14 C
Drøbak
বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১
প্রথম পাতাসাম্প্রতিক২০শে জুন, ২০২১ থেকে আর থাকছেনা শেয়ার বাজারের ‘ফ্লোর প্রাইস’

২০শে জুন, ২০২১ থেকে আর থাকছেনা শেয়ার বাজারের ‘ফ্লোর প্রাইস’

এক বছর ৩ মাস পরে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটের ফ্লোর প্রাইস তুলে দিল বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন (বসেছ), গতবছর, ২০২০ সালের ৮ই মার্চ প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হবার পরে, বাংলাদেশে আতঙ্ক বিরাজ শুরু হয়েছিল।

সারা বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে লকডাউন দেয়া, বিদেশ থেকে আসা লোকেদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার পরে বাংলাদেশে আতঙ্ক বাড়তে থাকে। ফলে প্রতিদিন মানুষ আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে প্রতিদিন ইন্ডেক্স নামা শুরু করে, অবশেষ রূপে ১৭ ই মার্চ যখন সারা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করল, সেইদিন থেকে ইন্ডেক্সের ব্যাপক দরপতন শুরু হয়েছিল, ১৮ ই মার্চ আবারো ইন্ডেক্সের ব্যাপক দরপতন অব্যাহত থাকে, ফলশ্রতিতে ১৯ শে মার্চ ২০২০ তারিখ ট্রেড বন্ধ রেখে, আগের ৫ দিনের ক্লোজিং গড়ের ভিত্তিতে ফ্লোর প্রাইজ নির্ধারন করা হয়েছিল।

n 2 ২০শে জুন, ২০২১ থেকে আর থাকছেনা শেয়ার বাজারের ‘ফ্লোর প্রাইস’
২০শে জুন, ২০২১ থেকে আর থাকছেনা শেয়ার বাজারের ‘ফ্লোর প্রাইস’ 2

সে প্রেক্ষাপটে বিচারে ফ্লোর প্রাইজ নির্ধারন করা ছিল এক যুগান্তকারী সঠিক সিদ্ধান্ত।

ফ্লোর দাম নির্ধারন করার পরে ২৫ শে মার্চ পর্যন্ত ট্রেড চলেছিল, তারপর ২৬ শে মার্চ ২০২০ থেকে লকডাউন ছিল সমগ্র বাংলাদেশে। এরপরে কয়েক দফা লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে টানা ২ মাস ৪ দিন পরে ৩১ মে, ২০২০ শে আবার ট্রেড শুরু হয়েছিল। মার্কেটের মানুষের আতঙ্কের কারণে ট্রেড চালু থাকলেও হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি শেয়ারের ট্রেড হত। জুন মাসের শেষ দিকে কিছু কিছু কোম্পানির ট্রেড চালু হয়, এভাবে ধাপে ধাপে নভেম্বর, ডিসেম্বর মাসের দিকে ৪/৫ টি বাদে মোটামুটি রকম সব শেয়ারের ট্রেড চালু হয়েছিল।

জানুয়ারি ২০২১ সালের শেষ দিকে মার্কেট কারেকশন হতে থাকলে আবার ১০০ এর অধিক কোম্পানির ট্রেড বন্ধ হয়ে যায়, ফ্লোর প্রাইজে আটকে থাকে। মানুষের অতি প্রয়োজনেও ফ্লোর থাকাতে বিনিয়োগকারীগন লেনদেন করতে পারছিল না।

বিষয়টি বিভিন্ন মহল ও বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে, অবশেষে প্রথম ধাপে ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল ৬৬টি কোম্পানি থেকে ফ্লোর প্রাইসের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয় কমিশন। কিন্তু ফ্লোর তোলার পরে প্রায় সব কোম্পানিগুলি ব্যাপক হারে কমতে থাকে, তারপর ৬৬ টি কোম্পানির সার্কিট নির্ধারন করে দেয় কমিশন, বাড়তে পারবে ১০% কমতে পারবে ২%, তারপর অনেকটা স্বাভাবিক হয়।

এরপরে গত ৩ জুন ফ্লোর প্রাইসে থাকা বাকি ৩০ কোম্পানি থেকে নির্দেশনাটি তুলে নেয় বিএসইসি।আগের ৬৬ টি কোম্পানির মতো ফ্লোর তুলে দেওয়া হলেও কোম্পানিগুলোর সার্কিট ব্রেকারে নতুন যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেটাই বলবৎ ছিল।

গত ১৭ ই জুন, ২০২১ বৃহস্পতিবার পুরোপুরি ফ্লোর প্রাইস (দর পতনের সর্বনিম্ন সীমা) তুলে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি ফ্লোর তুলে দেওয়াসহ সব কোম্পানির দর উত্থান-পতনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকার (সীমা) আরোপ করেছে বিএসইসি। যা কার্যকর হবে আগামীকাল ২০জুন, ২০২১ থেকে।

বিএসইসি এবারের নির্দেশনায় শেয়ার ও ফান্ডের ক্ষেত্রে দর উত্থান-পতনের নিম্নের সার্কিট ব্রেকার আরোপ করেছে।

১ থেকে ২০০ টাকা দামের শেয়ারে দাম বাড়তে কমতে, পারবে ১০%।

২০০ থেকে ৫০০ টাকা দামের শেয়ারে দাম বাড়তে, কমতে পারবে ৮.৭৫ %।

৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দামের শেয়ারে দাম বাড়তে, কমতে পারবে ৭.৫০ %।

১০০০ থেকে ২০০০ টাকা দামের শেয়ারে দাম বাড়তে, কমতে পারবে ৬.২৫%।

২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা দামের শেয়ারে দাম বাড়তে, কমতে পারবে ৫%।

৫০০০ টাকার উপরের, দামের শেয়ারে দাম বাড়তে, কমতে পারবে ৩.৭৫%।

পুরোপুরিভাবে ফ্লোর প্রাইজ তুলে দেয়াতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক আতংক বিরাজ করছে। আতংকিত না হয়ে বিনিয়োগকারীদের উচিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আগামিতে বিনিয়োগ করা। সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে,

গতবছর যখন ফ্লোর প্রাইজ নির্ধারন করেছিল তখন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল। তেমনি এখন মার্কেট কে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেয়াতে ফ্লোর প্রাইজ তুলে দেয়াও একটি ভালো সিদ্ধান্ত।

মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার এমদাদ
মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার এমদাদ
মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার এমদাদ, বিনিয়োগকারী, শেয়ার মার্কেট।
অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।