সাময়িকী.কম
গোল পাননি তিনি। তবে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় যে লিওনেল মেসিই।

তিনটি-তিনটি গোল সতীর্থদের দিয়ে করালেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তার সতীর্থরা মেতে উঠলেন গোল-উৎসবে। আর তাতে গোল বন্যায় ভেসে গেল প্যারাগুয়ে। গ্রুপ পর্বে যে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও ড্র করেছিল, সেই প্যারাগুয়েকে সেমিফাইনালে উড়িয়ে দিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়টি ৬-১ গোলের। দলের পক্ষে জোড়া গোল করেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। একটি করে গোল করেন মার্কস রোহো, হাভিয়ের পাস্তোরে, সার্জিও আগুয়েরো ও গঞ্জালো হিগুয়েন।প্যারাগুয়ের একমাত্র গোলটি করেন লুকাস বারিয়াস।

আগামী ৪ জুলাই কোপার শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে স্বাগতিক চিলির বিপক্ষে খেলবে ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর ফাইনালে জিতলেই কোপায় উরুগুয়ের সমান সর্বোচ্চ ১৫ বার শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়বে আলবিসেলেস্তেরা। সেই সঙ্গে ২৩ বছরের শিরোপা খরাও কাটাবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সেমিফাইনালে ম্যাচের ১১ মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। ডানদিক থেকে বক্সের ভেতর পাস্তোরেকে বল দিয়েছিলেন হাভিয়ের মাশচেরানো। কিন্তু পাস্তোরের দুর্বল শট সহজেই ধরে ফেলেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক। তবে গোলের দেখা পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি আর্জেন্টিনার। ১৫ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান মার্কস রোহো। দারুণ শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেদের এই ডিফেন্ডার।

২১ মিনিটে লিড দ্বিগুণ হতে পারতো আর্জেন্টিনার। মাঝ মাঠে বল পেয়ে টেনে নিয়ে যান মেসি। প্যারাগুয়ের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সের ভেতর পাস্তোরেকে পাস দেন দলীয় অধিনায়ক। কিন্তু গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি পাস্তোরে। তার শট ধরে ফেলেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক।অবশ্য ২৭ মিনিটে ওই পাস্তোরেই আর্জেন্টিনারলিড দ্বিগুণ করেন। এই গোলেও অবদান ফুটবলের খুদে জাদুকরমেসির। বক্সের সামনে পাস্তোরেকে পাস দেন মেসি। একটু এগিয়ে নিয়ে গিয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন পাস্তোরে।

৩০ মিনিটে বক্সের সামনে ডি মারিয়াকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লুকাস বারিও। এবার মেসির নেওয়া ফ্রি-কিক পোষ্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৩৯ মিনিটে মেসির আরেকটি ফ্রি-কিক পোষ্টের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।

৪৩ মিনিটে একটি গোল শোধ করেন প্যারাগুয়ের লুকাস বারিয়স। বক্সের সামনে বল পেয়ে জোরালো শটে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোকে পরাস্ত করেন তিনি। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হলে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধের তো গোল উৎসবে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৪৭ মিনিটে দলকে ৩-১ গোলে এগিয়ে দেন ডি মারিয়া। আর গোলের যোগানদাতা দলের দ্বিতীয় গোল করা পাস্তোরে। বক্সের বাঁ দিকে ডি মারিয়াকে দারুণ এক পাস দেন তিনি। জোরালো শটে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ডি মারিয়া।

ছয় মিনিট যেতে না-যেতেই নিজের জোড়া গোলে স্কোরলাইন ৪-১ করেন ডি মারিয়া। তবে এই গোলে ডি মারিয়ার চেয়ে বেশি অবদান মেসির। মাঝ মাঠের কাছে বল নিয়ে প্যারাগুয়ের তিন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে পাস্তোরেকে পাস দেন মেসি। পাস্তোরে আবার বল বাড়ান ডি মারিয়াকে। ফাঁকা পোস্টে ডি মারিয়ার শট জাল খুঁজে নেয়।

৬৯ মিনিটে একটি গোল পেতে পারতেন মেসি। বক্সের ভেতর মেসিকে পাস দেন পাস্তোরে। শট নিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেসির শট ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক।এরপর ৮০ মিনিটে আগুয়েরোর গোলে ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। হেডে গোলটি করেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আগুয়েরো।

তিন মিনিট পরেই স্কোরলাইন ৬-১ করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা গঞ্জালো হিগুয়েন। বক্সের ভেতর শুয়ে পড়ে বল বাড়ান মেসি। বল জালে জড়াতে একটুও ভুল করেননি হিগুয়েন। ফলে শেষ পর্যন্ত ৬-১ গোলের বিশাল জয় নিয়েই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে জেরার্ডো মার্টিনোর দল।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.