16.9 C
Drøbak
শনিবার, জুলাই ২, ২০২২
প্রথম পাতাআন্তর্জাতিকদক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত নারীবাদী ব্যক্তিত্ব কমলা ভাসিন আর নেই

দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত নারীবাদী ব্যক্তিত্ব কমলা ভাসিন আর নেই

'নারীর প্রতি সহিংসতা বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। তোমার-আমার ব্যক্তিগত জীবন না বদলালে পিতৃতন্ত্র চলে যাবে না। সুতরাং আমি নিজের দিকে আঙুল রাখছি, তোমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নিজের দিকে আঙুল রাখো।' - কমলা ভাসিন

চলে গেলেন ভারতীয় নারী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা কবি কমলা ভাসিন। শনিবার ভোররাতে তাঁর মৃত্যু হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুখে ভুগছিলেন কমলা। কয়েকমাস আগে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। তাঁর ফুসফুসে জল জমে ছিল। শুক্রবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

দক্ষিণ এশিয়ার নারীবাদী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব কমলা ভাসিন এর জন্ম ১৯৪৬ সালের ২৪ এপ্রিল, তিনি বড় হয়েছেন ভারতের রাজস্থানে। রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। জেন্ডার সমতা, মানবাধিকার, শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ বেশিকিছু বিষয় নিয়ে তার শক্তিশালী লেখালেখি আছে। পশ্চিমা নারীবাদী ধ্যানধারণার সঙ্গে স্থানীয় প্রেক্ষিত যুক্ত করে সহজ ভাষায় তিনি এ উপমহাদেশে নারীবাদ প্রচার করেছেন, নারীপুরুষ বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের মৌলিক ভাবনাগুলো সঞ্চালিত করেছেন। তিনি একজন খ্যাতিমান জেন্ডার প্রশিক্ষক।

কাজের সুবাদে তিনি প্রায় বাংলাদেশে আসতেন এবং বাংলাদেশে নারী আন্দোলনকে সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় রাখতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নারীবাদী গণআন্দোলন মঞ্চ ‘উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি’র উদ্যোগে রবিবার রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে ‘নারী শোষণের বিরুদ্ধে সংহতি’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছিলেন। নারীবাদ নিয়ে তার ভাবনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি অন্যরকম বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

কমলা ভাসিন ওই বক্তৃতায় বলেন, ‘তোমার-আমার ব্যক্তিগত জীবন না বদলালে পিতৃতন্ত্র চলে যাবে না। সুতরাং আমি নিজের দিকে আঙুল রাখছি, তোমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নিজের দিকে আঙুল রাখো।’

২০১৬ সালে নারীর প্রতি সহিংসতাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ উল্লেখ করে অবস্থার পরিবর্তনে ভয়মুক্ত হয়ে প্রত্যেক নারীকে বদলে ফেলার আহ্বান জানান কমলা ভাসিন।

আজ দিনের শুরুতেই কমলা ভাসিনের মৃত্যু সংবাদ এই উপমহাদেশে নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রে, তথা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রেই এটা একটা বিরাট ধাক্কা। হাজারও প্রতিকূলতার মধ্যে কমলা লড়ে গেছেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বদলাতে জেন্ডার থিওরি, নারীবাদ ও পিতৃতন্ত্র নিয়ে একাধিক বই লিখেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে ভাসিনের সেই বই ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা চিন্তাধারা আজ রূপ পেয়েছে। তাঁর ভাবনা ও কর্ম মানুষের মনের গভীরে ছাপ ফেলেছে। তিনি মানুষের অন্তরে বেঁচে থাকবেন।

কমলা ভাসিন,
চির বিশ্রামে থাকুন।
চির শান্তিতে থাকুন।

অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।