সাময়িকী.কম

ঝর্ণা মনি : পরাধীনতার শিকল ভেঙে অমূল্য ঐশ্বর্য, অনন্য সম্মান স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে ৩০ লাখ মুক্তিকামীর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বাংলার সবুজ ঘাস। সুরমা, কুশিয়ারা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা পেরিয়ে রক্তের ধারা মিশে গিয়েছিল বঙ্গোপসাগরে। ভয়াল কালরাত্রির পোড়া মাটি, লাশ আর জননীর কান্না নিয়ে রক্তে রাঙা নতুন সূর্য উঠেছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। রাতে চুপিসারে হানা দেয়া মৃত্যু আর ধ্বংসস্ত‚প পেরিয়ে সেদিন উদিত হয় রক্তিম সেই সূর্য। ভীতবিহŸল মানুষ দেখল লাশপোড়া ভোর। সারি সারি স্বজনের মৃতদেহ। আকাশে কুণ্ডুলী পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া। পুড়ছে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র আঁকা লাল-সবুজ
পতাকা। জ্বলছে মায়ের শাড়ি, বোনের রঙিন জামা। চোখে জল। বুকে আগুন। জ্বলে উঠল মুক্তিকামী মানুষের চোখ, গড়ে তুলল প্রতিরোধ। মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে ট্যাঙ্কের সামনে এগিয়ে দিল সাহসী বুক। সময়ের হাত ধরে আজ সেই নতুন সূর্যোদয়ের দিন, বাঙালির শিকল ভাঙার দিন। বুক পেতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার দিন। ২০০ বছরের দাসত্ব আর ২৪ বছরের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নিজেকে মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেয়ার দিন। আজ মহান ২৬ মার্চ। বাঙালির স্বাধীনতা দিবস। ইতিহাসের সেই অমøান দিন। আজ বৃহস্পতিবার নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি বাস্তবায়ন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল অসাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেবে জাতি।
১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানের শোষণ ও দুঃশাসনের নাগপাশ ছিন্ন করে স্বাধীন হয় প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ মধ্যরাতের প্রথম প্রহরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর শুরু হয় সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় মহান বিজয়। প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার স্বাদ পায় বাংলার মানুষ। বাঙালির চিরকালের গৌরব আর অযুত অহঙ্কারের এক অবিনশ্বর দিন তাই আজ। দীর্ঘকালের পরাধীনতার গøানি আর বিজাতীয় শাসন-শোষণের জাঁতাকল থেকে বেরিয়ে বাঙালির আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ১৯৭১ সালের এই দিনটিতে।
এক ক্রান্তিকাল পেরিয়ে আমাদের প্রিয় স্বদেশ ভূমি স্বাধীনতার ৪৪ বছর পূর্তি হলেও সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ আজো পায়নি এ দেশের মানুষ। ভৌগোলিক মুক্তি এলেও আসেনি মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখি-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে আজ সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব এক গণজাগরণ। যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুষ্টিমেয় গোষ্ঠী ছাড়া গোটা জাতি এই দাবিতে আজ একাট্টা। আর আমাদের সামনে দিনবদলের হাতছানি নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার। তাই তো দেশের মানুষ আজ যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখি-সমৃদ্ধ অসা¤প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ে তোলার আকাক্সক্ষায় উজ্জীবিত।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাংলার এ ভূখণ্ড শাসন-শোষণ করেছে বহু রাজা-বাদশা, নবাব-সুলতানসহ নানা জাতির সামন্ত প্রভুরা। স্বর্ণ প্রসবিনী এই মাটির লোভে এসেছে মগ, এসেছে বর্গি। সাত সাগর তেরো নদী পেরিয়ে এসেছে ব্রিটিশ। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর থেকে প্রায় ২০০ বছর ধরে তারা শাসন ও শোষণ করেছে আমাদের।
ব্রিটিশদের শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় ভারতবর্ষ। ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ-ভারত দ্বিখণ্ডিত হয়ে জন্ম নেয় দুটি রাষ্ট্র- পাকিস্তান ও ভারত। ব্রিটিশের হাত থেকে স্বাধীনতা পেলেও মুক্তি পায়নি বাংলার মানুষ। নেমে আসে পাকিস্তানি শোষণ, বঞ্চনা ও দুঃশাসনের খড়গ। পাকিস্তান সৃষ্টির কিছুদিনের মধ্যেই বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি ধ্বংসের লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে শুধুমাত্র উর্দুকে চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তখনই ফুঁসে উঠে বাঙালি জাতি। শুরু হয় আন্দোলন। ধাপে ধাপে এগিয়ে চলে সে আন্দোলন। ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়, ’৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ সালের ৬ দফা, ’৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় জন্ম দিয়েছে রক্তঝরা একাত্তর।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে মেতে উঠে নানা ষড়যন্ত্রে। এ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলার জনগণ তৈরি হয় চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর এ তাৎপর্যপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের পর সারা দেশে শুরু হয়ে যায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। দানা বেঁধে উঠে স্বাধীনতার সংগ্রাম।
দীর্ঘ ২৪ বছর পাকিস্তানি শোষণ, বঞ্চনা ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ঘুমন্ত নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র সজ্জিত পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী। নির্বিচারে হত্যা করে অগণিত মানুষকে। বাংলার মাটিতে রচিত হয় ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যাকাণ্ডের নজির।
এই নৃশংস গণহত্যায় বাঙালি শোকে পাথর হলেও সেই শোককে পাথরচাপা দিয়েই জ্বলে ওঠে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে। ২৫ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় (অর্থাৎ ২৬ মার্চ) ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করে বঙ্গবন্ধুকে। গ্রেপ্তার হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার হয়ে যায় তখনকার ইপিআরের অয়্যারলেসযোগে। বঙ্গবন্ধুর এ আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকার পিলখানা থেকে ইপিআর অয়্যারলেসে ইপিআরের সুবেদার মেজর শওকত আলী ও তার সঙ্গীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেন। পর মুহূর্তেই ধরা পড়লে পাকিস্তানিরা শওকত আলীকে হত্যা করে। একইভাবে ঢাকার বলধা গার্ডেনে স্থাপিত এক গোপন রেডিও ট্রান্সমিটার থেকে ২৫ মার্চ রাত ১১টায় বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি প্রচার করেছিলেন হাজি মোর্শেদ। এরপর ঢাকার মগবাজার টিএন্ডটি অফিস থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা সারা দেশে প্রেরণ করা হয়।
২৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার অয়্যারলেস মেসেজ চট্টগ্রামে পৌঁছে। এ পর্যায়ে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ রেডিও স্টেশন থেকে ২৬ মার্চ দুপুর ২টায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম প্রচার করেন আওয়ামী লীগ নেতা, তখনকার এমএনএ এম এ হান্নান। এর পরদিন ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় কালুরঘাট ট্রান্সমিশন সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তখনকার অষ্টম বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার এটাই প্রেক্ষাপট। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় ঘুরে দাঁড়ায় বাঙালি। ২৬ মার্চ থেকেই শুরু হয় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াই। নিরস্ত্র মানুষ অদম্য মনোবল আর বুকভরা সাহস নিয়ে রুখে দাঁড়ায় আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আর চূড়ান্ত প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরুর দিন- ২৬ মার্চ তাই আমাদের স্বাধীনতা দিবস। বাঙালির হৃদয়ে স্বর্ণের অক্ষরে লিখিত অমর, অক্ষয় একটি দিন। এরপর দীর্ঘ ৯ মাসের মরণপণ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়।
বাঙালির জাতীয় জীবনে এবারের মহান স্বাধীনতা দিবস এমন এক সময়ে সমাগত যখন দেশের আপামর জনতা দিনবদলের আকাক্সক্ষায় উজ্জীবিত। স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত; স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তনয়া শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুকন্যাই দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন দিনবদলের স্বপ্ন। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের আগেই একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। এরই মধ্যে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নানা পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
তবে বসে নেই স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীও। যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদের হোতা সা¤প্রদায়িক চক্র লিপ্ত রয়েছে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারকে বিপদগ্রস্ত করতে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে একের পর এক অঘটন ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে তাদের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আজ ঐক্যবদ্ধ দেশের প্রতিটি মুক্তিকামী, স্বাধীনতা প্রিয় মানুষ।
এমনি প্রেক্ষাপটে বছর ঘুরে আবার এসেছে মহান স্বাধীনতা দিবস। সব ষড়যন্ত্র ও দুঃশাসনের চির অবসান ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদ ও ঘাতক যুদ্ধাপরাধীমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আকাক্সক্ষায় আজ উদ্দীপ্ত গোটা জাতি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি পালন করবে এবারের স্বাধীনতা দিবস। মহান স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দ্বিধাহীন চিত্তে আজ নতুন করে শপথ নেবে ১৬ কোটি বাঙালি।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে বাণী দিয়েছেন। পৃথক পৃথক বাণীতে তারা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত সুখি-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সূর্যোদয়ের লগ্নে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হবে। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সূর্যোদয়ের লগ্নে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর শ্রদ্ধা জানাবে বিভিন্ন দল, সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ।
আওয়ামী লীগ : প্রতিবারের মতো এবারো মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ ২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের লগ্নে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।
টুঙ্গিপাড়ায় কর্মসূচি : সকাল ১১টায় টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। ২৭ মার্চ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনা করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা।
সৈয়দ আশরাফের আহ্বান : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ গৃহীত সব কর্মসূচি দেশবাসীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য দলের সব শাখা এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ এ ধরনের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং রাতে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন। এদিন রাজধানীর সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকাসহ নানা রঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গণজাগরণ মঞ্চ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নতুনধারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন যুব ও ছাত্র সংগঠন মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সূত্র : ভোরের কাগজ
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.