সাময়িকী.কম

শেক্সপিয়র সরণিতে একটি ফ্ল্যাটে এতদিন ছিল ভৌতিক পরিবেশ। ৬ মাস ধরে মৃত মেয়ের কঙ্কালকে আগলে রেখেছিলেন বৃদ্ধ বাবা। পোষা কুকুরের কঙ্কালও সযত্নে রাখা ছিল। বুধবার (১০ জুন) রাতে সেখান থেকেই উদ্ধার হলো বৃদ্ধের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ। গোটা ঘটনায় অবাক পুলিশ ও প্রতিবেশীরা।

বুধবার রাতে শেক্সপিয়র সরণির ৩ নম্বর রবিনসন লেনের ওই ফ্ল্যাট থেকে হঠাত্‍‌ই ধোঁয়া বেরতে দেখে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ সদস্যরা ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ঢুকতেই তাঁদের নাকে আসে একটা বিকট দুর্গন্ধ। শৌচাগারের বাথটাবে পাওয়া যায় এই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সী অরবিন্দ দে-র অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ। বেডরুমে তখন বসেছিলেন অরবিন্দ বাবুর ছেলে ৩২ বছর বয়সী পার্থ দে। আর তাঁর পাশেই বিছানায় শায়িত অবস্থায় রাখা একটি মানুষের কঙ্কাল। পাশেই একটি কুকুরেরও কঙ্কাল রাখা ছিল। কঙ্কালগুলির পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল কিছু শুকনো খাবার।

ঘরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর সময় থমকে যান পুলিশ সদস্যরা। চারপাশে অন্যকোনো মানুষ না থাকলেও, যেই ঘরেই তাঁরা যাচ্ছেন, কোথা থেকে যেন ভেসে আসছে ফিসফিস করে কথা বলার শব্দ। পরে দেখা যায় ওই ফ্ল্যাটের প্রতিটি ঘরে, এমনকী শৌচাগার ও রান্নাঘরেও রয়েছে লুকানো সাউন্ড সিস্টেম। সেখান পেন ড্রাইভের মাধ্যমে এক নারীর কিছু মন্ত্রোচ্চারণ ও গান বাজানোর ব্যবস্থা করা আছে।

রীতিমতো ভৌতিক এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে যায় গোটা এলাকায়। ওই ফ্ল্যাটের একমাত্র জীবিত সদস্য পার্থ দে-কে জেরা করে উঠে এসেছে আরও মারাত্মক তথ্য। পার্থ জানিয়েছেন, গত বছর আগস্ট মাসে মৃত্যু হয় তাঁদের পোষা কুকুরটির। কিন্তু আদরের পোষ্যটির সৎকার না করে, সযত্নে রেখে দেওয়া হয় ফ্ল্যাটের বেডরুমে। পোষ্যের শোকে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে, চরম হতাশায় ভুগতে শুরু করেন তাঁর বোন দেবযানি দে। তিন মাস অনশন করায়, গত বছরই ডিসেম্বর মাসে মৃত্যু হয় নামি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের গানের শিক্ষিকা দেবযানি দে-র।

কিন্তু দেবযানিকেও কাছ-ছাড়া হতে দেননি তাঁর বাবা অরবিন্দ ও ভাই পার্থ। বেডরুমেই বিছানায় শুইয়ে রাখা হয় দেবযানির লাশ। পার্থর দাবি, তিনি ও তাঁর বাবা গত ছয় মাস ধরে দিদিকে খাইয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, ওই ঘরেই রয়েছে দিদির আত্মা। স্ত্রীর মৃত্যুর পর হতাশায় বছর খানেক আগে তথ্য ও প্রযুক্তি সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেন পার্থ দে।

পুলিশের অনুমান, অরবিন্দ বাবু গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁর মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া না হলে, অরবিন্দ বাবুর দেহও হয়তো ওই ফ্ল্যাটে রেখে দেওয়া হতো বলে ধারণা পুলিশের। দেবযানির দে-র কঙ্কালটি কিছু কাপড়-চোপড়ে জড়িয়ে রাখা ছিল। তাতে কোনো ওষুধ দিয়ে 'মমি'-র মতো কোনো ব্যবস্থা করা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতদিন পাড়া প্রতিবেশীরা কেন কোনো দুর্গন্ধ পাননি, তা নিয়ে ধন্ধে পুলিশ। ওই পরিবারের প্রতিটি মানুষের মানসিক সমস্যা ছিল বলে মত মনোবিদদের। বে-নজির এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানুষ।  

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.