10.6 C
Drøbak
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২১, ২০২১
প্রথম পাতাশেয়ারবাজারব্লক ট্রেডের খুঁটিনাটি যত কথা

ব্লক ট্রেডের খুঁটিনাটি যত কথা

পুঁজিবাজারে ব্লক ট্রেড একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকেই ব্লক ট্রেড নিয়ে পুরোপুরি ধারনা নেই। আজ ব্লক নিয়ে বাস্তবতার নিরিখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছি।

গত ৩/৪ বছর ধরে সাধারণ মানুষ ব্লক ট্রেড নিয়ে জানতে শুরু করেছে এবং বেশ কৌতুহল ও বেড়েছে। আমরা বেশির ভাগ লোক মনে করি ব্লক ট্রেড মানেই বিশাল কিছু। তবে ব্লক ট্রেড খুব একটা বিশাল কিছু না। ব্লক ট্রেডের কিছু ভালো দিকও আছে আবার বেশ কিছু খারাপ দিক ও আছে, যা গত ৩/৪ বছর যাবত দেখা যাচ্ছে। যখন কোন বড় পরিমানের শেয়ার লেনদেন করতে হয়, তখন তা মূল মার্কেটে না করে আলদাভাবে ট্রেড করা হয়, সেক্ষেত্রে ক্রেতা/বিক্রেতার মাঝে আগে থেকেই একটা বুঝাপড়া হয়ে থাকে। মূল মার্কেটে বড় পরিমান শেয়ার লেনদেন করলে, মূল্য হ্রাস বা বৃদ্ধিতে ব্যাপক ওঠানামা করতে পারে যে কারণে, বাজারকে প্রভাব মুক্ত রাখতে ব্লক ট্রেড করা হয় ।

সাধারণত কি কি কারণে ব্লকে লেনদেন হয়ে থাকে, এর কিছু সাধারণ বিষয় উপস্থাপন করা হলো।

দেখা গেল কোন লিমিটেড কোম্পানির নামে একটি বড় পরিমান কোম্পানির শেয়ার আছে, সেই কোম্পানি টি নগদ লভ্যাংশ দিল, কোম্পানি চেয়ারম্যান-এমডি মনে করল যে এত বড় পরিমান শেয়ার যদি আমার ব্যক্তিগত কোডে নগদ লভ্যাংশ নেয়া হয়, তাহলে আমি “করের” এর কিছু সুবিধা পাব তখন তিনি কোম্পানির নামের শেয়ারগুলো ২/৩ দিনের জন্য ব্লক ট্রেড করে, রেকর্ড ডেটের আগে ব্যক্তিগত কোডে ট্রান্সফার করে শেয়ার গুলো। রেকর্ড ডেটের পরে আবারো শেয়ারগুলো কোম্পানি নামে নিয়ে নেয়, পরপর ২/৩ দিনের মধ্যে এত বড় ট্রেড দেখেও মানুষ অনেক আশান্বিত হয়ে পরে, কিন্তু এখানে আশা ভরসার কিছুই নেই। এমন কিছু ট্রেড আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। ব্যক্তিগত কোডে শেয়ার স্পটে কিনে রেকর্ড ডেটের পরে আবার কোম্পানি কোডে স্থানান্তর করতে। এভাবে প্রায়ই ডিভিডেন্ড এর রেকর্ড ডেটের আগে অনেক কোম্পানির ব্লকে বড় বড় ট্রেডে হয়ে থাকে।

অনেক সময় দেখা যায় কোন একটি শেয়ার, কোন বড় বিনিয়োগকারী কিনলো কিন্তু শেয়ার পরবর্তী ডিক্লারেশন নাই, তখন তিনি হতাস, এমন টি হয়েছিল ২ বছর আগে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের, তখন তিনি ভাবলেন, তিনি আর এই শেয়ারটি হাতে রাখবেন না, কিন্তু মার্কেটে বিক্রি করতে পারছেন না, অল্প সংখ্যক লেনদেন হচ্ছে বিধায়, তখন সে চিন্তা করল কাউকে কন্ট্রাক করার জন্য, যে আমার এক লাখ হাইডেলবার্গ সিমেন্ট আছে এটা বিক্রি করে দেও, যদি এক লাখ বিক্রি করে দিতে পারো তাহলে তোমাকে প্রতি শেয়ারে পাঁচ টাকা দিব, তখন সেই লোক লোভনীয় লাভের আশায় বড় বিনিয়োগকারী খুঁজবে। যখন পেয়ে যাবে সেই স্যারকে বুঝানোর চেস্টা করবে, স্যার এই শেয়ার টি কিনে রেখে দেন, এক লাখ শেয়ার কিনলে আগামী ২/৩ বছরের আপনি ভালো রিটার্ন পাবেন ভালো লাভ পাবেন। তখন ওই বিনিয়োগকারী যদি লোভে পড়ে যান বা রাজি হন, তাহলেই ব্লকটা করতে সমর্থ হল, এখন অনেকেই মনে করল অল্প সংখ্যক লেনদেন হচ্ছিল হঠাৎ ১ লাখ লেনদেন হলো মনে হয় গেইম হবে। কিন্তু না এটা গেইম এর জন্য কেনা হয়নি আপনি কিনলেন আর ধরা খেয়ে বসে থাকলেন। করোনার পরে লক ডাউন শেষে মার্কেট খুললে হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বিক্রির জন্যে অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারীগন উতলা ছিল। কিন্তু কেউ সাহস পায়নি ক্রয়ের। যদি কিনতো তাহলে গতবছর সারপ্রাইজ ক্যাটাগরি চেইঞ্জে অনেক বড় ফায়দা পেত।

উল্লেখ্য ক্যাটাগরি চেইঞ্জের আগে যে বড় বিনিয়োগকারী হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বিক্রি করতে উতলা ছিল, কিন্তু পারেননি, পরবরতীতে ক্যাটাগরি চেইঞ্জ হবার কারনে উনি বেশ লাভবান হয়েছিলেন।

কখনো কখনো ভয়ে পরে ও বড় বড় বিনিয়োগকারীগন ব্লকে শেয়ার বিক্রি করে দেয়, যেটা হয়েছিল করোনা পরবর্তী মার্কেটে ফ্লোর প্রাইজে ট্রেড হচ্ছেনা দেখে, লাখ লাখ শেয়ার বিক্রি করেছিল আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে, আশ্চর্যের বিষয় ছিল আতংকিত হয়ে প্রায় ১.৫০ কোটি স্কয়ার ফার্মা সহ বিভিন্ন শেয়ার পানির দামে বিক্রি করেছিল।

একটা শেয়ার গেইম করবে কিন্তু বড় কোয়ান্টি পাচ্ছেনা, তখন সেই শেয়ার টি যদি কোন বিনিয়োগকারীর কাছে থাকে তখন নির্দিষ্ট কোন কোডে নিয়ে যায়, কোন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে। এই বিষয়টি আপনারা খেয়াল রাখবেন, যদি দাম একদম বাড়েনি কিন্তু প্রায়ই ব্লোক ট্রেড হয় তাহলে সেই শেয়ারটির প্রতি লক্ষ্য রাখা যায়, সামনে কিছু হবে, যেটা হয়েছিল বিকন ফার্মা তে গেইম শুরু হবার আগে। এ বছরের শুরুর দিকে NFML ও ২২ টাকা লেভেলে একদিনে ৮৪ লাখ ব্লোকে ট্রেড হয়েছিল। যা ছিল গেইমের হাতছানি।

কোন শেয়ার গত ৩/৪ মাস বা ৫/৬ মাসে ডাবল-রিডাবল হয়েছে তারপরও একটা পর্যায়ে গিয়ে ব্যাপক হারে ব্লকে লেনদেন হচ্ছে প্রতিদিন, তখন ধরে নিতে হবে শেয়ার ফিডিং হচ্ছে টাকা-পয়সার মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী মাধ্যমে। এমন ভাবে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ফিডিং করেছিল।

উল্লেখ্য সবকিছু জানার পরেও আমি নিজেও স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকে একটা বড় লস করেছিলাম। অবশ্য খুব কাছের এক ছোট ভাইয়ের প্রতি অতিমাত্রার বিশ্বাস করার কারণে। তাকেও দোষ দেয়া যাবেনা পুরোপুরি, কেননা করোনা এসে সবকিছু বুমেরাং হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া ও নিজেও লস করেছিল। এই ব্লক দেখার পরে অতিরিক্ত লোভের কারনে আমি লস করেছিলাম।

Note: টানা গেইম হওয়া কোম্পানি একটা লেভেলে থেমে যাবার পরে মার্কেট রেটের চাইতে নিয়মিত কম দামে ব্লকে ট্রেড হলে বুঝবেন ফিডিং করানো হচ্ছে টাকার মাধ্যমে।

আমরা অনেক সময় ব্লক লেনদেন হতে দেখে অনেক আশা করে থাকি, কিন্তু এটা দেখে আমাদের প্রভাবিত হবার কিছু নেই। এটা হতে পারে শেয়ার হস্তান্তর বা মালিকানা বদল ও কালেকশন। যেমন গতবছর মালিকদের ২% ও ৩০% এর কোঠা পুরনের জন্যে বিভিন্ন শেয়ারের বড় বড় ব্লক ট্রেড হয়েছিল, যেমন দুই দিনে ৩.১০ কোটি বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার ব্লক ট্রেড হয়েছিল। বেক্সিমকো, বারাকা পাওয়ার ইত্যাদি শেয়ারের গতবার বড় বড় কোয়ানটিটি ব্লক ট্রেড হয়েছিল। উল্লেখ্য যখন বারাকা পাওয়ার ৩৩/৩৪ টাকা লেভেলে বড় বড় ব্লকে ট্রেড হচ্ছিল তখন বিনিয়োগকারীগন অনেকে কিনেছিল যারা আজ অবদি লসে আছেন।

বিভিন্ন ইন্সটিটিউটে অনেক অসৎ লোকজন চাকুরী করে, দেখা গেল কোন গেমলার (জুয়াড়ি) কোন একটি শেয়ার কালেকশন করেছিল কিন্তু গেইম করতে পারেনি, তখন তারা বিভিন্ন ইন্সটিটিউট অফিসারদের সাথে আলাপ করে, তুমি যদি আমার এই পরিমান শেয়ার তোমাদের ইন্সটিটিউট বা বড় কাউকে নিয়ে দিতে পারো, তাহলে প্রতি শেয়ারে তোমাকে ০.৫০/১ টাকা দিব। এই অফার শুনে অফিসারগণ তড়িঘড়ি করে কিভাবে তাদের তাদের কোডে শেয়ার গুলো নেবে সেই চিন্তাতে লেগে থাকে। এক সময় তারা সফল হয়, এবং মার্কেটে সফল ভাবে ব্লক সম্পন্ন হয়ে থাকে। উল্লেখ্য বিভিন্ন ইন্সটিটিউট এ দেখবেন বহু বস্তাপচা শেয়ার ও লাখ লাখ আছে, পালন করছে বছরের পর বছর। এগুলো ওভাবে ব্লক করে কিনেছিল টাকা খেয়ে।

তবে মাঝে মাঝে ব্লক ট্রেড করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করা হয়, অনেকেই মনে করে ব্লক হচ্ছে এটা ভালো লক্ষণ, কিন্তু না এটা ফাঁদ ও হতে পারে। পরিশেষে Block Trade এক কথায় বেশি পরিমানের কোন শেয়ার স্বাভাবিক মার্কেটে যাতে মূল্যেকে প্রভাবিত করতে না পারে তার জন্য আলাদাভাবে ক্রয় বিক্রয় কেই বুঝায় ।

উল্লেখ্য ব্লক ট্রেড সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত তবে কিছু বাধ্যতামূলক নিয়ম-কানুন আছে। সেগুলো হল ব্লক ট্রেডে ক্রয় বিক্রয় সর্বনিম্ন ৫ লক্ষ্য টাকার সমপরিমান শেয়ার হতে হবে। ব্লক ট্রেড করতে হলে কোন ডিপ দিয়ে ক্রয় বিক্রয় বসানো যাবেনা।

মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার এমদাদ
মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার এমদাদ
মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার এমদাদ, বিনিয়োগকারী, শেয়ার মার্কেট।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

2 টি মন্তব্য

  1. ধন্যবাদ অসাধারণ একটি লেখা।ব্লক নিয়ে না জানা অনেক কথা জানলাম।পড়তেই লেগেছে ৫/৬ মিনিট, লেখাটা লিখতে কত সময় লেগেছে।ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি লেখা আমাদের উপহার দেয়ার জন্যে।

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।