9.3 C
Drøbak
সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১
প্রথম পাতাবিচিত্রাএকেবারে নীচ থেকে সর্বোচ্চে

একেবারে নীচ থেকে সর্বোচ্চে

মাত্র তেরো বছর বয়সেই সংসার চালানোর জন্য বাবার নির্দেশে লেখাপড়া ছেড়ে তাঁকে কাজে ঢুকতে হল। কিন্তু এ জীবন তিনি চাননি। তাই এই কাজ তাঁর কাছে ক্রমশ বিষময় হয়ে উঠতে লাগল। ফলে আর থাকতে না পেরে বছর তেইশেক বয়সেই সুন্দর-সুন্দর ফুটফুটে তিন-তিনটে ছেলেমেয়ে এবং অ্যানি হ্যাথাওয়ের মতো রূপসী বউ-সহ গোটা সংসার ফেলে রেখে তিনি একদিন ভাগ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন লন্ডনের পথে।

কিন্তু সেখানে তাঁকে কেউ চেনে না। তিনিও এই অপরিচিত জায়গায় এসে একেবারে অকূলে পড়লেন। তাঁর তখন একদম দিশেহারা অবস্থা। থাকবেন কোথায়! খাবেন কী! বাড়িতেই বা কী পাঠাবেন! কিছু তো একটা করতেই হবে। তাই একে-তাকে ধরে শেষ পর্যন্ত বহু কষ্টে তিনি যোগাড় করে নিলেন মঞ্চ-অভিনেতাদের ঘোড়া দেখাশোনার একটা কাজ। সামান্য বেতন। তবুও এই কাজেই তাঁর উৎসাহ সব সময় তুঙ্গে। ব্যবহারও মুগ্ধ করার মতো। ফলে কিছু দিন যেতে না যেতেই ঘোড়া দেখাশোনার পাশাপাশি ওই নাট্যশালার স্ক্রিন টানার কাজটাও পেয়ে গেলেন তিনি। আর এই কাজ করতে করতেই নাটকের দৃশ্যাবলি সম্বন্ধে আস্তে আস্তে অভিজ্ঞ হয়ে উঠতে লাগলেন।

কিন্তু এতেও যেন মন ভরছিল না তাঁর। অভিনয়‌ যেন সব সময় তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকত। মঞ্চ তাঁর ঘুম কেড়ে নিত। অভিনয়ের প্রতি তাঁর এই অমোঘ টান দেখে পরবর্তী নাটকগুলোতে ওই পরিচালক তাঁকে ছোটখাটো একটা-দুটো চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগও করে দিলেন।

কিন্তু তখন তিনি অন্য এক নেশায় ডুবতে চলেছেন। দায়িত্ব নিচ্ছেন নাটকের পাণ্ডুলিপির অনুলিপি, পুনর্লিখন— এই সব কাজের। এই সময়ই তাঁর সুপ্ত প্রতিভা একটু একটু করে প্রকাশ পেতে থাকে। একদিন ‌হঠাৎ তিনি নিজেই লিখে ফেললেন‌ তাঁর সারা জাগানো নাটক— চতুর্থ হেনরি।

এই নাটকের খ্যাতি তাঁকে আরও নাটক লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ফলে ‘হ্যামলট’, ‘কিং লিয়ার’, এবং ‘ম্যাকবেথ’-এর মতো অসামান্য এক-একটা নাটক তাঁর হাত থেকে বেরিয়েছিল। এর পর নাটকই তাঁকে এত অর্থ, এত খ্যাতি, এত‌ প্রতিপত্তি এবং জনপ্রিয়তা এনে দেয় যে, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তিনি সমস্ত কাজকর্ম ছেড়ে লেখাকেই পেশা হিসেবে করে নেন।

শুধু নাটকই নয়, সাহিত্যের অন্যান্য শাখাতেও তিনি অবলীলায় হাত দিয়েছেন এবং সাফল্যও পেয়েছেন আশাতীত। তাই তো তিনি লিখতে পেরেছিলেন আটত্রিশখানা নাটক, একশো চুয়ান্নখানা সনেট, দুটি দীর্ঘ অ্যাখ্যান-সহ বেশ কিছু কবিতা। এ ছাড়াও বেশ কিছু লেখা তিনি অন্য লেখকদের সঙ্গেও যৌথ ভাবে লিখেছেন। তবে তাঁর নামে প্রকাশিত হলেও, এই সব লেখা যে তাঁরই লেখা, তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

সন্দেহ করলেও, সেই সব লেখা কিন্তু পৃথিবীর প্রায় সব প্রধান ভাষাতেই অনূদিত হয়েছে। আর তাঁর নাটক? তাঁর যে কোনও নাটকই পৃথিবীর যে কোনও নাট্যকারের যে কোন নাটকের থেকেই অনেক অনেক অনেক বেশি বার মঞ্চস্থ হয়েছে।

ইংল্যান্ডের এই জাতীয় কবি, যাঁকে ‘বাট অফ অ্যাভেন’, মানে অ্যাভেনের চারণ কবি বলা হয়, তিনি পনেরোশো চৌষট্টি সালের ছাব্বিশে এপ্রিল স্ট্যাটফোর্ড অফ অ্যাভেনে জন্মগ্রহণ করেন। সে জায়গাটা এখন একটি তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

যদিও হিসেব অনুযায়ী ইংরেজি সাহিত্যের আধুনিক শাখাতেই তাঁর অবস্থান। তবু, সময় আর ভাষার গণ্ডির বাঁধ ভেঙে তাঁর নাম এখন বিশ্বসাহিত্যে সব চেয়ে বেশি উজ্জ্বল।

ষোলোশো ষোলো‌ সালের তেইশে এপ্রিলে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যাওয়া এই কবি এবং নাট্যকার শুধু একটি মাত্র শব্দ— ‘শেক্সপিয়ার’ নামে খ্যাত হলেও, তাঁর পুরো নাম কিন্তু— উইলিয়াম শেক্সপিয়ার।

সিদ্ধার্থ সিংহ
সিদ্ধার্থ সিংহ
২০২০ সালে 'সাহিত্য সম্রাট' উপাধিতে সম্মানিত এবং ২০১২ সালে 'বঙ্গ শিরোমণি' সম্মানে ভূষিত সিদ্ধার্থ সিংহের জন্ম কলকাতায়। আনন্দবাজার পত্রিকার পশ্চিমবঙ্গ শিশু সাহিত্য সংসদ পুরস্কার, স্বর্ণকলম পুরস্কার, সময়ের শব্দ আন্তরিক কলম, শান্তিরত্ন পুরস্কার, কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত পুরস্কার, কাঞ্চন সাহিত্য পুরস্কার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা লোক সাহিত্য পুরস্কার, প্রসাদ পুরস্কার, সামসুল হক পুরস্কার, সুচিত্রা ভট্টাচার্য স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, অণু সাহিত্য পুরস্কার, কাস্তেকবি দিনেশ দাস স্মৃতি পুরস্কার, শিলালিপি সাহিত্য পুরস্কার, চেখ সাহিত্য পুরস্কার, মায়া সেন স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও ছোট-বড় অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননা। পেয়েছেন ১৪০৬ সালের 'শ্রেষ্ঠ কবি' এবং ১৪১৮ সালের 'শ্রেষ্ঠ গল্পকার'-এর শিরোপা সহ অসংখ্য পুরস্কার। এছাড়াও আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত তাঁর 'পঞ্চাশটি গল্প' গ্রন্থটির জন্য তাঁর নাম সম্প্রতি 'সৃজনী ভারত সাহিত্য পুরস্কার' প্রাপক হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।