মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন
সাময়িকী.কম

দুনিয়াতে মানুষ যে উদ্দেশ্যে আমল করবে, আখেরাতে সে হিসেবেই প্রতিদান পাবে। আমাদের আমল যেন হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। মানুষের সন্তুষ্টি যেন আমাদের আমলের উদ্দেশ্য না হয়। নবী করিম (সা.) লোক দেখানো আমল থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তোমাদের বাহ্যিক আকৃতি এবং সম্পদের প্রতি তাকান না; বরং তিনি তাকান তোমাদের অন্তর এবং আমলের প্রতি'- (মুসলিম)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, 'আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি শরিককারীদের শরিক করা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। যে ব্যক্তি কোনো আমলে (ইবাদতে) আমার সঙ্গে অন্যকে শরিক করে, আমি তাকে তার শিরকসহ পরিত্যাগ করি।' অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, 'তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। বস্তুত, ওই আমলটি তার জন্যই গণ্য হবে, যার জন্য সে করেছে'- (মুসলিম)। অন্য জায়গায় রাসুল (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি সুখ্যাতি ও লাভের উদ্দেশ্যে কোনো আমল করে, আল্লাহ তায়ালা তার দোষ-ত্রুটিকে মানুষের মাঝে প্রকাশ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে, আল্লাহ পাক তার সঙ্গে লোক দেখানোর ন্যায় আচরণ করবেন। কাজের প্রকৃত সাওয়াব থেকে সে ব্যক্তি বঞ্চিত থাকবে'- (বুখারি ও মুসলিম)। হজরত মাহমুদ ইবনে লবীদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'আমি তোমাদের ব্যাপারে যে সম্পর্কে সর্বাধিক ভয় করছি, তা হলো ছোট শিরক।' লোকেরা আরজ করল, 'ছোট শিরক কী ইয়া রাসুলাল্লাহ!' তিনি বললেন, 'তা হলো, রিয়া' অর্থাৎ লোক দেখানো ইবাদত- (আহমদ)। নিজের নেক আমল দিয়ে শুধু আখেরাতে পুরস্কারের আশা রাখলে দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতেই সফলতা পাওয়া যায়। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি তার কাজ দিয়ে আখেরাতে আল্লাহর সন্তোষের নিয়ত রাখে, আল্লাহ তার অন্তরকে মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেন এবং তার এলোমেলো কার্যাবলি তিনি সম্পাদন করে দেন এবং পার্থিব সম্পদ তার কাছে লাঞ্ছিত হয়ে আসে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্য রাখে, আল্লাহ তায়ালা দরিদ্রতাকে তার সামনে এনে দেন। তার যাবতীয় কাজকর্ম অগোছালো হয়ে যায়। অথচ সে পার্থিব সম্পদের শুধু ততটুকুই লাভ করে, যতটুকু তার জন্য তাকদিরে নির্ধারিত আছে- (তিরমিজি, আহমদ)। হজরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একদিন আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! একবার আমি নামাজ পড়ার সময়ে হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে পড়ে আমাকে নামাজ অবস্থায় দেখে ফেলল। এতে আমার মন আনন্দিত হলো। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন, হে আবু হোরায়রা! তোমার দ্বিগুণ সাওয়াব হয়েছে। প্রথমত, তোমার ইবাদতে গোপনীয়তার কারণে, দ্বিতীয়ত, ইবাদত প্রকাশ হয়ে পড়ার কারণে- (তিরমিজি)।
লেখক : খতিব, বাইতুর রহমত জামে মসজিদ, টঙ্গী
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.