সাময়িকী.কম
আনিস রায়হান : বর্তমানে সরকারি পর্যায় থেকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি বলা হচ্ছে তা হলো, বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দিকে যাত্রা। গত ৫ জুন, শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি নেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে জাতিসংঘে আবেদন করবে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে জাতিসংঘের কাছ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাব বলে আশা করছি।’ সেখানে উপস্থিত পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এর জন্য মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪৪ ডলার প্রয়োজন। এটা অর্জিত হয়েছে।’ স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনে এরকম একটি উপলক্ষ তৈরি করতে চায় সরকার।
সরকার পক্ষের এই বক্তব্য নির্দেশ করে যে, প্রয়োজনীয় অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হওয়া এখন কেবল সময় বা প্রক্রিয়ার ব্যাপার। যদিও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেবল মাথাপিছু আয় দিয়ে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হওয়া যায় না। আরও অনেক সূচকেই উন্নতি দেখাতে হয়। কী সেই সূচকগুলো, সেগুলো কত দূর অগ্রসর হলো, এই প্রশ্নগুলোর সঠিক জবাবই বলতে পারে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ হওয়াটা বাস্তবতা নাকি স্বপ্ন।

মধ্যম আয়ের দেশ কী
বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বের দেশগুলোকে তাদের আয় এবং সামাজিক কিছু সূচকের ভিত্তিতে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে থাকে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক এবং জাতিসংঘ ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক তার সদস্য দেশগুলোকে নিম্ন আয়ের দেশ, নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ, উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ এবং উচ্চ আয়ের দেশ, এই চার ভাগে ভাগ করে। তাদের হিসাব অনুযায়ী ২০১৫ অর্থবছরে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে গড় মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪৫ থেকে চার হাজার ১২৫ ডলার হতে হবে। আর উচ্চমধ্যম আয়ের দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে চার হাজার ১২৬ থেকে ১২ হাজার ৭৪৫ ডলার। প্রতিবছর ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক এই হিসাব নবায়ন করে। 
তবে বিশ্বব্যাংক কাউকে মধ্য আয়ের দেশ বললেও সে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে পারে না। যেহেতু জাতিসংঘ শুধু আয়ভিত্তিক হিসাবটি গ্রহণ করে না, কারণ এর মাধ্যমে কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। মাথাপিছু আয়ের হিসাবটা গড় হওয়ার কারণে সমাজের নিচুতলার মানুষদের বাস্তব অবস্থা এটি প্রকাশ করতে পারে না। যেমন, ১০০ শিল্পপতি মিলে যদি ৯০ লাখ টাকা আয় করে, আর ৯০০ মেহনতি মানুষ মিলে যদি ১০ লাখ টাকা আয় করে তাহলে এক হাজার মানুষের এই গোষ্ঠীটির মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১০ হাজার টাকা। যদিও বাস্তবতা হচ্ছে, ওই মেহনতিদের আয় এর থেকে অনেক অনেক কম। গড় করার ফলে এটি বরং সামাজিক বৈষম্যের দিককে কিছুটা আড়াল করে ফেলে। জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের ভিত্তিতে বিশ্বের দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশ, এই তিন ভাগে ভাগ করেছে।
বিশ্বব্যাংকের তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই নি¤œমধ্যম আয়ের দেশের কাতারে চলে এসেছে। তবে এই স্বীকৃতি পেতে গেলে জিডিপির বিভিন্ন অংশের মধ্যে এক নির্দিষ্ট সুষম উন্নয়ন দেখাতে হবে। বিশ্বব্যাংক এই তালিকাটি করে ঋণদানের সুবিধার জন্য অর্থাৎ এটি সাহায্যের সঙ্গে যুক্ত। তবে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, চুক্তি, পরিবহনসহ নানা খাতে সুনির্দিষ্ট সুবিধাগুলো পেতে হলে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে হবে। ২০২১ সালে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া বলতে মূলত এই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার কথাই বলা হচ্ছে। ১৯৭১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র চারটি দেশ স্বল্পোন্নত দেশের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। এগুলো হলো বতসোয়ানা, কেপভার্দে, মালদ্বীপ ও সামোয়া। 
বর্তমানে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসোক) উন্নয়ন নীতিমালা বিষয়ক কমিটি (কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি, সিডিপি) তিনটি সূচকের ভিত্তিতে তিন বছর পর পর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা তৈরি করে থাকে। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার সূচকগুলো হচ্ছে- (১) গড় মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই) পর পর তিন বছর নির্দিষ্ট সীমার ওপরে থাকতে হবে; (২) পুষ্টি, স্বাস্থ্য, স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার হারের সমন্বয়ে গঠিত মানবসম্পদ সূচকে নির্দিষ্ট অর্জন দেখাতে হবে; (৩) মোট জনসংখ্যা, বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে জনসমষ্টির বিচ্ছিন্নতা, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখিতা, জাতীয় উৎপাদনে কৃষির অবদান, দুর্যোগের শিকার জনসংখ্যা এবং কৃষি উৎপাদনের স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকের অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট অর্জন দেখাতে হবে। 
দুই মন্ত্রী যেভাবে শুধু মাথাপিছু আয়ের হিসাব দিয়ে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ হওয়ার কথা বললেন, তা অমূলক। কারণ ইকুয়েটরিয়াল গিনি ১৪ হাজার ৩২০ ডলার মাথাপিছু আয় নিয়েও স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশ ভুটান মাথাপিছু দুই হাজার ৪৬০ ডলার আয় নিয়েও একটি স্বল্পোন্নত দেশ। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায়ও আয়ের হারে বাংলাদেশ এখনও পেছনে। শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয় সার্ক অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি, তিন হাজার ১৬১ ডলার। ভারতে মাথাপিছু আয় এক হাজার ৫০৪ ডলার, আর পাকিস্তানে এক হাজার ৩০৭ ডলার। যদিও একটা ফাঁক আছে। তা হলো, তিনটি সূচকের যেকোনো দুটিতে অগ্রগতি দেখাতে পারলেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হওয়ার আবেদন করা যাবে। আবার ইচ্ছে করলে কোনো দেশ শুধু আয়ের ভিত্তিতেও এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসার আবেদন করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে মাথাপিছু আয় মূল্যায়নের বছরে নির্ধারিত আয়ের দ্বিগুণ হতে হবে।

বাংলাদেশ কোথায় আছে
বাংলাদেশে পর পর তিন বছর নির্দিষ্ট গড় মাথাপিছু আয় সীমার ওপরে আছে। ২০১৩ সালে এই নির্দিষ্ট সীমাটি ছিল এক হাজার ২৫ ডলার। গেল বছর এটা ছিল এক হাজার ৩৫ ডলার। আর এ বছর এক হাজার ৪৪ ডলার। তবে জাতীয় আয়ের এই সীমার ওঠানামা নির্ভর করে অর্থনীতির ঝুঁকির সূচকটির ওপরে। বিনিয়োগ, রেমিটেন্স ও রপ্তানি জিডিপিকে বিকশিত করে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। এগুলোর বিকাশই অর্থনীতির ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশকে এখন মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হতে গেলে মানবসম্পদের বিকাশ ঘটাতে হবে, অর্থনীতির ঝুঁকি কমাতে হবে এবং জাতীয় আয় ও সঞ্চয় তথা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মুক্তি পেতে গেলে এই তিন সূচকেই অগ্রগতি দরকার।
গত বছরের শেষ দিকে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) ‘এলডিসি প্রতিবেদন-২০১৪’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেইমতে, এখন এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছতে হলে বাংলাদেশকে নির্ধারিত মাথাপিছু আয় অব্যাহত রাখতে হবে। এর পাশাপাশি মানবসম্পদ সূচকের অর্জন  হতে হবে ৬৬ এবং অর্থনীতির ঝুঁকি সূচক ৩২। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মানবসম্পদ সূচক ৫৪.৭ এবং অর্থনীতির ঝুঁকি সূচক ৩২.৪। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৫ দরকার বলে মতপ্রকাশ করেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে অর্থনীতিবিদদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ মনে করেন, প্রবৃদ্ধির বিকাশের জন্য দেশে আরও কিছু বিষয় থাকা দরকার। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি ইউহানেস জাট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছতে বাংলাদেশকে চারটি বাধা দূর করতে হবে। বাধাগুলো হলো, সংঘাতের রাজনীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অতি মুনাফালোভী প্রবণতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।’ এসব বাধা অতিক্রম করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন দেশের অর্থনীতিবিদরাও। 
মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ এখনও বেশ দুর্বল জায়গাতেই আছে। বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারে। তবে এ সময়ে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে পারবে না। এ তালিকা থেকে বের হয়ে আসতে ১০ বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। শুধু আয় বাড়িয়ে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়া যায় না। এজন্য মানবসম্পদ ও অর্থনীতির নাজুকতা সূচকে উন্নতি করতে হবে। জাতীয় আয় বাড়লেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে পরের দুটি সূচকে।’

প্রধান দুর্বলতা
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একা নন, অধিকাংশ অর্থনীতিবিদের একই মত- ২০২১ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের বৃৃত্ত ভেঙে বের হওয়া সম্ভব না। তাদের এই অনুমানের পেছনে যে মানদন্ডগুলো কাজ করছে তা এরকম-
জিডিপি : বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী জাতীয় আয়ের ঊর্ধ্বমুখিতার নিরাপত্তার জন্য জিডিপির ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দরকার। সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরো গত ২ জুন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। আর নতুন অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ। ৭.৫ প্রবৃদ্ধি চাইলে জিডিপির অনুপাতে ৩৭.৫ শতাংশ বিনিয়োগ দরকার। কিন্তু বিনিয়োগ পরিস্থিতির চিত্র হচ্ছে, চলতি বছর বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২২ দশমিক ০৭ শতাংশ, আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ। বোঝাই যাচ্ছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হওয়ার কোনো সুযোগ অন্তত এ বছর নেই। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, বন্দর ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারী এমনকি স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আস্থা পাচ্ছেন না। এছাড়া রাজস্ব কম আদায় হওয়ায় সরকারও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারছে না। এছাড়া বিদ্যুৎ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে জটিলতা, শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জমির দু®প্রাপ্যতা, দক্ষ মানবসম্পদের অভাব, উৎপাদনশীলতা ঘাটতি ও সীমিত সংখ্যক পণ্যের ওপর রপ্তানির নির্ভরশীলতা জিডিপি প্রবৃদ্ধির বড় বাধা। 
রপ্তানি : চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) জন্য রপ্তানি আয়ের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৬৮৩ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৫৩০ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি ছিল ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলারের। রপ্তানি ক্রমশ কমছে। এবারের বাজেটে রপ্তানিতে কর বাড়ার ফলে এই খাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দেশীয় বিনিয়োগও একই কারণে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া রপ্তানি খাত একেবারেই পরনির্ভরশীল ও একমুখীন। মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ গার্মেন্ট খাতনির্ভর, যা টেকসই অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স ও জার্মানি দেশের পোশাকের বড় বাজার। এছাড়া গার্মেন্টসহ চামড়া, মৎস্য, ওষুধসহ প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো দেশীয় বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো অঘটন ঘটে গেলে অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। তাই রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ জরুরি।
দারিদ্র্য : সর্বশেষ প্রকাশিত ২০১৪ সালের জুন মাসের হিসাবে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থাৎ দেশের চার ভাগের এক ভাগ মানুষ দরিদ্র। পাশাপাশি অতি দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। শেষ চার বছরে (২০১০ থেকে ২০১৪) দারিদ্র্য মাত্র ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এবারের বাজেটেও দারিদ্র্যবিমোচন প্রাধান্য পায়নি। তাছাড়া বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে দারিদ্র্যের বেঞ্চমার্ক পুনর্গঠনের আলোচনা চলছে। মাথাপিছু দৈনিক ১ ডলারের পরিবর্তে ১ দশমিক ২৫ ডলার করার প্রস্তাব আছে। এটা গৃহীত হলে দেশে বাস্তব দারিদ্র্যের হার একলাফে অনেক উপরে উঠে যাবে। মধ্যম আয়ের দেশের আনুষ্ঠানিক খেতাব পেলেও এই পরিমাণ দারিদ্র্যের কারণে তা তখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। 
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার : বিশ্বব্যাংকের একটি পরামর্শ ছিল, দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ লাখ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশে শ্রমঘন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের জন্য সক্ষম পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বলতে বোঝানো হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলবাজি ও ব্যক্তি প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা, ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করা। তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলো সামগ্রিক উন্নয়নের নিমিত্তে পদক্ষেপ নিতে পারে। সিটি করপোরেশন, রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানের আমূল সংস্কার না হলে ঢাকা অবাসযোগ্যই থেকে যাবে। এরকম বসবাসের অযোগ্য একটি শহর নিঃসন্দেহে মধ্যম আয়ের একটি দেশের জন্য বিরাট সমস্যা।
দুর্যোগ মোকাবেলা : সিডর, আইলা, রানা প্লাজার মতো ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে যে, দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষেত্রে এখনও জাতীয় সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। কিছুদিন আগে গাজীপুরে একটি গার্মেন্ট কারখানা পুড়ে ছাই হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। আগুন তারা নেভাতে পারেননি। প্রতিবছরই বস্তি জ্বলে যাচ্ছে, মানুষ মরছে। ভূমিকম্পের মতো ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায়ও দেশ একেবারেই পিছিয়ে আছে। 
স্বাস্থ্য : বিশ্বের অপুষ্টিজনিত মোট শিশুর ৭০ শতাংশেরই বাসভূমি এশিয়ায়, আর এর বড় অংশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। ইউএসএইড ‘বাংলাদেশের নারী ও শিশুস্বাস্থ্য-২০১১’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, এ দেশে মায়েদের এক-তৃতীয়াংশ অপুষ্টির শিকার। উচ্চতার তুলনায় তাদের ওজন কম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘পুষ্টি জরিপ-২০১১’-তে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নারীর পুষ্টিহীনতার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৫০ শতাংশের বেশি নারীই পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুষ্টিহীনতার কারণ হলো সুষম খাদ্যের অভাব। আমাদের দেশে যখন এক-তৃতীয়াংশ নারীর ওজন কম, ইউরোস্টেটের সমীক্ষা অনুযায়ী ইউরোপে ভারী ও মোটা লোকের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ সুষম খাদ্যের অভাবে এখনও আমরা বাস করছি। অন্যদিকে চিকিৎসা সেবায় মানুষের মোট আয়ের ৬৬ শতাংশ খরচ হচ্ছে, কিন্তু মান নিশ্চিত হচ্ছে না।
শিক্ষা : এমডিজিতে বড় অর্জন ছিল শিক্ষায়। প্রাথমিকে শতভাগ শিক্ষার্থীকে আনাটা পুরো সফল না হলেও বেশ এগিয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিকে এখনও ওই অবস্থায় যাওয়া যায়নি। তাছাড়া অর্জন দেখাতে সরকার বেশি পাস দেখায়, এমন অভিযোগও আছে। তবে আগামীতে সেখানে মানের প্রশ্ন আসবে। এমডিজিতে প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ ছিল। দ্বিতীয় স্তরে এখন সেগুলোর মান নিশ্চিত করতে হবে অর্থাৎ মানসম্পন্ন শিক্ষা-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। অথচ এখন আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ বাড়ছে। 
অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন : অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বিরাট ফাঁক রয়েছে। শিল্পের সঙ্গে কৃষির কোনো সম্পর্ক নেই। এ কারণে সরকার যখন শিল্পায়নের দিকে জোর দিচ্ছে তখন তা কৃষিকে পর্যুদস্ত করছে। জিডিপিতে এখন কৃষির অবদান ১৬ শতাংশের মতো। অথচ কর্মসংস্থানের ৫৪.৪ শতাংশ সংগঠিত হয়েছে কৃষি খাতে। তাদের উৎপাদনশীলতা কম বিধায় আয়ও কম। ফলে ছদ্মবেশী বেকারত্ব মাথা গেড়ে বসেছে এ খাতে। অপরদিকে শিল্প খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ১৩.৭ শতাংশ। 
শিল্প খাতের শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পান না, যা পাওয়ার কথা সেটাও পান না, চাপা পড়েন, আগুনে পুড়ে মারা যান, এরকম নানা সমস্যা লেগেই আছে। এগুলো দেখার কেউ নেই। তাই কৃষি খাত থেকে উদ্বৃত্ত কর্মসংস্থান চলে যাচ্ছে অসংগঠিত সেবা খাতে। সেই সেবা খাতেরও কোনো ব্যবস্থাপনা এখনও দাঁড়ায়নি। তাদের উৎপাদনশীলতা ও স্থায়িত্ব উভয়টিতে সংকট রয়েছে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধির কোনোভাবেই নিয়ামক নয়। 
রেমিটেন্সের ওপর অর্থনীতি বেশ নির্ভরশীল। কিন্তু মানুষ বিদেশে গিয়ে দাসের জীবন যাপন করছে। এসব ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে এবং দাস হিসেবে বিদেশে বন্দী হলে সেই নাগরিকের কাছে দেশ মধ্যম আয়ের হলেই বা কী যায় আসবে! রেমিটেন্সকে অগ্রাধিকার দেয়ার চেয়ে মানুষকে অগ্রাধিকার দেয়া দরকার। নইলে রেমিটেন্স আনবে কে?
অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও পুনর্গঠনের প্রশ্ন আছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের (এডিপি) ধীরগতি ও ব্যয় দক্ষতার মান খারাপ। যা শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে উন্নয়ন সম্ভব।  তাছাড়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার আমূল সংস্কার জরুরি। সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ঋণ পরিচালনায় অনিয়ম ক্ষুণœ করেছে সার্বিক আর্থিক খাতের ভাবমূর্তি। এসব কাঠামোগত অসংগতিগুলো দূরীভূত হওয়া প্রয়োজন। নইলে অর্থনীতি কখনোই মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রের অর্থনীতি হবে না।
নারী : নারীসহ সমাজের নিপীড়িত, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীগুলোর উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা লাগবে। কিন্তু আমরা দেখছি, সরকার বিয়ের বয়স কমিয়ে বাল্যবিবাহের অপবাদ ঘোচাতে চায়। এগুলো বুমেরাং হবে। নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধেও সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। কোনোভাবেই নারী নিপীড়ন কমানো যাচ্ছে না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও আদিবাসীরাও আছে নানা সংকটে। তাদেরও টেনে তুলতে হবে।  কিন্তু দেখা যাচ্ছে সরকার তাদের আদিবাসী বলতেই রাজি নয়।
সুশাসন : বস্তুত, সব প্রশ্নই এসে এই প্রশ্নে মিলবে। সুশাসনের অভাব থাকার অর্থ হচ্ছে, নিরাপত্তার অভাব, ন্যায্যতার অভাব। ফলে কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক লেনদেন কমছে। একজন উদ্যোক্তা আশঙ্কায় থাকছেন, তিনি বিপদে পড়লে সরকার সাহায্য করবে না, উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গেলেও ঝামেলা বাড়বে বৈ কমবে না। বিদেশিরা আসছেন না, তারা ভাবছেন, এখানে যেকোনো সময় ঝামেলা তৈরি হবে। সরকারকে এই প্রত্যেকটি খাতেই অগ্রগতি দেখাতে হবে। 
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, ‘৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য আমাদের রাজনৈতিক কাঠামো অবশ্যই ঠিক নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা দেশকে নিয়ে যাচ্ছে অনিশ্চয়তার দিকে। রাজনৈতিক ম্যান্ডেট না থাকা এবং এর সূত্র ধরে সৃষ্ট সহিংসতা এর প্রধান কারণ। বিরোধী পক্ষগুলোও জনগণকে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারছে না। রাষ্ট্রীয় এবং গণতন্ত্রের কাঠামোয় ধস নেমেছে। বিশেষ করে দলীয় বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি আমাদের খারাপ দিকে নিয়ে গেছে। ফলে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এতে রাজনৈতিক এ অচলাবস্থার সাময়িক সমাধান হলেই হবে না, একটা পরিপূর্ণ এবং কাঠামোগত সমাধান প্রয়োজন। সেজন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় গণতান্ত্রিক চর্চা এবং দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে।... দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান না হলে নিম্নমানের মধ্যম আয়ের দেশ হবে আমাদের গন্তব্য, যেখানে দারিদ্র্য, আবাসযোগ্য শহর ও মানহীন শিক্ষা-চিকিৎসা দুষ্ট ক্ষতের মতো পীড়া দিয়েই চলবে।’
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের ভাষ্যমতে, ‘আমাদের দেশের অর্থনীতির যে গতি, তাতে এমনিতেই এটা মধ্যম আয়ের দিকেই এগোচ্ছে। কিন্তু মধ্যম আয় দিয়ে এটা নিশ্চিত হয় না যে, এমন হলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে, তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো অন্তত পূরণ হবে। মধ্যম আয়ের একটি দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার যে চরিত্র থাকা উচিত বাংলাদেশে তা নেই। আদৌ তা অর্জিত হবে কিনা, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। আমাদের লক্ষ্যটা হওয়া উচিত ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষকে শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া, তাদের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা এবং মানুষের সম্মানজনক জীবনযাপন পুরোপুরি নিশ্চিত করা। 
আমার মনে হয় একটা দেশে বৈষম্য যদি বেশি থাকে তাহলে গড় আয় দিয়ে শুধু একটা বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে। প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যায় না। এটি বুঝতে হলে দেখতে হবে নিচের দশ শতাংশ মানুষ এবং উপরের দশ শতাংশের প্রকৃত অবস্থাটা কী? সকল মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের সব ধরনের ব্যবস্থা আছে কি না? 
এখানে যে সম্পদ আছে, এ দেশের মানুষের যে কর্মক্ষমতা তাতে পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হলে এবং এগুলোকে পরিচর্যা করা হলে ৫ বছরের মধ্যে লক্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে। এ দেশে এখন যে পরিমাণ দারিদ্র্য আছে এ আকারের দারিদ্র্য থাকার কোনো কারণ নেই। ক্ষুধাও এভাবে থাকার কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশে যে পরিমাণ নিরক্ষর মানুষ আছে, মাত্র দু’বছর ঠিকমতো পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে এটাকে দূর করা সম্ভব। চিকিৎসা খাতে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব, যদি সরকার চিকিৎসা খাতকে বাণিজ্যিকীকরণের হাত থেকে রক্ষা করে। 
সমস্যা হচ্ছে সম্পদের ওপর কিছু গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার এবং পরনির্ভরশীল অর্থনৈতিক কাঠামো। আমাদের সম্পদ জনগণের কাজে লাগানোর জন্য যে ধরনের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক নীতি দরকার, তা নেই। সেটা থাকলে ৫ থেকে ৭ বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব এবং দশ বছরের মধ্যে শুধু মধ্যম আয় নয়, উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার আকাক্সক্ষা দেশের সব নাগরিকের। কিন্তু এটা একটা মুখের বুলি বা কাগুজে বিষয় হোক, এমনটা কেউই চান না। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ঘটলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়বে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে আমরা এক কাতারে দাঁড়াতে পারব- এগুলো জনজীবনে স্বস্তি এনে দিবে না। বাস্তবে মানুষ চায় সচ্ছলতা। তারা মনে করেন, মধ্যম আয়ের দেশ হলে সবাই ভালো থাকবে। কেউ চিকিৎসার অভাবে মরবে না, না খেয়ে থাকবে না। 
কিন্তু সরকারের প্রবণতা আগের সব পদক্ষেপের মতোই আত্মকেন্দ্রিক, গণভিত্তিক নয়। যে কারণে দেখা যাচ্ছে, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা-চিকিৎসার উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সুশাসনের ঘাটতি সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে বরং গোঁজামিল দেয়ার চেষ্টা চলছে। ঠিক যেমনটা হয়েছে চাল রপ্তানি ইস্যুতে, ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ইস্যুতে। সবার চাওয়া একটাই, সরকার শুধু নিজের সাফল্য বলার জন্য নয়, সত্যিকার অর্থেই সবার জন্য মধ্যম আয়ের একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য কাজ করবে। আর সেজন্য প্রথমেই দরকার বাস্তব উপলব্ধি। জনগণকে অবহিত করা উচিত প্রকৃত মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হতে কত সময় লাগবে এবং সে সময়ের মধ্যে করণীয় কী! উন্নয়ন টেকসই হওয়া দরকার, সেজন্য পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী সবই করা দরকার, সময় লাগলে সময় নেয়া দরকার। কাল-পরশু করে ফেলার চেষ্টা ক্ষতিই বয়ে আনবে। 
অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া নিয়ে এত বাগাড়ম্বর এবং গোঁজামিলের পরিসংখ্যান দেয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ এ মুহূর্তে যে পর্যায়ে আছে, তাকে সব সূচকে উত্তীর্ণ হতে হলে কয়েক বছর অপেক্ষা করতেই হবে। আমরা ঢাকঢোল পিটিয়ে ২০২১ সালকে পরবর্তী স্টেশন হিসেবে যতই ঘোষণা দিই না কেন, সব সূচকে উত্তীর্ণ হতে পারছি কিনা, তা দেখার জন্য আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থার তদারকি আছে। শুধু মাথাপিছু জাতীয় আয় নয়, অন্য সব সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে। আবার একটি স্বল্পোন্নত দেশ সব সূচকে উত্তীর্ণ হলেই মধ্যম আয়ের দেশের সার্টিফিকেট পাবে না। পর পর তিন বছর এ সূচকগুলো টেকসই হতে হবে।’ সূত্র : সাপ্তাহিক
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.