8.8 C
Drøbak
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২১, ২০২১
প্রথম পাতামুক্ত সাহিত্যউপন্যাস'চন্দন রোশনি' মোহিত কামালের ধারাবাহিক উপন্যাস

‘চন্দন রোশনি’
মোহিত কামালের ধারাবাহিক উপন্যাস

সাগরের অথই জলে তলিয়ে গেছে অর্ণব। কী ঘটবে অর্ণবের জলজজীবনে? সমুদ্রসৈকতে অপেক্ষারত উর্বশীর জীবনে নেমে এলো কোন ঝড়? একে অপর থেকে কি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল নবদম্পতি? সাগরতলের জীবনে অর্ণব আর বাস্তব জীবনযুদ্ধে অশুভ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে থাকা উর্বশীর মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ ঘটতে থাকে? হারিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে অর্ণব বার বার ফিরে আসে উর্বশীর ঘটমান চলার পথে? বাস্তব আর পরাবাস্তবের আলোয় কীভাবে জ্বলে ওঠে ম্যাজিক রিয়ালিজম? সচেতন ও অবচেতন মনের এক সমগ্রতা বা অভিন্নতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সুররিয়ালিজমের কোন পথ মাড়িয়ে এগোবে এই উপন্যাসের কাহিনি? জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি।

।।সাত।।

রংধনুর সঙ্গসুখ
বুকের কেন্দ্রে অর্ণব-দেহের ইলেকট্রিসিটির প্রবাহ ছুটে বেড়াচ্ছে, প্রথমে টের পায়নি উর্বশী। মায়ের কথা শুনে নিজের দেহের দিকে তাকাল বিদ্যুৎকন্যা।
মা বললেন, ‘মনে হচ্ছে কয়েক শ আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে আসা অন্য কোনো নারী তুমি। এমন লাগছে কেন তোমাকে? বিদ্যুত বাতির ছড়ানো আলোর মতো চন্দন আলো বেরুচ্ছে তোমার দেহের ভেতর থেকে, বিষয়টা কী?’
শান্ত পুকুরের পানিতে হঠাৎ ছায়া ভেসে উঠলে জলমগ্ন কোনো কিশোরী যেমন ভয়ে কেঁপে উঠবে অথবা জানালা গলিয়ে হঠাৎ কোমল রোদ এসে বিছানায় শুয়ে পড়লে তা দেখে যেভাবে তরুণীর মন লাফিয়ে ওঠে উল্লাসে সেভাবেই প্রথমে ভীত হলো উর্বশী, ভীতির পর্দা সরিয়ে আবার ঝলমল করে উঠল ও। মুখ ফুটে কোনো কথা না বলে অনেক কথার জানান দিল চোখ নাচিয়ে আর ঘাড় বাঁকিয়ে।
মা বললেন, ‘তোমার এ ভঙ্গিটিও অসাধারণ?’
‘তোমার চোখে তো আমার সব কিছুই অসাধারণ।’
‘অসাধারণ না হলে কি আর কারও প্রশংসা করা যায়।’ বললেন মা।
‘যায় কি-না জানি না। তুমি কেবল নিজের মেয়েরটাই দেখো। অন্যকে প্রশংসা করতে তো দেখি না তোমাকে; শুনিওনি অন্যের জন্যে তোমার প্রশংসাবাক্য।’
প্রশংসার বিনিময়ে ধারালো সমালোচনার আক্রমণ খেয়ে মোটেও বিচলিত হলেন না উর্বশীর মা। সহজ থেকে বললেন, ‘নিজের মেয়ের দারুণ ক্ষমতা দেখছি। হানিমুন করতে গিয়ে নিরুদ্দেশে চলে যাওয়া স্বামী-বিরহ কাটিয়ে উঠতে পেরেছো। কজন পারে নিজেকে সামলে রাখতে? কজনেরই আছে এমন দুর্বিনীত সাহস আর মনোভাব?’
মায়ের কথা শুনে উর্বশীর দেহের বিদ্যুৎকণা হঠাৎ নিভে গেল। ঝলমলে উর্বশীর দেহে নেমে এলো আঁধার। শান্ত সমুদ্র যেমন সহস্র কোটি ঢেউ বুকে নিয়েও চুপ থাকতে পারে, তেমনিভাবে নিশ্চুপ হয়ে গেল তার দেহের অণুকণার গোপন স্পন্দন। আঁধারে ভরে উঠল চারপাশ। কিছুক্ষণ আগের অবস্থা আর বদলে যাওয়া বর্তমান অবস্থার মধ্যে তৈরি হলো যোজন মাইল ফারাক। তা দেখে হতভম্ব হয়ে গেলেন উর্বশীর মা। মেয়ের প্রতি মায়ের বিশ্বাস আর আত্মশক্তির শেকড়ে আকস্মিক টান খেলো। প্রশংসাসূচক কথার পরও এমন জমে যাওয়া কিংবা মলিন হয়ে ওঠা মুখের আদল দেখে নিজেও নিভে গেলেন মেয়ের কথা শুনে, ‘স্বামী নিরুদ্দেশ হবে কেন, মা? অর্ণব তো আছেই আমার সঙ্গে। মনে হয় আমার দেহের কোষে চলমান ইলেকট্রিসিটির মধ্যে নিয়তই সে জোগান দিচ্ছে ‘অ্যানায়ন’ আর ‘ক্যাটায়নের’ যুগল স্রোত। বহমান সেই বৈদ্যুতিক স্রোতের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক গতিই তো আমার শক্তির উৎস। সে কীভাবে নিরুদ্দেশ হবে, বলো তুমি?’
মেয়ের অনুত্তেজিত প্রশ্নের আড়ালের দাপুটে বিশ্বাসের শক্ত অবস্থান টের পেয়ে আকস্মিক ঝাঁকি খেলেন মা। বিস্ময়কর অনুভব নিয়ে সগর্বে তবু তাকালেন মেয়ের মুখের দিকে। ভয়, বিস্ময় আর গৌরব- ত্রিমুখী আবেগের ছাপ পড়ল মুখচিত্রে প্রতিফলিত ভাষায়। চাউনিতেও ফুটে উঠল ত্রিমাত্রিক ঢেউ। মেজাজের গোপন ঘরে সরসর করে ছুটে গেল অচেনা, অদেখা, সরীসৃপের পিচ্ছিল পথচলার সংকেত। ক্রমবর্ধমান টেনশন যুক্তিনির্ভরতার আসনটি টলিয়ে দেওয়ায় মা মেলাতে পারলেন না গত তিন মাসের উর্বশীর জীবনযাপন- বিশেষ করে শেষ ক’দিনে বন্ধু হিমাদ্রির সঙ্গে বেপরোয়া ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্যচিত্র। ভেবেছিলেন স্বামী হারিয়ে সে ফিরে আসছে স্বাভাবিক জীবনে। সেই ভাবনার ছেদ পড়ল। বুঝে গেলেন এ তিন মাসের অনিয়ন্ত্রিত বেপরোয়া চলার মধ্যে ছিল গোপন শূন্যতার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা মরীচিকা; চিকচিক আলো-খেলা। আসল রূপ এটাই। অর্ণবকে বুকের কেন্দ্রে রেখেই চারপাশ দেখতে থাকার কারণে কেবল পরিধির চাকায় ঘুরেছে সে, দেখতে না পেলেও কেন্দ্রে ঠিকই আছে অর্ণব। কেন্দ্রের তীব্র টানে আবার চোখের ভেসে উঠেছে তার স্বামীর প্রতিচিত্র। এ অলীক চিত্রের কল্পভুবন তাকে কোথায় নিয়ে যাবে, ভেবে শংকিত হলেন তিনি। মেয়ের চোখের নির্জনতার মধ্যে তৃষ্ণার্ত মনের প্রতিলিপিও ঠেসে বসে আছে, দেখতে পেয়ে তিনি বললেন, ‘জানালার পর্দা গলেও কড়া রোদ ঢোকে ঘরে, দেয়াল পেরিয়েও কোমল আলোয় ভরে উঠে উঠোন। সে আলোরও ছোঁয়া নিতে হয়। দেয়াল আর পর্দা ঠেকাতে পারে না নতুন আলোর প্লাবন।’
‘কী বলছো মা?’
দীর্ঘশ্বাস বেরুল মায়ের ফুসফুস থেকে। পাঁজরের ভেতর থেকে নিঃশ্বাস উড়ে যাওয়ার মতো স্বপ্ন উড়ে গেল আকাশে। মায়েরা যা করেন, তার সবকিছুরই কেন্দ্রে থাকে সন্তান। সন্তানের মঙ্গলচিন্তা ছাড়া বিকল্প চিন্তা স্থান পায় না তাঁদের মগজে। মেয়ের প্রশ্নের ভেতর লুকিয়ে থাকা অবাস্তবতার হাওয়া উড়ে এলো। নিজস্ব শব্দের ঝাঁপি বন্ধ হয়ে গেল। জবাব না দিয়ে দেয়ালঘড়ির দিকে নির্বিকার তাকিয়ে রইলেন তিনি। চলমান ঘড়ির টিক টিক শব্দে ঘূর্ণায়মান সেকেন্ডের কাঁটাটা যেন বৃত্তের পরিধির ডানে নয়, বাঁয়ে ঘুরছে। মিনিটের কাঁটা ঘুরছে ডানে। আর স্থির চিহ্নে বসে আছে ঘণ্টার কাঁটা। এমন লাগছে কেন! গা-শিউরানো অশরীরী অনুভূতি নয়, দেহের ওপর দিয়ে ধাবমান সরীসৃপের অনুভব খেয়ে আচমকা হকচকিয়ে গেলেন, কেঁপে উঠলেন মা।
সেই কম্পন টের পেয়ে উর্বশী বলল, ‘আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না। আমার ভেতরের শক্তিই টেনে নেবে আমাকে সামনে। ভয় পেয়ো না, কৃষ্ণসাগরে ডুবে যাব না, উষ্ণসাগরে ভেসে চলার বৈঠা আছে আমার দেহের অণুতে। আমার হাতে অক্সিজেন আর স্যালাইনও রয়েছে বিপদে বেঁচে থাকার জন্য।’
মেয়ের কথা শুনে ভয় কমে গেলেও অনিশ্চয়তা কাটল না। নীচু স্বরে বললেন, ‘তুমি বড় হয়েছো। জীবনে বড় দাগা খেয়েছো। বুদ্ধি খরচ করেই এখন চলতে হবে তোমাকে। আমি কেবল তোমার ভালোটা দেখতে চাই। দেখার সুযোগ পেলে শান্তি পাব।’
‘চাইলেই কি ভালোটা সবাই দেখতে পাই? খারাপটাও তো জীবনে হানা দিতে পারে। সেটা মেনে নিতে হবে না?’
‘তোমার জীবনে ঘটে যাওয়া নিয়তি মেনে নিয়েছি। আর কোনো বিপর্যয় মেনে নেওয়ার শক্তি থাকবে না আমার। ভবিষ্যতে তাই সাবধানে পা বাড়াতে হবে। এটা তো চাইতে পারি তোমার কাছে, কী বলো?’
‘কোনো ঘটনা ঘটেনি। খামোখা চিন্তা করছ। অর্ণব আমার সঙ্গেই আছে। রংধনু সেজে সাগর থেকে উঠে এসে ঢুকে বসে আছে আমার দেহের ভেতর। সাগরের নোনাজলে হারিয়ে যায়নি সে।’
মেয়ের মুখের দিকে তাকালেন মা। নতুনরূপে চাঁদের আলোয় পুনর্জন্ম নেওয়া আত্মজার চলার পথে সর্বনাশ ওত পেতে আছে বুঝতে পেরে উচ্ছ্বাসের বদলে অবিশ্বাসের ধাক্কা খেলেন তিনি। কৃষ্ণসাগরে যেন নিজেই বিসর্জিত হলেন এইমাত্র। ভুরুর ভাঁজে কুঞ্চন ফুটে ওঠায় উর্বশী আবার প্রশ্ন করল, ‘এমন উদাস আর প্রাণহীন হয়ে গেলে কেন, মা?’
জবাব দেওয়ার ভাষা নেই মায়ের মুখে।
সহজ করার জন্য মাকে জড়িয়ে ধরে সহজ জীবনের কাব্যধ্বনি আওড়াতে লাগল উর্বশী :
জীবনকে অত পরিপাটি করে গুছিয়ে রেখো না
মাঝে মাঝে এলোমেলো হতে দাও
জীবনকে দু-একটা বাঁশ খেতে দাও
কিছু ধোঁকা আর বন্ধুদের মারা ল্যাং।

জীবনকে বড় বড় ঝড় খেতে দাও
সহ্য করতে দাও খর রোদের তাপ
আকাশ ফাটানো বৃষ্টি
জীবনের নানা অভিজ্ঞতা হোক…

আবৃত্তি শুনে নরম হয়ে গেল মায়ের শংকিত মন। কপাল-কুঞ্চন সোজা হয়ে গেল। মিলিয়ে গেল অবিশ্বাসী চিন্তার ভার। সুন্দর কবিতাটির আবৃত্তি শুনে মুগ্ধ হয়ে মা প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার কবিতা?’
‘ভালো কিছু সবই কি আমার হতে হবে? অন্য কারুর হওয়া চলবে না তোমার কাছে, মা?’
‘মেয়ের ভালো চাইতে চাইতে অন্ধ হয়ে গেছে মনের চোখ। দেহের চোখও কেবল সেই আলোই যে দেখতে চায়, মা।’
‘এটাই সংকীর্ণতা। উদার হও। উদার হয়ে শোনো, এটা হচ্ছে সংঘমিত্রা চক্রবর্তীর কবিতার কয়েকটি চরণ। আমাকে প্রাণ দিয়েছে এই আটটি চরণ। অন্তর ছোঁয়া, অন্তর জাগানো পঙ্ক্তিগুলো এখন আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা, বুঝেছো?’
ঝলমল করে উঠল মায়ের মন। কেবল অলীক কল্পনা আর বিভ্রমের জগতে ডুবে নেই, কবিতার শরীর ছুঁয়ে বাস্তবের সিঁড়িতেই পা রেখেছে, কল্পনা ধারণ করেও সত্য অস্বীকার করছে না মেয়ে।
বাহ! মাই ডটার! আই ফিল প্রাউড অব ইউ!’
মায়ের মুখে এমন প্রশংসা এর আগে শোনেনি উর্বশী। সব সময় ‘ভালো’ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় কাটে তাঁর সময়। এ মুহূর্তে প্রশংসায় ধন্য হয়ে বলে ফেললেন আসল কথা।
‘আমি একা থাকতে চাই, মা। তোমাদের সঙ্গে থাকলে জীবনের ঝড় মোকাবিলার শক্তি খুঁজে পাব না। কষ্ট সইবার ক্ষমতাও জাগবে না নিজের।’
‘একা থাকতে চাও মানে? এখানে অসুবিধা কী?’
‘এখানে কোনো অসুবিধা নেই। সুবিধার ছড়াছড়ি রয়েছে চারপাশে। এসব সুবিধা উপভোগ করে বাঁচতে চাই না। কষ্ট আর যন্ত্রণার ছোবল খেতে চাই। বিষবাণে নীল হতে হতে জীবনের বিষ জয় করতে চাই। বাবাকে বলে দিও, চাকরির চেষ্টা করছি। যে কোনো মুহূর্তে চাকরি হয়েও যেতে পারে। মানসিক প্রস্তুতি না থাকলে পরে কষ্ট পেতে হবে তোমাদের। কষ্ট যাতে না পাও, তাই আগেই জানিয়ে রাখলাম।’
উর্বশীর কথা বেশ গোছানো ও শাণিত। দাপুটে কথার সামনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন মা। ক্ষোভ দমন করলেন। বুঝে গেছেন যুক্তির কাছে এ মুহূর্তে মেয়েকে মাথা নত করানো যাবে না, নতুন করে কিছুই বোঝানো যাবে না। বরং শান্ত হলে বোঝাবেন ভেবে মাথানত করে চলে যেতে উদ্যত হলেন। তখনই উর্বশী আবার বলল, ‘আমার দাবি মেনে নিয়েছো- এ জন্য ধন্যবাদ তোমাকে।’
ঘুরে দাঁড়ালেন মা। জোরালোভাবে জানতে চাইলেন, ‘কেবলমাত্র ইন্টার পাস করেছ। ইন্টার পাস মেয়ের তো পিয়নের চাকরিও জুটবে না, জানো তুমি?’
‘জানি। পিয়ন না থাকলে কি অফিস চলবে, মা? চলবে না। প্রয়োজনে পিয়নের চাকরি করব, স্বাধীনভাবে নিজ পায়ে দাঁড়াতে যা যা করতে হয়, সব করব। তোমার আপত্তি থাকবে কেন?’
‘তুমি যে আমার মেয়ে সে-কথা অস্বীকার করতে চাও?’
‘না। মোটেই না। অবশ্যই আমি তোমার মেয়ে। তবে তোমার মমতার ক্ষুধা মেটানোর যন্ত্র ভেবো না আমাকে, আমি তোমার অধিকৃত সম্পত্তি নই।’
মেয়ের মুখের দিকে চট করে ঘুরে চোখে চোখ রাখলেন মা। দেখলেন অতিপ্রাকৃত আধিভৌতিক মুখাবয়বে বাইরে থেকে রোদ এসে রাঙিয়ে রেখেছে মেয়ের গণ্ডদেশ- কাঁচা হলুদের আঁচড় খাওয়া রংধনু বাঁক খেয়ে ওর মুখ থেকে উড়ে গিয়ে আকাশের নীলিমায় নোঙর ফেলেছে।
জানালা দিয়ে এবার বাইরে তাকালেন জাদুর মোচড় খেয়ে। দেখলেন আকাশ থেকে ঝরঝর করে সাগরপানে ছুটে যাচ্ছে বৃষ্টি-রোদ স্পন্দিত তরঙ্গকণা।
উর্বশীও বাইরে তাকিয়ে দেখল দৃশ্যটি। তারপর প্রত্যয়ের সঙ্গে বলল, ‘রংধনু হয়ে অর্ণব সাগর থেকে উঠে আসে, জড়িয়ে রাখে আমাকে। তোমাদের মধ্যে থাকলে ওর ঢেলে দেওয়া ওই সুুখ পাব না আমি। আশা করি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করবে না!’
মনে হলো পাষাণ হয়ে গেছে মেয়ে। পাষাণ মন হয়তো আর গলবে না নিজের সাহচর্যে, আদরে। শিশুকাল থেকে যে-মেয়ে আঙুল ধরে হেঁটে হেঁটে বড় হয়েছে, সে কি করে এত সহজে হয়ে উঠতে পারে নির্মম- বুঝতে পারলেন না মা। সমুদ্র-তুফান পাঁজরে আটকে নিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে এলেন। পাষাণ-তুফান কি তাঁকেও করে দিয়েছে জড়বস্তু, অনুভূতিহীন? নাকি মিটে গেছে স্নেহের তৃষ্ণা?
হবে হয়তো। ভাবতে ভাবতে সময়ের দাবির কাছে হার স্বীকার করে নিশ্চুপ হয়ে গেলেন তিনি।

চলবে…

আরও পড়ুন:
চন্দন রোশনি- ষষ্ঠ পর্ব
চন্দন রোশনি- পঞ্চম পর্ব
চন্দন রোশনি- চতুর্থ পর্ব
চন্দন রোশনি- তৃতীয় পর্ব
চন্দন রোশনি- দ্বিতীয় পর্ব
চন্দন রোশনি- প্রথম পর্ব

মোহিত কামাল
মোহিত কামাল
কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের জন্ম ১৯৬০ সালের ০২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম আসাদুল হক এবং মায়ের নাম মাসুদা খাতুন। তাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম ও খালিশপুর, খুলনায়। বর্তমান নিবাস ধানমন্ডি, ঢাকা। স্ত্রী মাহফুজা আখতার মিলি, সন্তান মাহবুব ময়ূখ রিশাদ, পুত্রবধূ ইফফাত ইসলাম খান রুম্পা ও জিদনি ময়ূখ স্বচ্ছকে নিয়ে তাঁর সংসার। চার ভাই এক বোনের মধ্যে চতুর্থ সন্তান তিনি। তাঁর অ্যাফিডেভিট করা লেখক-নাম মোহিত কামাল। তিনি সম্পাদনা করছেন শুদ্ধ শব্দের নান্দনিক গৃহ, সাহিত্য-সংস্কৃতির মাসিক পত্রিকা শব্দঘর। তাঁর লেখালেখির মুখ্য বিষয় : উপন্যাস ও গল্প; শিশুসাহিত্য রচনার পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণাধর্মী রচনা। লেখকের উড়াল বালক কিশোর উপন্যাসটি স্কলাস্টিকা স্কুলের গ্রেড সেভেনের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে; ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি (ঝঊছঅঊচ) কর্তৃকও নির্বাচিত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত কথাসাহিত্য ৩৭ (উপন্যাস ২৪, গল্পগ্রন্থ ১৩)। এ ছাড়া কিশোর উপন্যাস (১১টি) ও অন্যান্য গ্রন্থ মিলে বইয়ের সংখ্যা ৫৫। জাতীয় পুরস্কার: কথাসাহিত্যে অবদান রাখার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০১৮), অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার ১৪১৮ বঙ্গাব্দ (২০১২) অর্জন করেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে অন্যান্য পুরস্কারও; হ্যাঁ (বিদ্যাপ্রকাশ, ২০২০) উপন্যাসটি পেয়েছে সমরেশ বসু সাহিত্য পুরস্কার (২০২০)। পথভ্রষ্ট ঘূর্ণির কৃষ্ণগহ্বর (বিদ্যাপ্রকাশ, ২০১৪) উপন্যাসটি পেয়েছে সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার (২০১৪)। সুখপাখি আগুনডানা (বিদ্যাপ্রকাশ, ২০০৮) উপন্যাসটি পেয়েছে এ-ওয়ান টেলিমিডিয়া স্বাধীনতা অ্যাওয়ার্ড ২০০৮ এবং বেগম রোকেয়া সম্মাননা পদক ২০০৮―সাপ্তাহিক দি নর্থ বেঙ্গল এক্সপ্রেস-প্রদত্ত। না (বিদ্যাপ্রকাশ, ২০০৯) উপন্যাসটি পেয়েছে স্বাধীনতা সংসদ নববর্ষ পুরস্কার ১৪১৫। চেনা বন্ধু অচেনা পথ (বিদ্যাপ্রকাশ, ২০১০) উপন্যাসটি পেয়েছে ময়মনসিংহ সংস্কৃতি পুরস্কার ১৪১৬। কিশোর উপন্যাস উড়াল বালক (রোদেলা প্রকাশনী, ২০১২; অনিন্দ্য প্রকাশ, ২০১৬) গ্রন্থটি ২০১২ সালে পেয়েছে এম নুরুল কাদের ফাউন্ডেশন শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১২)। তিনি মনোচিকিৎসা বিদ্যার একজন অধ্যাপক, সাবেক পরিচালক জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ,ঢাকা
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।