সাময়িকী.কম
ঈশ্বরের অবাধ্য হবার কারণে ডেমনকে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করা হয়। ডেমন ছিল যথেষ্ট শক্তিধর চালাক এবং একজন সম্মোহনকারী। ডেমন দেখতেও যথেষ্ট সুন্দর ছিল। কিন্তু তার সৌন্দর্যে পবিত্রতার চাইতে পঙ্কিলতাই ছিল বেশি।
তবে গ্রিক পুরাণে ডেমন একক কোনো চরিত্রের নাম নয়। ডেমনরা সংখ্যায় সীমাহীন এবং অপ্রত্যক্ষ ছিল। ঈশ্বর যেমন সবসময় সবখানে অবস্থান করতে পারেন ডেমনরাও তেমনি সবসময় সবস্থানে উপস্থিত থাকতে পারত। ডেমন লুকিয়ে থেকে নিজের উপস্থিতি প্রকাশ করতে পছন্দ করত। ডেমনের আসল কাজ হল মানুষকে সম্মোহিত করে তাকে বিপথগামী করা।
ডেমন স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হবার পর স্যাটার্ণ সাপের রূপ ধারণ করে ইভকে স্বর্গের নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার জন্য প্ররোচনা দিতে থাকে। গ্রিক পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী স্যাটার্ণ এভাবেই পৃথিবীর আদি মানব মানবীকে বিপথগামী করে।
পুরাণে বর্ণিত আছে যে ডেমনরা নিজেদের অধিক শক্তিশালী করে তোলার জন্য পৃথিবীর সব বড় ধরনের অপশক্তির সাথে হাত মিলিয়েছিল। জাদুকর মার্লিন, শয়তান রবার্ট এবং তানহুজার তাদের সমোন্নিত শক্তিকর সাহায্যে নিজেদের দুর্দমনীয় করে তোলে।
ফাউস্ট নামের এক অপশক্তির বাসনা ছিল পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিধর বস্তু হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। ফাউস্ট ছিল একজন আবিষ্কারক জাদুকর। সে সবসময় প্রাকৃতিক শক্তির সাধনা করত এবং সেই শক্তি নিজের ভেতরে অন্তর্নিহিত করার চেষ্টা করত। স্যাটার্ণ ফাউস্টের আকাঙ্খাগত এই দুর্বলতা জানতে পেরে ফাউস্টকে বলে এই দুঃসাহসিক অভিযানে সে তাকে সাহায্য করতে পারে তবে শর্ত হল মৃত্যুর পর ফাউস্টের আত্মাটি তার আত্মায় একীভূত করতে হবে। ফাউস্ট রাজি হলে এক পর্যায়ে স্যাটার্ণ তার কূটচালে ফাউস্টকে মেরে ফেলে এবং ফাউস্টের আত্মাটি নিজের আত্মার সাথে একীভূত করে ফেলে। এরপর থেকে ফাউস্ট অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং অপরিমেয় শক্তির অধিকারী হয়ে ওঠে।
প্রায় প্রত্যেক অঞ্চলের পুরাণ কাহিনী রুপকথায় তাদের নিজস্ব ডেমন রয়েছে। এমনকি একই অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন ট্রাইবদের মাঝেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ডেমনের কাহিনী। ভারতীয় পুরাণ অনুযায়ী রাক্ষ্মস হল এক প্রকার ডেমন। যাদের নেতার নাম রাবন। জাপানিজ পুরাণ কাহিনীতে টেঙ্গু হল এক প্রকার ডেমন। চাইনিজদের ডেমন হল কুঈ এবং ইসরাইলি ডেমনের নাম বেলজিবাব।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.