সাময়িকী.কম

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতের গুলিতে ব্যাংকটির ম্যানেজারসহ ৫জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। ডাকাতের হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। তাদের স্থানীয় মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ।

ব্যাংকে লেনদেন করতে আসা গ্রাহকরা জানান, কয়েকজন লোক তিনটি মোটরসাইকেলে করে গ্রাহক সেজে কমার্স ব্যাংকের আশুলিয়ার কাঠকড়া শাখায় প্রবেশ করে। তখন মধ্যাহ্নের খাবার বিরতি শেষ হয়ে গেছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিজ নিজ চেয়ারে বসেছেন প্রায় সবাই। সবাই আবারো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। এর মধ্যেই গ্রাহক বেশে ৯/১০ জন এক সঙ্গে ঢুকে পড়ে ভেতরে। গ্রাহকদের সহায়তা করতে কেউ কেউ নড়েচড়ে বসছিলেন। কিন্তু না, ওরা কোনো গ্রাহক নয়। কয়েক মুহূর্তেই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। ওরা আধুনিক অস্ত্রেশস্ত্রে রীতিমত সজ্জিত। সেসব অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে নিরাপত্তারক্ষীসহ সবাইকে। এরপর শুরু করে তড়িৎ গতিতে লুটপাট, মারপিট। যেন ফিল্মের কোনো মাফিয়া চক্রের হামলার দৃশ্য। সাভারের আশুলিয়া এলাকায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যংকের কাঠগড়া বাজার শাখায় এভাবেই শুরু হয়েছিল ডাকাতি। তখন বিকাল সাড়ে তিনটা প্রায়।

এই ঘটনা অবগত পরে ভয়ে আতঙ্কে কেউ বাংকের ভেতরে ঢুকতে পারেনি, কিন্তু তারা বসে থাকেনি। স্থানীয়রা দৌড়ে গিয়ে মসজিদের মাইকে জানিয়ে দেয় ব্যাংক ডাকাতির খবর। এসময় ডাকাতরা সতর্ক হয়ে ওঠে। নগদ টাকা লুটপাট করে দ্রুত বের আসে ব্যাংক শাখা থেকে। এরপর তারা পালিয়ে যেতে উদ্যত হয়। কিন্তু চারপাশে পরিস্থিতি বেসামাল দেখতে পেয়ে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। এতে ভয়ে আতঙ্কে কিছুটা পিছু হটে স্থানীয়রা। আরো আতঙ্ক ছড়াতে ডাকাতরা কয়েকটি ককটেল আর গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়।

ডাকাতদলের নির্বিচার গুলিতে বিদ্ধ হয় এলাকার নিরীহ চার বাসিন্দা। এরপরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাদের ডাকাতদের আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আধুনিক অস্ত্রের মুখে পিছু হটে। নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে নিরাপদে পালিয়ে যাওয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল ডাকাতদের কাছে। এর প্রমাণ মিলেছে কাঠগড়া বাজার পেরিয়ে আমতলা এলাকার জিরাবো-বিশমাইল সড়কে পৌঁছলেই। আধুনিক অস্ত্র উপেক্ষা করেই এক ডাকাতকে আটক করে স্থানীয়রা। এরপর খানিক দূরে গিয়ে দুর্গাপুর এলাকা থেকে ডাকাতদলের আরো দুই সদস্যকে আটক করে এলাকাবাসী। ক্ষোভ আর রাগে এসময় ডাকাতদের গণপিটুনি দেয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় এক ডাকাত।

ঘটনার পরে স্থানীয়রা ব্যাংক শাখায় গিয়ে দেখতে পায় মর্মান্তিক পরিস্থিতি। পুরো কার্যালয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রক্ত আর রক্ত। মেঝেতে পড়ে যাওয়া রক্ত জমাট বেঁধেছে। ঘণ্টা দুয়েক আগেও ছিল প্রাণচঞ্চল। আর সেখানে নেমে এসেছে কবরস্থানের নিস্তব্ধতা। শুধু মেঝেতে ছোপ ছোপ রক্ত। ডাকাতদের নির্বিচার ছুরিকাঘাত আর ধারালো অস্ত্রের হামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীদের কমবেশি সবাই রক্তাক্ত হয়ে গেছে। প্রাণ হারিয়েছেন ব্যাংক ম্যানেজার ওয়ালিউল্লাহ (৪৫), নিরাপত্তা প্রহরী বদরুল (৩৮), বাংকের গ্রাহক ব্যবসায়ী পলাশ (৪৮), বাংক ভবনের নিচের ঝালমুড়ি বিক্রেতা মুনির(৬০), মার্কেটের পান দোকানি জিল্লুর রহমান (৪০)। পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতদের গণপিটুনি দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করলে চরম উত্তেজিত হয়ে পড়ে স্থানীয়রা। পুলিশের দুটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। গণপিটুনিতে নিহত ডাকাতের নাম-পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। 
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.