যে বয়সে ফড়িঙের পেছনে ঘুরে বেড়াতাম -
লাল নীল রঙিন ফ্রকে বলতো সবাই 'পরী ',
যখন বুঝে না বুঝে দাপিয়ে বেড়াতাম
এ বাড়ির ও বাড়ির প্রতিটি ঘর মনের আনন্দে।
আর অতি বেশী পছন্দ করতাম প্রিয় 'মিমি চকলেট ',
সেই বাঁধভাঙ্গা আদরে একদিন আবিষ্কার করলাম -
প্রিয় ' মিমি চকলেটের 'আদরে রয়েছে অনেক কষ্ট।
সেই পাশের বাসার ভাইয়াটি, যে আমাকে
অনেক মিনি চকলেট দিত ;
আর আমাকে আদর করত একদম অন্যভাবে।
চুমোয় চুমোয় আমাকে ভরিয়ে দিত,
হাত বোলাতো সারা শরীরের নরম অংশে,
চুষে লাল করে দিত আমার কচি বুক।
যার কিছুই আমি সেই সময় বুঝতাম না ;
এভাবেই ভাইয়া বাড়িয়ে দিল তার মিমি চকলেটের মাত্রা।
আমাকে নিয়ে যেত ছাদের কোণায়,
পরিত্যক্ত ষ্টোররুমে নিরবে নির্জনে একাকী আমার সাথে।
আমি ব্যাথায় চিৎকার করে উঠতাম
ও আমার মুখ চেপে ধরতো,
আর বলতো, এইতো, এইতো হয়ে গেছে।
তোমার জন্য কতগুলো মিমি চকলেট এনেছি
তুমি কাউকে বলো না 'এগুলোর কথা ' ;
আমি কাউকে বলতাম না 'এগুলোর কথা '।
এমনি করেই আমাকে অনেকবার মিমি চকলেট নিতে হয়েছে,
আর সেইসাথে পেতে হয়েছে জঘন্য বিশ্রী কষ্ট।
একসময় মিমি চকলেটকে ঘৃণায় ছুড়ে ফেলি,
সেইসাথে মাটিচাপা দেই একাকী স্বাধীন ফড়িঙের
পেছনে মুক্ত বলাকার ছুটে চলার অবারিত   আনন্দ।
নিজেকে নিজের ভূবনে বন্দী করে
ভুলতে চেয়েছি সেইসব ভয়ঙ্কর কষ্টের অনুভূতি।
এখনো আমি মিমি চকলেট দেখলেই শিউরে উঠি,
অজান্তেই মনে পড়ে যায় সেই 'মিমি চকলেটের 'কষ্টের কথা।

সাখাওয়াৎ আলম চৌধুরী,
দুবাই, আরব আমিরাত।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.