তানভীর আশিক
রাজা দাউদের জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম ছিল অম্নোন। অম্নোনের এক সৎবোন ছিলো, নাম তামর। তামরের আপন বড় ভাইয়ের নাম অবশালোম। তামর দেখতে খুব সুন্দরী ছিলো। তার তখনো বিয়ে হয়নি। তামরের অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে অম্নোন তার প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু তারা একই পিতার সন্তান বলে অম্নোন কী করবে, বুঝে উঠতে পারছিলো না। বোন তামরের প্রেমে পড়ে তার চিন্তায় অম্নোন দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছিলো। একদিন তার বন্ধু যোনাদন তাকে জিজ্ঞেস করলো, রাজপুত্র হয়েও দিন দিন তুমি এমন রোগা হয়ে যাচ্ছ কেন হে? ঘটনা কী? অম্নোন তার মনের ব্যথা সমস্তই যোনাদনকে খুলে বললো। সব শুনে যোনাদন তাকে পরামর্শ দিলো।
যোনাদনের পরামর্শ মতে অম্নোন অসুখের ভান করে শুয়ে থাকলো। অসুস্থ ছেলেকে রাজা দেখতে আসলেন। তখন অম্নোন তার পিতাকে জানলো যে তার তামরের হাতের পিঠা খেতে ইচ্ছে করছে, সেই পিঠা যেন তামর তার সামনে বানায়। রাজা দূত পাঠায় তামরের কাছে, সে যেন তার ভাই অম্নোনকে নিজ হাতে পিঠা বানিয়ে খাইয়ে দিয়ে আসে। অসুস্থ ভাইয়ের ইচ্ছার কথা শুনে তামর তার ভাই অম্নোনের ঘরে গেল। অম্নোন শুয়ে থাকলো আর তামর পিঠা বানিয়ে তাকে খেতে দিলো। কিন্তু অম্নোন তা খেলো না। সে সব দাস-দাসীকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বললো। সবাই ঘর থেকে বের হয়ে গেলে সে তামরকে বিছানায় তার পাশে শুতে বললো।
তামর তাকে বলল, “না ভাই, না; তুমি আমার ইজ্জত নষ্ট কোরো না। ইসরাইলীয়দের মধ্যে এমন কাজ করা উচিত নয় । এই রকম জঘন্য কাজ তুমি কোরো না। আমার কি হবে? কেমন করে আমি এই কলঙ্কের মুখ লোকদের দেখাব? আর তোমাকেও ইসরাইলীয়দের মধ্যে একজন খারাপ লোক বলে সবাই জানবে। মিনতি করি, তুমি বরং বাদশাহ্‌র কাছে গিয়ে বল; তাহলে তিনি তোমার হাতে আমাকে দিতে অমত করবেন না।”
কিন্তু অম্নোন তামরের কথা না শুনে তাকে ধর্ষণ করলো। এরপর অম্নোন তামরকে খুব ঘৃণা করতে শুরু করলো। যতোটা সে তাকে ভালোবেসেছিলো তার দ্বিগুণ পরিমান সে ঘৃণা করতে লাগলো। আর তামরকে তার ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বললো।
তামর তাকে বলল, “না, তুমি আমার প্রতি একটু আগে যে অন্যায় করেছ এখন আমাকে বের করে দিলে তার চেয়েও বেশি অন্যায় করা হবে।”
এবারো অম্নোন তার কথা শুনলো না। সে দাস ডেকে তামরকে বাইরে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো।
তামরের গায়ে ছিলো রীতি অনুযায়ী অবিবাহিত মেয়েদের জুব্বা। কারণ রাজার অবিবাহিতা মেয়েরা এই রকম পোশাকই পরত। তামর তার জুব্বাটি ছিঁড়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘরে ফিরলো। তামরের ভাই অবশালোম তাকে জিজ্ঞাসা করলো তার কান্নার কারণ। তামর বিস্তারিত বললে তামর তাকে মন খারাপ করতে নিষেধ করে। আর বলে ‘সে তোমার ভাই, এই কথা আর কাউকে বলো না’।
রাজা দাউদ এ বিষয় জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিন্তু অম্নোনকে কোনরূপ শাস্তি দেন না।
এই ঘটনার দু’বছর পর আফরাহীমের সীমানার কাছে বাল-হাৎসোরে অবশালোমের ভেড়ার লোম কাটা হচ্ছিল। এ উপলক্ষে অবশালোম রাজা ও তার সব ছেলেদের সেখানে যাবার দাওয়াত করল। রাজা গেলেন না। তিনি অম্নোনকে এবং তার সঙ্গে সব রাজপুত্রদের পাঠিয়ে দিলেন।
নৈশভোজ শেষে অম্নোন যখন আঙুরের রস পান করে মাতাল হলো, তখন অবশালোমের লোকেরা অম্নোনকে হত্যা করে। এইভাবে দুই বছর পর অবশালোম তার বোন তামরের প্রতি করা অম্নোনের অন্যায়ের প্রতিশোধ নেয়।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.