সাময়িকী.কম

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ইউরোপীয় সাহিত্যে জাদু বাস্তবতার রূপকার নোবেলজয়ী জার্মান সাহিত্যিক গুন্টার ভিলহেম গ্রাস আর নেই। 
সোমবার (১৩ এপ্রিল) লুবেক শহরের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মানবতাবাদী বরেণ্য লেখক গ্রাসের বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তার বইয়ের প্রকাশনা সংস্থা স্টেইডেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্সের।

লেখক, কবি, চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর- এক মানুষের জীবনে অনেক পরিচয়বাহী গুন্টার গ্রাস। বিশ্বের পাঠকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্র কালজয়ী উপন্যাস দ্য টিন ড্রাম। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক জার্মান যুবকের মতো গ্রাসকেও বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়েছিল। সেই তিনিই ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত দ্য টিন ড্রাম লিখে জার্মানিকে স্মরণ করিয়ে দেন নাৎসি বর্বরতা আর জার্মান ইতিহাসের এক পতনের অধ্যায়। সাম্রাজ্যবাদ আর ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন গ্রাস। ইসরায়েলের সমালোচনায় ‘হোয়াট মাস্ট বি সেইড’ নামের একটি কবিতা লিখে ২০১২ সালে তাকে নিজ দেশেও বিতর্কের মুখে পড়তে হয় গ্রাসকে। এই লেখকের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-সেমিটিজমের (ইহুদিবাদ-বিদ্বেষী) অভিযোগ এনে তাকে ইসরায়েলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

১৯৯৯ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের জন্য গুন্টার গ্রাসের নাম ঘোষণা করে সুইডিশ অ্যাকাডেমি। সে সময় অ্যাকাডেমির বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রাস তার অসামান্য লেখনীতে ইতিহাসের ভুলে যাওয়া মুখখানি এঁকেছেন। আরও অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার যোগ হয়েছে তার স্বীকৃতির ঝুলিতে। ‘ক্যাট অ্যান্ড মাউস’ ও ‘ডগ ইয়ার্স’ উপন্যাস দুটি বিশ্বপাঠকের হৃদয় জয় করে নিয়েছে। দ্য টিন ড্রামসহ তিনটি বইয়েই তিনি তুলে আনেন নিজের জন্মশহর ডানজিগ-এ হিটলারের নাৎসি বাহিনীর উত্থান ও নির্মমতার কথা। ডানজিগ শহরটি এখন অবশ্য পোলান্ডে পড়েছে, যার বর্তমান নাম গদানস্ক। চওড়া কাঁধ আর ঝোলা গোঁফের এই মানুষটির জন্ম ১৯২৭ সালে। 

সেখান থেকে জার্মানিতে যাওয়ার পর শুরু হয় তার নতুন জীবন। পাথর খোদাই দিয়ে শুরু করে শিল্পকলার শিক্ষা নিতে নিতেই শুরু হয় তার সাহিত্যচর্চা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জার্মানিতে সাহিত্যিকরা যেখানে রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে পছন্দ করতেন, গ্রাস সেখানে ছিলেন ব্যতিক্রম; স্রোতের উল্টো সাঁতার কাটতেই তিনি বরং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তার মতে, মানবিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের মীমাংসায় সামনের সারিতে থাকা একজন লেখকের দায়িত্ব। 
গুন্টার গ্রাস ছিলেন রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিত্ব। তার লেখায় রাজনীতি ছিল অবশ্য-অনুষঙ্গ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ নামে বিশ্বব্যাপী মার্কিন ছড়ি ঘুরানোর তীব্র সমালোচক ছিলেন এই সাহিত্যিক।  

১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে স্ত্রী উটে গ্রাসকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি, ছিলেন টানা ৭ দিন। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন কখনো কবি বেলাল চৌধুরী, কখনো শিল্পী এসএম সুলতান। তার এ ঘুরে বেড়ানো ফ্রেমে বন্দি করেছিলেন আলোকচিত্র সাংবাদিক নাসির আলী মামুন। সে সময় তিনি পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা, শাঁখারিবাজার, লালবাগের কেল্লা, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প, মৌলভীবাজারে ঘুরে বেড়িয়েছেন।  গিয়েছিলেন টাঙ্গাইল ও সোনারগাঁয়েও গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর তার লেখায় ঢাকার গল্প ওঠে আসে, ওঠে আসে এ শহরের প্রতি তার অগাধ ভালবাসার বিষয়টিও। পরে আরও একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন খ্যাতিমান এই লেখক।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.