সাময়িকী.কম

ভারতের দেয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান করে বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশের তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং তোপে ৪৫ ওভারে ২০০ রানে অলআউট হয় ধোনির ভারত। অবশেষে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয় করলো বাংলাদেশ। 
রোববার (২১ জুন) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৯ ওভার হাতে রেখেই ৬ উইকেটে বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। তিনটি ওয়ানডে ম্যাচের ২টিতে ভারতকে হারিয়ে সিরিজ জয় করলো বাংলাদেশ। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা করে নিল টাইগাররা।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র সাকিব আল হাসান অর্ধশত রান করে। আর ৬ উইকেট সংগ্রহ করে ম্যান অভ দা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।
ধবল কুলকার্নির বলে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন তামিম ইকবাল(১৩)। ১৭তম ওভারে রবিচন্দন আশ্বিনের বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়ে আউট হন সৌম্য সরকার(৩৪)। তিন ওভার পরেই অক্ষর প্যাটেলের বলে ধোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লিটন (৩৬)।
বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাকিব এবং মুশফিকের ব্যাটে সহজেই সামলে নেয় টাইগাররা। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫৪ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। দলীয় ১৫২ রানে রানআউট হয়ে ফিরে যান বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। এরপর সাব্বিরকে সাথে নিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ৬২ বলে ৫১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। আর সাব্বির করেন ২২ রান।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে চমক দেখান মোস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজের বোলিং তোপে পড়ে ধোনির ভারত ২২৮ রানে গুটিয়ে যায়। প্রথম ওয়ানডেতে ৭৯ রানে বাংলাদেশ জয় পায়।
এদিকে টানা পঞ্চম এই জয়ে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা নিশ্চিত হয়েছে টাইগারদের।

রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ ওভারে ২০০ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। ভারত ইনিংসের ৪৪তম ওভারে বৃষ্টি নামলে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। আবার খেলা শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৭ ওভারে। আর ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৯ রান।

মিরপুরে রোহিত শর্মাকে শূন্য রানে আউট করে উইকেট শিকারের মিশনে নামে ১৯ বছর বয়সী পেসার মুস্তাফিজ। প্রথম স্পেলে ওই একটি উইকেটই লাভ করেন তিনি। তবে দ্বিতীয় স্পেলে এসেই যেন আগুন ঝরতে থাকে তার বলে। আউট করেন সেট ব্যাটসম্যান রায়নাকে। ব্যক্তিগত ৩২ রান করে উইকেট রক্ষক লিটনের হাতে ধরা পড়েন রায়না। রায়নাকে আউট করার পরের ওভারেই আগের ম্যাচে ধাক্কা দেয়া ভারতের দলপতিকে সাজঘরে ফেরান মুস্তাফিজ। ধোনি ৪৭ রান করে আউট হয়ে যান। পরের বলেই প্যাটেলকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে হ্যাটট্রিকের সম্ভবনা জাগান বাংলাদেশের সম্ভাবনাময়ী এ পেসার। তবে হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও পরের ওভারেই অশ্বিনকে সাজঘরে ফিরিয়ে টানা দুই ম্যাচে ৫ উইকেট লাভের গৌরব অর্জন করেন মুস্তাফিজ। নিজের ব্যাক্তিগত শেষ ওভারে রবিন্দ্র জাদেজাকে ১৯ রানে বোল্ড করে ৬ষ্ঠ উইকেট তুলে নেন।
এদিন রাহানের পরিবর্তে দলে জায়গা পাওয়া রাইডু কোনো রান না করেই রুবেলের বলে আউট হয়ে যান। শেষ দিকে ভুবেনেশ্বর কুমারকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় শিকার তুলে নেন রুবেল। এর আগে শেখর ধাওয়ানকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন নাসির হোসেন। বিরাট কোহলির পর বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম অর্ধশতক করা শেখর ধাওয়ানকে আউট করেন তিনি। ৫৩ রান করা ধাওয়ান উইকেট রক্ষক লিটনের হাতে ধরা পড়েন। এর আগে ধাওয়ান-কোহলির মধ্যে গড়ে ওঠা ৭৪ রানের এক বিপদজনক জুটি ভাঙেন নাসির হোসেন। বিরাট কোহলিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে পাঠান নাসির। আউট হওয়ার আগে ব্যক্তিগত ২৩ রান সংগ্রহ করেন কোহলি।  
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.