারিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। ১৪ বছরেও স্বাভাবিক হয়নি স্বজন ও সম্পদ হারানো মানুষের জীবন।

ঘড়ির কাটায় তখন রাত সাতটা ৪০ মিনিট। মহাবিপদ সংকেতের কথা শুনে আতঙ্কিত বরগুনা উপকূলের মানুষ। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইছে। সচেতন মানুষ যেতে শুরু করলো আশ্রয়কেন্দ্রে। তবে বেশিরভাগ মানুষই রয়ে গেলেন বাড়িতে। সিডরের ভযাবহতা সম্পর্কে তারা কিছুই ধারণা করতে পারেনি। সিডরের আঘাত শুরু হলে ঘর-বাড়ি উড়িয়ে নেওয়ার অবস্থার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বাড়তে থাকে পানি। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বঙ্গোপসাগরের সব জল যেন জম দূতের মতো এসে মানুষগুলোকে ভাসিয়ে নিলো। মাত্র ১০ মিনিটের জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারালো। ঝড়ের তাণ্ডবে পুরো এলাকা হয়ে যায় লণ্ডভণ্ড। সকালে উপকূলের মানুষ দেখতে পেলো কেয়ামতের আলামত। লাশের পর লাশ পড়েছিল উপকূল জুড়ে। কবর দেওয়ার জায়গা পাওয়া যায়নি। এক একটি কবরে ২-৩ জনের লাশ ফেলে মাটি চাপা দেওয়া হয়। সিডরের এত বছর পরেও নিহতের সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

sidol 2 সিডর তাণ্ডবের ১৪ বছর: এখনও আঁতকে ওঠেন উপকূলের মানুষ
ফাইল ছবি

সরকারি তথ্য অনুযায়ী সিডরের আঘাতে বরগুনা জেলার এক হাজার ৩৪৫ জন মানুষ মারা গেছেন। নিখোঁজ ১৫৬ জন। ৩০ হাজার ৪৯৯ টি গবাদি পশু ও ছয় লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯টি হাঁস-মুরগি মারা যায়। জেলার দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৬১ টি পরিবারের সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। গৃহহীন হয় জেলার ৭৭ হাজার ৭৫৪টি পরিবার। তবে বেসরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা বলা হয়েছে এক হাজার ৬০০ জনের বেশি।

সিডরে এত মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জানা যায় ওই সময় আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবাণী যথাযথ ছিল না। আবহাওয়া অফিস ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত থেকে হঠাৎ করে ১০ নম্বর বিপদ সংকেতের কথা ঘোষণা করে। মোংলা সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে যে সতর্ক সংকেত প্রচার করা হয়েছিল, তা বোঝার উপায় বরগুনার মানুষের ছিল না। স্বেচ্ছাসেবকরাও ছিল প্রায় নিষ্ক্রিয়। দুই-এক জায়গায় তারা মাইকিং করলেও বেশিরভাগ জায়গায়ই কোনও সংকেত প্রচার করা হয়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্য অফিস মাইকিং করলেও তা ছিল শহর এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আবার যারা ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত শুনেছেন, তারাও পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্রের অভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেননি।

অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।