সাময়িকী.কম
আজকাল অর্থনৈতিক কারণে হোক বা ক্যারিয়ার, শহুরে জীবনে বেশিরভাগ বাবা মাই দুজনে চাকরি করেন। গর্ভকালীন ছুটি মেলে ৬ মাস। যা দেখতে দেখতেই চলে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে চাকুরিজীবী বাবা মায়ের যে সন্তান সে তার বাবা মাকে কতটুকু কাছে পাচ্ছে? সারাদিন একলা বড় হওয়া বাচ্চাটির সাথে বাবা মায়ের দূরত্ব যেন এক অনিবার্য ব্যাপার। জীবিকার তাগিদে হয়তো ছোট্ট সন্তানটিকে আপনি বাসায় রেখেই অফিসে আসছেন, আর ফিরছেন সেই রাতে, কিন্তু তারপর?
সাত সকালে যখন ছোট্ট বাচ্চাটাকে রেখে আপনি সারাদিনের জন্যে চলে আসেন, ভাবুন তো আপনার ছোট্ট বাচ্চাটা কতোটাই না মিস করে আপনাকে। কিন্তু এমন যদি হয়, এমন কিছু কাজ বা মজার কিছু লেখা যা আপনার সন্তানকে সারাদিন আপনার উপস্থিতি অনুভব করাবে। তাহলে কি ভালোটাই না হয়!
জেনে নিন এমনই ছোট্ট কয়েকটি উপায়, যা আপনাকে আপনার সন্তানের সাথে যুক্ত রাখবে দিনভর আন্তরিক ভালোবাসায়!

১। এখানে ওখানে লুকিয়ে রাখা চিঠিঃ

ছোট্ট ছোট্ট কাগজে এক দুই লাইনের মজার কিছু লিখে (মামনি নাস্তা করলে হবে সুপারম্যানের মত শক্তিশালী, দুপুরে ঘুমালেই ঘরে আসবে নীল রঙের পরী, বাবা-মা তোমাকে অনেক ভালোবাসি) আপনার বাচ্চার জামার পকেট, সকালে নাস্তার প্লেট, খাতার ভেতরে রেখে দিয়ে আসতে পারেন। বাচ্চাটি যদি এখন ঠিক্মতন পড়তে না পারে তবে ছোট্ট ছোট্ট কার্টুন এঁকে দিলেও হবে। এতে সারাদিন আপনার সন্তানের কাছে না থেকেও মনের মাঝেই থাকবেন আপনি।

২। মজার কিছু স্টিকারঃ

কিছু মজার স্টিকার কিনে ফেলুন। মা বাবা ও সন্তানের কার্টুনের। প্রতিদিন একটি স্টিকার তার পকেটে দিয়ে দিন আর যাবার আগে বলুন যখনই সে স্টিকারটা দেখবে, তার যাতে মনে হয় তার মা/বাবা এই তার সাথে আছে।

৩। প্রতিদিন লিখতে বলুন ওর মনের কথাগুলোঃ

ওকে খুব সুন্দর একটা ডায়েরী কিনে দিন। যতক্ষণ আপনি বাসায় থাকবেন না, ওকে বলুন আজ ও যা যা করেছে, তা হুবুহু লিখে ফেলতে। আপনার অনুপস্থিতিতে যদি ওর আপনাকে কিছু বলতে ইচ্ছে করে, সেটাও যেন ও লিখে ফেলে সেখানে। অফিস থেকে ফিরে অবশ্যই এই চিঠিটা মন দিয়ে পড়বেন। আপনার বাচ্চা কি ভাবছে, ওর মন খারাপ হয়েছে কিনা, কিসে ও খুশি হয় ইত্যাদির মাধ্যমে আপনি সারাদিন ওর সাথে না থেকেও জানতে পারবেন ওর ব্যক্তিত্ব কিভাবে বিকশিত হচ্ছে। সেই সাথে এই চিঠি লেখার মাধ্যমে আপনার সাথে আপনার সন্তানেরও অবিচ্ছেদ্য এক সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

৪। বিশেষ সাংকেতিক ভাষাঃ

বাচ্চার সাথে দু একটা সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করতে পারেন। যার অর্থ আপনি আর ও ছাড়া কেউ বুঝবে না। এতে বাচ্চাটি ভাববে আপনি তাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ও যে নিজেকে স্পেশাল ভাববে। আর সেই সাথে আপনাকেও। কেননা বাচ্চা তাই অনুকরণ করবে যা আপনি করেন।

৫। কয়েকবার ফোনে কথা বলুনঃ

এটা সবচেয়ে জরুরী। আপনার সন্তান কথা বলতে পারলে এটা সবচেয়ে ভালো। আর পুরোপুরি কথা বলতে না শিখলেও ওর সাথে দিনে অন্তত কয়েক বার সময় করে কথা বলুন। সন্তান ও আপনার মাঝে দূরত্ব কম হবে।

৬। পারিবারিক ভিডিও করুন ও দেখানঃ

যতটুকু সময়ই বাচ্চাকে দিচ্ছেন, সম্ভব হলে মোবাইল ক্যামেরায় সেটি ধারণ করুন বা ছবি তুলুন, যখন বাসায় থাকবেন না সারাদিন, যার দায়িত্বে বাচ্চাকে রেখে যাবেন, তাকে বলুন কার্টুন বা অন্য কিছু দেখাবার ফাঁকে যেন এই ভিডিও বা ছবিগুলোও বাচ্চাকে দেখানো হয়।
আপনার শিশুকে হয়তো পেশাগত কারণেই সবটুকু সময় দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তাকে বোঝানো সম্ভব যে, আপনি সব সময় তার পাশেই আছেন। সে মোটেই একা নয়! ভালোবাসায় বেড়ে উঠুক আপনার সন্তান। একাকীত্বে নয়!

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.