তানভীর আশিক
মনে আছে, আইসিস পুর্নজ্জীবিত করেছিলো অসিরিসকে? তারপর তাদের মিলন হয়। সকালে সেত এসে খোঁজ পেয়ে যায় অসিরিসের আর ঘুমন্ত অসিরিসকে কেটে চৌদ্দ টুকরা করে ছড়িয়ে দেয় সমগ্র মিশরে। আইসিস আবার অসিরিসের সেই চৌদ্দ টুকরা জড়ো করে, সেলাই করে মমি বানিয়ে রাখে। আর অসিরিসের আত্মা চলে যায় পাতালপুরীতে। তারপর আইসিস তার গর্ভ থেকে জন্ম দেয় এক পুত্র সন্তানের। নাম রাখা হয় হোরাস।
হোরাসকে নিয়ে মা আইসিস পালিয়ে যায়। নীলনদ ধরে যেতে যেতে গোপন এক দ্বীপ চেমিসে পৌঁছায়। সেখানেই বাস করে মা-ছেলে। হোরাস বড় হতে থাকে। আইসিস তাকে শেখাতে থাকে রাজবিদ্যা। যুদ্ধও। হোরাস একটু বড় হলেই। তাকে জানানো হয় সমস্ত ঘটনা। বলা হয় তার চাচা সেত কী করে বাবা অসিরিসকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেছে। সব শুনে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে ওঠে হোরাস।
আইসিস ও হোরাস
হোরাস আইসিসকে নিয়ে ফিরে আসে মিশরে। অশুভ দেবতা সেতের মুখোমুখি হয়। হোরাস সেতকে বলে, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমিই মিশরের রাজা। পিতার সিংহাসন পুত্রই পেতে পারে। আমার সিংহাসন আমাকে ফিরিয়ে দিন।’ কথা শুনে হেসে ফেলে সেত। বলে, ‘সিংহাসন পেতে হলে যুদ্ধ করে পেতে হবে, খোকা।’ সেত ভাবে ছোট্ট এই ছেলে নিশ্চয়ই তার সাথে যুদ্ধে পারবে না। হোরাসও সাহসী যুদ্ধে রাজী হয়ে যায়।
যুদ্ধ চলতে থাক বছরের পর বছর। কেউ কাউকে পরাজিত করতে পারে না। সেত তুলে নেয় হোরাসের চোখ। হোরাসও কম যায় না। থেঁতলে দেয় সেতের অণ্ডকোষ। আর এ কারণেই সেত অনু্র্বর। সে যাই হোক, যুদ্ধ চলে সমানে সমান। কেউ কারো অংশে কম না। এই দেখে দেবতাদের সভা বসলো। স্বভাবতই সভাপতি দেবতা রাজরা। যুদ্ধের দেবী নেইথ বললো, হোরাসই সিংহাসন পাবে, কেননা সেত তার বাবাকে অন্যায় ভাবে হত্যা করে সিংহাসনে বসেছে। অন্য দেবতারাও সম্মতি জানিয়ে বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ। হোরাসকেই সিংহাসন দেওয়া হোক। আর সেতকে নির্বাসিত করা হোক মরুভূমিতে।
হোরাস ও সেতের যুদ্ধ
কিন্তু দেবতা রা বললেন, হোরাসের বয়স কম, সবকিছু সামলাতে পারবে না।
রায় ঝুলে থাকলো। আইসিস বুদ্ধি খাটালো। আইসিস আগে থেকেই বুদ্ধিমতী, জানে জাদুবিদ্যা। পরিণত হলো এক সুন্দরী নারীতে। তারপর পথের ধারে বসে কাঁদতে লাগলো। সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলো সেত। একজন পরমা সুন্দরী নারীকে কাঁদতে দেখে সেত জিজ্ঞেস করলো, তুমি কাঁদছো কেন? কী হয়েছে তোমার? আইসিস কাঁদতে কাঁদতে জানালো, এক পাপিষ্ট আমার স্বামীকে হত্যা করে, আমার ছেলেকে তার উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চায়। আপনার রাজ্যে এমন অধর্ম হচ্ছে, মহারাজ।
ক্ষেপে উঠলো সেত। কে সেই পাপিষ্ট? তাকে হত্যা করা হোক। আর এই নারীর ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়া হোক তার উত্তরাধিকার।
দেবতারা সব শুনছিলো। নিজের বিচারের রায় নিজেই দিলো সেত। তবে তাকে হত্যা করা হয় নি। নির্বাসিত করা হয়েছিলো মরুতে। অনুর্বর সেতের কারণেই মরুভূমিও অনুর্বর। কথায়ই তো আছে, যেমন রাজা তেমন তার রাজ্য।
সিংহাসনে হোরাস
আর এই দিকে সিংহাসনে বসলো হোরাস। জয় হলো ন্যায়ের।
হোরাস: মিশরীয় দেবতা। হোরাসের শরীর মানুষের মত হলে ও মাথা ছিল বাজপাখির মত। সেতের সাথে যুদ্ধে চোখ হারানোর পর সূর্য এবং চন্দ্র তার চোখে পরিণত হয়। তখন থেকেই চোখ মিশর রক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। বাজপাখিও হোরাসের আর এক প্রতীক।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.