6.1 C
Oslo
রবিবার, মে ৯, ২০২১
প্রথম পাতাসাম্প্রতিককিভাবে নববর্ষ পেলাম!

কিভাবে নববর্ষ পেলাম!

প্রতি বছর নববর্ষ এলেই; নববর্ষ বরণ অনুষ্ঠানের বৈধবৈধতা নিয়ে যতো আলোচনা ও ফতোয়াবাজি হয়; এর উৎস, উৎপত্তি, নির্মাণ ও ক্রমবিবর্তন নিয়ে ততো আলোচনা হয় না। এখন সময় এসেছে ঐসব পুরাণ বা পৌরাণিক চরিত্রের (mythological character) মূলক উদ্ঘাটন করার। সময় এসেছে সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িক ও পারম্পরিক সমর-সংগ্রাম ও সংঘর্ষ হতে বিরত থাকার।

খ্রিস্টাব্দ নির্মাণের ইতিবৃত্ত (Christian era reformation history) প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ সূর্য দেখে সময় গণনা করতো। কিংবা বলা যায়; তারও আগে মানুষ বুঝতই না সময় কী? জানা যায়; প্রথম মিশরীয়রা সূর্য দেখে বছর গণনা করতে আরম্ভ করে। তারা এর নাম দেয় সৌরবর্ষ। অন্যদিকে; আরব বিশ্বে চাঁদ দৃশ্যাদৃশ্য হওয়া দেখে মাস ও বছরের নির্ধারণ করা হয়। একে বলা হয় চান্দ্রবর্ষ। কিন্তু সমস্যা হলো চান্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তারপর; আবার গুণতি বছরগুলোর স্মরণ রাখা একান্ত প্রয়োজন। এ প্রয়োজন হতেই সুমেরীয়রা বর্ষপঞ্জিকা আবিষ্কার করে। তারপর; গ্রিকরা বর্ষপঞ্জিকা আবিষ্কার করে। স্মরণীয় যে; মানবসভ্যতার উন্নয়নে গ্রিক ও রোমানদের অনেক অবদানের কথা সর্বজনবিধিত।

গ্রিকদের কাছ থেকে বর্ষপঞ্জিকা পেয়েছিল রোমানরা। তারা কিন্তু ১২ মাসে বছর গুণতো না। তাদের বছরে ছিল মাত্র ১০ মাস। রোমানরা বছর গুণতো ৩০৪ দিনে। তারা শীতকালকে বছরের মধ্যে গুণতো না। তারাই মার্চের ১ তারিখে নববর্ষ উৎযাপনের রীতি চালু করে। পরবর্তীকালে রোমের সম্রাট নুমা জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মারসিডানাস নামে ৩টি মাসকে ইংরেজি বর্ষপঞ্জির অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন; ১ জানুয়ারি ও ১ মার্চ এ দুইদিন ইংরেজি নববর্ষ পালন করা হতো। যতদূর জানা যায়; ১৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমানরা প্রথম ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালন করেছিল। সম্রাট জুলিয়াস সিজার মিশরীয় বর্ষপুঞ্জিকা সংস্কার করে ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে একটি নতুন বর্ষপঞ্জিকার প্রচলন ঘটান। তিনি মিশরের জ্যোতির্বিদদের সঙ্গে পরামর্শ করে; সেই বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মাঝে ৬৭ দিন ও ফেব্রুয়ারির পর ২৩ দিন যুক্ত করে নতুন পুঞ্জিকা সংস্কার করেন। এটিকে বলা হয় জুলিয়ান পঞ্জিকা

জুলিয়ান পঞ্জিকায় ফেব্রুয়ারি মাসকে ২৮ দিন ধরে; মার্চ, মে, অক্টোবর ও কুইন্টিলিস মাস ৩১ দিনে এবং জানুয়ারি ও সেক্সটিনিস মাসের সঙ্গে ২ দিন করে গণনা করা হয়। প্রতি ৪ বছর পর পর ফেব্রুয়ারি মাসের সঙ্গে ১দিন যুক্ত করা হয়। এভাবেই সৃষ্টি হয় লিপইয়ার। রোমানদের আগের বর্ষপঞ্জিকা ছিল চন্দ্রবর্ষের। সম্রাট জুলিয়াস সৌরবর্ষ পুঞ্জিকা প্রবর্তণ করেন। দেবতা জানুসের নামানুসারে; রোমানদের ফটক বা ঘরের দুয়ারে জানুয়ারি মাসের নাম লেখে রাখা হতো। তাই; সম্রাট জুলিয়ান জানুয়ারিকে বছরে ফটক বা প্রথম মাস রূপে গ্রহণ করেন। তার সময় হতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন আরম্ভ হয়। পরে জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে; প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জুলাই। আরেকজন বিখ্যাত রোমান সম্রাট অগাস্টিনের নামানুসারে; সেক্সটিনিস মাসের নাম হয় অগাস্ট।

আরো জানা যায়; মধ্যযুগে ইউরোপের খ্রিস্টানরা ২৫ মার্চ নববর্ষ উদযাপন করতে আরম্ভ করে। এর কারণ রূপে তারা বর্ণনা যে; ২৫ মার্চ যিশুখ্রিস্টের মা মেরী তার দৈবদূত গ্যাব্রিয়েলের (Gabriel) কাছ থেকে তার কুমারী অবস্থায় গর্ভবতী হওয়ার শুভ সংবাদ লাভ করেন। এ সময় এ মতবাদের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়ভাবে সামান্য সামান্য নববর্ষ পালিত হতো। এরপর; ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রি অব্দ গণনা করার জন্য খ্রিস্টাব্দকে একটি নির্দিষ্ট গণনায় স্থাপন করার কাজ আরম্ভ করে। তিনি কল্পিত উৎস রূপে (mythological source) গ্রহণ করেন যিশুখ্রিস্ট (mythological character of Bible) এর জন্ম দিবসকে। অবশেষে; বাইবেলের বিভিন্ন উৎস অনুসন্ধান করে; তাঁর গবেষণার সময় হতে ৫৩২ বছর পূর্বে গিয়ে যিশুখ্রিস্টের জন্ম দিবস স্থাপন করেন। অর্থাৎ; জন্মলগ্নেই খ্রিস্টাব্দের বয়স হলো ৫৩২ বছর।

১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিদদের পরামর্শ নিয়ে জুলিয়ান পুঞ্জিকা আবার সংশোধন করেন। ঐ বছরেই অর্থাৎ ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে গ্রেগোরিয়ান পুঞ্জিকায় ১ জানুয়ারিকে আবার নতুন বছরের প্রথম দিন নির্ধারণ করা হয়। সাথে সাথে লিপইয়ারের সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা হয়। পোপ গ্রেগরি ঘোষণা করেন যে; যেসব শতাব্দি ৪০০ দ্বারা বিভক্ত হবে; সেসব অব্দ অবশ্যই লিপইয়ার রূপে গণ্য হবে। এভাবেই; নির্মিত হয় গ্রেগরিয়ান পুঞ্জিকা। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের বর্তমান রূপটিই হচ্ছে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সংস্কার। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিদদের পরামর্শ নিয়ে জুলিয়ান পুঞ্জিকা আবার সংশোধন করেন। ঐ বছরেই অর্থাৎ ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে গ্রেগোরিয়ান পুঞ্জিকায় ১ জানুয়ারিকে আবার নতুন বছরের প্রথম দিন নির্ধারণ করা হয়। সাথে সাথে লিপইয়ারের সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা হয়। পোপ গ্রেগরি ঘোষণা করেন যে; যেসব শতাব্দি ৪০০ দ্বারা বিভক্ত হবে; সেসব অব্দ অবশ্যই লিপইয়ার রূপে গণ্য হবে। এভাবেই; নির্মিত হয় গ্রেগরিয়ান পুঞ্জিকা। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের বর্তমান রূপটিই হচ্ছে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সংস্কার। (তথ্যসূত্রঃ সহযোগীতা নেওয়া হয়েছে; বাংলাদেশ সময়, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ)।

হিজরী নির্মাণের ইতিবৃত্ত (Hijri reformation history) হিজরী সন নির্ধারণ ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হলে আগে ইসলামী পৌরাণিক কাহিনী জানা প্রয়োজন। যেমন; ইসলামী পুরাণে বর্ণিত আছে যে; কেউ বলেন; “এদিকে আল্লাহ তাঁর হাবিবকে নির্দেশ করলেন, হে নবী! মক্কার মানুষ আপনাকে চায় না; মদিনার মানুষ আপনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন; মদিনায় আপনি হিজরত করেন। মহানবী আল্লাহর এ ঘোষণা পাওয়ার পর ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর মোতাবেক ২৭ সফর মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মোতাবেক ৮ রবিউল আওয়াল কোবায় পৌঁছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মোতাবেক ১২ রবিউল আওয়াল মদিনায় পৌঁছেন মহানবী। এ হিজরতেরই স্মৃতি বহন করে আসছে হিজরী সন। হিজরী গণনা বিক্ষিপ্তভাবে আরম্ভ হয় মূলতঃ মহানবীর জামানা থেকেই। তবে; ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমরের (৫৭৭-৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ) (৬৩৪-৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ খেলাফত) শাসনকালে ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় এর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ইত্যাদি।

হযরত মোহাম্মদের (সাঃ) জন্মের ৫০ দিন আগে আবরাহার হস্তী বাহিনীর পতন ঘটে এবং এ থেকেই হস্তী সন প্রবর্তন ও প্রচলনের যাত্রা আরম্ভ হয়। প্রবর্তন ও প্রচলনের যাত্রা আরম্ভ হয়। (তথ্যসূত্রঃ দৈনিক ইছামতি, বুধবার # ০৫ আগস্ট ২০১৫ # ২১ শ্রাবণ ১৪২২ # ১৯ শাওয়াল ১৪৩৬ # বর্ষঃ ২৫ # সংখ্যাঃ ০৩০)।

হিজরী সনের প্রবর্তন ও প্রচলনের আগে মহানবীর জন্মকাল থেকে জন্মবর্ষ, জন্মসন, নবুওয়াতে পরবর্তীকাল থেকে নবুওয়াত বর্ষ ইত্যাদি গণনার রেওয়াজ ছিল প্রাক ইসলামী যুগে। ব্যাপক ভিত্তিক কোন সাল বা সন ছিল না। — (তথ্যসূত্রঃ ঐ)। হিজরী নির্ধারণের আগে মুসলমানেরা বিশেষ বিশেষ ঘটনার ভিত্তিতে বছরগুলোর নামকরণ করতো। যথা; অনুমতির বছর, ভূমিকম্পের বছর, বিদায় বছর প্রভৃতি। প্রভৃতি। (তথ্যসূত্রঃ দৈনিক খবরপত্র, ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০১৫, ২১ শ্রাবণ ১৪২২, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৬)।

এসব হলো সাম্প্রদায়িক মুসলমান মনীষীদের সাম্প্রদায়িক প্রভাব ও অন্ধবিশ্বাসযুক্ত অভিমত। তাই; সত্যে উপানীত হওয়ার জন্য কোনমতেই পৌরাণিক কাহিনী গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত বিষয় পৌরাণিক কাহিনীর সম্পূর্ণ বিপরীত। যেমন; বাইবেলে বর্ণিত পৌরাণিক চরিত্র যিশুর জন্মদিবস হতে ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াস খ্রিস্টাব্দ গণনা আবিষ্কার করেছেন। আর খ্রিস্টাব্দের জন্মলগ্নেই তার বয়স দিয়েছেন ৫৩২ বছর। অন্যদিকে; মোঘল সম্রাট আকবরের আদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজি হিজরীর মাথার ওপর পা রেখে ফসলী (বঙ্গাব্দ) গণনা আবিষ্কার করেছেন। আর ফসলীর জন্মলগ্নেই তার বয়স দিয়েছেন খ্রিস্টাব্দের গণনায় ১,৫৪৪ বছর ও হিজরীর গণনায় ৯২২ বছর। তাই; হিজরী গণনা পদ্ধতি আবিষ্কার করা বা হওয়ারও এমন ঘটনা থাকাও অসম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িক মুসলমান মনীষীদের অধিকাংশের বর্ণনা মতেও হিজরীর জন্মলগ্নেই ১৬ হতে ১৭ বছর বয়স যে দেওয়া হয়েছে তা সর্বজন স্বীকৃত।

বঙ্গাব্দ নির্মাণের ইতিবৃত্ত (Bepoch reformation history) (বঙ্গ = Bengal, অব্দ = epoch; সন্ধিযোগে বঙ্গাব্দ, Bengal+ epoch; অতএব বঙ্গাব্দ = Bepoch)

বঙ্গাব্দ নির্মাণ ও সূচনার ক্ষেত্রে এ যাবৎ ২টি মত জানা যায়।

প্রথমটি হলো; ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে মোঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর; সম্রাটগণ হিজরী সন অনুসারে কৃষি পণ্যের কর গ্রহণ করতে আরম্ভ করেন। কিন্তু হিজরী সন চন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হওয়াই তা শস্যাদি উৎপাদনের সময়ের সাথে মিলতো না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে কর পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হতো। কর গ্রহণের সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মোঘল সম্রাট আকবর (১,৫৪৩-১,৬০৫ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা ফসলী অব্দ প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে (খ্রিস্টাব্দ ও হিজরী) সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতো তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজী (পুরা নাম আমির ফতেহউল্লাহ খান সিরাজী) খ্রিস্টাব্দ ও হিজরী সনের ওপর ভিত্তি করে বঙ্গাব্দ গণনার নতুন নিয়ম নির্মাণ করেন। প্রায় চারশ বছর আগে হিজরী সনের সঙ্গে মিল রেখে ফসলী অব্দ রূপে বঙ্গাব্দের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন।

তিনি অবশ্য খ্রিস্টাব্দের চেয়ে হিজরীকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। এর কারণ ছিল; যেভাবে খ্রিস্টাব্দের কাঁধের ওপর পা দিয়ে; হিজরী নির্মাণ করা হয়েছে; সেভাবে এবার হিজরীর মাথার ওপর পা দিয়ে; বঙ্গাব্দ নির্মাণ করতে হবে। স্মরণীয় যে; ৬২২ খ্রিস্টাব্দের কাঁধের ওপর ১ হিজরী স্থাপন করে নির্মাণ করা হয়েছিল হিজরী সন। যা পূর্বেই আলোচনা করা হয়েচে। এবার একদিকে গণনার সুবিধা ও অন্যদিকে অব্দান্তর সুবিধার দিকটি বিবেচনা করে ফতেউল্লাহ ও অন্যান্য গবেষকগণ ৯২২ হিজরীকে ১ ফসলী গণনা করার পরামর্শ দেন। সাথে সাথে অব্দাদি পরিবর্তনের নিচের সূত্রাদিও উপস্থাপন করেন। যদিও নিচের সূত্রাদি অবিকল না-ও হতে পারে। তখন; তাদের কাছে হয়তো অন্যান্য সূত্র ছিল। তবে; নিচের অব্দান্তর সূত্রাদি আধুনিক।

হিজরী থেকে ফসলী (Bepoch from Hijri) ফসলী = হিজরী – (হিজরী – ৯২২) ———————————————————— ৩৬ অথবা ফসলী = {হিজরী – (হিজরী – ৯২২)} ÷ ৩৬

ফসলী থেকে হিজরী (Hijri from Bepoch) হিজরী = ফসলী + (ফসলী – ৯২২) ———————————————————– ৩২ অথবা হিজরী = {ফসলী + (ফসলী – ৯২২)} ÷ ৩২

হিজরী থেকে খ্রিস্টাব্দ (Christian era from Hijri) খ্রিস্টাব্দ = (হিজরী × ৩২) + ৬২২ ——————————————————— ৩৩ অথবা খ্রিস্টাব্দ = {(হিজরী × ৩২) + ৬২২} ÷ ৩৩

খ্রিস্টাব্দ থেকে হিজরী (Hijri from Christian era) হিজরী = (খ্রিস্টাব্দ – ৬২২) × ৩৩ ———————————————————- ৩২ অথবা হিজরী = {(খ্রিস্টাব্দ – ৬২২) × ৩৩} ÷ ৩২}

অবশেষে; সম্রাট আকবর ১৫৪৪ খ্রিস্টব্দের কাঁধের ওপর ও ৯২২ হিজরীর মাথার ওপর ১ ফসলী স্থাপন করতে আদেশ দেন। এ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ মার্চ থেকে বঙ্গাব্দ গণনা আরম্ভ করা হয়। তবে; এ গণনা পদ্ধতি কার্যকর করার সময় নির্ধারণ করা হয় মোঘল সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ) থেকে। প্রথমে এ নির্ধারণীর নাম ছিল ফসলী। পরে একে বঙ্গাব্দ বা বাংলাবর্ষ নামে অভিহিত করা হয়। উল্লেখ্য; ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৯৬২ হিজরীতে গবেষণা, সিদ্ধান্ত, সমাধান ও আদেশ প্রদান করা হলেও এর মূলভিত্তি ধরা হয় ১৫৪৪ খ্রিস্টাব্দ ও ৯২২ হিজরীকে।

মোঘলদের তৃতীয় সম্রাট আকবর নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। তবে; তাঁর পুরা নাম ছিল জালালউদ্দিন মুহম্মদ আকবর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করে; মোঘল সাম্রাজ্যের অনেক উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সবার নজরে আসেন। অসাম্প্রদায়িক বাঙালী আজকের যে বাংলা নববর্ষ পালন করছে, সেটিও বলা যায় তারই চেষ্টার ফল।

মোঘল সম্রাট আকবর প্রাচীন ভারতীয় ও বিদেশী সালের পাশাপাশি কয়েকটি নতুন সালের প্রচলন করেন। বঙ্গদেশের জন্য বাংলা, উড়িষ্যার জন্য আমলি, মহারাষ্ট্রের জন্য খুরাশান এবং রাজ্য সাল রূপে ইলাহি সাল। চন্দ্র সালে চন্দ্রের অস্থিরতার কারণে সম্রাটের কর্মচারীরা প্রতি বছর নির্দিষ্ট ঋতুর খাজনা আদায়ে বেশ সমস্যায় পড়ে যেতো। সম্রাট আকবর এ সমস্যার কথা ভেবে; অব্দ প্রবর্তণের জন্য, নতুন একটি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর দায়িত্ব পড়ে সম্রাটের রাজস্ব কর্মকর্তা আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজীর ওপর। সিরাজী হিজরী চান্দ্র মাসের সঙ্গে, সম্রাটের সিংহাসনে আরোহণের বছর এবং ভারতীয় সৌরবর্ষের সমন্বয়ে বাংলা ফসলীর প্রবর্তণ করেন।

আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী কর্তৃক বাংলা ফসলী প্রবর্তণের আগে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অব্দ প্রবর্তিত ছিল। ওই সালগুলোর মধ্যে বিক্রম সম্বৎ, শকাব্দ, পালাব্দ এবং লক্ষণ সম্বাৎ ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে হিজরী সাল ব্যবহৃত হলেও; প্রশাসনের বাইরে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অব্দগুলো ব্যবহৃত হতো। এ অব্দগুলো সৌর বছরের মাধ্যমে প্রচলিত থাকলেও সৌর মাসের প্রচলন ছিল না। ফলে; সম্রাটের আদেশে ফতেহউল্লাহ সিরাজী তার উদ্ভাবিত বাংলা ফসলীতে সৌর মাস প্রবর্তণ করেন। সিরাজী তার উদ্ভাবিত বাংলা ফসলীতে মাসের নামগুলো রেখেছিলেন শকাব্দ মাসের নাম থেকে প্রায় অভিন্ন করে। যেমন; বাংলা বৈশাখ, শকাব্দ বৈশাখ, ব্যুৎপত্তি বিশাখা নক্ষত্র। এরূপ; জ্যৈষ্ঠ, জেষ্ঠ, জেঠা নক্ষত্র ইত্যাদি।

শকাব্দ বাংলাদেশের একটি প্রাচীন নাম। আনুমানিক ৭৮ খ্রিস্টাব্দে শালিপহন নামক একজন রাজার স্মৃতিকে সামনে রেখে শকাব্দের প্রচলন করা হয়। অনেকের মতে; শকাব্দ রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজত্বকালের ১৩৫ বছর পর থেকে আরম্ভ।

বাংলা ফসলী ও ইলাহি সাল; হিজরী সালকে ভিত্তি করে একই বছরে নির্মাণ করা হলেও; এগুলোর গণনা একই দিন থেকে আরম্ভ করা হয় নি। ইলাহি সালের যাত্রা হয় ৯৬৩ হিজরীর ২৮ রবিউস সানি। সে মোতাবেক ইংরেজি ১৫৫৬ সালের ১০ বা ১১ মার্চ। আর সম্রাট আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ৯৬৩ হিজরী থেকে বাংলা ফসলীর কার্যক্রম আরম্ভ হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করে ৯৯২ হিজরীতে।

আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী ৯৬৩ হিজরী সালকে বাংলা ফসলীর ৯৬৩ বছর ধরে সেখান থেকেই পরবর্তী বছরের গণনার রীতি নির্ধারণ করেন। যদিও বাংলা ফসলী ও হিজরী সালের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এর কারণ সিরাজী ৯৬৪ হিজরী থেকে বাংলা সালে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিলেন। হিজরী সাল তার গতিপথে পরিচালিত হলেও বাংলা সালের যাত্রা আরম্ভ হয়েছে সৌর পদ্ধতিতে। যাুরফলে; বাংলা সাল ১০/১১ দিন পিছিয়ে গিয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত ১৪ বছর পিছিয়ে গেছে। যেমন; আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজীর অসাধারণ প্রজ্ঞায় বাংলা সাল একটি ইসলামী ঐতিহ্যের ধারক, তেমনই; লোকজীবনের সাংস্কৃতিক ধারারও অন্যতম বাহক আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী ৯৬৩ হিজরী সালকে বাংলা ফসলীর ৯৬৩ বছর ধরে সেখান থেকেই পরবর্তী বছরের গণনার রীতি নির্ধারণ করেন। যদিও বাংলা ফসলী ও হিজরী সালের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এর কারণ সিরাজী ৯৬৪ হিজরী থেকে বাংলা সালে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিলেন। হিজরী সাল তার গতিপথে পরিচালিত হলেও বাংলা সালের যাত্রা আরম্ভ হয়েছে সৌর পদ্ধতিতে। যাুরফলে; বাংলা সাল ১০/১১ দিন পিছিয়ে গিয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত ১৪ বছর পিছিয়ে গেছে। যেমন; আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজীর অসাধারণ প্রজ্ঞায় বাংলা সাল একটি ইসলামী ঐতিহ্যের ধারক, তেমনই; লোকজীবনের সাংস্কৃতিক ধারারও অন্যতম বাহক (তথ্যসূত্রঃহারুনুর রশিদ শাহীনের ব্লগ)।

দ্বিতীয়টি হলো; প্রাচীন বঙ্গদেশের গৌড় রাজা শশাঙ্ক (রাজত্বকাল আনুমানিক ৫৯০-৬২৫ খ্রিস্টাব্দ) বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। সপ্তম শতাব্দির প্রারম্ভে শশাঙ্ক বঙ্গদেশের রাজচক্রবর্তী রাজা ছিলেন। আধুনিক ভারতের বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার অধিকাংশ অঞ্চল তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনুমান করা হয় যে; জুলিয়ান ক্যালেণ্ডারের সোমবার ১২ এপ্রিল ৫৯৪ এবং গ্রেগরিয়ান ক্যালেণ্ডারের সোমবার ১৪ এপ্রিল ৫৯৪ বঙ্গাব্দের সূচনা হয়েছিল। প্রাচীন বঙ্গদেশের গৌড় রাজা শশাঙ্ক (রাজত্বকাল আনুমানিক ৫৯০-৬২৫ খ্রিস্টাব্দ) বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। সপ্তম শতাব্দির প্রারম্ভে শশাঙ্ক বঙ্গদেশের রাজচক্রবর্তী রাজা ছিলেন। আধুনিক ভারতের বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার অধিকাংশ অঞ্চল তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনুমান করা হয় যে; জুলিয়ান ক্যালেণ্ডারের সোমবার ১২ এপ্রিল ৫৯৪ এবং গ্রেগরিয়ান ক্যালেণ্ডারের সোমবার ১৪ এপ্রিল ৫৯৪ বঙ্গাব্দের সূচনা হয়েছিল। (তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট, কোরাম)।

বঙ্গাব্দের সঙ্গে হিজরী সনের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। ৯৬২ হিজরীতে (কারো কারো মতে; ৯৬৩) ফসলী জন্মলাভ করে। জন্মলগ্নেই বাংলা ফসলীর বয়স হয় খ্রিস্টাব্দ অনুযায়ী ১৫৪৪ বছর এবং হিজরী অনুযায়ী ৯৬২ বছর। তাই; অনেক গবেষক হিজরীকে বাংলা ফসলীর ভিত্তি বলে উল্লেখ করে থাকেন। যেহেতু; চান্দ্রবর্ষ ও সৌরবর্ষের মধ্যে ১১ দিনের পার্থক্য রয়েছে; এজন্য; পরবর্তীকালে হিজরী এবং ফসলীর মধ্যে সমতা রাখা সম্ভব হয় নি। কারণ; আবিষ্কারের দিক থেকে হিজরী চান্দ্রবর্ষ ভিত্তিক এবং ফসলী সৌরবর্ষ ভিত্তিক। চান্দ্রমাস হয় ২৯ দিন ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে। এজন্য; এক চান্দ্রবর্ষ হয় ৩৫৪ দিন ৯ ঘণ্টায়। অন্যদিকে; সৌরবর্ষ হয় ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে। প্রত্যেক সৌরবর্ষ চান্দ্রবর্ষ থেকে ১১ দিন অধিক। যারফলে; প্রতি সাড়ে ৩২ বছর পর এক চান্দ্রবর্ষ বৃদ্ধি পায়। এ পর্যন্ত হিজরী (চান্দ্রবর্ষ) ফসলী (সৌরবর্ষ) থেকে ১৩-১৪ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে; সমতা-অসমতার মাঝে চলে আসছিল দীর্ঘ সময়। গণনার সমস্যার তরী বেয়ে চলে আসা বাংলা অব্দের সংস্কার করার সাহস করে নি কেউ।

গত ১৯৬৩ খ্রিস্টব্দে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গাব্দ সংস্কার আন্দোলনে একটি পরিষদ গঠন করা হয়। গবেষণা পরিষদ ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। বর্তমানে প্রচলিত বঙ্গাব্দ ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে কার্যকরী হয়। হিজরী থেকে বঙ্গাব্দের আবিষ্কার এবং অনেক পরে এসে বঙ্গাব্দকে পূর্ণতা প্রদানের সর্বক্ষেত্রেই মুসলমানদের অবদান ছিল সর্বাধিক; ইতিহাস সে কথাই বলে। বাঙালীজাতি রূপে আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে; আমাদের নিজস্ব বর্ষপঞ্জি আছে। নিজেদের বাংলা অব্দ আছে এবং বছরের প্রথমে বর্ষবরণের আয়োজন ও আনন্দ-উৎসব আছে। অব্দ গণনা করেই এদেশের মানুষ শস্য রোপণ করে; ঘরে নতুন শস্য তোলে; হালখাতা করে এবং ব্যবসায় নতুন অংক কষে। এতে প্রতীয়মান হয় যে; বঙ্গাব্দ মুসলিম সংস্কৃতিরই একটি অঙ্গ। সুতরাং; ১ বৈশাখ উদযাপনও মুসলিম সংস্কৃতি অনুযায়ী হওয়াই বাঞ্ছনীয় গত ১৯৬৩ খ্রিস্টব্দে বাংলা একাডেমির উদ্যোগে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গাব্দ সংস্কার আন্দোলনে একটি পরিষদ গঠন করা হয়। গবেষণা পরিষদ ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। বর্তমানে প্রচলিত বঙ্গাব্দ ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে কার্যকরী হয়। হিজরী থেকে বঙ্গাব্দের আবিষ্কার এবং অনেক পরে এসে বঙ্গাব্দকে পূর্ণতা প্রদানের সর্বক্ষেত্রেই মুসলমানদের অবদান ছিল সর্বাধিক; ইতিহাস সে কথাই বলে। বাঙালীজাতি রূপে আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে; আমাদের নিজস্ব বর্ষপঞ্জি আছে। নিজেদের বাংলা অব্দ আছে এবং বছরের প্রথমে বর্ষবরণের আয়োজন ও আনন্দ-উৎসব আছে। অব্দ গণনা করেই এদেশের মানুষ শস্য রোপণ করে; ঘরে নতুন শস্য তোলে; হালখাতা করে এবং ব্যবসায় নতুন অংক কষে। এতে প্রতীয়মান হয় যে; বঙ্গাব্দ মুসলিম সংস্কৃতিরই একটি অঙ্গ। সুতরাং; ১ বৈশাখ উদযাপনও মুসলিম সংস্কৃতি অনুযায়ী হওয়াই বাঞ্ছনীয় (তথ্যসূত্রঃ আলোকিত বাংলাদেশ, ১৩ এপ্রিল, ২,০১৪ খ্রিস্টাব্দ)।

সারকথা হলো; বাইবেলে বর্ণিত গ্রিক পৌরাণিক চরিত্র যিশুখ্রিস্টের কাল্পনিক জন্মদিন আবিষ্কার করেছেন ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াস। তাও সেটি করেছেন তাঁর সময়কাল থেকে ৫৩২ বছর পূর্বে। এর ওপর ভিত্তি করে পারসিকরা নির্মাণ করেছে; সারা মধ্যপ্রাচ্যে প্রচলিত চাঁদের ফাঁদে পতিত গোলকধাঁধাময় হিজরী। হিজরী নির্মাণ চাতুরীতে বলা হয়েছে; ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদের জন্ম। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর স্থানান্তর। অতঃপর; ৬৪০ খ্রিস্টাব্দ হতে হিজরী সন গণনা আরম্ভ। (৫৭০-৫৩২ = ৩৮) মাত্র ৩৮ বছরে ঐ সময়ে কোন তথ্য সুদূর ইউরোপ হতে এশিয়ায় আসা যুক্তিযুক্ত নয়।

আবার কিছু কিছু গবেষকের মতে; ৬৩৮ বা ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দ হতে হিজরা সন গণনা আরম্ভ হয়েছিল। এছাড়াও; সাম্প্রদায়িক মুসলমান মনীষীদের অধিকাংশের বর্ণনা মতেও হিজরীর জন্মলগ্নেই ১৬ হতে ১৭ বছর বয়স যে দেওয়া হয়েছে তাও সর্বজন স্বীকৃত।

অন্যদিকে; জন্মলগ্নেই খ্রিস্টাব্দের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৩২ বছর। অনুরূপভাবে; জন্মলগ্নেই বাংলা ফসলীর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছিল খ্রিস্টাব্দ অনুযায়ী ১৫৪৪ বছর এবং হিজরী অনুযায়ী ৯৬২ বছর।

অধিকাংশ গবেষকের ধারণা হলো; হিজরী সন নির্মাণ করা হয়েছিল ৯০০ হতে ৯০২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। তবে; এখনও এর সঠিক তথ্য প্রকাশিত হয় নি। অর্থাৎ; জন্মলগ্নেই হিজরীর বয়স দেওয়া হয়েছিল ২৮০ বছর। আর এখান থেকেই নির্মাণ করা হয়েছে ইসলামী পৌরাণিক চরিত্র মুহাম্মদের হিজরত (৬২২ খ্রিস্টাব্দ), নবুয়তলাভ (৬১০ খ্রিস্টাব্দ) এবং জন্ম (৫৭০ খ্রিস্টাব্দ)। এখান থেকেই নির্মাণ করা হয়েছে সব যুদ্ধের সন। এমনকি; এখান থেকেই নির্মাণ করা হয়েছে ইসলামী বিশ্বের সব সন। এসব কাজ করেছেন জারির তাবারী (২২৪ –৩১০ হিজরী; ৮৩৯ –৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ)। অর্থাৎ; ইসলামী পুরাণ থেকে নির্মিত হয়েছে ও হচ্ছে ইসলামী ইতিহাস। আর ইসলামিক মিথোলোজি হতে ইসলামিক হিস্ট্রি।

পরিশেষে বলতে হয়। মিথের ওপর মিথের জন্ম। কল্পনার ওপর কল্পনার জন্ম। বিশ্বের সবাই ইচ্ছায় অনিচ্ছায় করে মান্য। এসব গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদযাপন করাকে অনেক মানুষ পুণ্যও মনে করে। আর সাম্প্রদায়িকরা তো রীতিমতো মারামারিও করে। কেউ পালন করে তাদের দেবতার জন্মদিন মনে করে। কেউ পালন করে তাদের অবতারের জন্মদিন মনে করে। আর কেউ পালন করে তাদের ঐশিদূতের জন্মদিন মনে করে। কিন্তু কিভাবে ঐসব দিন নির্মাণ করা হয়েছে; বেচারারা জানেও না। যেমন; ঠাক-পুরুৎরাও জানে না; তেমনই মোল্লা-মুন্সিরাও জানে না। যারফলে; তাদের অনুসারীরাও জানে না।

বাংলা নববর্ষ আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক। মঙ্গলময় হোক নতুন বছর।

শুভ নববর্ষ।

সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ

সংবাদদাতা আবশ্যক

নরওয়ে থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সাময়িকী ডট কম’ পত্রিকার জন্য বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে সংবাদদাতা আবশ্যক।
আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন।
আমাদের ইমেইল ঠিকানা editor@samoyiki.com

- বিজ্ঞাপন -

সর্বাধিক পঠিত

সদ্য প্রকাশিত

.

সাম্প্রতিক মন্তব্য

লেখা কপি করার অনুমতি নেই, লিংক শেয়ার করুন।