নিজস্ব প্রতিবেদক 
সাময়িকী.কম

প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে প্রশাসন তৎপর


ঢাকা :  অপরাধ দমনে ‘কঠোর অবস্থানে’ সরকার। খুন-গুম-অপহরণ, চাদাবাজি, মাদক ব্যবসা মোকাবেলায় হার্ডলাইনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যে কোন ধরনের অপরাধ ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়ে কঠোরহস্তে দমনে সরকারের ‘চরমবার্তা’ পৌঁছে গেছে মাঠ প্রশাসনে। 

‘মন্ত্রী-নেতা-এমপি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেই-ই হোক, অপরাধসংশ্লিষ্ট কাউকেই আর ছাড় নয়’- খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন কঠোর বার্তায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের কথা ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারীদের দমনে সরকারের এমন কঠোর হুঁশিয়ারিতে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

‘অপরাধী যেই হোক কোন ছাড় নয়’- খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন হুঁশিয়ারির পর অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি এ সব অপরাধসংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিজ দলের কোন মন্ত্রী-নেতাও জড়িত থাকলে, তাঁকেও কোন ধরনের ছাড় না দেয়ার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রধান প্রতিপক্ষ ও সুযোগসন্ধানীদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সরকারকে। সার্বিক অবস্থায় চাপে থাকা সরকার নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারেই ‘খ—গহস্ত’ নিয়েই অপরাধ দমনে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা আর ভাবমূর্তির সঙ্কটে যাতে পড়তে না হয় সে জন্য ‘শক্ত হাতে’ সবকিছু মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা, তার পর দলের নেতা, আত্মীয় বা অন্যকিছু বিবেচনা- এমন দৃঢ় অবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেন, অপরাধ কমকান্ডের জন্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নিয়ে অপরাধীদের দমন করবে। কারণ এসব ঘটনার সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি জড়িত। 

সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতেই হবে। কোনরকম আত্মীয়তার দিকে তাকানো হবে না। দলের কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক হলেও ছাড় পাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ অপরাধের সাথে জড়িত থাকলে এবং অপরাধীদের সহযোগিতা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সোজাসাপ্টা বলেন, কারও জামাতা হোক, ছেলে হোক, ভাতিজা হোক- দোষী হলে কাউকেই কোন ছাড় দেয়া হবে না। কোন দিকে তাকানো হবে না। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধুই সরকারই নয়, দলীয়ভাবেও কড়া এ্যাকশনে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলীয় কোন্দলের সুযোগ নিয়ে তৃতীয়পক্ষ সুযোগ নিয়ে আগামীতে যাতে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে না পারে সে জন্য কোন্দল-দ্বন্দ্বের সঙ্গে জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে দলটি। সারাদেশেই যেখানে নেতারা কোন্দল-দ্বন্দ্ব বাঁধিয়ে দলের ক্ষতি করছে, ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে অপরাধসংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িত- তাদের একটি তালিকা তৈরি করারও নির্দেশ দেয়া হচ্ছে হাইকমান্ড থেকে। এ ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে। 


সরকারের হার্ডলাইনে অবস্থান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সারাদেশেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে সরকারের ভেতরে। তাঁদের মতে, এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই আর ছাড় নয়, বরং কঠোরহস্তে দমনের কৌশল নিয়েছে সরকার। 
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.