13.1 C
Drøbak
শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১
প্রথম পাতাআন্তর্জাতিকগঙ্গার জলে ভেসে আসছে পচাগলিত শতাধিক লাশ

গঙ্গার জলে ভেসে আসছে পচাগলিত শতাধিক লাশ

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিহার সীমান্ত এলাকার গঙ্গায় ভেসে আসছে অগণিত পচনধরা গলিত লাশ। তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। আজ সকালে এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে শিউরে উঠছে স্থানীয়রা।

এই লাশের সংখ্যা ২/৪টি নয়, শতাধিক হতেপারে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একের পর এক লাশ ভেসে আসার খবর বিহারের বক্সায় গঙ্গা পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্কেরস সৃষ্টি হয়। চৌসার স্থানীয় বাসিন্দারা সকালে ঘুম থেকে জেগে এমন মর্মান্তিক ও বীভৎস দৃশ্যের মুখোমুখি হয়। এ গঙ্গার পাড়ে মহাদেব ঘাটের কাছেই জলে ভাসছে পচে গলে ফুলে ওঠা সারি সারি লাশ। কিন্তু কোথা থেকে ভেসে এলো এত লাশ? মুহূর্তে খবর যায় পুলিশে।

বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে চারদিকে মৃত্যু সংবাদ, তার উপর এতগুলো লাশ ভেসে এসেছে একসঙ্গে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় লাশ পানি থেকে তুলে তীরে নিয়ে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। ওদিকে এসব দেহ থেকে এলাকায় করোনা ভাইরাস এবং গঙ্গার জলে দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আতঙ্কে রয়েছেন ওই এলাকা ও আশপাশের মানুষজন। একসঙ্গে এত অজ্ঞাতপরিচয় লাশ ভেসে আসাতেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তারা। কোথা থেকে এলো একসঙ্গে এতো মৃতদেহ? খতিয়ে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্রোতের দিক বিচার করে স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, ‘উত্তরপ্রদেশ থেকেই ভেসে এসেছে দেহগুলো এবং মৃতদের মৃত্যু সম্ভবত করোনা সংক্রমণের কারণেই হয়েছে। অন্তিম সৎকারে অসমর্থ হওয়ায় মৃতের পরিবার দেহগুলো নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতিতে এভাবে দেহ ভেসে আসায় নদীর পানিতে সংক্রমণ আরও ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

দেশটির চৌসা জেলার কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, এদিন সকালে ৪০-৫০টি লাশ ভেসে এসেছে গঙ্গায়। মৃতদেহের অবস্থা দেখে মনে করা হচ্ছে পাঁচ থেকে সাত দিন আগেই এদের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, মৃত্যুর পর কেউ দেহগুলো গঙ্গায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, আরও লাশ ভেসে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কম করে ১০০-এর কাছাকাছি লাশ নদীতে ফেলা হয়েছে বলে অনুমান। এভাবে করোনায় মৃতের দেহ নদীতে ফেলায় সংক্রমণ আরও কত দ্রুত ছড়াবে তাই ভেবেই আতঙ্কে কাঁটা বাসিন্দারা। সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে অজ্ঞাতপরিচয় লাশগুলো মাটিতে পুঁতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

অনলাইন এনডিটিভি এ খবর দিয়ে জানিয়েছে, ভারতে করোনা মহামারি কি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তার আরেকটি চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে এই ঘটনা। এসব মানুষ করোনায় মারা গিয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসন মনে করছে মৃত এসব মানুষের আত্মীয়রা হয়তো লাশ দাহ করার বা কবরস্তানে দাফনের কোনো ফাঁকা স্থান পাননি। তাই তারা এসব লাশ গঙ্গার পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। সেই লাশ ভেসে এসেছে উজানের উত্তর প্রদেশ থেকে। এতে আরো বলা হয়েছে, সোমবার সকালে বিহারের চৌসা শহরের পাশে গঙ্গা নদীতে এসব লাশ ভাসতে দেখা যায়। হরর মুভি বা ভৌতিক সিনেমার মতো এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাস্থল চৌসা’র মহাদেব ঘাটে। সেখানে তীরে দাঁড়িয়ে চৌসা জেলা কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, আমরা ৪০ থেকে ৪৫ টি লাশ ভেসে আসতে দেখেছি। তার মতে, এসব দেহ পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন, এমন লাশের সংখ্যা হতে পারে ১০০ পর্যন্ত। আরেকজন কর্মকর্তা কে কে উপাধ্যায় বলেছেন, লাশগুলো ফুলে উঠেছিল। সম্ভবত এগুলো কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ দিন আগে পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা এখন এসব মৃতদেহের সৎকারের ব্যবস্থা করছি। কোথা থেকে এই লাশগুলো এসেছে আমাদেরকে তা তদন্ত করে বের করতে হবে। আমাদেরকে বের করতে হবে উত্তর প্রদেশের বাহরাইচ অথবা বারানসি না এলাহাবাদ থেকে এসব লাশ এসেছে। তবে এ লাশগুলো এখানকার নয়।

নরেন্দ্র কুমার নামে এক গ্রামবাসী বলেছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে মানুষজন ভীতশঙ্কিত। এসব মৃতদেহ আমাদেরকে মাটিচাপা দিতে হবে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন একজন জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, এই দেহগুলো পানি থেকে তুলে সৎকার করতে তিনি ৫০০ রুপি দেবেন। কিন্তু দেহগুলো কোথাকার তা নিয়ে উত্তর প্রদেশ এবং বিহারের মধ্যে ব্লেমগেম চলছে। ওদিকে শনিবার আংশিক মারাত্মকভাবে পোড়া কিছু মৃতদেহ ভাসতে দেখা গেছে হামিরপুর শহরে যমুনা নদীতে। ভারতের বিরোধী কংগ্রেস দল অভিযোগ করেছে, করোনায় যে পরিমাণ মানুষ মারা যাচ্ছেন তার সংখ্যাকে গোপন করছে সরকার। এসব মৃতদেহ তারই প্রমাণ। উল্লেখ্য, গত তিন সপ্তাহে ভারতে রেকর্ড পরিমাণ মানুষ করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু বরণ করেছেন। গত সপ্তাহে সেখানে মারা গেছেন দিনে ৪ হাজারের ওপরে।

অন্যান্য নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা এবং লেখা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
ভায়োলেট হালদার
প্রধান সম্পাদক
[email protected]

গল্প-কবিতা সহ বিবিধ সাহিত্য রচনা প্রসঙ্গে ইমেইল করুন।
লিটন রাকিব
সাহিত্য সম্পাদক
[email protected]

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।