বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২

কবি গৌতম সমাজদারের ছ’টি কবিতা

প্রকাশিত:

হারিয়ে যাওয়া

গভীরতা হারাচ্ছে নদী,
গভীরতা হারাচ্ছে নীলাকাশ,
পাতলা হচ্ছে চাদর।
গভীরতা হারাচ্ছে শিক্ষা,
দ্বন্দ্ধের দিনলিপি শুধু-
গভীরতা হারাচ্ছে বিশ্বাস!
মায়েরা হারাচ্ছে ভালবাসার গভীরতা,
ভালবাসার গভীরতায় ও জমছে পলি!
ব্যস্ততায় সুন্দর মুহূর্তগুলো-
হারিয়ে যাচ্ছে!
কেউ কি ফিরিয়ে দেবে গভীরতা?
ফিরিয়ে দেবে প্রেম?

স্পর্শ

তোমাকে স্পর্শ করতে ইচ্ছে করছে!
না তোমাকে নয়,
তুমি যা স্পর্শ করেছো সে গুলোকে।
তোমার চোখের দিকে তাকাতে ইচ্ছে করছে!
না তোমার চোখের দিকে নয়,
তুমি যা কিছু যেমন ভাবে দেখেছো, সেগুলোকে।
তোমার গায়ের মিষ্টি সৌরভ পেতে ইচ্ছে করছে!
না,তোমার কাছে গিয়ে নয়,
তোমার বাতাসে ছড়ানো সৌরভ থেকে।
তোমার মুখের হাসি দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে!
না প্রত্যক্ষ ভাবে না হলেও হবে,
তার অনুরণন যেন শুনতে পাই।
তোমার মত করে পথ চলতে চাই!
না,তোমার সাথে না হলে ও চলবে,
দৃঢ়তা, দৃপ্ততা যেন থাকে তোমার মত।
তোমার উপবাসী শরীরে আদরের আঁচড় কাটতে চাই!
দু-জনেই ভেঙে ফেলতে চাই
উপবাসের দীর্ঘ কবিতা,
হাতে হাত রেখে, কাঁধে মাথা রেখে,
কাটাতে চাই বাকী জীবন
শুরু হোক আদরের উৎসব।

বেদনা

কি অসহ্য চাপ!
বন্যায় ভাঙ্গতে পারে সোনালি জমি।
বিধ্বস্ত, ক্লান্ত নদীটা,
গর্ভে আর কত জল ধরবে?
কি করে পলি তে জমাবে ফসল?
সবার মনের যোগান!
জেলেরা মাছ ধরে,চাষী জল নেয়,
পানীয় জলের অভাব মেটানো,
নদীর সৌন্দর্য গিলে খায় পর্যটক।
নিজেকে নিঃশেষ করে,
হিসাব মেলাতে পারবে তো?
শুকিয়ে যাবে না তো জল?
নতুন প্রজন্ম কে দেবে না কিছু ই-
ব্যর্থতার নামাবলী তে সাজাবে নিজেকে।

অপূর্ণতা

প্রত্যাশা ছিল আকাশ ছোঁয়া,
স্বপ্নের টুকরো গুলো ও খুঁজে পাচ্ছি না।
প্রতিবাদের লকলকে আগুন দেখেছিলাম-
ভেবেছিলাম তা নিঃস্বার্থ!
মানুষের সাথে মেশা-মাটিতে,
ছিল কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই এর নিশানা,
হাতে হাত মিলিয়ে পথ চলা,
উল্ট পুরাণে চক্ষু চড়কগাছ!!
ব্যস্ততার বিষবাষ্পে শুধু ই ক্ষমতা
উপভোগ করা, ব্যস্ততার দিনপঞ্জি,
মাথা কাঁধে কাঁধ নয়, এলিয়ে পড়লো
ক্ষমতা আর দম্ভের চোরাগলি তে,
শক্ত হাত দিয়ে চললো বেয়নেট!
নৈরাজ্যের নিশানা উড়ছে আজ-
বোকামি তে নিজেই হাসছি!
উঁচুতে আরো কত উঁচুতে? যেখান থেকে
মানুষ কে মনে হবে কীট-পতঙ্গ!!
ভারতবর্ষ টা মোয়া হলে ……!
ভেবে শিহরিত হই!

উচ্চাকাঙ্ক্ষা

চিল তুমি কতো উঁচুতে আজ।
নেমে আসো খাদ্যের সন্ধানে,
অত উঁচুতে ভালবাসা থাকে না।
থাকে না সৃষ্টি রহস্যে মেতে থাকার পরিবেশ!
তোমার নখে লেগে থাকা
দাম্ভিকতার হিংস্রতা-
একটি তেমন ঝড়েই-
নিঃশেষ হতে পারে এক লহমায়।
ভালবাসার অঝোর ধারা,
ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে তোমায়।
নখ মুখের রক্ত ধুয়ে নিয়ে-
মাটিতে এসে সৌরভ নাও ভালবাসায়।

বৃষ্টি

ভেসে যাওয়া কাগজের নৌকো,
অবিরাম ঝমঝম বৃষ্টি,
ফিরিয়ে দেয় শৈশব,
বৃষ্টি মানেই স্কুল ছুটি,
হাটু জলে বাড়ি ফেরা,
কখনওবা নজর এড়িয়ে ভিজে সপসপ হয়ে গামছা দিয়ে দেয়াল ঘেষে মাছ ধরা,
তারপর রাতের বেলা জ্বর বাঁধিয়ে মায়ের আদর খাওয়া,
আজও আকাশ জুড়ে বৃষ্টি নামে,
হাতড়ে বেড়াই ছেলেবেলা,
শিথিল শরীর নিয়ে বৃষ্টি দেখি ব্যালকনিতে বসে৷
তবুও ভালো লাগে বৃষ্টি দিনের ঝমঝমানো তাল,
জানি কোনও দিন ফিরবে না আর ছেলেবেলার গান৷

গৌতম সমাজদার
গৌতম সমাজদার
জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখিতে হাতেখড়ি৷ বিভিন্ন পত্রিকায় নানা বিষয়ের উপর লিখে থাকেন৷ মূলতঃ গল্প, প্রবন্ধগুলোতে বার্তাধর্মী তথ্য পরিবেশন করে সামাজিক উন্নতি সাধনের জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে থাকেন৷

সর্বাধিক পঠিত

আরো পড়ুন
সম্পর্কিত

গুচ্ছ কবিতা: নিসর্গের দ্বৈত চিত্র

১এতক্ষণে এই বুঝি পৃথিবী ঘুমালোছায়াছবি পলাতকা খুশি উস্তাদনৌকায় স্বপ্নের...

কবি জলজ মল্লিক এর গুচ্ছ কবিতা ‘শ্রীমতি রাঁধিকা কীর্তন’

।।এক।। যমুনা ডুবে যায়শরীর জুঁড়ে থৈ থৈ জলবাতাস কার গন্ধে...

কবি অনিতেন্দু মোদক’র গুচ্ছ কবিতা

বনজ্যোৎস্না ও আবীর গন্ধ এক বুকের তলায় গহীন সাগর বুকের তলায়...

কবি বিপ্লব ঘোষের গুচ্ছ কবিতা ‘এপিটাফ’

এক উনত্রিশের দুদিন আগে ঘর সাজিয়ে যাকে যা দেবার দিয়ে...
লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।