তানভীর আশিক
ইস্রায়েলীয় দায়ূদ তখনো তার পিতার ভেড়ার পাল দেখাশুনা করেন। ভেড়ার পাল মাঠে ছেড়ে দিয়ে গাছের নীচে বসে বীণা বাজান, নিজে সুর করে গান করেন। আর গুলতি দিয়ে হাতের নিশানা ঠিক করেন। এইভাবে তার দিন ভালোই চলছিলো। শিল্পী হিসাবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন তার বাজানো বীণা ও গান শুনতে পছন্দ করতো।
যাইহোক, একবার ইস্রায়েলীয়দের আক্রমণ করার জন্য শত্রুদল এলা উপত্যকায় এসে তাঁবু ফেললো। শত্রুদের গলিয়াৎ নামে এক বীর ছিলো। সে দেখতে ছিলো ঠিক দৈত্যের মতো। দশফুট লম্বা আর গায়ে ছিলো প্রচণ্ড শক্তি। গলিয়াতের হাতের বর্শাটি ছিলো মানুষের বাহুর মত মোটা। শত্রুদল অপেক্ষা করছিলো কেউ তাদের আক্রমণ করুক, তাতে তারা পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পাবে এবং ইস্রায়েলীয়দের মেরে তাদের সম্পত্তি দখল করে নিতে পারবে। কিন্তু ইস্রায়েলীয়রা তাদের আক্রমণ করার সাহস পাচ্ছিলো না গলিয়াতের ভয়ে।
প্রতিদিন গলিয়াৎ অহংকারের সাথে ইস্রায়েলীয়দের ডেকে উপহাস করে বলতো, ‘ওরে ভীতুর দল, তোদের মাঝে কোন বীর নেই যে আমার সাথে যুদ্ধ করে? পিতার ঔরসে জন্মেছে এমন কোন ইস্রায়েলীয় পুরুষ নেই? নাকি এরা সব নারী! ঘরের মধ্যে বসে থাকে?’ টিটকারী শুনে সবার গা জ্বলে যেতো। কিন্তু তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে কেউ সাহস করতো না।
দায়ূদের তিন ভাই ইস্রায়েলীয়দের রাজা শৌলের সৈন্যদলে যোগ দিয়েছিলো। দায়ূদের বাবা দায়ূদকে কিছু খাবার দিয়ে পাঠান তার ছেলেরা কেমন আছে তা জেনে আসার জন্য। দায়ূদ যখন ভাইদের জন্য খাবার নিয়ে সেখানে এলেন ঠিক সেই সময়ে গলিয়াৎ হুংকার ছেড়ে তাদের ভয় দেখাতে এল। দায়ূদ গলিয়াতের উপহাস ভরা কথা শুনতে পেলেন। তিনি আর আর সৈন্যদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কে এই লোক যে, আমাদের সৈন্যদের টিট্কারী দেয়? আমাকে তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে দিন।’ সেখানকার সৈন্যরা দায়ূদের কথা শুনে হাসতে লাগল। কিন্তু রাজা শৌলের কানে যখন এ কথা গেল তখন তিনি দায়ূদকে ডেকে পাঠালেন। রাজা বললেন, ‘তুমি তো একেবারে ছেলে মানুষ! কীভাবে তুমি এই বিশাল দৈত্যটির সাথে যুদ্ধ করার সাহস কর?’ দায়ূদ রাজাকে জানালেন, ‘সিংহ ও ভালুক যখন আমার ভেড়ার পাল আক্রমণ করেছে তখন তাদেরকে আমি কৌশলে মেরে ফেলেছি। যত বড় বীরই হোক না কেন তাদের দুর্বল স্থান আমি জানি। আমি পারবো এই লোকটিকে পরাজিত করতে। রাজা বললেন, ‘খুব ভাল। তবে যাও, ঈশ্বর তোমার সঙ্গে থাকুন।’ রাজা তার তলোয়ার ও যুদ্ধের পোশাক দায়ূদকে দিলেন। কিন্তু দায়ূদ সে পোশাক গায়ে দিয়ে হাঁটতেই পারছিলেন না। তাই তিনি তা খুলে রাখলেন। তারপর নিজের রাখালের লাঠি ও গুলতি আর কিছু ধাঁরালো পাথর থলিতে নিয়ে তিনি গলিয়াতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গেলেন।
কিশোর দায়ূদকে আসতে দেখে গলিয়াৎ হাসিতে ভেঙ্গে পড়লো। অন্য সৈন্যরাও হাসাহাসি করতে থাকলো। ‘এই কি তোদের বীর?’ এই বলে সে ইস্রায়েলীয় সৈন্যদের উপহাস করতে লাগল। কিন্তু দায়ূদ চিৎকার করে বললেন, ‘আজই ঈশ্বর তোকে আমার হাতে তুলে দেবেন। তখন সবাই জানতে পারবে যে, ইস্রায়েলীয়দের ঈশ্বর আছেন।’ দায়ূদ তার থলি থেকে একটি পাথর নিয়ে তার গুলতি দিয়ে গলিয়াতের চোখ বরাবর ছুঁড়ে মারলেন। পাথরটি চোখের পলকে ছুটে গিয়ে গলিয়াতের চোখে এত জোরে আঘাত করল যে, তা এক চোখের ভেতর দিয়ে একেবারে মস্তিষ্কে ঢুকে গেল। তখনই সে মাটিতে পড়ে গেল।
দায়ূদ দৌড়ে গলিয়াতের কাছে গিয়ে তার তলোয়ার দিয়েই গলা কেটে ফেললেন। এতে শত্রুদলের সৈন্যরা ভয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালিয়ে গেল। এ দেখে ইস্রায়েলীয়রা তাদের পিছনে পিছনে তাড়া করে গেল।
আর দায়ূদ একজন বীর যোদ্ধা হিসেবে সম্মানিত হলেন।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.