সাময়িকী.কম

সেপ ব্লাটারের সঙ্গে রাশিয়ান সুপার মডেল ইরিনা শায়েক এর সম্পর্ক ছিল বলে এক স্প্যানিশ সংবাদপত্র দাবি তোলার পরই তোলপাড় শুরু হয় ফুটবল বিশ্বে। 
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রাক্তন বান্ধবীই শুধু নন, অনেক মহিলার সঙ্গেই নাকি ব্লাটারের সম্পর্ক ছিল। 
ইরিনার মুখপাত্র যার জবাবে জানিয়েছেন, সেপ ব্লাটারারে সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্ক থাকার জল্পনা ইরিনা শায়েককে বদনাম করার জঘন্যতম প্রয়াস। স্পেনের সংবাদপত্রের এই খবর একেবারে মিথ্যে, ভিত্তিহীন গুজব। ২০১০ থেকে শুরু হওয়া ইরিনা আর রোনাল্ডোর সম্পর্ক চলতি বছরের গোড়ার দিকেই ভেঙে যায়। দাবি উঠেছে, এই সময় নাগাদই ব্লাটার আর ইরিনার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। 
প্রশ্ন উঠছে, প্রাক্তন ফিফা প্রেসিডেন্টের কারণে ইরিনার সঙ্গে রোনাল্ডোর সম্পর্কে কোনও অস্বস্তি ছিল কি? তাই কি ব্লাটার আর রোনাল্ডোকে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে বারবার? ব্লাটার যেমন রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে বলেছেন, মেসিকেও টেনে এনেছেন, পাল্টা রোনাল্ডোও তো কম বলেননি।

স্প্যানিশ সংবাদপত্রটির দাবি, ৭৯ বছর বয়সি ব্লাটারের সঙ্গে ইরিনার ঘনিষ্ঠতা শুরু হওয়ার আগে প্রাক্তন ফিফা প্রেসিডেন্টের জীবনে ছিলেন টেনিস প্লেয়ার লোনা বোগুসকা। তার পরই রাশিয়ান মডেলের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু ব্লাটারের। পরে লিন্ডা বারাসের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছিলেন ব্লাটার। ফিফার একাধিক অনুষ্ঠানে ব্লাটার আর লিন্ডাকে দেখাও গিয়েছে। তবে ইরিনার ব্যাপারটা ভুলই বলে দাবি তাঁর মুখপাত্রের। এই ব্যাপারে আর কোনও কথা বলার নেই। গোটাটাই ভিত্তিহীন। ব্লাটার কী বলছেন? প্রাক্তন ফিফা মহাকর্তার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আসরেও বার্লিনে ব্লাটারকে দেখার সুযোগ হয়তো নেই। ব্রিটিশ মিডিয়া জানিয়েছে, ফিফার প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে যাওয়ার পর ব্লাটার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও আসছেন না। ফিফার বড় কর্তাদের বার্লিনে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ব্লাটারের নেই।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার চার দিনের মধ্যেই মহা কেলেঙ্কারি, ফিফা কর্তাদের গ্রেফতারির চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়ে ব্লাটার জানিয়েছিলেন তিনি অন্তত আগামী ছয় মাস ফিফার দায়িত্ব থেকে সরে থাকবেন। যত দিন না তাঁর জায়গায় নতুন কেউ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এ দিকে, যত দিন যাচ্ছে ততই ব্লাটারের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। আয়ারল্যান্ডের ফুটবল দলের প্রাক্তন কোচ জিওভানি ত্রাপাতোনি ২০০৯ বিশ্বকাপ প্লে অফে থিয়েরি অঁরির বিতর্কিত হ্যান্ডবল নিয়ে আগেই ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। প্লে অফের সেই ম্যাচে অঁরির গোলের পরই ছিটকে গিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। কিন্তু গোলটা করার আগে অঁরির হ্যান্ডবল হওয়ার দাবি করলেও তা দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে হইচই না করতে আয়ারল্যান্ড ফুটবল সংস্থাকে ফিফার মোটা অর্থের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। সেটাই এ বার সামনে চলে এসেছে। আয়ারল্যান্ড ফুটবল সংস্থা পাঁচ মিলিয়ন ইউরো ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করায়। ফিফার গায়ে এ বার আবার কোন নতুন কলঙ্কের দাগ লাগে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.