সাময়িকী.কম
পিতা-মাতা বা অভিভাবক হিসেবে আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা থাকুক হাসি-খুশি। সন্তানের খুশির জন্য যদি আমাদের কিছুটা অসুবিধা মেনে নিতে হয়, মেনে নিতে হয় বিরক্তিকর আবদারও, তাতেও আমরা খুশি থাকি। বাচ্চারা নানা রকম খেলনা দিয়ে খেলতে পছন্দ করে। তাদের খেলনাগুলো থেকে বিরক্তিকর শব্দ উৎপন্ন হলেও আমরা হাসিমুখে সেটা সহ্য করি। সেটা যদি বাচ্চার না হতো, তবে নিশ্চিত আপনি তা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলতেন।
আচ্ছা, যে সব খেলনায় আপনি বিরক্ত হচ্ছেন, কিন্তু সন্তানের খেলনা বলে মেনে নিচ্ছেন, আপনার কি মনে হয় না সেই সব খেলনা বাচ্চাটার জন্যও একই রকম বিরক্তিকর? শুধু সে সেই বিরক্তিকর অনুভূতি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে নি বলে, সে সেটা ধরতে পারছে না। একটা বিরক্তিকর বিষয়ে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে আপনার সন্তান এমন ভাবে কি ভাবা যায় না?
সন্তানের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা- এবং স্বাভাবিক বুদ্ধি বিকাশের কথা চিন্তা করে আপনার সন্তানকে কয়েকটি খেলনা সম্পর্কে ‘না’ বলতে হবে। নিচের খেলনাগুলো আপনার সন্তানকে কখনোই কিনে দেবেন না।

১। যেসব খেলনা বিরক্তিকর শব্দ উৎপন্ন করে:

অনেক খেলনা আছে যেগুলো বিরক্তিকর সব শব্দ উৎপন্ন করে। ‘ফায়ার! ফায়ার!’ কিংবা হিন্দি গানের মিউজিক বিরক্তিকর ভাবে বাজাতে থাকে, সেসব খেলনা কখনোই আপনার বাচ্চাকে কিনে দেবেন না। এগুলো আপনার বাচ্চার শ্রবণ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে। বিরক্তিকর এই শব্দগুলোতে সে অভ্যস্থ হয়ে উঠবে। যেটা স্বাভাবিক নয়।

২। আলো বিচ্ছুরণকারী খেলনা:

কিছু খেলনা আছে আলো বিচ্ছুরিত করে। সেসব খেলনার বিচ্ছুরিত শক্তিশালী আলো আপনার সন্তানের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে। ‘লেজার লাইট’ কিংবা এ জাতীয় খেলনা থেকে আপনারা সন্তানকে দূরে রাখুন।

৩। আসক্তি তৈরি করে যে সব খেলনা:

যে সব খেলনা শিশু মনে আসক্তি তৈরি করে সে সব খেলনা বাচ্চাদের না দেয়ায় ভালো। কারণ এই সব খেলনা তার সম্পূর্ণ মনোযোগ সে দিকে নিয়ে গেলে তার স্বাভাবিক বিকাশ ব্যহত হতে পারে। তাই যে সব খেলনা বাচ্চাদের মনে আসক্তি তৈরি করে সে সব খেলনা থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখবেন।

৪। যে সব খেলনা সেন্সর নিয়ন্ত্রিত:

কিছু খেলনা এমন যে আপনি হেঁটে গেলে সেটা সংকেত দেবে। কিংবা আপনার উপস্থিতির সংকেত তৈরি করতে পারে। এমন খেলনা সন্তানকে কিনে না দেয়ায় ভালো হবে। এতে করে আপনি তার উপর নজর রাখতে পারবেন না। আপনার উপস্থিতি সে আগে থেকেই বুঝে ফেলবে। আর বাচ্চাদের বোঝার ক্ষমতা কম বলে আপনাকে ফাঁকি দিয়ে বিপজ্জনক কিছু একটা করে ফেলার মানসিকতাও তৈরি হতে পারে।

৫। যে সব খেলনা আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করে:

কিছু খেলনা আছে যেগুলোতে বারুদ ব্যবহার করে বা অন্য কোন উপায়ে আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করে, সেসব খেলনা কখনোই আপনার সন্তানকে কিনে দেবেন না। স্ফুলিঙ্গ থেকেই আগুনের উৎপত্তি। যে কোন সময় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

৬। অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় এমন খেলনা:

যে সব খেলনা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় এমন খেলনা কখনোই কিনে দেবেন না। যেমন ‘শক্ত বল’, তিক্ষ্ম ফলা যুক্ত খেলনা, ধাতব ছুরি, কাঠের তলোয়ার ইত্যাদি। খেলতে খেলতে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে যে কোন সময় এমন সব খেলনা থেকে দূরে রাখুন আপনার বাচ্চাকে।

৭। চাকা যুক্ত খেলনা যা বাচ্চা একা চালাতে পারবে না:

চাকা যুক্ত খেলনা যেগুলো বাচ্চারা একা চালাতে পারবে না। সেগুলো বাচ্চাদের কিনে না দেয়াই ভালো। দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। যেমন সাইকেল বা ট্রাই সাইকেল, এগুলোর ব্র্যাক থাকে না অনেক সময় এবং ছোট বাচ্চারা ব্যবহার করতেও পারে না একা একা। এইসব খেলনা কিনে দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
আপনার বাচ্চাকে সে সব খেলনা কিনে দিবেন, যে গুলো তার বুদ্ধি বিকাশে সহায়তা করবে নির্মল আনন্দও দিবে। আপনার সন্তান বেড়ে উঠুক স্বাচ্ছন্দ্যময় সুন্দর পরিবেশে।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.