রফিকুল ইসলাম সাগর
সাময়িকী.কম
ক্রেতা নেই! অলস সময় কাটাচ্ছেন গরু বিক্রেতারা। ছবি : রফিকুল ইসলাম সাগর / সাময়িকী.কম

ঢাকা : ঈদের আরমাত্র কয়েকঘন্টা বাকী। ইতিমধ্যে পছন্দের কোরবানির পশু কেনাকাটার ধুম পড়েছে সারাদেশে। পথে বের হলেই দেখা যায় লাল কালো সাদা রঙের গরু আর গরু। কোরবানির পশু কিনে নিশ্চিন্ত হয়েছেন বেশিরভাগ মানুষ। যারা এখন পর্যন্ত কিনেননি তারাও ছুটছেন হাটের দিকে। সামর্থ অনুযায়ী বাজেটের পশু দেখছেন। চলছে দামদর নিয়ে মুলামুলি।

রাজধানীর পশুরহাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বড় মোটাতাজা গরুর চাইতে ছোট গরুর চাহিদা অনেক বেশি। বিশেষ করে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা উল্লেখযোগ্য। রাজধানীতে এখনো ট্রাকে ট্রাকে গরু প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

শনিবার রাত ৯টায় রাজধানীর বনানী পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে গরুর তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। এমন অবস্থায় বিক্রেতাদের পুরোপুরি অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। অনেক বিক্রেতার মুখ গোমরা, চোখে অনিশ্চয়তার ভয়। এখন সবকিছু তারা ভাগ্যের উপর ছেড়েছেন। ভারতীয় গরুর চেয়ে দেশী গরুর সংখ্যাই চোখে পড়েছে বেশি। যার মধ্যে অধিকাংশই আকর্ষন করার মতো গরু।

বনানী পশুর হাট কাকলী সিগনাল থেকে শুরু হয়ে ষ্টাফ রোড পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। যা অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক বড় হাট জমেছে বলে মন্তব্য করেছেন এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, বনানীতে এর আগে আমি এতো বড় হাট আর কখনো দেখিনি। এবারই প্রথম এ হাটে এতো গরু দেখলাম।

এ হাটে কর্তব্যরত একজন ভলেন্টিয়ার সোহেল বলেছেন, 'গতকাল প্রচুর পরিমানে গরু বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আজ ক্রেতার সংখ্যা অপ্রত্যাশিত কম হওয়ায় গতকালকে যে গরুর দাম চাওয়া হয়েছিল আড়াই লাখ টাকা সেই গরুর দাম এক লাখে নেমেছে। মনে হয় দাম আরো কমবে। এখনো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু এখানে আসছে।'

হাটের একটু ভিতর দিকে রেললাইনের নিকটে গিয়ে দেখা গেছে, একসাথে পাচজন-ছয়জন, কোথাও দু;তিনজন বিক্রেতা বসে অলস সময় কাটাতে আড্ডা জমিয়েছেন। হাতে ক্যামেরা দেখে ক'জন একটু নড়েচড়ে বসলেন। একজন বুঝতে পারল ছবি তোলা হবে। আর তাই চুল এবং শার্টের বোতাম ঠিক করতে শুরু করল। তাদের মধ্যে থেকে একজন বলল, 'ও ভাই! ছবি তোলেন ক্যা?'
শুক্রবার বিক্রেতা গরুটির দাম চেয়েছিল দুইলাখ বিশ হাজার। পরেরদিন শনিবার দাম চাওয়া হয় আশি হাজার টাকা। ছবি : রফিকুল ইসলাম সাগর / সাময়িকী.কম

সংবাদ প্রকাশ হবে বলে জানার পর তাদেরকে একটু খুশি হতে দেখা যায়। সে একই বিক্রেতা সিরাজগঞ্জের খলিলুর রহমান বলেন, ''তোলেন! ছবি তোলেন। আমগোর কথা একটু লেইখেন। আমার ছয়টা গরুর মধ্যে দুইটা বিক্রি হয়িছে। আর এই চারটা আছে (হাত নাড়িয়ে গরু গুলো দেখিয়ে বলেন)। আপনারা একটু লেখবেন যেন মানুষরা আমার গরু কিনতে আসে।''

বনানী রেল ষ্টেশন ভবনের পাশে সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু বিক্রেতা খায়রুল ইসলাম বলেন, ''এ হাটে পানির খুব সমস্যা। পানির জন্য খুব সমস্যা হচ্ছে।'' পাশ থেকে আরেকজন বিক্রেতা আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেন, ''আমরা একটু আগে ওইযে ওদিকে ছিলাম (হাত উঠিয়ে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে) সেখানে লাইট নাই। তার জন্যে এখন এদিকে আসছি।''

অন্যদিকে অল্প বয়স্ক এক গরু বিক্রেতা তকদির আলী জানান, তার বাপ, কাকা, ভাইসহ আরো একজন হাসপাতালে। তারা নিজেরাই ভাত রান্না করেছিল। সেই ভাতে কে যেন কি পাউডার মিশিয়ে দিয়েছিল। ভাত খেয়ে তারা গভীর ঘুম। ঘুমের নেশা কাটাতে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিতে পারেনি বলে জানায় তকদির। টাকা অন্যত্র সরিয়ে রাখার কারণে নাকি রক্ষে পেয়েছে।

হাট পরিচালনা ক্যাম্পের সামনে গিয়ে গেছে, ভলেন্টিয়াররা একজন মোবাইল চোরকে ধরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে।

হাটে গরু বিক্রেতারা রাতের খাবার খাচ্ছেন। ছবি : রফিকুল ইসলাম সাগর / সাময়িকী.কম

বনানী পশু হাটের ইজারাদার ফারুক রাজা বলেন, মানুষের পরিমানটা অনেক বেশি হওয়ায় পানির একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে সমস্যাটা খুব বেশি না। আর লাইটের ব্যাপারসহ অন্যান্য যেকোনো সমস্যার কথা ব্যাপারী ভাইরা আমাদের অভিযোগ করলে সাথে সাথে ভলেন্টিয়ারদের নির্দেশ দেয়া হয় তা সমাধান করার। এছাড়া আমরা বারবার মাইকিং করছি, ''আপনারা কারো দেয়া কিছু খাবেন না। কারো আচরণ সন্দেহ মূলক মনে হলে সাথে সাথে আমাদের জানান।''

ফারুক রাজা আরো বলেন, আমরা ক্রেতা বিক্রেতার নিরাপত্তার জন্য সর্বান্তক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.