সাময়িকী.কম

সাঈদুর রহমান রিমনমিয়ানমার, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার সংঘবদ্ধ মাফিয়া সিন্ডিকেট সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ হিসেবেই সমুদ্রপথে কমপক্ষে পাঁচ লাখ মানুষ পাচার করেছে। গডফাদারদের নির্দেশেই দালাল-কর্মীরা মুক্তিপণের কোটি কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পাচারের শিকার অসহায় লোকজনকে মাসের পর মাস বন্দী করে রাখত, চালাত নানা বর্বরতা। গত তিন বছরেই মাফিয়া চক্রটি অত্যাচার-নির্যাতনের মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। তাদের মানব পাচারের এ জঘন্য কর্মকাণ্ডে চার দেশেরই স্থানীয় পর্যায়ের একশ্রেণির পুলিশ, সীমান্তরক্ষী ও প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি থাই-মালয়েশীয় জঙ্গলে কয়েকশ বন্দীশালা ও গণকবর আবিষ্কারের সূত্র ধরে চলমান তথ্যানুসন্ধানে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য-প্রমাণ বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। মানব পাচারের বর্বরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ফলাও প্রচার করায় বিশ্বজুড়ে হৈচৈ সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রশাসনের অব্যাহত চাপ ও জাতিসংঘের আহ্বানের পর থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সরকার মানব পাচারের বিরুদ্ধে ধীরলয়ে মাঠে নেমেছে। উদ্ধার অভিযানে আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি এলেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, থাই-মালয় সীমান্তের গভীর জঙ্গলে আরও পাচার হওয়া কয়েক হাজার অভিবাসী জিম্মি রয়েছে। পাচারকারীরা অভিযানের খবর পেয়ে অভিবাসীদের নিয়ে জায়গা বদল করেছে। তবে থাই-মালয় সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানকারী একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে, মানব পাচারে চিহ্নিত সিন্ডিকেট সদস্যদের আত্মগোপন নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রশাসন অভিযানে নেমেছে। টানা আট দিনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে আন্তঃদেশীয় মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্রের নিযুক্ত সহস াধিক দালালও নিরাপদে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তারা সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার উত্তরে জনবসতিহীন গভীর জঙ্গলে অবস্থান নিয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে এখনো কয়েক হাজার অভিবাসী নতুন জঙ্গল ক্যাম্পে নানা নির্দয়তার শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।এসব অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে এরই মধ্যে থাইল্যান্ডে ৫০ জন পুলিশ সদস্যকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে পাচারকারী সন্দেহে ৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে আরও ৩০ জন। সংখলা প্রদেশ পুলিশের ডেপুটি প্রধান কর্নেল ত্রিওট শ্রীপাপা গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, মানব পাচারে ব্যবহৃত রুট এবং তাদের সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন আটক ১২ রোহিঙ্গা। এরপর মানব পাচারে জড়িত সন্দেহে ওই জেলার মেয়রকেও গ্রেফতার করা হয়। থাইল্যান্ডের এমন ঘটনার পরই অভিযান শুরু হয় মালয়েশিয়ায়। একই অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ১২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, বাংলাদেশেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে বিজিবির পাঁচ সদস্যকে। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের ধরে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে চুপ রয়েছে।তদন্ত দলগুলো জানিয়েছে, মূলত সিংহভাগ ক্ষেত্রেই মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা পাচার হচ্ছে। তাদের অপকর্মে কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিককে যুক্ত করার মাধ্যমে ‘সমুদ্রপথে দেশি জাহাজে মানব পাচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিকীকরণ’ করা সম্ভব হয়েছে। ওই সূত্র আরও জানায়, পাচারকৃতদের মধ্যে কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিককে যুক্ত করা না হলে সর্বত্র কেবল ‘দলে দলে রোহিঙ্গা পালাচ্ছে’ এমন বিষয়ই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ত। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার সরকার আরাকান রাজ্যসহ বিভিন্ন প্রদেশ থেকে সে দেশের রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশত্যাগে বাধ্য করে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাফ নদীর সীমানা পেরিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়ায়। দীর্ঘদিনেও সেসব নাগরিককে আর মিয়ানমারে ফেরত নেওয়া হচ্ছে না। এদিকে রোববার বাংলাদেশি মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ফিরিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফিরতি পথে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলের কাছাকাছি এসে নৌকাটি ডুবে গেছে বলে খবর দিয়েছে বিদেশি গণমাধ্যম। এতে ৬৫ জন অভিবাসী ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন 
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.