13.1 C
Drøbak
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
প্রথম পাতাসাম্প্রতিককবি রঞ্জনা রায়ের ছ'টি কবিতা

কবি রঞ্জনা রায়ের ছ’টি কবিতা

কন্যাদেহ

ময়ূরাক্ষীর তীর ধরে হাঁটছিলাম
আকাশে ডুবন্ত সূর্যের আলো
আকাশ মাটির ভেদরেখা মুছে দিল
তোমার পাঞ্জাবীর গেরুয়া লাল ।
হাতে তোমার হাত
শরীরে মহুয়া মদের দোলা
রাই হবো আমি –
ময়ূরাক্ষীর বুকে হবো তোমার !

এক আর্ত ধ্বনি
আকাশ বাতাস নদী সাগর অন্তরীক্ষে ।
স্তব্ধ প্রতিধ্বনি
একটি ধর্ষিত কন্যাদেহ পৃথিবীর মাতৃবক্ষে।

বর্গক্ষেত্র

আমার হাজার স্কোয়ার ফিটের শিশ্ মহলে
নেই একটাও ঘুলঘুলি
নেই কোন কাকের বাসা
তিতকুটে ময়লা ধুলো –
আমরা তিনজনেই ফিটফাট মাপসই ।

রোজ রাতে অমল চুমু খায়
ডিজিটাল ঘড়িটাও ঠিকঠাক চলে –
আমাদের এখানে কোকিল ডাকে না
ডিমও পাড়ে না ।

বুবুন আর টেডি বিয়ারের বন্ধু বন্ধু খেলা
ওর কম্পিউটার গেমে যুদ্ধের মহড়া !

ঠোঁট

তুমি আমি বসে আছি মুখোমুখি
চোখে চোখ,হাতে হাত
আমার ঠোঁটের অনুভবে
এখন ঈষৎ বাদামি ঠোঁটের বিদ্যুৎ!

তুমি আমি বসে আছি মুখোমুখি
চোখে চোখ,হাতে হাত
সাগর-মোহনায় ঝড় ওঠে
বালুকনা জমা হয় দুটি ঠোঁটের ব্যবধানে।

জুঁইফুলের মালা

ওই উদ্ধত বুকের ভেতর নীড় বাঁধবো বলে
মেলেছি দুটি ডানা
ঝড় আসে বার বার
ডানা কেঁপে ওঠে –
তবুও বার বার
খুঁজেছি একটু আশ্রয় –
স্নিগ্ধ জুঁইফুলের একটি মালা

দূরে–কাছে

আমার শাড়ির ভাঁজে
গহন রাত্রি নামে
তুমি ঘুমোও দূরে
কৃষ্ণা নদীর ওধারে ।

দূরত্বের এতটুকু আঁচ লাগে না মনে
রক্তকনিকার অন্তরে তোলপাড়
তুমি ঘুমোও যেন কাছে ।

দহনে

সেই নিবেদনের ভঙ্গী থেকে একটা স্বপ্ন জন্ম নেয়
সেই চোখের জাদুতে ঢাকা পড়ে গেছে অমাবস্যার উদ্ভাস
আজও স্মৃতির প্রকোষ্ঠে ধুনি জ্বলে
শরীরের মাধবীকুঞ্জে উষ্ণ জোয়ার জাগায় ।

শীত আসে, রোজই দহন
এক নিঃসঙ্গ উন্মাদনায় –
সেই নিবেদনের ভঙ্গী থেকে আবার একটা স্বপ্ন জন্ম নেয়
দহনে সূর্যমুখীর

রঞ্জনা রায়
রঞ্জনা রায়
কবি পরিচিতি: অখণ্ড মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার অন্তর্গত কোতাইগড়--- তুর্কা এস্টেটের জমিদার বংশের সন্তান রঞ্জনা রায়। জন্ম, পড়াশুনা ও বসবাস উত্তর কলকাতায়। বেথুন কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে সাম্মানিক স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উপাধি লাভ করেন। ১৯৭০ সালের ৩০শে মে রঞ্জনা রায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম স্বর্গীয় জগত কুমার পাল, মাতা স্বর্গীয় গীতা রানি পাল। স্বামী শ্রী সন্দীপ কুমার রায় কলকাতা উচ্চ ন্যায়ালয়ের আইনজীবী ছিলেন। রঞ্জনা উত্তরাধিকার সূত্রে বহন করছেন সাহিত্যপ্রীতি। তাঁর প্রপিতামহ স্বর্গীয় চৌধুরী রাধাগোবিন্দ পাল অষ্টাদশ দশকের শেষভাগে 'কুরু-কলঙ্ক’ এবং 'সমুদ্র-মন্থন’ নামে দু'টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করে বিদ্বজনের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। ইতিপূর্বে রঞ্জনা রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'এই স্বচ্ছ পর্যটন’ প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'ট্রিগারে ঠেকানো এক নির্দয় আঙুল' সাহিত্যবোদ্ধাদের প্রভূত প্রশংসা পেয়েছে। তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ 'নিরালা মানবী ঘর' (কমলিনী প্রকাশন) ও চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ 'ইচ্ছে ঘুড়ির স্বপ্ন উড়ান' (কমলিনী প্রকাশন) দে’জ পাবলিশিংয়ের পরিবেশনায় প্রকাশিত। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় কবির কবিতা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে প্রকাশিত হয়ে চলেছে।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।